Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, শনিবার, ২১ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ , ৬ আশ্বিন ১৪২৬

গড় রেটিং: 3.0/5 (40 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ১১-১০-২০১৮

মাতাল হাওয়ার টানে

সেঁজুতি বড়ূয়া


মাতাল হাওয়ার টানে

হুমায়ূন আহমেদ। নন্দিত এক নাম; একজন সহজ লেখকের নাম। আমার কাছে হুমায়ূন আহমেদ মানেই অন্য ঘরানার লেখক। তাঁর লেখা যখন পড়ি, তাঁকে কখনো লেখক হিসেবে দূরের মানুষ বলে মনে হয়নি। আর তাই হয়তো আমি তাঁকে সহজেই ধারণ করতে পারি। ব্যক্তি হুমায়ূন আহমেদের সাথে আমার পরিচয় ছিল না; কখনো দেখাও হয়নি। কিন্তু তাঁর লেখা, গল্প বলার অনায়াস ভঙ্গি, পাঠককে গল্পের পরতে পরতে, বিভিন্নভাবে নিজের সৃষ্ট বিচিত্র চরিত্রদের সাথে পরিচয় করিয়ে দেয়া- এগুলো তো আছেই; সেই সাথে গল্প, উপন্যাস, স্মৃতিকথা, ভ্রমণ কাহিনীতে তাঁর প্রবল রসবোধ, সেন্স অব হিউমার, তথ্য-উপাত্ত-পরিসংখ্যান প্রভৃতির অভূত সমন্বয় আমার কাছে যেন ভাতের হোটেলে এক্সট্রা ঝোল পাওয়ার মতো! আমার যে জটিল গল্প বা উপন্যাস ভালো লাগে না, তা কিন্তু নয়। আমি খুব সিরিয়াস পাঠক, যা গিলি গোগ্রাসে। তবে হুমায়ূন আহমেদ পড়তে আমার বেশি সময় লাগে না।

সাধারণ পাঠকেরও হয়তো তাই মত। তাঁরই এক গুণমুগ্ধ পাঠকের সাথে এ নিয়ে কথা হলে তিনি জানান, অন্যদের সাহিত্য পড়তে হয় সময় নিয়ে। যদি সেভাবে না টানে ২ পৃষ্ঠা বাদ দিয়ে আবার এগোতে হয় সামনের দিকে। সে পড়ায় ফাঁক থেকে যায়। কারণ পড়ায় একবার ভাটা পড়লে আর সেভাবে এগোতে ইচ্ছে করে না। এই ফাঁকে আবার অন্য বই ঢুকে যায়। আমিও এ বিষয়ে একমত। হুমায়ূন আহমেদের লেখনীতে আছে এমন স্বতন্ত্র গুণ, আছে অদ্ভুত এক জাদুকরী শক্তি, যে কারণে গল্পের মায়াজালে ঢুকে পুরো বই শেষ না করে ওঠা যায় না। এটাই কিন্তু একজন লেখকের সার্থকতা। অপার সাধনা। এই সাধনা একদিনে অর্জন সম্ভব নয়। তাই পড়াশোনায় দীর্ঘ দিনের গ্যাপ চলে এলে অন্য বই পড়ার আগে আমি হুমায়ূন আহমেদ পড়ি। এমনকি লিখতে বসতে আলস্য লাগলেও হুমায়ূন আহমেদকে পড়ি। তখন দারুণ ব্যাপার হয়। গড়গড় করে হাতে লেখা চলে আসে। এমনকি বই পড়ার প্রতিও অনুরাগ জন্মে। -এ রকমই লেখালিখির এক বন্ধ্যা সময়ে র‌্যাক থেকে নামিয়ে একে একে সমস্ত হুমায়ূন আহমেদ শেষ করে ফেলি। যদিও পুরনো বই নতুন করে ঝালাই করা। বইয়ের র‌্যাকের হুমায়ূন আহমেদও এক সময় শেষ হয়ে যায়। তাতে কী? ইন্টারনেট তো আছে। ইন্টারনেট থেকে পিডিএফ ফরম্যাটে তাঁর কিছু নির্বাচিত বই নামাই। 'মাতাল হাওয়া' সেগুলোর মধ্যে একটি। এই 'মাতাল হাওয়া'র সাথেই মিলে যায় আমার জীবনের কিছু ঘটনা, কিছু চরিত্র। হয়তো এ জন্যই ভেসেছি মাতাল হাওয়ায়। এই উপন্যাসের পাঠ প্রতিক্রিয়া লিখতে গিয়ে হয়তো এর গল্পের সাথে মিলে যাওয়া নিজের জীবনের কিছু ঘটনার কথাও বলব। 

'মাতাল হাওয়া' হুমায়ূন আহমেদের সেরা উপন্যাসগুলোর একটি- সেটা বলব না। তবে অন্য উপন্যাসগুলোর ভিড়ে লুকিয়ে থাকা ইতিহাসনির্ভর এই সাদামাটা উপন্যাসকে একজন উৎসুক পাঠক হিসেবে পড়তে খারাপ লাগেনি। ইতিহাস আমার খুব একটা পছন্দের নয়। তবে ঐতিহাসিক পটভূমিকে গল্পের আঙ্গিকে জীবন্ত করে তোলার দায়িত্ব লেখকের ওপর বর্তায়। আমি মনে করি, সে গুরুদায়িত্ব কাঁধে নিতে গিয়ে হুমায়ূন আহমেদ গল্পের সরলীকরণের দিকে বেশি ঝুঁকেছেন। উপন্যাসের 'মাতাল হাওয়া' নামকরণের ক্ষেত্রে যে রাজনৈতিক পটভূমি তিনি সন্নিবেশিত করেছেন, তাতে শুধু পাঠককে ভাসা ভাসা একটা গণজোয়ারের ধারণা দিয়ে গেছেন মাত্র। পাঠক যেন গল্পের গভীরে ঢুকে সেই উত্তাল সময়ের ঘটনাকে প্রত্যক্ষ করে গেছেন টুকরো টুকরো কিছু ঘটনার মধ্য দিয়ে। 

'মাতাল হাওয়া' উপন্যাসে মুক্তিযুদ্ধ-পূর্ব '৬৮ থেকে '৬৯-এর রাজনৈতিক পটভূমির সাথে বিশেষভাবে সংশ্নিষ্ট আইয়ুব খান, গর্ভনর মোনায়েম খান, ময়মনসিংহের নেত্রকোনা জেলার প্রভাবশালী আইনজীবী হাবীব ও তার পরিবার-সহচরগণ, তার বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া একমাত্র মেয়ে নাদিয়া, নাদিয়ার পছন্দের মানুষ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক বিদ্যুৎ কান্তি, ময়মনসিংহেরই আরেক বিত্তশালী পরিবার জমিদার বংশের ছেলে রাজা হাসান চৌধুরী, (যার সাথে নাদিয়ার বিয়ে ঠিক হয় এবং শেষে একটি খুনের মামলায় নিজের দোষ স্বীকার করলে তার ফাঁসি কার্যকর হয়) এবং হুমায়ূন আহমেদের নিজের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের হল-যাপনের সেই সময়ের উত্তাল দিনগুলোর ঘটনা তুলে ধরা হয়েছে। আগেই বলেছি, এই উপন্যাসের বিভিন্ন চরিত্রে দৃঢ় ঋজুতা আর কঠোর সংগ্রামের মাধ্যমে ঔপন্যাসিক হয়তো সেই মাতাল সময়ের টগবগে বন্যা বইয়ে দিতে পারতেন। কিন্তু তিনি তা করেননি। তিনি সেই সময়ে ঘটে যাওয়া কিছু ঘটনা গল্পের আঙ্গিকে সাজিয়ে, তাতে পাওয়া-না পাওয়ার অপূর্ণতায় এক অন্য রকম চমক সৃষ্টি করলেন, যা তিনি হরহামেশা করে থাকেন। পাঠককে নিয়ে যান ময়মনসিংহ-নেত্রকোনা জেলার জাঁদরেল ক্রিমিনাল ল'ইয়ার হাবীবের কাছে। যিনি আবার গভর্নর মোনায়েম খানের দূরসম্পর্কের আত্মীয়। পাঠককে ঘুরিয়ে আনেন হাবীবের নিজস্ব পরিমণ্ডলে তার মা হাজেরা বিবি, স্ত্রী লাইলী, মহুরি প্রণব বাবু, আশ্রিত ফরিদ, রশিদ আর বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া মেয়ে নাদিয়া, তার বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক বিদ্যুৎ কান্তির কাছ থেকে। কখনো পাঠককে নিয়ে দৃষ্টিসীমানার আরও দূরে ময়মনসিংহের ভাটি অঞ্চলের জমিদারপুত্র রাজা হাসান চৌধুরী ও তাদের কইতর বাড়ির গণ্ডিসীমার ভেতর থেকে ভ্রমণ করিয়ে আনেন। 

শুধু তাই নয়; পাঠককে তো বটেই, সেই সঙ্গে 'মাতাল হাওয়া' উপন্যাসে একটা অন্ধকার রহস্যের বলয় তৈরি করে রাখেন নাদিয়া, হাজেরা বিবি, হাবীবের মতো প্রধান চরিত্রগুলো রূপদানের মাধ্যমে। এমনকি হুমায়ূন আহমেদ নিজেও কি নিজের মধ্যে এই রহস্যজাল তৈরি করেননি? উপন্যাসে তাঁর স্মৃতিচারণের একটি অংশে দেখা যায়- জোর-জবরদস্তিতে এক ছাত্রনেতাকে হিপনোটাইজ করতে বলা হলে এক পর্যায়ে তিনি তাকে হিপনোটাইজ করে ফেলেন। শেষমেশ ওই নেতাকে হাসপাতালেও যেতে হয়। এমনকি হাত দেখে পাচপাত্তুরকে তার অতীত ও ভবিষ্যৎ ঠিকঠাক বলে দেয়াও এক ধরনের প্রবল কৌতূহলের উদ্রেক করে। 

'মাতাল হাওয়া'র সাথে কোথায় যেন মিলে যায় আমার নিজের জীবনের উপন্যাসও। ছাত্রজীবনের মাঝামাঝি সময়ে, আমি তখন ইডেনে পড়ি। হঠাৎ হাত দেখার প্রতি প্রচণ্ড ঝোঁক তৈরি হয়। কিরোর মোটা বই কিনি নিউমার্কেট থেকে; কিনি ভারতীয় জ্যোতিষশাস্ত্রসহ আরও বেশ কিছু বই। মোটামুটি এক নিঃশ্বাসে পড়ে ফেলি। এর পর শুরু করি কাছের মানুষদের হাত দেখা দিয়ে। এক বন্ধুকে বললাম, তুই এদেশে আর বেশিদিন নাই। বন্ধু তো ভীষণ ভড়কে যায়- বলিস কী! কই যাব? আমি বলি, সেটা তো হাতে লেখা নাই! আমার সেই বন্ধু এক বছরের মাথায় বিদেশে পাড়ি দেয়। এর পর পড়ার পাট চুকিয়ে যখন অফিসে জয়েন করি, আমি হাত দেখি- শুনে এক কলিগ হাত বাড়িয়ে দেন। আমি তাকে বলি, বাইক চালান; সাবধানে চালাবেন। বরং কিছুদিন না চালালেই ভালো হয়। সেই কলিগ একগাল হেসে বলেন, এত বছর ধরে বাইক চালাই; কখনো কোনো দুর্ঘটনা হয় নাই! অন্য কিছু বলেন। আমি অন্যকিছু বলে সেদিনের মতো কাজে মন দিই। পরদিন অফিসে এসে শুনি, তিনি বাইক অ্যাক্সিডেন্ট করে প্রচণ্ড ইনজুর্ড। হাসপাতালে শয্যাশায়ী। এর পর থেকে অফিসে মুখে কুলুপ আঁটি। মোটামুটি হাত দেখাও বন্ধ করি। 'মাতাল হাওয়া'য় পাচপাত্তুরের হাত দেখে লেখক হুমায়ূন আহমেদের অতীত-ভূত-ভবিষ্যৎ সব বলে দেওয়ার ঘটনায় আপ্লুত হয়ে নিজের গল্প বলার লোভ সামলাতে পারলাম না। 

গভর্নর মোনায়েম খান, এনএসএফ-এর প্রভাবশালী দুই পাণ্ডা পাচপাত্তুর ও খোকা গুণ্ডা- এদেরকে নিয়ে আমার আগেই বিশেষ কৌতূহল ছিল। কারণ আমি মোনায়েম খানের ঘটনা জেনেছি বীরপ্রতীক মোজাম্মেল হকের দুঃসাহসী ঘটনা পড়ে। এই মানুষটি যখন নবম শ্রেণিতে পড়ুয়া কিশোর, তখনই সমস্ত নিরাপত্তা বেষ্টনী ভেঙে মারাত্মকভাবে আহত করেন মোনায়েম খানকে। পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিলে সেখানেই মারা যান এই কুখ্যাত গর্ভনর। ছোটবেলায় মা ও পিসিদের কাছ থেকে এনএসএফ বাহিনী, এই সরকারি দলের পাণ্ডা পাচপাত্তুর, খোকা গুণ্ডা, নাজমুল হুদার বিভিন্ন গল্প শুনতাম। ছোট পিসি পূর্ণিমা বড়ুয়া (পরে জগন্নাথের অধ্যাপক) সে সময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শনের ছা্‌ত্রী। হলে থাকতেন। তিনি বলতেন, আইয়ুব আর মোনায়েম খানের গুণ্ডাবাহিনী এনএসএফ নাকি তখন বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীদের জন্য ত্রাস ছিল। পাচপাত্তুর, খোকা গুণ্ডা, নাজমুল হুদা- এরা নাকি ছাত্রীদের গায়ে টিকটিকি ছুড়ে ভয় দেখাতেন। পরবর্তী সময়ে এদের নাকি ভয়াবহ পরিণতি হয়। 'মাতাল হাওয়া' উপন্যাসে হুমায়ূন আহমেদ নিজেও এনএসএফ বাহিনীর কুকীর্তি, এনএসএফ বাহিনীর কাছে নিজের ধরাশায়ী হওয়া, তাদের নেতাদের ভয়ানক পরিণতি এবং তাদের বূ্যহ থেকে নিজেকে রক্ষার উপায় হিসেবে লাইব্রেরি ও নিজের কক্ষে নিমগ্ন থাকা প্রভৃতি নিয়ে গল্প বয়ানের ফাঁকে ফাঁকে স্মৃতিচারণ করে গেছেন। এমনকি হুমায়ূন আহমেদের মাধ্যমে আমরা জানতে পারি, আসাদুজ্জামানের ভাই মনিরুজ্জামানও এক সময় এনএসএফ-এর সাথে সরাসরি যুক্ত ছিলেন। কবি নির্মলেন্দু গুণ নিউমার্কেটের লিবার্টি ক্যাফেতে বসে উকুন আর কফিতে একাকার হয়ে কবিতা লিখতেন, হুমায়ূন আহমেদের 'রূপা' চরিত্রটি বন্ধুর প্রেমিকা রূপা থেকে সৃষ্ট, যাকে তিনি নিজেই বন্ধুর হয়ে চিঠি দিখে দিতেন- এ রকম অসংখ্য অজানা তথ্য।

এ উপন্যাসের প্রধান চরিত্র হাবীবের মতো বিষাক্ত, নির্দয়, রক্তপিপাসু, অর্থলোভী চরিত্র আমাদের সমাজের রল্প্রেব্দ রল্প্রেব্দ ছড়িয়ে আছে। এরা হাসিমুখে সহজেই বিষ ছড়িয়ে দিতে পারে। এমনকি ধর্মবিদ্বেষ ছড়াতেও এরা কসুর করে না। আবার কাউকে কিছু দিয়ে তার অত্যন্ত মূল্যবান জীবনটুকুও কেড়ে নিতে পারে সহজেই। যে কারণে আমরা দেখি, এই হাবীবকেই আশ্রিত-নিরপরাধ ফরিদের সাথে সফুরা নামের একজন গর্ভবতী অবিবাহিত মেয়ের বিয়ে ঘটাতে। শুধু তাই নয়; একটি খুনের মামলার মিথ্যে আসামি বানিয়েও শেষমেশ ফরিদকে কোর্টের কাঠগড়ায় দাঁড় করায় হাবীব। যদিও হাসান চৌধুরীর সত্য বয়ানে কীভাবে প্রাণে বেঁচে যায় বেচারা। ততদিনে তার স্ত্রী নবজাতককে রেখে পৃথিবীর মায়া ত্যাগ করেছে। 

আবার ফিরে যাই আমার গল্পে। 'মাতাল হাওয়া'র এই হাবীবের সাথে মিলে যায় আমাদের পাশের বাড়ির এক ধুরন্ধর প্রতিবেশী। মা নিজের বাড়ির আশেপাশে পরিচিতজনদের রাখবে। সে জন্য এই প্রতিবেশীকে জায়গাটা কেনার ব্যাপারে স্বতঃস্ম্ফূর্তভাবে সাহায্য করে। কিন্তু এই পিশাচ লোকটার মাধ্যমে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয় মা নিজেই। বাউন্ডারির চারদিকে গাছ লাগানোর সুবুদ্ধি দিয়ে এই লোকটিকেই আমি একদিন নিজের চোখে দেখি আমাদের বাড়ির পেছনে লাগানো একতলা সমান ছিপছিপে নিমগাছটি টেনে সমূলে উপড়ে ফেলতে। এ দৃশ্য দেখে সে সময় যে তাকে কিছু একটা বলব বা ডাক দেব, সেটুকু পর্যন্ত করতে পারছিলাম না। কে যেন আমার মুখে হাতচাপা দিয়েছে! তাই নয়, রাস্তার জন্য জমি আত্মসাৎ করতে বাউন্ডারির দেয়াল ধসিয়ে দেয়া, মহিলা মানুষের বাড়ি বলে ফতোয়া দিয়ে ভাড়াটিয়া তাড়িয়ে দেওয়া, পানির লাইন নষ্ট করে ফেলাসহ কী করেনি এই ভদ্রলোক! অথচ মাকে বাড়ির বাইরে দেখলেই গদগদ হয়ে আদাব দেওয়া, কাছে এগিয়ে গিয়ে পরিবারের সবার খোঁজখবর নেওয়া- এগুলো উনি নিজ দায়িত্ব মনে করেই করতেন। তাই 'মাতাল হাওয়া' পড়ার সময় চোখের সামনে যেন সাদৃশ্যপূর্ণ একই চরিত্রগুলো বারবার হানা দেয়। আর এখানেই হুমায়ূন আহমেদের সার্থকতা! তিনি সমাজের অসঙ্গতিগুলো খুঁটে-খুঁজে এনে সেগুলোর স্থান-কাল-পাত্র বিবেচনা করে জুড়ে দিয়েছেন ঐতিহাসিক পটভূমির সাথে। সব মিলিয়ে হালকা মেজাজ, অনেকটা প্রচলিত গল্পের ধারাবাহিকতায় এগিয়ে গেলেও 'মাতাল হাওয়া' ভিন্নধারার একটা জোয়ার তৈরি করতে পেরেছে।

এমএ/ ০৩:০০/ ১০ নভেম্বর

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে