Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

Login
ইউনিজয়
ফনেটিক
English

গড় রেটিং: 0/5 (0 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

print

আপডেট : ১১-০৬-২০১৮

বাংলার ভোটের অঙ্ক বেশ জটিল, বাম আর মুসলমান ভোটই পাখির চোখ বিজেপির

বাংলার ভোটের অঙ্ক বেশ জটিল, বাম আর মুসলমান ভোটই পাখির চোখ বিজেপির

কলকাতা, ০৬ নভেম্বর- সাফল্য কী অঙ্কের মধ্যেই লুকিয়ে রয়েছে? লোকসভা নির্বাচনে বাংলায় সাফল্যের অঙ্ক মেলাতে অনেক আগে থেকেই খাতা-কলম নিয়ে ১১, নম্বর অশোক রোডে বসে পড়েছেন বিজেপির ভোটযুদ্ধ বিশারদরা৷ বাংলায় অমিত শাহের ২২ টি থেকে ২৬টা আসন পাওয়ার অঙ্গীকার কতটা বাস্তব সম্মত তা বুঝে নিতে তৃণমূলস্তরের সংগঠনকে জোরদার করতে ইতিমধ্যেই তৎপর হয়েছে বিজেপি৷

তবে বাংলার ভোটের অঙ্ক বেশ জটিল, তা বুঝতে পেরেছেন গেরুয়া শিবিরের ভোট ম্যানেজাররা৷ ২০১৪ সালের গো-বলয়ে ১৯০ আসনের মধ্যে ১৬০টি আসনে জিতে কংগ্রেসের যাবতীয় স্বপ্ন উত্তর ভারতেই শেষ করে দিয়েছিল বিজেপি৷ কিন্তু ২০১৯ সালে দেশে অন্য হাওয়া বইছে, তা রাজনীতিতে পোড়খাওয়া অমিত শাহের বুঝতে দেরি হয়নি৷ যেখানেই বিজেপি ক্ষমতা রয়েছে, দিন দিন যে জনপ্রিয়তা কমছে, তা গুজরাটের নির্বাচন প্রমাণ করেছে৷ রাজস্থান বা মধ্যপ্রদেশে বিজেপি ফের ক্ষমতায় আসবে তা নিয়ে বিজেপির অনেক নেতাই আত্মবিশ্বাসী নন৷

এই পরিস্থিতিতে পূর্ব ভারতের রাজ্যগুলিকেই পাখির চোখ করেছে বিজেপি৷ উত্তর-পূর্ব ভারতের রাজ্যগুলিতে বিজেপির অবস্থান উল্লেখযোগ্য হলেও পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে দল সবে প্রাধান্য পেতে শুরু করেছে৷ এই পরিস্থিতিতে ২২-২৬টি আসনের টার্গেট অনেক নেতারই ভারী মনে হয়েছে৷ দলের ভোট ম্যানেজাররা ইতিমধ্যেই হিসেব কষেছেন, পঞ্চায়েত নির্বাচনে বামফ্রন্ট ১৫ শতাংশ ভোট ভোট পেয়েছে৷

লোকসভা নির্বাচনে বামফ্রন্টের ফলাফল খুব ভালো হলেও তা ১৮ শতাংশ ছাড়িয়ে যাবে না৷ রাজ্যে কংগ্রেসের নিশ্চিত ভোট রয়েছে ৮-১০ শতাংশ৷ উদ্ভুদ পরিস্থিতিতে যা বাড়তে পারে বলেই মনে করছেন অনেকে৷ তৃণমূল কংগ্রেস শেষ লোকসভা নির্বাচনে ২৮-৩০ শতাংশ মুসলমান ভোট পেয়েছিল৷ এছাড়া ১৫ শতাংশ সাধারণ ভোট যোগ করতে হবে৷

নির্বাচনের আগে এলাকায় সন্ত্রাস চালিয়ে জনগনকে আতঙ্কিত করতে পারে শাসক দল তাও মনে করছে বিজেপি৷ সেক্ষেত্রে ৫ থেকে ৭ শতাংশ ভোট সেভাবেই পেতে পারে তৃণমূল৷ অন্যান্যরা সবাই মিলে যদি ২ শতাংশ ভোট পায়, তবে বিজেপি কোনও মতেই ৩০ শতাংশের বেশি ভোট পেতে পারবে না৷ সেক্ষেত্রে ২২টি আসন পাওয়া স্বপ্নই থেকে যাবে গেরুয়া শিবিরের জন্য৷

সেক্ষেত্রে কী করতে হবে বিজেপিকে? কোন অঙ্কে পরিচিত ছক ভেঙে দিতে পারে বিজেপি? পার্টির অন্দরের খবর, ১১, নম্বর অশোক রোডের ভোট ম্যানেজাররা দুটি পথ খুঁজে রেখেছেন রাজ্যের জন্য৷ (১) যেকোন প্রকারে বামফ্রন্টের ভোট কমাতেই হবে৷ বামফ্রন্ট ১৮ শতাংশ ভোট পেলে পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির স্বপ্ন শেষ হয়ে যাবে৷ বামফ্রন্টকে টেনে ৭-৮ শতাংশে নামাতেই হবে৷ নয়তো বামফ্রন্টই সুবিধা করে দেবে তৃণমূলকে৷ সিপিএমকে সেভাবে ভাঙতে না পারলেও জেলায় বেশ কিছু শরিক দলের নেতাদের সঙ্গে কথাবার্তা শুরু করেছে৷ বিজেপি৷ মূল দায়িত্বে মুকুল রায়৷

(২) বিজেপিকে অনেক বেশি মুসলমান ভোট পেতে হবে৷ কোনও নির্দিষ্ট কমিউনিটি বা জনগোষ্ঠী থেকে শাসকদল ৩০ শতাংশ ভোট পাওয়ার অর্থ লোকসভায় বাংলায় বিজেপির Game Over ৷ তৃণমূল একচেটিয়া মুসলমান ভোট পাবে, তা কোনও মতেই হতে দিতে চায়না কেন্দ্রের শাসকদল৷ তৃণমূলের মুসলমান ভোটব্যাংঙ্কে ইতিমধ্যেই হাত দিতে শুরু করেছে বিজেপি৷

শেষ পঞ্চায়েত নির্বাচনে তা কিছুটা হলেও বোঝা গিয়েছে৷ মুসলমানদের দলে টানতে ইতিমধ্যেই তলায়-তলায় রাজ্যের মৌলানা, মৌলবীদের সঙ্গে যোগাযোগ রেখেছে গেরুয়া শিবির৷ মুসলমান বুদ্ধিজীবীদের দলের নীতি বোঝানোর কাজ চলছে৷ রাজ্যে ভোটের একটি বড় ফ্যাক্টর মতুয়া সম্প্রদায়৷ মতুদের সংখ্যাধিক্য কাদের সঙ্গে আছে, তা নিয়ে শাসক-বিজেপি তরজা ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে৷

এই প্রসঙ্গেই যথেষ্ঠ প্রসঙ্গিক হয়ে উঠেছে জাতীয় পঞ্জীকরণ বা এনআরসি৷ এনআরসি বাংলায় কেন হওয়া উচিত, নাগরিকত্ব আইনে একমাত্র বাংলাদেশি মুসলমানদেরই ফেরত পাঠানোর বন্দোবস্ত করা হবে, তা ভারতীয় মুসলমানদের জন্য নয়, তা বোঝানোর কাজ শুরু হয়েছে৷ মোদী সরকারের তিন তালাক বিরোধী অবস্থানকে সামনে রেখে মুসলমান মহিলাদের ভোট চাইতে শুরু করেছে বিজেপি নেতারা৷

রাজ্য বিজেপির সংখ্যালঘু মোর্চার প্রশিক্ষণ শিবিরে স্থির হয়েছে ১০-১৫ শতাংশ মুসলমান ভোট এরাজ্য থেকে পেতেই হবে৷ নয়তো ২২/২৬ এর অঙ্ক থেকে পিছিয়ে আসতে হবে৷ মুকুল রায়, দিলীপ ঘোষ প্রশ্ন করতে শুরু করেছেন, ২ বা আড়াই হাজার টাকা ইমাম ভাতা দিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মুসলমান সমাজের কী উন্নতি করতে পারলেন? স্বাস্থ্য, শিক্ষা বা কর্মক্ষেত্রে মুসলমানদের কী উন্নতি হয়েছে?

লোকসভার মুখে বাংলায় বিজেপির রথযাত্রাও সমান গুরুত্বপূর্ণ৷ রথযাত্রার মাধ্যমে জনমানসে প্রভাব বিস্তার করতে চাইছে বিজেপি৷ হাইপ্রোফাইল নেতারা রথযাত্রায় ৪২টি লোকসভা কেন্দ্র ঘুরে জনতার সঙ্গে কথা বলবেন৷ পার্টি সূত্রে খবর, অমিত শাহ ইতিমধ্যেই ৪২টি লোকসভা কেন্দ্রে ৪২টি নির্বাচনী অফিস তৈরির নির্দেশ দিয়েছেন৷ দলের একটি অংশ বলছে, প্রতি নির্বাচনী অফিসই যেন এক একটা ‘War Room ৷’

তথ্যসূত্র: কলকাতা২৪×৭
একে/০৬:০৩/০৬ নভেম্বর

পশ্চিমবঙ্গ

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে