Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English

গড় রেটিং: 3.0/5 (50 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

print
আপডেট : ১০-৩০-২০১৮

স্বপ্নের অক্ষরে লেখা কবিতামালা

আব্দুল্লাহ আল মামুন


স্বপ্নের অক্ষরে লেখা কবিতামালা

বোধ ও বুদ্ধির বাইরে এক ঘোরের জগতে স্বপ্নের অক্ষরমালা নিয়ে রচিত হওয়া কবিতার সংজ্ঞা নির্ণয়ের নেই কোনো সূত্র। সাহিত্যিক হুমায়ুন আজাদ যথার্থই বলেছেন- 'যা পুরোপুরি বুঝে উঠবো না, বুকে ওষ্ঠে হূৎপিণ্ডে রক্তে মেধায় সম্পূর্ণ পাবো না; যা আমি অনুপস্থিত হয়ে যাওয়ার পরও, রহস্য রয়ে যাবে রক্তের কাছে, তার নাম কবিতা।' জীবন, প্রকৃতি ও প্রেমের অন্তরালের রহস্য উন্মোচন করার চেষ্টা করেছেন কবিরা। শব্দের ইট দিয়ে রচিত সেই সব কবিতা রহস্যের আঁধারকে কখনো হালকা করেছে কখনো আবার সেই রহস্যকে আরও ঘনীভূত করে তুলেছে। 

বর্ষীয়ান কবি মাশুক চৌধুরীর কাবগ্রন্থ 'অত্যাগসহন' জীবন, প্রকৃতি ও প্রেমের রহস্যময় বোধকেই আবিস্কারের চেষ্টা করেছেন কল্পনা, মননশীলতা ও দৃষ্টিভঙ্গির বৈচিত্র্যে। কবির ১৯৭০ সাল থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত রচিত গ্রন্থিত ও অগ্রন্থিত কবিতাগুলো থেকে শিশু, নিসর্গ ও প্রেম- এই তিনটি বিষয়কে উপজীব্য করে লেখা কবিতার মলাটবন্দি আয়োজন কবির অষ্টম কাব্যগ্রন্থ 'অত্যাগসহন'। ৫৬টি কবিতা নিয়ে গড়ে ওঠা কবিতার বইটি বিভিন্ন কারণেই পাঠকের দৃষ্টি আকর্ষণ করবে। সাংবাদিকতা পেশার কল্যাণে সহজ কাব্যভাষায় বিষয়ের অন্তস্তলে পৌঁছার সহজাত গুণ লাভ করেছেন কবি। কাব্যগ্রন্থের প্রথম কবিতা 'মানুষ হওয়ার গল্প' উৎকৃষ্ট উদাহরণ-

'রাংতা কাগজের মতো আত্মার নরম মাংসের ক্যানভাসে একটা পুতুলের ছোট ছোট/ হাত-পা আঁকতে আঁকতে আমার মা একদিন এঁকে ফেললেন এক টুকরো জীবন্ত/ শিশু। এঁকে ফেললেন একটি পুতুল/... পুতুলটা হামাগুড়ি দিতে দিতে হাঁটতে শিখলো।/... পতুলগুলি মানুষ হয়ে গেলে আর/ পাগলা ঘোড়ার মতো লাগাম মানে না।' 

বর্তমান সময়ে দুর্ঘটনা, যুদ্ধ আর হিংসার আগুনে পুড়ে নিহত হচ্ছে ফুলের মতো শিশুরা। শিশুদের অনাকাঙ্ক্ষিত এমন মৃত্যুতে কেঁদে ওঠে কবির আত্মা। কবি লিখলেন- 

'নক্ষত্র মরিয়া গেলে কাঁদে কী আকাশ?/ কবির এ প্রশ্নের উত্তর জানে না মানুষ।/ ... শিশু মানে দেবতা। শিশুর মৃত্যু মানে দেবতার মৃত্যু। প্রতিটি দেবশিশুর মৃত্যুকে/ আকাশ কুড়িয়ে নেয়/ ঝরা ফুলের মতো। শিশু-মৃত্যুর বেদনায় বিষপান করে আকাশ এতোটা নীল।' [আর কতো ঝরা শিশু কুড়াবে আকাশ] 

'অত্যাগসহন' কাব্যগ্রন্থটির অন্যতম প্রধান দিক হচ্ছে প্রেম। প্রেমকে নানানভাবে নানান দৃষ্টিকোণ থেকে দেখেছেন কবি- কখনো আত্মার খাবার হিসেবে কখনোবা সৃষ্টিসুখের আনন্দ লাভ করবার জন্য, কখনোবা নিজেকে শুদ্ধ করবার জন্য। কবির কবিতায় দৃষ্টিপাত করলে দেখতে পাই-

'প্রেমিক মানেই মনে মনে একজন নিঃসঙ্গ মানুষ/ মনে মনে আলোকিত/ একা একা প্রচণ্ড সাহসী/... প্রেম আমাকে দুঃখের চেয়ে বেশি দিয়েছে আগুন/ সুখের চেয়ে বেশি দিয়েছে শুদ্ধ হবার মন্ত্র/... ন্যায়সঙ্গত প্রেমের পক্ষে আমি/ একাই একশ মুক্তিযুদ্ধের সৈনিক'। [ন্যায়সঙ্গত প্রেমের পক্ষে]

প্রাণ আর প্রকৃতির মেল বন্ধনে কবি কবি মাশুক চৌধুরীর কবিতা আমাদের নিয়ে যায় অন্য এক ভুবনে। যেখানে তিনি সঞ্চার করেন নতুন চিন্তার অনন্য প্রবাহ।

'বসন্তে কেউ মরে না, যদি মরে/ ফুল হয়ে ফোটে গহীন অরণ্যে/ শীতে মৃত বিরহী প্রেমিক/ জেগে থাকে পাতার মর্মরে/ হেমন্তেও মৃত্যু নেই/ হেমন্তের মৃত্যুগুলি বেঁচে থাকে/ শিশির বিন্দুর চোখে/... সকল ঋতুর মৃত্যু জয় করে জাগে নতুন জীবন/ আত্মা এক অমর বিজ্ঞান।' [অবিনশ্বর]

স্বাধীনতা আর দেশপ্রেমের বোধে কখনো কখনো জেগে ওঠে কবির কলম। শব্দের মর্মরে সেই কবিতা জয় করে পাঠকের হৃদয়-

'হৃদয়ে কিসের দাগ! রক্ত?/ জাতীয় পতাকায় শহীদের রক্তে আঁকা/ অমর শিল্পের নাম কবিতা। [অমর শিল্পের নাম]

কিছু কবিতা বাস্তবতার মতোই জীবনে প্রাসঙ্গিক হয়ে ওঠে, কিছু কবিতা স্থান করে নেয় পাঠকের মগজে ও মননে। কবি মাশুক চৌধুরীর কাব্যগ্রন্থ 'অত্যাগসহন' তেমনি স্বপ্নের অক্ষরে লেখা কবিতামালার অনন্ত যাত্রা। 

সূত্র: সমকাল
এমএ/ ০৫:৩৩/ ৩০ অক্টোবর

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে