Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, শুক্রবার, ২২ নভেম্বর, ২০১৯ , ৮ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

গড় রেটিং: 2.2/5 (18 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ০৬-১৮-২০১৩

কারণ অহমিকা-দাম্ভিকতা

নঈম নিজাম



	কারণ অহমিকা-দাম্ভিকতা

যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী এক বন্ধুর সঙ্গে কথা হচ্ছিল। তিনি ফোন করলেন, সিটি নির্বাচনের ফলাফল নিয়ে। আমার বন্ধুটি প্রগতিশীল চিন্তার মানুষ। তিনি বিশ্বাস করেন অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশে। কঠোর সমালোচনা করেন জঙ্গিবাদ, সন্ত্রাসবাদের। আওয়ামী লীগের প্রতি তার ভালোবাসা আছে। কিন্তু আওয়ামী লীগের খারাপ কর্মকাণ্ড সমর্থন করেন না। ভালোকে ভালো বলেন। খারাপকে খারাপ। জামায়াত ও হেফাজতে তার পুরোপুরি অনাস্থা। প্রত্যাশা দেশের গণতান্ত্রিক স্থিতিশীলতা। তিনি চান, বিএনপি ছাড়ুক জামায়াতকে। আর আওয়ামী লীগ ছাড়ুক জাতীয় পার্টিকে। তার মতে, এতে কারোরই ক্ষতি নেই। ড. কামাল হোসেন এবং বামদের প্রতিও তার আস্থা নেই। শাহবাগের জাগরণ মঞ্চে ইমরান এইচ সরকারের কঠোর বক্তৃতা দেখে তখন একদিন আমাকে বলেছিলেন, ওরা সর্বনাশ করে বসল। বঙ্গবন্ধুর স্টাইলে বক্তৃতা এ যুগে চলবে না। স্কুল কখন খুলবে, কখন বন্ধ হবে, কখন পতাকা উড়বে এ সিদ্ধান্ত স্কুল কর্তৃপক্ষ আর শিক্ষা মন্ত্রণালয় নেবে। তারা নয়। মানুষ মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় জেগে উঠেছে। ইমরানের চেতনায় নয়। ভুল করে ফেলল ছেলেগুলো। জাগরণকে কাজে লাগিয়ে তারা পাঁচ দিনের মধ্যে শাহবাগ ছেড়ে সারা দেশে ছড়িয়ে পড়লে পরিস্থিতি অন্যরকম হতে পারত। জেগে উঠতে পারত সারা দেশ। কিন্তু অহমিকা আর দাম্ভিকতা তারুণ্যকেও পেয়ে বসেছে। তাই যা হওয়ার তা-ই হবে।

 
ধর্মভীরু আমার বন্ধুটি নিয়মিত নামাজ পড়েন। আবার দেশে থাকাকালীন পহেলা বৈশাখের ভোরে ফজরের নামাজ পড়ে চলে যেতেন রমনা বটমূলে। যোগ দিতেন ছায়ানটের অনুষ্ঠানে। বিদেশে পড়ে থাকলেও তার মন পড়ে আছে দেশে। মাঝে-মধ্যে ছুটি কাটাতে আসেন। কিছু দিন কাটিয়ে চলে যান। ফোনে আমার সঙ্গে শেয়ার করেন অনেক কিছু। আমি নিউইয়র্কে গেলে দেখা হয়। কথা হয়। এবারকার সিটি করপোরেশন নির্বাচনে আওয়ামী লীগের ফল বিপর্যয় দেখে আমার বন্ধু হতাশ হননি। তবে মন খারাপ করেছেন। তার মতে, এমনই হওয়ার কথা ছিল। চট্টগ্রাম, কুমিল্লা হারের পর আওয়ামী লীগ শিক্ষা নেয়নি। এমনকি ২০১০ সালে অনুষ্ঠিত পৌরসভা ও ইউনিয়ন পরিষদে ভয়াবহ খারাপ ফলাফলকে উড়িয়ে দিয়েছে স্থানীয় সরকার নির্বাচন হিসেবে। জিল্লুর রহমান, মতিয়া চৌধুরী, সাজেদা চৌধুরীসহ বড় বড় নেতার এলাকায় পৌর মেয়র হারানোর বিষয়কেও গুরুত্ব দেয়নি। বরং অহমিকার পথে সরকারের হাঁটা অব্যাহত থাকে।
 
কিন্তু বাংলাদেশের মানুষ কোনো বাড়াবাড়িকে পছন্দ করে না। আওয়ামী লীগ গত সাড়ে চার বছর ধরাকে সরা জ্ঞান করেছে। সবকিছুতে ছিল অহমিকা, দাম্ভিকতা। অন্য দল দূরে থাকুক, নিজের ত্যাগী নেতা-কর্মীদের মূল্যায়ন করেনি। দেশ শাসন করেছে হাইব্রিড নেতৃত্ব, অদক্ষ মন্ত্রিসভা আর অবসরপ্রাপ্ত আমলাদের দিয়ে। ২৬২টি আসনের পরও মন্ত্রীর মর্যাদায় ছিল সাবেক আমলাদের ছড়াছড়ি। প্রশাসনের সর্বস্তরেও ছিল হাইব্রিড, নবাগত ও বহিরাগতের উৎপাত। দুঃসময়ের মানুষরা কোথাও কেউ ছিলেন না। '৯১-৯৬ কিংবা ২০০১ সালের পরের ত্যাগীদের যেখানে দেখার কথা সেখানে দেখা যায়নি। সুবিধালোভীরা নিয়োজিত ছিলেন লাইসেন্স ব্যবসা নিয়ে। ব্যাংক, বীমা, বিদ্যুৎ কেন্দ্র, বিশ্ববিদ্যালয়, রেডিও, টিভি, আইজিডবি্লউ, আইসিএঙ্ সব ব্যবসার লাইসেন্স নিয়েছেন মন্ত্রী, এমপি আর প্রভাবশালীরা। রাষ্ট্র ও সরকার পরিচালনায় অদক্ষতার কারণেই সরকারকে বার বার বিভিন্ন কেলেঙ্কারি নিয়ে বিব্রত হতে হয়েছে। শেয়ার কেলেঙ্কারি, হলমার্ক কেলেঙ্কারি, রেল কেলেঙ্কারি, পদ্মা সেতু কেলেঙ্কারি ছিল মানুষের মুখে মুখে। মন্ত্রীদের অতিকথনও ছিল সীমাহীন। প্রভাবশালী এমপিরা যা খুশি তাই করেছেন। নিজের নির্বাচনী এলাকাকে বানিয়েছেন জমিদারি পরগনা। দূরত্ব তৈরি করেছেন উপজেলা চেয়ারম্যানদের সঙ্গে। এমনকি দলের ত্যাগী নেতাদের সঙ্গেও। এ কারণে ৩০০ আসনে আওয়ামী লীগের অভ্যন্তরীণ বিরোধ এখন তুঙ্গে।
 
বলা যায়, এক কঠিন সময়ে চার সিটি নির্বাচনে অংশ নিয়েছিল আওয়ামী লীগ। এতে ফলাফল যা হওয়ার তা-ই হয়েছে। এ নিয়ে হা-হুতাশ করে লাভ নেই। এর চেয়ে কঠিন পরিস্থিতিও আসতে পারে। কারণ বর্তমান নির্বাচনের ফলাফল পড়বে আগামীতে। একটু হিসাব করলেই সবকিছু আরও পরিষ্কার হবে। '৯৬ সালের নির্বাচনের সময় ঢাকা, চট্টগ্রাম সিটি মেয়র ছিল আওয়ামী লীগের দখলে। অন্যদিকে রাজশাহী, খুলনা ছিল বিএনপির কাছে। জাতীয় নির্বাচনের ফলাফলে দেখা যায়, ঢাকা ও চট্টগ্রামে আওয়ামী লীগের ফলাফল ছিল খুবই ইতিবাচক। অন্যদিকে রাজশাহীতে বিএনপি খুবই ভালো। খুলনা বিভাগেও তারা খারাপ করেনি। মোট আসনের ১১৬টি পেয়েছিল বিএনপি। অন্যদিকে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ১৪৬টি। অন্য দলের সমর্থন নিয়ে তাদের সরকার গঠন করতে হয়েছিল। ২০০১ সালের নির্বাচন আরও কঠিন। দুই শতাধিক আসন নিয়ে বিএনপি ক্ষমতায় আসে। আওয়ামী লীগের আসন নামে ৬০টিতে। সর্বশেষ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের অল্প কয়েক দিন আগে ২০০৮ সালের মাঝামাঝি অনুষ্ঠিত সিটি নির্বাচনে সিলেট, রাজশাহী, খুলনা ও বরিশালের মেয়র পদে বিজয়ী হন আওয়ামী লীগ সমর্থকরা। চট্টগ্রামে আগে থেকেই ছিলেন মহিউদ্দিন চৌধুরী। উত্তর, দক্ষিণ, পূর্ব, পশ্চিম ছিল আওয়ামী লীগের নিয়ন্ত্রণে। জাতীয় নির্বাচনের ফলাফল ২৬২ আসন। বিএনপি কোনোমতে ৩০ আসন নিয়ে বিরোধী দলে। এখন উত্তর, দক্ষিণ, পূর্ব, পশ্চিম সব সিটি বিএনপির নিয়ন্ত্রণে। আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ফলাফল কী দাঁড়াবে কারও পক্ষেই বলা সম্ভব নয়।
 
গত ২২ বছরের পরিসংখান দেখলে বেরিয়ে আসে বিরোধী দলের আসন প্রতিবারই কমে যায়। তাই এক ধরনের রেড সিগন্যাল নিয়ে অগ্রসর হতে হচ্ছে আওয়ামী লীগকে। এ কঠিন পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার মতো পর্যাপ্ত যোগ্য ও দক্ষ লোকজন এখন আওয়ামী লীগে নেই। খুব সোজা হিসাবে বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব এখন প্রাণবন্ত। কারণ এখানে রয়েছেন ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, এম কে আনোয়ার, ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়া, ড. আবদুল মঈন খান পর্যায়ের এক ডজন নেতা। এর পর আছেন মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, আবদুল্লাহ আল নোমান পর্যায়ের নেতারা। এর বাইরে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের মতো ২৪ ঘণ্টা কাজ করা প্রাণবন্ত মহাসচিব এবং ঢাকার দায়িত্বে সাদেক হোসেন খোকার মতো দক্ষ সংগঠক। আর ফেস ভেলু নিয়ে কাজ করছেন ড. ওসমান ফারুক, শমসের মবিন চৌধুরীসহ আরেকটি গ্রুপ। বরকতউল্লা বুলু, আমানউল্লাহ আমান, সালাউদ্দিন আহমেদ, এহছানুল হক মিলন, রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলুরা এখন সামনের সারির নেতা। সিভিল ও মিলিটারি ব্যুরোক্র্যাসির অবসরপ্রাপ্ত আমলার সংখ্যাও এখানে কম নয়। হিসাব-নিকাশ আরও কঠিন ছাত্রদলের সাবেক নেতাদের নিয়ে।
 
একটু হিসাব করলেই দেখা যায়, ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি আবুল কাশেম চৌধুরী, গোলাম সারওয়ার মিলন, রফিকুল হক হাফিজ ছাড়া প্রতিষ্ঠাকালীন থেকে এ পর্যন্ত ছাত্রদলের সব সাবেক নেতা দলে গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে। ছাত্রদলের সব সাবেক নেতাকেই বিএনপি কাজে লাগিয়েছে। কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে টেনে এনেছে। সর্বশেষ শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানীকে এখন বিরোধী দলের চিফ হুইপের মতো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দিয়েছে। এর বিপরীত চিত্রে আওয়ামী লীগের দিকে তাকালে বেরিয়ে আসে কঠিন নিষ্ঠুর বাস্তবতা। এখানে অনেক কষ্টে, ইজ্জত-সম্মান নিয়ে টিকে আছেন আমির হোসেন আমু, তোফায়েল আহমেদের মতো প্রবীণ নেতারা। মোহাম্মদ নাসিম কোনোমতে আবার ঠাঁই পেয়েছেন দলে। বুকভরা দুঃখ নিয়ে ধুঁকে ধুঁকে চলে গেলেন আবদুর রাজ্জাক, আবদুল জলিল। সুলতান মোহাম্মদ মনসুরদের এখন আওয়ামী লীগ করার অধিকার নেই। দলে থেকেও নেই ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি মাঈন উদ্দিন হাসান চৌধুরীসহ ডজন ডজন সাবেক নেতা। দল ও সরকারে যাকে খুশি তাকে নেতা ও মন্ত্রী করা হয়েছে। তুচ্ছতাচ্ছিল্যের সঙ্গে মান্না, আখতার, সুলতান, রহমানদের সরিয়ে সাংগঠনিক সম্পাদক যাদের করা হয়েছে তারা মিজানুর রহমান মিনু, মজিবর রহমান সরোয়ারদের মোকাবিলা করার মতো অবস্থান রাখেন কি?- এ প্রশ্ন অনেকের।
 
সর্বশেষ অপার বিস্ময় ও প্রবীণ রাজনীতিবিদদের তুচ্ছতাচ্ছিল্যের চূড়ান্ত প্রকাশ ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী। তিনি অবশ্যই মেধাবী। তাকে শিক্ষামন্ত্রী করলে আমি খুশি হতাম। আইনমন্ত্রীও করা যেত। কিন্তু স্পিকার করার কারণ বোধগম্য নয়। ভারতের মীনা কুমারী পাঁচবার সরাসরি ভোটে নির্বাচিত হয়েছিলেন। একবার মন্ত্রীও হয়েছিলেন। পাকিস্তানের ফাহমিদা তিনবারের সরাসরি নির্বাচিত এমপি ছিলেন। তাদের সঙ্গে তুলনা না করে ড. শিরীনকে মন্ত্রী করলে কারও কিছু বলার থাকত না। সম্পাদককের এক বৈঠকে একজন সিনিয়র সম্পাদককে পাশে বসা একজন প্রশ্ন করলেন, এক কথায় বলুন আওয়ামী লীগ চার সিটিতে কেন হেরেছে? পাশের সম্পাদক বললেন, শুধু অহমিকা আর দাম্ভিকতার কারণে। অন্য কিছু নয়। আমারও তাই মনে হয়। মেনন, তোফায়েল মন্ত্রিত্ব ছেড়ে দেওয়ার পর তাদের বিকল্প মাহমুদ আলী আর ফারুক কোনোমতেই হতে পারেন না।
 
আওয়ামী লীগ মনে করে, দেশের মানুষের পবিত্র দায়িত্ব তাদের ভোট দিয়ে নির্বাচিত করা। আমার এক বন্ধুর মামা ছিলেন গ্রামের বনেদি মানুষ। তিনি একবার ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচনে দাঁড়িয়ে গেলেন। শুভানুধ্যায়ীরা বললেন, আপনি ঘরে বসে থাকলে হবে না। ভোট বলে কথা। মানুষের কাছে গিয়ে ভোট চান। হারলে মানইজ্জত থাকবে না। ভদ্রলোক এ কথায় সায় দিলেন। বাড়ির সামনে থাকা প্রিয় ঘোড়ার পিঠে চড়ে বসলেন। ঘোড়ায় চড়ে গেলেন গ্রামে গ্রামে। ইজ্জতের কথা চিন্তা করে ঘোড়া থেকে নামলেন না। এলাকার মানুষ ঘোড়া দেখে থামলে বলতেন, 'এই, তোরা আমাকে ভোট দিস। বুঝলি তো আমি ছাড়া যোগ্য আর কে আছে।' এবার টেলিভিশনের পর্দায় দেখেছি আওয়ামী লীগের অনেক নেতা স্যুট-কোট পরে লিফলেট বিতরণ করেছেন। ভোটারদের কাছে যাননি। বিপরীতে বিএনপি, জামায়াত, হেফাজত বাড়ি বাড়ি গিয়ে পাঁচ বছরের আওয়ামী লীগকে তুলে ধরেছে দেশের মানুষের সামনে। আওয়ামী লীগের চার প্রার্থীই জনপ্রিয় ছিলেন। ব্যক্তিগত ইমেজও তাদের কম ছিল না। কিন্তু জাতীয় ইস্যুর কাছে তাদের হার মানতে হয়েছে। পাশাপাশি ছিল ঘরের শত্রু।
 
আমার বন্ধুটি বলল, সরকারের ব্যর্থতা বিএনপি ভোটারদের কাছে তুলে ধরেছে। কিন্তু সরকারের কি কোনো সাফল্য নেই? প্রশ্নটি আমার দিকে ছুড়ে দেওয়া। জবাবে বললাম, সরকারের সাফল্যও অনেক। কিন্তু সাফল্য তুলে ধরতে পারছে না বলে ব্যর্থতা সামনে উঠে আসে। বড় সাফল্য সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদমুক্ত দেশ প্রতিষ্ঠা করা। এখন গ্রেনেড হামলায় জীবন যায় না। এখন আহসানউল্লাহ মাস্টার, মঞ্জুরুল ইমাম, শাহ এ এম এস কিবরিয়ার মতো কাউকে জীবন দিতে হয় না। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির বন্ধন আছে। বিদ্যুৎ খাতে সরকার ভালো কাজ করেছে। হাতিরঝিল আর ফ্লাইওভার দিয়ে বদলে দিয়েছে ঢাকা সিটি। দৃশ্যমান করার চেষ্টা করছে ঢাকা-চট্টগ্রাম, ঢাকা-ময়মনসিংহ ফোর লেন। কৃষি ও শিক্ষা খাতে উন্নয়নের ধারাবাহিকতা ধরে রেখেছে। কারণ '৯৬ সাল থেকে এ দুটি খাতে পরিবর্তন চলছে। পরের সরকারও ধারাবাহিকতা ক্ষুণ্ন হতে দেয়নি। বর্তমান সরকারও। বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোকে সরকারি করা, শিক্ষক নিয়োগ প্রশংসার দাবিদার। দেশকে ডিজিটাল করার ক্ষেত্রে সরকারের ভূমিকা প্রশংসনীয়।
 
এবার বন্ধু পেয়ে গেলেন। বললেন, মিডিয়া এ কথাগুলো তুলে ধরছে না কেন? সরকারের নেতিবাচক খবর বেশি আসে মিডিয়ায়। এর কারণ কী? আমিও চিন্তায় পড়ে গেলাম। বললাম, নেতিবাচক খবর বেশি আসার তো কথা নয়। মিডিয়ায় এবার সুবিধাভোগীদের ছড়াছড়ি। গত পাঁচ বছরে দেশি-বিদেশি সুবিধাভোগীদের অবাক বিস্ময়ে শুধু চেয়ে চেয়ে দেখেছি। সরকার তাদের ২৫টি টিভির লাইসেন্স দিয়েছে, রেডিও দিয়েছে, কোটারি স্বার্থের সংরক্ষণে এমপি করেছে, প্লট দিয়েছে, ফ্ল্যাট দিয়েছে, দেশ-বিদেশে নিয়োগ দিয়েছে, ব্যাংক, বীমা, বিশ্ববিদ্যালয়সহ অগাধ সুবিধা দিয়েছে। এখন সরকারের সাফল্য তুলে ধরার কথা তো তাদের। দুঃসময়ের মানুষের নয়। সুবিধাভোগীরা সরকার ও আওয়ামী লীগকে মিডিয়াতে, রাজনীতিতে সংগঠনে কাজ করলে ঘুরে দাঁড়াতে পারে আওয়ামী লীগ। দুঃসময়ের মানুষ থাকবে দুঃসময়ে। আওয়ামী লীগ এখনো ক্ষমতার সুসময়ে। দুঃসময় আবার এলে আবার হয়তো সবাই এক পতাকাতলে যাবে। তা কবে কেউ জানে না।
 
পাদটীকা : পাকিস্তান আমলে আমাদের কুমিল্লার এক ভদ্রলোক গিয়েছিলেন আমেরিকায়। দেশে ফেরার পর সবাই তাকে ঘিরে ধরেছে। বলেছে, ভাই কী দেখলে? আমেরিকা-ফেরত ভদ্রলোকের চোখে-মুখে বিস্ময়। বললেন, অনেক কিছু দেখেছি। সবচেয়ে বেশি বিস্মিত হয়েছি ওয়ান, টুতে পড়া শিশুদের মুখে ইংরেজি শুনে। এত সুন্দরভাবে তারা ইংরেজিতে কথা বলে। চোখে না দেখলে, কানে না শুনলে বিশ্বাস করা যাবে না। বাংলাদেশেও আজকাল এমন অনেক গল্প শুনি।
 
লেখক : সম্পাদক, বাংলাদেশ প্রতিদিন
 
- See more at: http://www.bdpratidin.com/2013/06/19/1630#sthash.fAnJubnj.dpuf

মুক্তমঞ্চ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে