Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

Login
ইউনিজয়
ফনেটিক
English

গড় রেটিং: 3.0/5 (15 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

print
আপডেট : ১১-০৪-২০১৮

ইসিকে ড. কামালের চিঠি: মুখোশ খুলে গেলো ষড়যন্ত্রের

স্বদেশ রায়


ইসিকে ড. কামালের চিঠি: মুখোশ খুলে গেলো ষড়যন্ত্রের

ড. কামাল হোসেন নির্বাচন কমিশনকে চিঠি দিয়ে এ মুহূর্তে নির্বাচনের সিডিউল ঘোষণা না করার জন্যে বলেছেন। তিনি রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর সংলাপ শেষ না হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করতে বলেছেন নির্বাচন কমিশনকে।

নির্বাচন কমিশন রাষ্ট্রের একটি স্বাধীন সাংবিধানিক অঙ্গ। তাদের কাজ স্বাধীনভাবে নির্বাচন অনুষ্ঠান করা। নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্যে তাদের যা যা প্রয়োজন তারা মনে করবে, সেগুলো সরকার তাদের দিতে বাধ্য। নির্বাচন কমিশন কোনও বিষয় কাউকে জানানোর  প্রয়োজন মনে করলে একমাত্র রাষ্ট্রপতিকে জানাবে। অন্য কাউকে নয়। নির্বাচন কমিশন স্বাধীনভাবে নির্বাচন অনুষ্ঠানের সব কাজ করবে। এর কোনও কাজে দেশের প্রধানমন্ত্রীরও কোনও কিছু বলার প্রয়োজন নেই। নির্বাচন কমিশন কবে সিডিউল ঘোষণা করবেন, সেখানে নির্বাচনের তারিখ কোন দিন হবে, সেটা সম্পূর্ণ তাদের নিজস্ব এখতিয়ার। আর বর্তমান সংবিধান অনুযায়ী সংসদের মেয়াদ পূর্ণ হওয়ার তিনমাসের ভেতর নির্বাচন করতে হবে। সে হিসেবে সকল বাই ইলেকশানসহ সব কিছু নির্বাচন কমিশনকে আগামী ২৮ জানুয়ারির মধ্যে শেষ করতে হবে। তাই এ নির্বাচন শেষ করার জন্যে নির্বাচন কমিশন কবে নির্বাচনের সিডিউল ঘোষণা করবে, সেটা সম্পূর্ণ তাদের হিসাব-নিকাশের বিষয়। কোনও রাজনীতিবিদের এখানে কোনও কথা বলার সুযোগ নেই। কিছুদিন আগে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেছিলেন, আগামী ডিসেম্বরের ২৭ তারিখ নির্বাচন হবে। তার এ কথা বলার পর পরই প্রধান নির্বাচন কমিশনার সাংবাদিকদের মাধ্যমে জাতিকে জানিয়ে দেন—একমাত্র নির্বাচন কমিশন ছাড়া কারও নির্বাচনের দিন নিয়ে কোনও কথা বলার এখতিয়ার নেই।

তাই বিষয়টি স্পষ্ট যে, নির্বাচন কমিশনকে চিঠি লিখে নির্বাচনের সিউিউল ঘোষণা স্থগিত রাখার আহ্বান জানানোর এখতিয়ার কোনও রাজনৈতিক দলের নেই। এ কাজ সম্পূর্ণরূপে স্বাধীন নির্বাচন কমিশনের কাজের ওপর হস্তক্ষেপ। সামরিক শাসকরা নির্বাচন কমিশনকে এ ধরনের নির্দেশ বা আহ্বান জানিয়ে থাকে। কোনও রাজনৈতিক দল বা কোনও নেতা এ ধরনের আহ্বান জানাতে পারে না। এটা সম্পূর্ণরূপে সংবিধান ও নির্বাচন কমিশনকে খাটো করা হয়। আর নির্বাচন কমিশন সম্পর্কে এই সামান্য বিষয়টুকু ড. কামাল হোসেন জানবেন না, এটাকেই বিশ্বাস করবে না। বরং সবাই বিশ্বাস করবেন ড. কামাল হোসেন জেনে-শুনে এ কাজ করেছেন। কেন করেছেন তিনি? ড. কামাল হোসেনের নির্বাচন কমিশনকে এই চিঠি দিয়ে সিডিউল ঘোষণা বন্ধ রাখার আহ্বান জানানোর ভেতর দিয়ে একটি ষড়যন্ত্রের বিষয় স্পষ্ট হয়।

তিনি আসলে নির্বাচন অনুষ্ঠানের কাজটি একটা অনিশ্চয়তার মধ্যে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা করছেন। শুধু তাই নয়, ড. কামাল হোসেন যে এই জোট গঠন করে নির্বাচন করার জন্যে মাঠে নামেননি, তা এখন আরও স্পষ্ট হলো। যদিও তিনি আগেই সাংবাদিক সম্মেলন করে বলেছেন, তিনি নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন না। ২২ সেপ্টেম্বর জোট গঠিত হলেও আজ পর্যন্ত তারা নির্বাচনের জন্যে কোনও সাংগঠনিক কাজ করেননি। অর্থাৎ  ড. কামাল হোসেন যে মাঠে নেমেছেন, এটা মূলত নির্বাচনের জন্যে নয়। এমনকি তিনি যে বিএনপি-জামায়াতের সঙ্গে জোট করেছেন তাদেরও মূল লক্ষ্য নির্বাচন নয়। উভয়ের মূল লক্ষ্য নির্বাচনটা বানচাল করে দেশকে একটি সাংবিধানিক সংকটে ঠেলে দেওয়া।

আগামী নির্বাচনটি যেন না হয়—ড. কামাল হোসেন, বিএনপি, কিছু তথাকথিত জামায়াতপন্থী সুশীল, কয়েকজন ব্যবসায়ী ও কয়েকজন সম্পাদক গত একবছরের বেশি সময় ধরে এই লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছেন। তাদের ইচ্ছে ছিল, অক্টোবর মাসের মধ্যে দেশকে একটি অরাজকতায় ঠেলে দিয়ে, রাজনৈতিক সরকার বা শেখ হাসিনার সরকারের পতন ঘটানো।

দেশে কোনও অসাংবিধানিক সরকার কায়েম করা। কারণ, উল্লিখিতরা জানেন, দেশে কোনও নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলে ওই নির্বাচনে শেখ হাসিনাই জয়লাভ করবেন। তাকে পরাজিত করার শক্তি কারও নেই। তাই তারা চায়, যেকোনও মূল্যে শেখ হাসিনার সরকারকে উৎখাত করতে। তারা কোনও গণতান্ত্রিক ধারাবাহিকতা বা উন্নয়নের ধারাবাহিকতা চান না। উল্লেখ্য, মওদুদ আহমদ বার বার বলেছিলেন, অক্টোবরে দেশের অবস্থা বদলে যাবে। অর্থাৎ তারা অক্টোবরে শেখ হাসিনার সরকারকে উৎখাতের আশায় ছিলেন। চেষ্টাও করেছিলেন। কিন্তু কোনও অসাংবিধানিক শক্তি তাদের ডাকে সাড়া দেয়নি।

অনেকে মনে করছেন, ডা. জাফরউল্লাহর বয়স হয়ে গেছে, তার মাথা ঠিক নেই বলে তিনি সেনাবাহিনী প্রধানের বিরুদ্ধে মিথ্যে অপবাদ দিয়েছিলেন। বিষয়টি এভাবে দেখার কোনও সুযোগ নেই। জাফরউল্লাহকে দিয়ে ড. কামাল ও বিএনপি এসিড টেস্ট করিয়েছিলেন। তারা এর মাধ্যমে সেনাবাহিনীতে একটি বিভক্তি সৃষ্টি করার চেষ্টা করেছিলেন।  বিষয়টি দেশের সেনাবাহিনীর ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার অপরাধ শুধু নয়, দেশের বিরুদ্ধে ও সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে একটি ষড়যন্ত্র। এ ষড়যন্ত্রের মূল উদ্দেশ্য ছিল গণতান্ত্রিক ধারাবাহিকতা নষ্ট করা। তাই দেশের গণতন্ত্রের স্বার্থে বিষয়টির বিশেষভাবে তদন্ত হওয়া প্রয়োজন।

যাইহোক, তাদের অক্টোবরের যাবতীয় চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে। এখন তারা নতুন ষড়যন্ত্র শুরু করছেন। অর্থাৎ নির্বাচন কমিশন যেন নির্বাচনের শিডিউল ঘোষণা করতে না পারে। অর্থাৎ তারা চান, আবার সংলাপের চিঠি দিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বসবেন।

তারপর আবার ছোট পর্যায়ের সংলাপ চেয়ে দিনের পর দিন পার করে দেবেন। আর এভাবে তারা নির্বাচন কমিশনকে এমন একটা জায়গায় ঠেলে নিয়ে যেতে চান, যেন নির্বাচন কমিশনের হাতে আর নির্বাচন করার সময় না থাকে। নির্বাচন কমিশনের হাতে যখন আর নির্বাচন করার সময় থাকবে না, তখন স্বাভাবিকই দেশ একটি সাংবিধানিক সংকটে পড়ে যাবে। আর সেই ঘোলা পানিতে তারা জলজ প্রাণী শিকার করবেন।

ড. কামাল হোসেন ১/১১-এর অনেক বড় প্লেয়ার। তিনি ২০০১-এর জঘন্যতম কারচুপির নির্বাচনের জন্যে দায়ী শাহাবুদ্দিন, লতিফুর রহমান সরকারের অলিখিতি উপদেষ্টা ছিলেন। তিনি যেমন বঙ্গবভনে গিয়ে লতিফুর রহমান ও শাহাবুদ্দিন আহমেদকে পরামর্শ দিতেন, তেমনি তার কিছু ঘনিষ্ঠজনের, বিশেষ করে এক সম্পাদকের বাসায় গিয়ে ব্যারিস্টার ইশতিয়াক আহমদকে পরামর্শ দিতেন। ২০০১ সালে শুধু এ দেশে কারচুপির নির্বাচন হয়নি। ২০০১ সালের নির্বাচনের মাধ্যমে বাংলাদেশে রাষ্ট্রক্ষমতার অংশ হয় জামায়াতে ইসলামী। আর সরকারের পৃষ্ঠপোষকতায় ১৯৭১ সালের পর প্রথম বাংলাদেশে হিন্দু ক্লিনজিং হয় ২০০১ সালে। নির্বিচারে হিন্দুদের হত্যা, হিন্দু মেয়েদের ধর্ষণ ও দেশ ত্যাগে বাধ্য করা হয়। এই অপকর্মেরও দায় শুধু লতিফুর রহমান, শাহাবুদ্দিনের নয়, ড. কামাল হোসেনও তাদের অলিখিত উপদেষ্টা ছিলেন সেদিন।

তাই ২০০৭ সালের ১/১১ এবং ২০০১’র প্লেয়ার কামাল হোসেন এবার জামায়াত ও বিএনপিকে সঙ্গে নিয়ে কোনও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় নামেননি। তিনি নেমেছেন মূলত দেশে একটি অগণতান্ত্রিক সরকার কায়েম করতে ও দেশের গণতান্ত্রিক ধারাবাহিকতা নষ্ট করতে। নির্বাচন কমিশনকে চিঠি দেওয়া তারই একটি অংশ। আর তার ষড়যন্ত্র এখানেই থামবে না।

আগামী দিনগুলোতে তিনি জামায়াত ও বিএনপিকে সঙ্গে নিয়ে আরও ষড়যন্ত্র করবেন। তাদের অক্টোবরের টাইম ফ্রেম শেষ হয়ে গেছে। তারা সেখানে কিছুই করতে পারেননি। 

তারপরেও থেমে নেই। আগামী কয়েকদিনে তারা আরও অনেক ষড়যন্ত্র করবেন। তবে কতটা পারবেন, তা নিয়ে সন্দেহ আছে। কারণ একই ধরনের ষড়যন্ত্র বার বার করা যায় না। এছাড়া ২০০৭ থেকে ২০১৮ অনেক সময় পার হয়ে গেছে। বিশেষ করে গত দশ বছরের অর্থনৈতিক উন্নয়ন দেশের মানুষের চোখ খুলে দিয়েছে। এখন এই চোখখোলা মানুষের সামনে ষড়যন্ত্র করা অতটা সহজ নয়। তবু যে সাপে কয়েকবারই ছোবল মেরেছে, তাকে অন্ধকারে চলতে দেখলেই সাবধান হওয়া উচিত।

লেখক: সাংবাদিকতায় সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় পদকপ্রাপ্ত  

এমএ/ ১১:২২/ ০৪ নভেম্বর

অভিমত/মতামত

আরও লেখা

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে