Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English

গড় রেটিং: 3.0/5 (20 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

print
আপডেট : ১০-২০-২০১৮

ম্যানবুকার ২০১৮ আইরিশ ঔপন্যাসিক অ্যানা বার্নসের জয়

ম্যানবুকার ২০১৮ আইরিশ ঔপন্যাসিক অ্যানা বার্নসের জয়

বিশ্বসাহিত্যের অন্যতম মর্যাদাসম্পন্ন পুরস্কার ম্যানবুকার। প্রতি বছর ইংরেজি ভাষায় রচিত শ্রেষ্ঠ উপন্যাসকে মনোনীত করে এই পুরস্কারে ভূষিত করা হয়। ১৯৬৯ সালে প্রথমবার এই পুরস্কার দেয়া হয়। এরপর থেকে এই পুরস্কার ইংরেজি সাহিত্যের শীর্ষ পুরস্কার হিসেবে পৃথিবীব্যাপী স্বীকৃতি পায়। ২০১৮ সালের ম্যানবুকার পঞ্চাশ বছরে পা রাখলো।

স্বাভাবিকভাবেই এবারের পুরস্কারটি নিয়ে ছিল বিশেষ দৃষ্টি। গত মঙ্গলবার ১৬ অক্টোবর সকল জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে ঘোষিত হলো ম্যানবুকার ২০১৮। এবার বিজয়ীর মুকুট মাথায় উঠল উত্তর আয়ারল্যান্ডের সাহিত্যিক অ্যানা বার্নসের মাথায়। ৫৬ বছর বয়সী এই সাহিত্যিকের তৃতীয় উপন্যাস 'মিল্ক্কম্যান'-এর জন্য তিনি এবারের ম্যানবুকারে ভূষিত হন। মঙ্গলবার রাতে ব্রিটেনের প্রিন্স চার্লসের স্ত্রী ক্যামেলিয়া, দ্য ডাচেস অব কর্নওয়েলের হাত থেকে ৫০ হাজার পাউন্ড অর্থমূল্যের পুরস্কারটি তিনি গ্রহণ করেন। সাহিত্যবোদ্ধা এবং বাজিকরদের তালিকায় অ্যানা বার্নস একটু পিছিয়েই ছিলেন; তবুও তার এই পুরস্কার লাভের বিষয়টিকে মোটেই দুর্ঘটনা বলছেন না বিচারকবৃন্দ। 

ম্যানবুকারের অন্যতম বিচারক দার্শনিক ও ঔপন্যাসিক কাওয়ামি অ্যান্থনি আফিয়া বলেন, 'এই উপন্যাসের মতো কোন কিছু কেউ পড়েনি এর আগে। অ্যানা বার্নসের গদ্যভাষা এবং স্বতন্ত্র কণ্ঠস্বর গতানুগতিক চিন্তাধারাকে চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলে দেয়। মিল্ক্কম্যান আমাদের দৈনন্দিন জীবনের দুঃখ-কষ্ট এবং সমাজের চলমান সময়ের নতুন ভাষ্য।' 

মিল্ক্কম্যানের কাহিনী গড়ে উঠেছে এক তরুণী ও একজন বয়স্ক মানুষের মধ্যে গড়ে ওঠা অন্যরকম এক সম্পর্ককে কেন্দ্র করে। নামহীন এই বৃদ্ধ যাকে উপন্যাসে 'মিল্ক্কম্যান' হিসেবে আখ্যা দেয়া হয়েছে তিনি একাধারে বুদ্ধিমান ও রহস্যময়। আধা সামরিক বাহিনীর সদস্য এই বয়স্ক মানুষটি তরুণীদের বিভিন্ন বিষয়ে অভিজ্ঞ করে তোলার বিষয়ে বেশ পারদর্শী। তার সঙ্গে উপন্যাসের নামহীন অন্যতম প্রধান তরুণী চরিত্র, যাকে উপন্যাসে পরিচয় করিয়ে দেয়া হয়েছে 'মিডল সিস্টার' হিসেবে; তাদের দ্বন্দ্ব এবং একটা পর্যায়ে তাদের সংঘর্ষপূর্ণভাবে মুখোমুখি হয়ে যাবার ঘটনা নিয়েই এই উপন্যাস রচিত। কাহিনীর প্রয়োজনে উপন্যাসে আরও উঠে এসেছে হত্যা, খুন, ধর্ষণ এবং নারীদের প্রতি বৈষম্য, বৈশ্বিক সহিংসতা ও সামাজিক উৎপীড়নের কথা। নামহীন চরিত্রগুলো রহস্যময় গল্পের মতোই বায়বীয়।

অ্যানা বার্নস তার পুরস্কার লাভের অনুভূতি ব্যক্ত করতে গিয়ে বলেন, 'এটা সত্যিই অসাধারণ। আমি ভাবতেই পারছি না ৫০ হাজার পাউন্ডের এই গুরুত্বপূর্ণ পুরস্কারটি জয় করেছি আমি। এটা আমার চিন্তার বাইরের বিষয়। উপন্যাসটি রচনার সময় আমি অনেক সমস্যা ও সংকটের মধ্য দিয়ে গিয়েছি। এটা সহজ ছিল না মোটেই।' উপন্যাসের নামহীন চরিত্রদের প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে বার্নস বলেন, 'উপন্যাসের গল্পই এখানে প্রধান চরিত্র; তাই অন্যান্য চরিত্রের নাম থাকা বা না থাকা কোন কিছুই যায় আসে না তাতে। প্রথমবার লেখার সময় চরিত্রগুলোর নাম ছিল। কিন্তু তাতে উপন্যাসের ভাষা কেন যেন প্রাণহীন ছিল এবং চরিত্রগুলোও এগোতে চাইছিল না। যখন আমি নামগুলো বাদ দিয়ে দিলাম, তখনই এটা আকর্ষণীয় হয়ে উঠলো।'

অ্যানা বার্নস গত ছয় বছরের মধ্যে প্রথম ব্রিটিশ সাহিত্যিক হিসেবে এবারের ৫০তম ম্যানবুকার লাভ করলেন। এর আগে সর্বশেষ ব্রিটিশ সাহিত্যিক হিলারি ম্যান্টেলের 'ব্রিং আপ দ্য বডিস' ম্যানবুকার জয় করে। 

সূত্র: সমকাল
এমএ/ ০৬:৪৪/ ২০ অক্টোবর

সাহিত্য

আরও লেখা

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে