Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, বৃহস্পতিবার, ১৪ নভেম্বর, ২০১৯ , ৩০ কার্তিক ১৪২৬

গড় রেটিং: 2.8/5 (13 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)


আপডেট : ১১-০৮-২০১৮

আওয়ামী লীগে বিভক্তি বিএনপি ঐক্যবদ্ধ

আকতার ফারুক শাহিন


আওয়ামী লীগে বিভক্তি বিএনপি ঐক্যবদ্ধ

ঢাকা, ০৮ নভেম্বর- ২০০৮ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের জয়জয়কারের সময় বরিশাল-৪ আসনে উত্তর জেলা বিএনপির সভাপতি মেজবাহ উদ্দিন ফরহাদ ৯৯ হাজার ভোট পেয়ে জয়ী হন। মেহেন্দিগঞ্জ ও হিজলা উপজেলা নিয়ে গঠিত এ আসনে পরাজিত হন মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি প্রভাবশালী নেতা মইদুল ইসলাম। তিনি পান ৯৪ হাজার ভোট।

আওয়ামী লীগের মধ্যে অভ্যন্তরীণ বিরোধের জেরেই বিএনপির একজন নবাগত প্রার্থীর কাছে মইদুলকে পরাজয়বরণ করতে হয়েছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। সবশেষ ২০১৪ সালে বিএনপিবিহীন নির্বাচনে জয়লাভ করেন স্বেচ্ছাসেবক

লীগের সাধারণ সম্পাদক পঙ্কজ দেবনাথ। আগামী নির্বাচনেও পঙ্কজ দেবনাথ দলের মনোনয়নপ্রত্যাশী। তবে আওয়ামী লীগের ওই কোন্দল আজও বিরাজমান। এটি যদি ভোটের দিন পর্যন্ত বহাল থাকে, তাহলে ফলের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

আগের নির্বাচনী ফল বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, ৩ লাখ ২২ হাজার ২৪৫ ভোটার অধ্যুষিত বরিশাল-৪ আসনে কোনো দলেরই একক আধিপত্য নেই। নব্বইয়ের পটপরিবর্তনের পর ১৯৯১ সালের নির্বাচনে বিজয়ী হন জেলা আওয়ামী লীগের তৎকালীন সভাপতি মহিউদ্দিন আহম্মেদ। ১৯৯৬ সালের নির্বাচনে বিজয়ী হন বিএনপির মো. আবুল হোসাইন। ২০০১ সালের নির্বাচনেও বিজয়ী হন বিএনপির আবুল হোসাইন। তবে ১/১১-এর সময় সংস্কারপন্থীদের সঙ্গে যোগ দিয়ে বিএনপির মূলধারা থেকে ছিটকে পড়েন আবুল হোসাইন। ২০০৮ সালের নির্বাচনে মনোনয়ন পেয়ে বিজয়ী হন বিএনপির মেজবাহ উদ্দিন ফরহাদ। ওই নির্বাচনে বরিশাল বিভাগে ২১ আসনের মধ্যে যে দুটিতে বিএনপি জয়লাভ করে, তার মধ্যে মেজবাহ উদ্দিন রয়েছেন।

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বরিশাল-৪ আসনে বিএনপির মনোনয়ন চাচ্ছেন হাফ ডজনেরও বেশি নেতা। সাবেক এমপি মেজবাহ উদ্দিন ছাড়াও তালিকায় আছেন ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি রাজিব আহসান, সাবেক এমপি শাহ মো. আবুল হোসাইন, নুরুর রহমান জাহাঙ্গীর, ব্যবসায়ী এবিএস খান স্বপন, অ্যাডভোকেট হেলালউদ্দিন, আবদুল খালেক হাওলাদার এবং নজরুল ইসলাম শান্ত। তবে নির্বাচনী মাঠে এগিয়ে রয়েছেন মেজবাহ উদ্দিন এবং রাজিব আহসান।

নিয়মিত সাংগঠনিক কার্যক্রম আর দুই উপজেলার নেতাকর্মীদের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগের মাধ্যমে আগাগোড়াই মাঠে আছেন মেজবাহ উদ্দিন ফরহাদ। জানতে চাইলে মেজবাহ উদ্দিন বলেন, ‘আমার কর্মকাণ্ডই ভাগ্য নির্ধারণ করবে। আমি দলীয় চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া এবং দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের প্রতি অবিচল।

তারা যে সিদ্ধান্ত দেবেন, তা-ই আমি মাথাপেতে নেব।’ মাঠে সক্রিয় ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি রাজিব আহসান। রাজিব আহসান নির্বাচন প্রসঙ্গে বলেন, ‘প্রার্থী হিসেবে নিজের নাম প্রচার করা আর মাঠে নেমে কাজ করার ক্ষেত্রে কিছু জটিলতা রয়েছে। যখনই কোনো এলাকায় একাধিক মনোনয়ন প্রার্থী থাকেন, তখন তারা তাদের নিজেদের বলয় তৈরির চেষ্টা করেন। এতে দলে ছোট ছোট খণ্ড তৈরি হয়। দেখা দেয় বিভক্তি। তাই আমি এখনই এ ব্যাপারে কিছুই বলছি না। দেশনেত্রী খালেদা জিয়া এবং তার যোগ্য উত্তরসূরি তারেক রহমান যা ভালো বুঝবেন, সেটাই করবেন।’

এদিকে বিভক্তি নিয়ে শাসক দল আওয়ামী লীগে দুশ্চিন্তা রয়েছে। নানা ইস্যুতে নেতাকর্মীদের মধ্যে বিভক্তি ফুটে উঠছে। প্রতিনিয়তই সেখানে ঘটছে সংঘাত-সংঘর্ষ। দলীয় কোন্দলের জেরে হিজলা-মেহেন্দিগঞ্জে আওয়ামী লীগের বেশ কয়েকজন নেতাকর্মী নিহত হওয়ার ঘটনাও ঘটেছে।

এসব ঘটনার জন্য বর্তমান এমপি পঙ্কজ দেবনাথের লোকজনকে দায়ী করেন বরিশালের জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মইদুল ইসলাম। হিজলা উপজেলার চেয়ারম্যান উপজেলা কমিটির সভাপতি সুলতান মাহমুদ টিপুসহ দুই উপজেলার অনেক নেতাই পঙ্কজের বিরোধিতায় সরব। ঢাকায় সংবাদ সম্মেলন করে পঙ্কজকে দল থেকে বহিষ্কারের দাবি জানানোসহ নিয়মিত তার বিরুদ্ধে চলছে বিক্ষোভ, মানববন্ধন ও পোস্টারিং।

এসব নিয়ে এলাকায় অস্বস্তি রয়েছে। জানতে চাইলে উপজেলা চেয়ারম্যান টিপু বলেন, ‘এখানে দলকে ধ্বংস করে দেয়া হচ্ছে। দলীয় নেতাকর্মীরা এমপির বিরুদ্ধে ৫-৬টি মামলা পর্যন্ত করেছেন।’ পঙ্কজ দেবনাথ এসব ঘটনার সঙ্গে তার সংশ্লিষ্টতার কথা অস্বীকার করে আসছেন।

কথা হয় আওয়ামী লীগের মনোনয়নপ্রত্যাশী আফজালুল করিমের সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘উনি (পঙ্কজ) নৌকা পছন্দ করেন না। উনি পছন্দ করেন আনারসসহ অন্যান্য প্রতীক। যে কারণে এবার ইউপি নির্বাচনে মেহেন্দিগঞ্জের প্রতিটি ইউনিয়নে বিদ্রোহী প্রার্থী দিয়ে নৌকা ডুবিয়েছেন। ৫ ইউনিয়নে নৌকা হেরেছে। উনার হঠকারিতায় একটি ইউনিয়নে জিতেছে বিএনপি।’

এসব অভিযোগ বিষয়ে জানতে চাইলে এমপি পঙ্কজ দেবনাথ বলেন, ‘যারা এসব বলেন, তাদের অতীত কী? মইদুল দু’বার এমপি ছিলেন জাতীয় পার্টির। তখন তিনি আওয়ামী লীগ পিটিয়েছেন। মরহুম মহিউদ্দিন আহম্মেদের পর যারাই এখানে আওয়ামী লীগকে নেতৃত্ব দিয়েছেন, তাদের ক’জন নৌকার বিজয় আনতে পেরেছেন? ১৫ আগস্ট জাতির জনকের ছবি ভাঙার নেতারা এখন বড় আওয়ামী লীগার।

ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের মনোনয়ন নিয়ে বাণিজ্য আর ত্যাগী পরীক্ষিতদের বাদ দিয়ে হাইব্রিড লোকজনকে মনোনয়ন দেয়ায় তারা হেরেছে। যারা জিতেছেন, তারাও তো আওয়ামী লীগেরই লোক। সঠিক মনোনয়ন হলে তো তাদের বিদ্রোহী প্রার্থী হয়ে জিততে হতো না। নিজে আওয়ামী লীগ আর শ্যালক বিএনপি নেতা। এই তো তাদের ইতিহাস।’

মনোনয়ন প্রার্থী মরহুম এমপি খায়ের মাস্টারের ছেলে অ্যাডভোকেট আফজালের বাড়িও হিজলায়। সেই হিসেবে বেশ খানিকটা এগিয়ে আছেন তিনি। এছাড়া বেশ জোরেশোরে প্রচারে মাঠে আছেন আওয়ামী লীগের আরেক কেন্দ্রীয় নেতা লায়ন মজিবর রহমান। তিনিও নির্বাচনী এলাকা চষে বেড়াচ্ছেন মনোনয়নের আশায়।’ মনোনয়ন চাইছেন সাবেক এমপি মরহুম মহিউদ্দিন আহম্মেদের মেয়ে আওয়ামী লীগের আন্তর্জাতিকবিষয়ক সম্পাদক ড. শাম্মী আহম্মেদ, তার বড় ভাই সাহাব আহম্মেদ, বরিশাল মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট একেএম জাহাঙ্গীর, মেহেন্দিগঞ্জের পৌর মেয়র কামালউদ্দিন খান, জেলা পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান আরজু এবং আওয়ামী লীগ নেতা মেজর (অব.) মহসিন সিকদার। এদের মধ্যে সাম্প্রতিক সময়ে ড. শাম্মী আহম্মেদকে নিয়ে আলোচনা চললেও তিনি অবশ্য নির্বাচনের প্রার্থিতা প্রশ্নে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

তিনি কথা বলেছেন তার ভাই সাহাব আহম্মেদকে নিয়ে। প্রার্থী হিসেবে নাম শোনা যাচ্ছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের নেতা মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ নূরুল কবির এবং জাতীয় পার্টির নাছির উদ্দিন সাথীর। তাদের মধ্যে দশম জাতীয় নির্বাচনে এখানে জাতীয় পার্টির প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন সাথী আর নূরুল কবিরের প্রার্থিতা চূড়ান্ত করেছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ।

এমএ/ ০৮:১১/ ০৮ নভেম্বর

বরিশাল

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে