Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English

গড় রেটিং: 3.0/5 (65 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

print
আপডেট : ১০-১৫-২০১৮

শ্যাম দেশের দিনরাত্রি

মিনহাজুল ইসলাম জায়েদ


শ্যাম দেশের দিনরাত্রি

‘Sufficiency Economic Philosophy বিষয়ক দুই সপ্তাহের প্রশিক্ষণে অংশ নিতে শ্যাম দেশে যেতে হয়েছিল এবার। ইতিপূর্বে যতবার বিদেশ গিয়েছি; বহির্গমন দরজা থেকে আয়োজকদের প্রতিনিধি নির্ধারিত গন্তব্যে পৌঁছে দিয়েছেন। এবারই প্রথম ব্যতিক্রম হলো। আগে থেকেই জানিয়ে দেওয়া হয়, অভ্যর্থনা জানাতে কেউ আসবে না। বিমানবন্দরে AOT লিমোজিন কাউন্টারে যোগাযোগ করে আমন্ত্রণপত্র দেখালেই পাঠিয়ে দেবে নির্দিষ্ট হোটেলে। লাগেজ হাতে নিয়েই ছুটে গেলাম হাতের কাছে পাওয়া AOT কাউন্টারে। ভাঙা ভাঙা ইংরেজিতে দায়িত্বরত তরুণী জানান বাইরের কাউন্টারে যোগাযোগ করার জন্য। অতঃপর একে ওকে জিজ্ঞেস করে বেশ কিছু সময় পর খুঁজে পাই কাঙ্ক্ষিত কাউন্টারের খোঁজ। সালেহা নামের তরুণী এগিয়ে এসে জানালেন, বাইরে গাড়ি রাখা। এক্ষুণি রওনা হতে পারব। ওয়াকিটকি নিয়ে কাকে যেন ডাকলেন। মিনিট খানেকের মধ্যেই হাজির মধ্যবয়সী এক পুরুষ। আমাদের তিনজনকে তার হাতে সঁপে দিয়ে বিদায় নিলেন সালেহা।

গাড়িতে উঠিয়ে প্রাথমিক আলাপ-পর্ব শেষে চালকের কাছে জানতে চাই, গন্তব্যে পৌঁছতে কতক্ষণ লাগবে? 'জ্যাম না থাকলে ৩০ মিনিট, নতুবা দুই ঘণ্টাও লাগতে পারে- চালকের স্পষ্ট উত্তর। চমৎকার মসৃণ পথ দিয়ে একের পর এক উড়াল সেতু পাড়ি দিয়ে বাধাহীনভাবে ৪০ মিনিটের মধ্যে পৌঁছি ব্যাংকক শহরতলির হোয়ামেক ব্যাংকাপি এলাকার এনডা হোটেলে। আমাদের নামিয়ে দিয়েই বখশিস চেয়ে বসে চালক। এভাবে বিদেশিদের কাছে বখশিস চাওয়ায় কিছুটা অবাক হয়েছি। ইতিপূর্বে একবার আমাদের সঙ্গে সপ্তাহ খানেক সংযুক্ত এক চালককে বিমানবন্দরে বিদায় বেলায় কিছু বখশিস দিতে চাইলে সে বিরক্তি প্রকাশ করেছিল। অথচ এখানে প্রথম সাক্ষাতেই তা দাবি করে বসে! আমাদের কারও কাছে হাজার বাথের ছোট নোট না থাকায় তার আবদার পূরণ করা যায়নি।

হোটেলে পা রাখামাত্র অভ্যর্থনা টেবিলে বসা তরুণ সহাস্যে বরণ করে প্রয়োজনীয় কাগজাদি চেয়ে নেন। আমাদের দেখেই সোফায় বসা দুই পুরুষ ও এক মহিলা এগিয়ে এলেন। SEP প্রশিক্ষণার্থী কি-না জানতে চান। অতঃপর নিজেদের পরিচয় দিয়ে জানান, কিরগিজস্তান থেকে তারা এসেছেন। টুকটাক কথা বলে হোটেল কক্ষের চাবি নিয়ে আমরা ছুটলাম নিজেদের গন্তব্যে। কক্ষে ঢুকেই এক ধরনের ভালো লাগা কাজ করল। শুরুতেই ছোট অথচ সাজানো গোছানো ড্রয়িং রুম। পরিপাটির একটা ছাপ স্পষ্ট লক্ষণীয়। সব ধরনের আধুনিক সুযোগ-সুবিধা রয়েছে। দেয়ালের লাগানো শেল্কম্ফ আর হ্যাঙ্গার ঝুলানো থাকলেও বস্ত্রাদি রাখার পৃথক কোনো কেবিনেট না থাকাটা দামি হোটেলের অপূর্ণতাই বলা যায়।

কক্ষের সামনেই চমৎকার লবি। গোছানো টি-টেবিল আর হরেক রকম গাছপালা দিয়ে সাজানো লবিতে আভিজাত্যের স্পষ্ট নিদর্শন। ক্ষণিক বিশ্রাম নিয়ে হোটেলের রেস্তোরাঁয় সারা হলো নৈশভোজ। খাওয়া শেষে কক্ষে ফেরার সময় পথ আটকে দাঁড়ায় কিরগিজস্তানের একজন। মুখের কাছে মোবাইল ফোন এনে বলতে থাকে, Speak English, Speak English. ইংরেজিতে আর কিছুই সে বলতে পারছিল না। তার অন্যসঙ্গীর কাছে জানতে চাইলাম, সে আসলে কী চায়? তিনি জানান, এ কথাটাই যেন তার মোবাইলের কাছে বলি। সে অনুযায়ী কাজ করায় সঙ্গে সঙ্গে তা রুশ ভাষায় অনুবাদ করে নিল। গুগল অনুবাদকের বদৌলতে চলল আমাদের আলাপচারিতা। 

পরদিন সকালে শুরু হলো মূল প্রশিক্ষণ-পর্ব। সকাল ৯টায় শুরুর কথা থাকলেও আমাদের নিয়ে যাওয়া হলো ৮টা ২০ মিনিটে; পাছে রাস্তায় যানজটে আটকা পড়ে যাই এই ভয়ে। মিনিট দশেকের মধ্যে কোনো রকম বিপত্তি ছাড়াই পৌঁছে যাই নির্ধারিত প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে। প্রথম রাত কিংবা প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে যাওয়া-আসার পথে যানজটে না পড়লেও একদিন সন্ধ্যায় শপিং শেষে ফেরার পথে ঠিকই দীর্ঘ যানজট পোহাতে হয়েছে। চালক জানাল, অফিস শুরু ও শেষে এমন যানজট নাকি ব্যাংককের স্বাভাবিক ব্যাপার।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে শুরু হলো আনুষ্ঠানিক পরিচয় পর্ব। নাম-পরিচয় দিতে গিয়ে কিরগিজদের অবস্থা অথৈবচ। দু'জন কোনো রকমে নাম-পরিচয় দিতে পারলেও তৃতীয় জন নাম ছাড়া কিছুই বলতে পারেনি। অগত্য তাদের জন্য রুশ দোভাষী (সোভিয়েত ইউনিয়ন ভেঙে কিরগিজস্তান সৃষ্টি হয়েছে বলে তারা রুশ ভাষায় কথা বলতে সক্ষম) নিয়োগ দিতে হলো। প্রথম দিনের শেষ বিকেলে প্রশিক্ষণ কেন্দ্র ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব ডেভেলপমেন্ট অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের (নিডা) ছাদে নিয়ে যাওয়া হয় আমাদের। ২১ তলা ভবনের ওপর থেকে স্পষ্ট দেখা যায় পুরো ব্যাংকক নগরী। সেখানে থেকেই দেখলাম ভবনের পাশ দিয়ে বহমান ছোট্ট জলধারা বেষ্টন করে রেখেছে পুরো নগরী। খোঁজ নিয়ে জানা হলো, এটি একটি নালা। সারসাব (Sarsab) নামক নালাটি কেন্দ্র করে আছে পুরো নগরী। পাকা করে বাঁধানো এর দুই কূল। নৌকায় চড়ে নালা দিয়ে পুরো শহর ঘুরে দেখা যায়। পরবর্তীকালে নগরীর বিভিন্ন প্রান্তে আসা-যাওয়ার পথে নালাটির অস্তিত্ব খুঁজে পেয়েছি। তবে সময়-সুযোগ না হওয়ায় নৌকায় চড়ে ব্যাংকক দেখা হয়ে ওঠেনি। 

প্রথম দুই দিন ব্যাংককে কাটিয়ে পাঁচ দিনের জন্য নিয়ে যাওয়া হলো মাঠ পর্যায়ের কার্যক্রম পরিদর্শনে। প্রথমে লক্ষ্য দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের প্রবেশ ট্রটিতে। স্থানীয়রা ইংরেজি জানে না, তাই আমাদের সঙ্গী হলো দোভাষী আর্ম। পুরো নাম র?্যাটচানন কেওমানিন। ব্যাংকক শহর ছেড়ে আমরা চললাম দূর প্রদেশের পথে। মধ্যাহ্নভোজ সারা হলো রইয়ং প্রদেশের প্রেয়িং জেলার এক রেস্তোরাঁয়। জীর্ণ-পুরনো বাড়ির আদলে নির্মিত রেস্তোরাঁটি বাইরে থেকে দেখে আগন্তুকদের রেস্তোরাঁ হিসেবে চেনার উপায় নেই। আর্ম জানায়, এমন রেস্তোরাঁর নকশা এখানকার ঐতিহ্য। 

মধ্যাহ্নভোজ শেষে আবারও শুরু হলো পথ চলা। অনেক পথ যাওয়ার পর পাওয়া গেল ট্রাট প্রদেশের স্বাগত তোরণ। বিশাল তোরণে খোদাই করে লেখা স্বাগতম বার্তা। রাস্তার দুই পাশে বৃক্ষরাজির সমাহার। আম, নারিকেল, কৃষ্ণচূড়াসহ হরেক রকম বৃক্ষ। বাংলায় আমের মুকুলের সময় হয়েছে মাত্র। অথচ এখানে অনেক গাছেই পাকা আম ঝুলতে দেখা গেল। দূর থেকে হাতছানি দিয়ে ডাকছে পাহাড়। দুই লেনের রাস্তাকে চার লেনে প্রশস্তকরণ কাজ চলছে জোরেশোরে। সড়ক সম্প্রসারণের এই কাজ যাতায়াতের কোনো বিঘ্ন সৃষ্টি করছে না। ট্রাই প্রদেশে প্রবেশের ঘণ্টাখানেক পর আমরা পৌঁছলাম নির্ধারিত নিশিযাপন ঠিকানা মক কেউ বিচ রিসোর্টে। একেবারে থাইল্যান্ড উপসাগরের কূল ঘেঁষে অবস্থান রিসোর্টটির। সাগরের উপচে পড়া ঢেউয়ের গর্জন শোনা যাচ্ছিল রুমে বসেই। চৌচালা টিনের আদলে নির্মিত প্রত্যেক ঘরে আছে দুটি কক্ষ। সৈকত আর কক্ষের মধ্যবর্তী দূরত্ব ২০ গজেরও কম। তবে ততটা উত্তাল নয় সমুদ্রের গর্জন। চৌচালা টিনের ঘরের প্রতিটিতে রয়েছে দুটি কক্ষ। রিসোর্টে পাওয়া যায় স্থানীয় ঐতিহ্যমণ্ডিত নানা দ্রব্য। নির্ধারিত দাম দিয়ে কেনা যায় যে কোনো পণ্য।

পরের দিনের গন্তব্য ছিল চান্তাবুড়ি প্রদেশের লেমক্লাট কমিউনিটি। সামুদ্রিক মাছ আর কাঁকড়া আহরণ করেই এক সময় চলত এখানকার মানুষের জীবিকা। ক্রমাগত শিকারের ফলে এক পর্যায়ে দেখা দেয় প্রাকৃতিক বিপর্যয়; হারিয়ে যায় কাঁকড়া ও নানা প্রজাতির মাছ। জীবিকা নির্বাহে দিশেহারা হয়ে পড়ে স্থানীয় জনগণ। তখনই এগিয়ে আসে থাই সরকার। টেকসই উন্নয়ন নীতিমালা গ্রহণ করে জীববৈচিত্র্য রক্ষা করে জীবিকা নির্বাহের পথ বাতলে দেয়। স্থানীয়দের সবাই এখন পরিবেশ সচেতন। জীবন আর জীবিকা নিয়ে নেই কোনো দুশ্চিন্তা। এখানেই প্রথম দেখি মোটরসাইকেল ভ্যান, যা ছোট্ট লোহার পাইপ দিয়ে মোটরসাইকেলের সঙ্গে যুক্ত করে তৈরি। এসব ভ্যানেই চলছে ভ্রাম্যমাণ ব্যবসা। দিনে নানা জায়গায় ঘুরেফিরে রাত কাটালাম সেন্ডডোন্স হোটেলে। সমুদ্রতীরের এই হোটেলের নির্মাণশৈলী চমৎকার। সুইমিং পুলসহ সবকিছুর ব্যবস্থায় সমৃদ্ধ হোটেলটি। 

হোটেলের পাশ দিয়ে বয়ে চলেছে সেন্ডডোন্স সমুদ্রসৈকত। রাতের খাবার শেষে ঘুরতে বের হই বেলাভূমে। সমুদ্রের তীর ঘেঁষে তৈরি হয়েছে বেশ কিছু আবাসিক হোটেল। পরিচ্ছন্ন পরিবেশ। রাত ১০টা বাজে, অথচ পর্যটকের বেশ কোলাহল। সব বয়সের মানুষের অস্তিত্ব পাওয়া গেল। তবে বিদেশির সংখ্যাই বেশি। অবকাশ যাপনে বিশ্বের নানা প্রান্ত থেকে প্রকৃতিপ্রেমীরা জড়ো হয়েছে সমুদ্রকূলবর্তী এ এলাকায়। বেশ বড় একটি বুড়ো-বুড়ির দলকেও পাওয়া গেল। চেহারা বলছিল ইউরোপিয়ান। প্রায় সবার হাতেই রুঙিন পানীয়ের বোতল থাকায় কাছে গিয়ে বাতচিৎ করা হয়নি। পরদিন ভোরে উঠে আবারও ছুটে চলি সমুদ্র দর্শনে। এখানে পাওয়া গেল আমাদের দলের সবাইকেই। প্রভাতের সমুদ্র বিলাসকে ক্যামেরার ফ্রেমে বন্দি করে রাখি ভবিষ্যতে স্মৃতি রোমন্থন করা যাবে বলে।

সেন্ডডোন্সকে বিদায় জানিয়ে পরের সকালেই বাক্স-পেটরা নিয়ে উঠতে হলো গাড়িতে। এবারের গন্তব্য ব্যাংকারবেন বে বয়েল ডেভেলপমেন্ট স্টাডি সেন্টার। ব্যাংকারবেন উপসাগরের তীরে অবস্থিত স্টাডি সেন্টারের শ্রেণিকক্ষ থেকে শোনা যায় সাগরের গর্জন। নানা ধরনের মৎস্য প্রজনন কেন্দ্র দেখিয়ে আমাদের নিয়ে যাওয়া হয় অ্যাকুয়াটিক ক্লিনিকে। পাদুকা বাইরে রেখে ঢুকতে হলো ভেতরে। এখনকার অ্যাকুয়াটিক ক্লিনিক দেখে মনে মনে আফসোস জাগে, ইস! আমাদের মানুষের হাসপাতাল যদি এমন পরিচ্ছন্ন হতো! এর পর দেখা হয় অ্যাকুয়ারিয়াম। ৫০-এর অধিক প্রজাতির মাছ রয়েছে এখানে। তবে বাগদা চিংড়ি আর রূপচাঁদা ব্যতীত পরিচিত কোনো মাছ নেই। এখানেই কথা হয় ডেনমার্কের পর্যটক আনাসের সঙ্গে। সপরিবারে ঘুরতে এসেছেন। বাংলাদেশ সম্পর্কে ভালো জানাশোনা, তবে এখনও আসেননি। ভবিষ্যতে বঙ্গভূমি দেখার ইচ্ছে আছে। নিজ দেশ সম্পর্কে নানা তথ্য দিয়ে তাকে আসতে উৎসাহিত করি। ট্রাট ও চান্তাবুড়ি প্রদেশে চার দিন কাটিয়ে পঞ্চম দিন আবারও ছুটলাম ব্যাংককের পথে। ফিরতি পথে দেখা হয় ব্যাংককের নিকটবর্তী সামুট প্রাকান প্রদেশের ব্যাংন্যাম পুয়েং ভাসমান মার্কেটে। মার্কেট এলাকার প্রবেশমুখেই আগন্তুকদের সারি সারি গাড়ির দেখা পাওয়া যায়। বিভিন্ন দেশে ভাসমান মার্কেট বলতে নদীবক্ষে নৌকা বা স্টিমারে পসরা নিয়ে যেমন কেনাবেচার হাট দেখা যায়, এখানকার মার্কেট এমন নয়। বহমান খালের পাশে স্থায়ী মার্কেটেই বসেছে দোকানের সমারোহ। তবে খাবারের দোকানই বেশি। মার্কেটটি যে জমজমাট, তা অগণিত লোকসমাগমেই বোঝা যায়। এক ঘণ্টা সময় নিয়ে আমরা ঘুরে বেড়াই পুরো মার্কেট। সবকিছুর মূল্যই নির্ধারিত। দামাদামির সুযোগ নেই। প্রিয়জনদের উপহারস্বরূপ কিছু জিনিস কেনা হয় ভাসমান এই মার্কেট থেকে।

মার্কেট থেকে যাওয়া হয় স্থানীয় ব্যাংন্যাম পুয়েং কমিউনিটিতে। এখানকার অধিবাসীরা মূলত তাঁতনির্ভর। তাঁতি মহিলা হাতেকলমে শিক্ষা দিলেন কাপড়ে রঙ দেওয়ার কৌশল। অতঃপর সে কাপড় শুকাতে দিয়ে আমরা চলে গেলাম স্থানীয় ইয়োগা সেন্টারে। অত্যন্ত যত্ন নিয়ে নানা ধরনের শারীরিক যোগ ব্যায়াম শেখানো হলো দলের সবাইকে। কেউ কেউ আবার যোগ ব্যায়ামের নানা উপকরণ কিনেও নেন। ইয়োগা সেন্টারে ঘণ্টাখানেক কাটিয়ে আবারও যাওয়া হয় তাঁতকেন্দ্রে। এবার নিজ হাতে তৈরি কাপড় উপহার হিসেবে আমাদের হাতে তুলে দেওয়া হলো। ওড়না, গামছা আকৃতির এসব পোশাক পেয়ে দলের সবাই বেশ আনন্দিত।

মাঠ পর্যায়ের কার্যক্রম দেখে ব্যাংককে ফিরে আরও পাঁচ দিন থাকা হয় শ্যাম দেশে। সকাল-সন্ধ্যা শ্রেণি কার্যক্রম শেষে নিজেদের মতো শহরের অলিগলি ঘুরে বেড়িয়েছি। করা হয়েছে টুককটাক কেনাকাটা। ব্যাংককের রাস্তা এক কথায় চমৎকার। কোথাও নেই খানা-খন্দক, ধুলাবালির ওড়াউড়ি। শহরজুড়ে রয়েছে চওড়া ফুটপাত। অবৈধ দখলদার ও হকারমুক্ত ফুটপাত দিয়ে হাঁটা যায় স্বচ্ছন্দে। নির্দিষ্ট স্থান ছাড়া থামে না বাস। রাস্তার মাঝে যাত্রি ওঠানো-নামানোর কোনো চর্চা নেই। তবে ঢাকার মতো বিভিন্ন সেবা সংস্থার তারের ছড়াছড়ি রয়েছে শহরজুড়ে। তা ছাড়া রয়েছে ভাষার জটিলতা। স্থানীয়রা ইংরেজি তেমন জানে না বা বলতে চায় না। ফলে গাইড ছাড়া পথ চলা কষ্টকর।

সূত্র: সমকাল
এমএ/ ০২:১১/ ১৫ অক্টোবর

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে