Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, মঙ্গলবার, ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ , ২ আশ্বিন ১৪২৬

গড় রেটিং: 3.0/5 (51 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)


আপডেট : ১০-২৪-২০১৮

নূরের আসনে বিএনপির শত্রু ‘জামায়াত’

নূরের আসনে বিএনপির শত্রু ‘জামায়াত’

নীলফামারী, ২৪ অক্টোবর- অষ্টম সংসদ থেকে টানা তিন মেয়াদে নীলফামারী-০২ আসনে সংসদ সদস্য হিসেবে রয়েছেন দেশ বরেণ্য সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব আসাদুজ্জামান নূর। দশম সংসদের সরকারে হয়েছেন সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী।

এর আগে সপ্তম সংসদে জাতীয় পার্টির আহসান আহমেদ হাচান এবং ষষ্ঠ সংসদে ছিলেন বিএনপির দেওয়ান নূর-উন-নবী আহমেদ।

অষ্টম ও নবম সংসদে ভোটে নির্বাচিত হলেও বিএনপি জোট বিহীন দশম সংসদে প্রতিদ্বন্দ্বী না থাকায় একমাত্র প্রার্থী হিসেবে বিজয়ী হন সবার প্রিয় ‘বাকের ভাই’ আসাদুজ্জামান নূর।

একাদশ নির্বাচন ঘিরে আসাদুজ্জামান নূরের এই আসনে আওয়ামী লীগ বা মহাজোটের বিকল্প এখন পর্যন্ত কেউ নেই। তবে বিএনপির নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটে প্রার্থী হতে চান দু’জন।

বিএনপি জোটে মনোনয়ন প্রত্যাশীদের তালিকায় রয়েছেন দলটির রংপুর বিভাগীয় কমিটির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক ও নীলফামারী জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক শামসুজ্জামান জামান এবং জেলা জামায়াতের নায়েবে আমীর মনিরুজ্জামান মন্টু। 

নূরেই আশা, নূরেই ভরসা

মহাজোটের নেতারা মনে করেন, নীলফামারী-২(সদর) আসনে আর অন্য কোনো প্রার্থী নেই। একমাত্র আসাদুজ্জামান নূর। তার কোনো বিকল্প নেই। 

তিনি নীলফামারীর জন্য এলাকার মানুষের ভাগ্যন্নোয়নের জন্য কাজ করে চলেছেন, সফলও হয়েছেন। যার সুফল ভোগ করছে জনগণ।

উন্নয়নের ক্ষেত্রে তিনি যে অবদান রেখে চলেছেন সেক্ষেত্রে আসাদুজ্জামান নূরের বিকল্প কেউ থাকতে পারে না এমনকি অন্যকোন দলেও নেই।

নেতারা মনে করেন, বরেণ্য সাংস্কৃতিক নূর ভাই সবার। শুধু আওয়ামী লীগ কিংবা মহাজোটের নন সব মানুষের।

নীলফামারী জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সহ-সভাপতি মোকছেদ আলী বলেন, আমরা এখন কী দেখছি! রাস্তা ঘাট, ব্রিজ, কালভার্ট, স্কুল কলেজে কতই না পরিবর্তন হয়েছে। আমাদেরকে মেডিক্যাল কলেজ দেয়া হলো।

বিএনপি আমলের সমালোচনা করে তিনি বলেন, তাদের সময় নীলফামারী সদরে পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটটি হওয়ার কথা। কিন্তু বেগম খালেদা জিয়ার ভাগ্নে শাহরিন ইসলাম তুহিনের কারণে সেটি হলো না। ইপিজেডটি বন্ধ করে দেয়া হলো। বিএনপির সময়কার আর আওয়ামী লীগ সরকারের উন্নয়নের পার্থক্য সবার চোখের সামনে দৃশ্যমান।

মোকছেদ আলী আরো বলেন, নূর ভাই দলমত নির্বিশেষে সবার জন্য কাজ করে চলেছেন। বিরোধী দলের নেতা কর্মীরাও এটা মেনে নেবেন।

জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও নীলফামারী পৌরসভার মেয়র দেওয়ান কামাল আহমেদ বলেন, আসাদুজ্জামান নূর আমাদের অভিভাবক। জেলার উন্নয়নের কাণ্ডারি।

নীলফামারী-০২ আসনে তার কোনো বিকল্প প্রার্থী নেই আওয়ামী লীগে। এমনকি তার প্রতি শ্রদ্ধা ও সম্মান জানিয়ে অন্য কেউ প্রার্থীও হতে চান না।

আওয়ামী লীগের প্রতিটি নেতা-কর্মী ঐক্যবদ্ধ এবং দলের জন্য নিবেদিত। শুধু আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে নয়, নীলফামারীর মানুষের অকৃত্রিম বন্ধু হিসেবে বারবার আসাদুজ্জামান নূর নির্বাচিত হবেন।

নীলফামারী সদর উপজেলার চওড়া বড়গাছা ইউনিয়নের কলেজ ছাত্রী মুন্নি আখতার বলেন, আসাদুজ্জামান নূর আমাদের এমপি। এটি গর্ব করার বিষয়। একমাত্র তার দ্বারাই পরিবর্তন দেখছি আমরা। গ্রামে-গঞ্জে এমনকি হাটে বাজারেও।

এ প্রসঙ্গে সংসদ সদস্য ও সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর বলেন, নীলফামারীর আপামর মানুষের প্রতি আমি চিরকৃতজ্ঞ। তারা আমাকে যে ভালোবাসা দিয়েছেন, তাদের এই ঋণ আমি শোধ করতে পারবো না। যতগুলো প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম তা পূরণ করে যাচ্ছি, তবে এখোনো শেষ হয়নি। পর্যায়ক্রমে শেষ করা হবে।

তিনি আরো বলেন, মাননীয় নেত্রী বঙ্গবন্ধু কন্যা আমাদের সবশেষ একটি মেডিক্যাল কলেজ উপহার দিয়েছেন। তিনি ভাবেন আমাদের নিয়ে না হলে, এটা হতো না।

আমাদের ভাগ্যের পরিবর্তন, দেশের পরিবর্তনের জন্য জননেত্রী শেখ হাসিনাকে আবারো ক্ষমতায় বসাতে হবে, এজন্য সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহবান জানাই।

এ আসনে জাতীয় পার্টি প্রার্থী নিয়ে ভাবছে না আপাতত। মহাজোটের প্রার্থী হিসেবে আসাদুজ্জামান নূরের উপর আস্থাশীল তারাও।

জেলা জাতীয় পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাজ্জাদ পারভেজ বলেন, নীলফামারী-২ আসনে জাতীয় পার্টি আওয়ামী লীগের প্রার্থী আসাদুজ্জামান নূরকে সমর্থন দিয়ে আসছে।

জোটগত হওয়ায় এ আসনে আমরা দলীয় কোনো প্রার্থী নির্ধারণ করিনি। তবে আলাদাভাবে জাতীয় পার্টি নির্বাচন করলে সেক্ষেত্রে এ আসনের প্রার্থী দেয়া হবে। তবে এখোনো কাউকে প্রার্থীর তালিকায় রাখা হয়নি বলে জানান সাজ্জাদ পারভেজ।

বিএনপির প্রস্তুতি কেমন?

এদিকে বিএনপি জোটে প্রার্থী হতে চান দলটির রংপুর বিভাগীয় কমিটির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক ও জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক শামসুজ্জামান জামান। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদল নেতা ছিলেন।

জেলা বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি ও কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য অ্যাডভোকেট মিজানূর রহমান চৌধুরী শামীম পরিবর্তন ডটকমকে বলেন, নীলফামারীতে বিএনপি এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি শক্তিশালী। বেড়েছে ভোটার, কর্মী ও নেতার সংখ্যা। সাংগঠনিকভাবেও এখানে দলটি অনেক শক্তিশালী।

তিনি বলেন, আমরা চাই এবার এ আসনে বিএনপির প্রার্থীকে জোটগতভাবে মনোনয়ন দেয়া হোক। কারণ অতীতে জামায়াত প্রার্থী নির্বাচন করলেও বিজয়ী হতে পারেনি। কিন্তু এবার মানুষও চান বিএনপির প্রার্থী।

নীলফামারী সদর উপজেলার পলাশবাড়ি ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মশিউর রহমান বলেন, আমরা দেখে আসছি, এ আসনে একক কিংবা জোটগতভাবে জামায়াত প্রার্থী জিততে পারেনি। তারা আর পারবেও না।

তিনি বলেন, আমাদের যোগ্য প্রার্থী রয়েছে। গ্রামে-গঞ্জে দলকে শক্তিশালী করেছেন আমাদের জামান ভাই। ভোটও বেড়েছে আগের তুলনায় অনেক বেশি। আমার বিশ্বাস বিএনপিকে আসনটি দেয়া হলে বিজয়ী হতে পারবে।

জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শামসুজ্জামান জামান বলেন, সারাদেশে বিএনপির গণজোয়ার সৃষ্টি হয়েছে। নির্বাচন আসলে সেটি বোঝা যাবে। 

দুর্নীতি, হত্যা, খুন, গুমের কারণে মানুষ তাদের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে। উন্নয়নের নামে নিজেদের পকেট ভারী করেছে আওয়ামী লীগের নেতা কর্মীরা। যার প্রভাব পড়েছে এখানেও।

তিনি বলেন, বিএনপি নির্বাচন মুখী দল। নির্বাচনের মাধ্যমে বারবার সরকার গঠন করেছে দলটি। সব সময় নির্বাচনের জন্য প্রস্তুত আমরা। সাংগঠনিকভাবে আমরা সুসংহত ও ঐক্যবদ্ধ।

এখানে ধানের শীষ প্রার্থীকে বিপুল ভোটে জনগণ নির্বাচিত করবে বলে জানান শামসুজ্জামান জামান।

তবে বিএনপিকে আসনটি ছাড়তে নারাজ দলটির সাবেক শরিক জামায়াতে ইসলামী। ফলে স্থানীয় বিএনপি নেতা-কর্মীদের চোখে জামায়াতও এখন তাদের বড় ‘শত্রু’।

জামায়াতও প্রস্তুত!

তবে নীলফামারী সদর আসন আবারো জামায়াতকে দেয়া হবে মন্তব্য করে জেলা জামায়াতের নায়েবে আমীর মনিরুজ্জামান মন্টু বলেন, নীলফামারী-২ ও নীলফামারী-৩ আসন থেকে জামায়াতের প্রার্থী দেয়া হয়। এবারো জোটগতভাবে তাই হবে।

তিনি বলেন, সুষ্ঠু নির্বাচন হলে দুই আসনেই জামায়াতের প্রার্থীর বিজয়ী হবে। প্রতিকুল পরিবেশ থাকলেও জামায়াতের ভোট বেড়েছে আগের চেয়ে বেশি। যা পড়বে ভোটের বাক্সে।

অন্য যারা নির্বাচনী দৌঁড়ে

এছাড়া জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল’র(জাসদ-ইনু) হয়ে জাসদ জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক জাবির আখতার প্রামানিক ও ইসলামী আন্দোলনের হয়ে দলটির নীলফামারী জেলা কমিটির সহ-সাধারণ সম্পাদক জহুরুল ইসলামকে প্রার্থী হিসেবে রাখা হয়েছে।

এক নজরে নীলফামারী-২ আসন

উল্লেখ্য, একটি পৌরসভা এবং ১৫টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত নীলফামারী-২ আসন। সদর উপজেলার এই আসনে মোট ভোটার ৩ লাখ ৯ হাজার ৮৮০ জন। এরমধ্যে পুরুষ ভোটার হলেন ১ লাখ ৫৪ হাজার ৫৭৯ জন আর নারী ভোটার রয়েছেন ১ লাখ ৫৪ হাজার ২৪৫ জন।

এর আগে দশম সংসদে এখানে ভোটার ছিলো ২ লাখ ৭৫ হাজার ৩০৯ জন। এর মধ্যে পুরুষ ছিলেন ১লাখ ৩৭ হাজার ৭৯৪ জন আর নারী ভোটার ছিলেন ১ লাখ ৩৭ হাজার ৫১৫ জন।

সূত্র: পরিবর্তন
এমএ/ ০৩:২২/ ২৪ অক্টোবর

নীলফামারী

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে