Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English

গড় রেটিং: 3.0/5 (55 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

print

আপডেট : ১০-১৯-২০১৮

ঝুঁকিতে মনপুরা দ্বীপ জলবায়ু পরিবর্তনে 

ঝুঁকিতে মনপুরা দ্বীপ জলবায়ু পরিবর্তনে 

ভোলা, ১৯ অক্টোবর- জলবায়ু পরিবর্তনে ঝুঁকিতে পড়েছে দ্বীপজেলা ভোলার বিচ্ছিন্ন দ্বীপ মনপুরা। প্রাকৃতিক দুর্যোগ ছাড়াও নতুন করে দেখা দেওয়া সমস্যার মুখোমুখি হতে হচ্ছে এখানকার বাসিন্দাদের।

আগের চেয়েও এখানে জোয়ারের উচ্চতা, নদী ভাঙ্গন এবং পানিতে লবনাক্ততার পরিমান বহুগুণে বেড়েছে। ফলে কমে গেছে ফসলের উৎপাদন, বেড়েছে উদ্বাস্তু মানুষের সংখ্যা। অন্যদিকে  চরম স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে পড়েছেন নারী ও শিশুরা ।

এ অবস্থা থেকে উত্তরণের দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া না হলে ভবিষ্যতে এখানকার মানুষ ও অন্যান্য প্রাণিকুল চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে, আশঙ্কা করছেন এখানে জলবায়ু নিয়ে কাজ করা বিভিন্ন সংস্থার কর্মকর্তারা। তবে জেলা প্রশাসক বলেছেন, এখানে বর্তমানে জলবায়ু ট্রাস্ট প্রকল্পের কিছু প্রকল্প চলমান রয়েছে।

মনপুরা প্রায় চারশত বছরের পুরনো প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্যমণ্ডিত এক দ্বীপ ।  এটি এখন ভোলার জেলার একটি উপজেলা। চারদিকে জলরাশি বেস্টিত এ দ্বীপের মানুষ সারা বছরই প্রাকৃতিক দুর্যোগ ঝুঁকিতে থাকেন। এখন সেখানেই নতুন করে জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব দেখা দিয়েছে। যার প্রভাব পড়ছে মানুষের স্বাভাবিক জীবন যাত্রায়।

চারটি ইউনিয়নের বেশিরভাগ এলাকায়ই জলবায়ু পরিবর্তনের বিপদে আক্রান্ত। এর মারাত্মক প্রভাব পড়ছে জীববৈচিত্র্যের উপরও । মনপুরা উপজেলার সংরক্ষিত বন আলমনগর থেকে খাদ্যের সন্ধানে প্রায়ই লোকালয়ে চলে আসছে হরিণ।

মনপুরার বাসিন্দা লোকমান হোসেন বলেন, ‘আমরা উপকুলে বাস করি কিন্তু হঠাৎ করেই কিছু কিছু পরিবর্তন আমাদের ভাবিয়ে তুলেছে। বিশেষ করে শীতের দিনে কম শীত এবং গরমের দিনে কম গরম লাগা।কখনও কখনও আবার শীতের দিনে বৃষ্টি হওয়া।

এখানকার কৃষক আব্বাস উদ্দিন বলেন, ‘অদিনে বৃষ্টি এবং অতি জোয়ারে ফসল নষ্ট হয়, লবনাক্ত পানিতে ক্ষতিগ্রস্ত হয় ফসল। আমাদের ফসলের উৎপাদন অনেক কমে গেছে।’

মনপুরা উপজেলার প্রবীণ রাজনীতিক সামসুদ্দিন বাচ্চু চৌধুরী বলেন, মনপুরা উপজেলায় এক লাখ মানুষের বসবাস। এখানকার চারটি ইউনিয়নের ৩৬টি ওয়ার্ডই ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। এরমধ্যে মনপুরা ইউনিয়ন ব্যাপকভাবে ভাঙছে। এর ব্যাপকতা এখন এতটাই যে, যা গত কয়েক বছরকে ছাড়িয়ে যাচ্ছে।

জলবায়ুর বিরূপ প্রভাবে গত কয়েক বছর থেকে জোয়ারের পরিমাণ বৃদ্ধি পেয়েছে। এর সাথে পাল্লা দিয়ে বেড়েছে নদী ভাঙনও। আর এ ভাঙনের কারণে গৃহহারা হয়ে উদ্বাস্তু হচ্ছেন অনেক মানুষ।

মনপুরা প্রেসক্লাবের সভাপতি ও স্থানীয় সুশীল সমাজের প্রতিনিধি মো: আলমগীর হোসেন জানান, জলবায়ুর প্রভাবে চারদিকে নদীভাঙন এতটাই বেড়েছে যে- এতে আয়তন কমে ছোট হয়ে আসছে মনপুরা।

অপরদিকে মনপুরাতে জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে স্বাস্থ্যঝুঁকির বিষয়টি নিয়ে আতঙ্কিত উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগ। কথা হয় এখানকার উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কর্মকর্তা ডা: মাহমুদুর রশিদের সাথে। তিনি জানান, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে প্রত্যক্ষভাবে নদী ভাঙন হচ্ছে। যার ফলে মানুষ তার বসত বাড়ি বদল করছে। এতে শিশু ও মায়েরা অপুষ্টিতে ভুগছে। যে কারণে শিশুদের উচ্চতা বাড়ছে কিংবা ওজন বাড়ছে না। এছাড়াও গর্ভকালীন মায়ের ওজন কমে যাচ্ছে।

মনপুরা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান সেলিনা আক্তার চৌধুরী বলেন, ‘নদীভাঙনে যারা গৃহহীন হচ্ছে তাদের পুনর্বাসনের বিভিন্ন চরে জমি বন্দোবস্ত দেওয়ার লক্ষ্যে কাজ করছেন মাননীয় মন্ত্রী।’

তিনি বলেন, ‘মনপুরা উপজেলার চারটি ইউনিয়নে লক্ষাধিক মানুষের বসবাস। সেখানে জলবায়ু তহবিলের কিছু কার্যক্রম হাতে নেওয়া হয়েছে।’

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, জলবায়ুর পরিবর্তনের হাত থেকে বাসিন্দাদের রক্ষায় কাজ করছে ইউনিসেফের একটি প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে উপকুল নিয়ে কাজ করা সংস্থা কোস্ট ট্রাস্ট্র। তারা কিশোর-কিশোরীদের দিয়ে জলবায়ু সক্ষমতা বাড়াতে মানুষকে সচেতন করে তুলছে।

তবে জলবায়ুর পরিবর্তনে ক্ষতি মোকাবেলায় সকল ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে বলে জানান ভোলার জেলা প্রশাসক মোহাম্মাদ মাসুদ আলম ছিদ্দিক।

সূত্র: রাইজিংবিডি
এইচ/২২:১০/ ১৯ অক্টোবর

ভোলা

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে