Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, রবিবার, ২১ জুলাই, ২০১৯ , ৬ শ্রাবণ ১৪২৬

গড় রেটিং: 2.9/5 (23 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ০৬-২২-২০১৩

প্রতিবাদ, ধিক্কার আর স্লোগানে কলকাতা নামল রাজপথে


	প্রতিবাদ, ধিক্কার আর স্লোগানে কলকাতা নামল রাজপথে

কলকাতা, ২২ জুন- আরও একবার প্রতিবাদে গর্জে উঠল কলকাতা। আরও একবার কলকাতা প্রমাণ করল তার বিবেক মৃত নয়। কামদুনির কাণ্ডের প্রতিবাদে আজ রাজপথে পা মেলালেন হাজার হাজার মানুষ। রাজনৈতিক পরিচিতি, বিশ্বাস দূরে ঠেলে রেখে কামদুনির তরুণীর উপর নারকীয় অত্যাচারের বিচার চাইল এই শহর।

দুপুর থেকেই হাজার হাজার মানুষ জমা হচ্ছিলেন কলেজ স্কোয়ারে। বিকেল ৩টে ১৫ নাগাদ শুরু হয় মিছিল। এ দিনের মিছিলে উপস্থিত ছিলেন শঙ্খ ঘোষ, নবনীতা দেবসেন, সৌমিত্র চ্যাটার্জি, সব্যসাচী চক্রবর্তী, তরুণ মজুমদার, তরুণ স্যানাল, রুদ্রপ্রসাদ সেনগুপ্ত, দেবেশ রায়, বিপ্লব চট্টোপাধ্যায়, বাদশা মৈত্র, সমীর আইচ, চন্দন সেন, পরাণ বন্দ্যোপাধ্যায়, ওয়াসিম কপূর, চৈতি ঘোষাল, পাপিয়া অধিকারী, দেবদূত ঘোষ, সুমন মুখোপাধ্যায়ের মতো বিশিষ্টজনেরা। অসুস্থতার জন্য আসতে পারেননি মৃণাল সেন সহ বহু বুদ্ধিজীবী।
 
সারা রাজ্য থেকে মিছিলে পা মেলান হাজার হাজার সাধারণ মানুষ। মহিলাদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। কামদুনি, গাইঘাটা, গেদে থেকে থেকে মানুষ ছুটে এসেছিলেন কলকাতায় মিছিলে পা মেলাতে। উপস্থিত ছিলেন কামদুনি কাণ্ডে মৃতের পরিবারের সদস্যরাও। কলেজ স্কোয়ার থেকে শুরু হয়ে বিকেল ৪টে ৩০ নাগাদ এসপ্ল্যানেড ছোঁয় মিছিলের মুখ। মেট্রো চ্যানেলে অবস্থান নিয়ে বচসা শুরু হয় পুলিশের সঙ্গে। মিছিল আটকে দেয় পুলিস। বিকেল ৫টা নাগাদ মেট্রো চ্যানেলে শেষ হয় মিছিল।
 
কামদুনি কাণ্ডে এই মুহূর্তে তোলপাড় গোটা রাজ্য। ক্ষতিপূরণ নয়, দোষীদের কঠোর শাস্তির দাবি তুলে  কামদুনি থেকেই ধ্বনিত হয়েছে প্রথম প্রতিবাদ। আর সেই প্রতিবাদে সামিল হয়েছেন রাজ্যের সমস্ত অংশের মানুষ। এ দিন সময় যত এগিয়েছে ততই যেন দীর্ঘ হয়েছে এই মিছিলের দৈর্ঘ্য। পথ চলতি মানুষও সব কাজ ফেলে সামিল হয়েছেন এই মিছিলে। শুধু কি কামদুনি? পার্ক স্ট্রিট থেকে গোঘাট, গেদে থেকে কাটোয়া বা আমতা, রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে বেড়ে চলা নারী নির্যাতনের বিরুদ্ধে সমবেত আক্রোশ আছড়ে পড়েছে শহর কলকাতার কংক্রিট বাঁধানো রাজপথে।
 
কে কী বললেন
 
প্রাক্তন মেয়র বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য- রাজ্যে যা নৈরাজ্য চলছে, তাতে অন্ধকারে ডুবে গিয়েছে সমাজ।
 
বিশিষ্ট নাট্যব্যক্তিত্ব দেবেশ রায়- রাজ্যে মহিলারা যেভাবে হিংসার শিকার হচ্ছেন, তার দায় সকলের।
 
কংগ্রেস নেতা নির্বেদ রায়- প্রতিবাদ সমবেত হলে তবেই জোরাল হয়। সেই দায়িত্ববোধ থেকেই মিছিলে অংশ নেয়া।
 
অভিনেতা পরাণ বন্দ্যোপাধ্যায়- রাজ্যে নৈরাজ্যের জন্য দায়ী মুখ্যমন্ত্রী। তার মানসিক চিকিৎসার প্রয়োজন।
 
অভিনেতা সব্যসাচী চক্রবর্তী- চারপাশে যা চলছে, তা বন্ধ হওয়া দরকার।
 
নাট্যকার সুমন মুখোপাধ্যায়- মুখ্যমন্ত্রী সুলভ আচরণ করছেন না মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। যা ঘটছে, তাতে মানুষ খুব বিরক্ত। তাই মিছিলের ডাক আসতেই রাজনীতি ভুলে অংশ নিলেন অসংখ্য মানুষ।
 
চিত্রপরিচালক তরুণ মজুমদার- প্রহসনে পরিণত হয়েছে প্রশাসন। প্রশ্ন করলেই, সাধারণ মানুষকে মুখ্যমন্ত্রী বলছেন চোপ্।
 
বাচিক শিল্পী উর্মিমালা বসু- এরপরেও সমাজ চুপ করে থাকলে মহিলাদের ওপর জঘন্য অত্যাচারের ঘটনা বাড়তেই থাকবে।
 
চিত্রশিল্পী ওয়াসিম কাপুর- মুখ্যমন্ত্রীর সহিষ্ণু হওয়া দরকার। ভাষা প্রয়োগের ক্ষেত্রে তার সংযত হওয়া উচিত।
 
নাট্যব্যক্তিত্ব রুদ্রপ্রসাদ সেনগুপ্ত- রাজ্য অন্ধকারে ডুবে আছে। আলোর সন্ধান পেতেই মিছিলে আসা। শঙ্খ ঘোষের মতো মানুষের সান্নিধ্যে এলে শক্তি বাড়ে।
 
চিত্রশিল্পী সমীর আইচ- রাজ্যে একের পর এক খুন ধর্ষণের ঘটনা ঘটছে। অথচ নিশ্চুপ প্রশাসন। প্রতিকারের দাবি জানাতে গেলে জুটছে একনায়কের শাসানি। এরই প্রতিবাদে রাস্তায় নেমেছেন বুদ্ধিজীবীরা।
 
মৃণাল সেন- মমতা সুস্থ মস্তিষ্কের মানুষ নন। নারী নির্যাতনের প্রতিবাদে সোচ্চার হয়েছে রাজ্য। কামদুনি, গাইঘাটা, গেদে কাণ্ডের ক্ষোভের আগুন আছড়ে পড়েছে কলকাতার রাজপথে। সারা রাজ্য থেকে মানুষ পা মিলিয়েছেন মিছিলে। বুদ্ধিজীবীদের সঙ্গে একই মিছিলে হেঁটেছেন কামদুনি, গাইঘাটা কাণ্ডের মৃতের পরিবার। শারীরিক অসুস্থতার জন্য মিছিলে উপস্থিত থাকতে পারেননি মৃণাল সেন। শঙ্খ ঘোষকে চিঠি দিয়ে জানিয়েছেন সে কথা। কলকাতা টিভি চ্যানেল ২৪ ঘণ্টা পৌঁছে গিয়েছিল মৃণাল সেনের বাড়িতে। সেখানেই মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে বিস্ফোরক মন্তব্য করলেন বর্ষীয়ান চিত্র পরিচালক।
 
২৪ ঘণ্টাকে মৃণাল সেন বলেন, "মুখ্যমন্ত্রীর কথায় কোনো রুচির গন্ধ মাত্র নেই। আমি মনে করি কামদুনির মহিলারা অনেক ভালো করে, সুন্দর করে গুছিয়ে কথা বলতে পারেন। মুখ্যমন্ত্রীর ক্ষমতা নেই এভাবে কথা বলার। কেউ কিছু বললেই হয় সে মাওবাদী, নাহলে সিপিএম, তাকে খুন করার চেষ্টা। এইসব কথা থেকেই বোঝা যায় ভদ্রমহিলা সুস্থ মস্তিষ্কের মানুষ নন। সবকিছুই একটা জংলি ব্যাপার হয়ে দাঁড়াচ্ছে। জঙ্গলের রাজত্ব। এগুলো যত বাড়বে, এর পাগলামিও বাড়বে। রুখে দাঁড়ানোটা দরকার ছিল। সেটা  হয়েছে। ভয় না পেয়ে মানুষ এগিয়ে এসেছে।" 
 

পশ্চিমবঙ্গ

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে