Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, বুধবার, ১৬ অক্টোবর, ২০১৯ , ১ কার্তিক ১৪২৬

গড় রেটিং: 2.8/5 (24 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ০৬-২৬-২০১৩

তুলে দিন জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসন

নঈম নিজাম



	তুলে দিন জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসন

 

বছর দুই আগে বাংলাদেশ প্রতিদিনে আমার একটি লেখা ছাপা হয়েছিল সংরক্ষিত নারী আসন নিয়ে। তখন কথা বলেছিলাম অক্সফোর্ড পড়ুয়া সাবেক পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আবুল হাসান চৌধুরী, সাবেক আমলা প্রয়াত সৈয়দ রেজাউল হায়াত এবং আলাহ উদ্দিন আহমেদ চৌধুরীর সঙ্গে। তাদের কাছে জানতে চেয়েছিলাম সভ্য দুনিয়ার কোন কোন দেশে সংরক্ষিত নারী আসন আছে? আমার প্রশ্ন শুনে হাসলেন আবুল হাসান চৌধুরী। বললেন, আর কোথাও সংরক্ষিত নারী আসন আছে কি না আমার জানা নেই। তবে এতটুকু বলতে পারি, প্রতিবেশী ভারত, ব্রিটেন কিংবা আমেরিকায় নেই। 
তাহলে কোন দেশে আছে? আলাহ উদ্দিন আহমেদ চৌধুরী বললেন, বাংলাদেশ ধাঁচের সংরক্ষিত আসন উন্নত কোনো গণতান্ত্রিক দেশে নেই। পাকিস্তানকে বিতাড়িত করে দেশ স্বাধীন করেছি। তাই তাদের উদাহরণ টানব না। সর্বশেষ কথা বলি সাবেক সচিব প্রয়াত সৈয়দ রেজাউল হায়াতের সঙ্গে। সাবেক এই সিএসপি বলেছিলেন, আমার জানা মতে দুনিয়ার কোনো সভ্য দেশে এ পদ্ধতি নেই। তবে অন্য কোনো জংলি দেশে আছে কি না জানি না। আফ্রিকার বিতর্কিত কোনো দেশ অথবা পাকিস্তানের বিষয়ে খোঁজ নিতে পারেন। 
খোঁজ নিলাম। বাংলাদেশ ছাড়া আরও দুটি দেশে সংরক্ষিত আসনে মহিলা এমপি আছে। একটির নাম পাকিস্তান, আরেকটি তানজানিয়া। সভ্য দুনিয়ার অংশীদার হলেও নারীর ক্ষমতায়নে পাকিস্তান এখনো পিছিয়ে আছে। পাকিস্তান আর আমাদের বাস্তবতা এক নয়। পাকিস্তানে মেয়েরা সব বিষয়ে এখনো অনেক পিছিয়ে। স্বাধীনতার ৬৫ বছর পরও দেশটির কোনো পরিবর্তন নেই, বরং দিন দিন পেছনের দিকে যাচ্ছে। প্রতিনিয়ত লিপ্ত হচ্ছে ধর্মীয় হানাহানি আর সংঘাতে। জাতিগত দাঙ্গা-হাঙ্গামা লেগেই আছে। মসজিদে বোমা মেরে এক মুসলামান হত্যা করে আরেক মুসলমানকে। মালালার দিকে তাকালেই বেরিয়ে আসে নারীর অধিকার। সাধারণ মানুষের জীবনের নিরাপত্তা নেই। কোনো মেয়ে ধর্ষণের শিকার হলে বিচার পায় না, বরং দোষ যায় মেয়েটির ওপর। পাথর ছুড়ে হত্যা করা হয় ধর্ষিত মেয়েটিকে। ধর্ষণকারীর বিচার হয় না। সেই পাকিস্তানের সঙ্গে আমাদের তুলনা? আজ থেকে ৪২ বছর আগে 'পাকিস্তান' নামের দেশটিকে আমরা যুদ্ধ করে বিদায় করেছি। ৩০ লাখ মানুষের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত আমাদের স্বাধীনতা। সেই পাকিস্তানের সংরক্ষিত নারী আসন আঁকড়ে থাকার পরিণাম এবার বুঝিয়ে দিচ্ছেন আমাদের কিছু নারী এমপি। এবার তানজানিয়ার কথা বলছি। কৃষ্টি, সংস্কৃতি, ইতিহাস-ঐতিহ্যে তাদের সঙ্গেও আমাদের মিল নেই। এর বাইরে সভ্য দুনিয়ার কোনো গণতান্ত্রিক দেশে সংরক্ষিত মহিলা আসন নেই। 
উন্নত গণতান্ত্রিক দেশগুলো মহিলাদের সরাসরি ভোটের পক্ষে। এরশাদ জমানার '৩০ সেট অলঙ্কার' শিরোনামের কেলেঙ্কারি এখন আর নেই। তাই সংরক্ষিত আসনের প্রয়োজন দেখি না। আমাদের প্রধানমন্ত্রী ও বিরোধীদলীয় নেতা নারী। তারা একাধিক আসনে দাঁড়িয়ে জয়লাভ করেন। সংসদ উপনেতা সৈয়দা সাজেদা চৌধুরীও জয়ী হন সরাসরি ভোট করে। শুধু তাই নয়, কৃষিমন্ত্রী বেগম মতিয়া চৌধুরী, টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী অ্যাডভোকেট সাহারা খাতুন, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডা. দীপু মনি, মহিলাবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মেহের আফরোজ চুমকী, হুইপ সেগুফতা ইয়াসমিন এমিলি সরাসরি ভোটে লড়ে জিতেছেন। আওয়ামী লীগের সারাহ বেগম কবরী, সিমিন হোসেন রিমি, মাহবুব আরা গিনি, বিএনপির রোমানা মাহমুদ, হাসিনা আহমেদ, জাতীয় পার্টির রওশন এরশাদ প্রমুখ পুরুষ প্রার্থীকে হারিয়ে জয়ী হয়েছেন। এ ছাড়া অল্প ভোটে হেরেছেন নাটরের রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলুর পত্নীসহ আরও অনেকে। উপজেলা নির্বাচনেও অনেক নারী চেয়ারম্যান হয়েছেন। ভোটে জিতে জয়ী হয়েছেন ভাইস চেয়ারম্যানরা। বিশ্বায়নের এ যুগে বাংলাদেশে নারী-পুরুষ আর ভেদাভেদ নেই। তাই সংরক্ষিত আসন নিয়ে চিন্তার সময় এসেছে। আমাদের প্রয়োজন ছোট-বড় সব দল মিলিয়ে অধিক নারী প্রার্থীকে সরাসরি ভোটে মনোনয়ন দেওয়া। এতে তারা সরাসরি লড়াইয়ের সুযোগ পাবেন। জয়ীও হবেন। সংরক্ষিত আসনের অপবাদ কাউকে সইতে হবে না। এখন তেলে আর পানিতে একাকার। সংরক্ষিত মহিলা আসনগুলো সব সময় ত্যাগী নেত্রীরা পান না। এখানে নোংরা, অশ্লীল বক্তব্যে পারদর্শীরা এমপি হন। এরপর তারা কোমর বেঁধে সংসদে নামেন কুৎসিত, নোংরা বক্তব্য দেওয়ার প্রতিযোগিতায়।
 
নেতানেত্রীদের খুশি করতে শালীনতা, সভ্যতাকে হার মানিয়েছেন আমাদের সংরক্ষিত নারী এমপিরা। ভদ্রতা, মার্জিত রুচির সামান্যতম লেশও নেই তাদের কথায়, আচরণে, বডি ল্যাঙ্গুয়েজে। এরশাদের শাসনকালে সংরক্ষিত আসনের এমপিদের বলা হতো '৩০ সেট অলঙ্কার'। কিন্তু আমি সেই এমপিদের কোনো অশালীন বক্তব্য দিতে দেখিনি। 'চুদুরবুদুর', 'চুতমারানি'-জাতীয় শব্দ কিংবা কারও 'পিতৃ' পরিচয় নিয়ে প্রশ্ন তুলতে শুনিনি। আমাদের নারী এমপিরা অশ্লীল বক্তব্যে সবাইকে হার মানিয়েছেন। এত নোংরামির পরও তাদের বিরুদ্ধে কোনো দলই ব্যবস্থা নেয়নি। এর অর্থ দাঁড়ায় এই খিস্তি তাদের নেতানেত্রীরা পছন্দ করছেন। সাধুবাদ দিচ্ছেন। আর নেতানেত্রীদের তুষ্ট করতে তারা নোংরামি অব্যাহত রেখেছেন। সংসদকে বানিয়েছেন নোংরা বক্তব্যের বিনোদন কেন্দ্রে।
 
সেদিন একজন সাবেক এমপি বললেন, সংরক্ষিত নারী এমপিদের এই অশালীন বক্তব্যের পেছনে অন্য কারণও থাকতে পারে। যেমন ধরুন, জাতীয় সংসদকে হেয়, হাস্যকর ও বিতর্কিত করতে কোনো বিশেষ মহল তাদের ব্যবহার করছে। এই নারীরা জেনেশুনে অথবা না অজ্ঞাতে জাতীয় সংসদের ইমেজ শেষ করে দিচ্ছেন কোনো গ্রুপের পরিকল্পিত ইন্ধনে, যা দেশের গণতন্ত্রকে আগামী দিনে হুমকির দিকে ঠেলে দেবে। অতীতে যুবমন্ত্রী কাশেমের বাড়ি থেকে খুনি ইমদু আটক হতেন। এতে ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হতো রাজনীতিবিদদের। এখন সংরক্ষিতদের দ্বারা সংসদের ইমেজ ধ্বংস করা হচ্ছে। এই নারী এমপিদের দেশের জনগণের কাছে, ভোটারদের কাছে কোনো দায়বদ্ধতা নেই। সরাসরি কোনো অঙ্গীকারও নেই। তাই তারা যা খুশি বলতে পারেন। করতে পারেন। তারা দলীয় নেতানেত্রীদের দ্বারা সংরক্ষিত হয়ে সংসদে আসেন। তারা বুঝতে পারেন না কত কষ্ট করে একজনকে এমপি পদে জিততে হয়। একটা আসন ধরে রাখতে একজন এমপি পাঁচ বছর কীভাবে কাজ করেন। কষ্ট করেন।
 
জাতীয় সংসদ বাংলাদেশের মর্যাদাপূর্ণ প্রতিষ্ঠান। আমরা চাই না কারও দ্বারা এই মহান সংসদের মর্যাদা ক্ষুণ্ন হোক। তাই দয়া করে সংসদে নোংরা কথা বলা বন্ধ করুন। পাশাপাশি আগামী নির্বাচনের পর থেকে সংরক্ষিত আসন তুলে দিন। তার বদলে ৩০০ আসনে অধিক হারে নারীদের মনোনয়ন দেওয়া হোক। এতে নারীরা নির্বাচনে জয়ী হয়ে মাথা উঁচু করে সংসদে বসবেন। পাশাপাশি নোংরামির কবল থেকে রক্ষা পাবে আমাদের জাতীয় সংসদ। বিশ্বের কাছে পুনঃস্থাপিত হবে সংসদের মর্যাদা। পাদটীকা : প্রচলিত একটা মিথ আছে- নাগিনের বিষ নামে, নাগিনীর বিষ নামে না। অনেক দিন পর এক অনুষ্ঠানে আড্ডার সময় এই মিথটি আবারও শোনালেন সাবেক একজন পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং মহাজোটের বর্তমান এমপি। আড্ডার আলোচ্য বিষয় ছিল জাতীয় সংসদের বর্তমান অশ্লীল বক্তৃতা প্রতিযোগিতা।

মুক্তমঞ্চ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে