Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, সোমবার, ২৭ জানুয়ারি, ২০২০ , ১৪ মাঘ ১৪২৬

গড় রেটিং: 3.1/5 (37 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ০৬-০৮-২০১৩

গণতান্ত্রিক আবহে একটি জাতির কাঙ্ক্ষিত স্বপ্নমালা

ফকির ইলিয়াস



	গণতান্ত্রিক আবহে একটি জাতির কাঙ্ক্ষিত স্বপ্নমালা

না, দেশে সামরিক ফরমান জারি হবার কোনো সম্ভাবনা নেই। আপাতত সেটাই মনে হচ্ছে। এখন ২০১৩ সাল। বিশ্ব পরিস্থিতি অনেক ধকল সয়ে উঠছে। আগের মানসিকতা নেই, অনেক ক্ষেত্রেই। এর কারণ আছে। মানুষ শান্তির পথরেখা চায়। মানুষ গণতান্ত্রিক আবহ চায়। গত ১৫ এপ্রিল ২০১৩ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এই বৈঠকে, সেনাপ্রধান ইকবাল করিম ভূইয়া বর্তমান বাস্তবতায় রাষ্ট্রক্ষমতায় সেনাবাহিনীর আসার সম্ভাবনা নাকচ করেছেন।

তিনি বলেছেন, ‘হয়তো অতীতের বিভিন্ন ঘটনা থেকে সবার মনে এ ধারণা জন্মেছে যে সেনাবাহিনী হয়তো কোথাও ইন্টারভেন করতে পারে। বর্তমান পরিপ্রেক্ষিতে অনুরূপ কোনো কিছু সম্ভব নয়।’ বলা দরকার, এ বিষয়ে একটি ধূম্রজাল সৃষ্টি হয়েছিল সাধারণ মানুষের মনে। বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া বলেছিলেন, ‘আমাদের সেনাবাহিনী বিদেশে শান্তি রক্ষায় কাজ করে। দেশে কোনো বিশৃঙ্খলা হলে তারা বসে থাকবে না। তারা সময়মতো দায়িত্ব পালন করবে।’ এর অর্থ কী, তা দেশের মানুষের না বুঝার কথা নয়। বেগম জিয়া আশা করেছিলেন দেশে এমনি একটি প্রেক্ষাপট তৈরি হবে। ৪৮ ঘণ্টার আল্টিমেটাম, হেফাজতের শোডাউন সবই ছিল এর ধারাবাহিকতা। কিন্তু এদেশের মানুষ তা প্রতিহত করেছেন খুব সাহসিকতার সঙ্গেই। তার কারণ হলো তারা গণতান্ত্রিক ধারার প্রবহমানতা চান। তবে বিএনপির পক্ষ থেকে পরে জানানো হয়েছিল, কোনো ধরনের অগণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার পক্ষে তারা নন এবং খালেদা জিয়া সেই ধরনের কিছু বোঝাতে চাননি।
 
অনুষ্ঠিত বৈঠকে সেনাপ্রধান জেনারেল ইকবাল করিম ভূইয়া বলেন, ‘আমরা সবাই শাসনতন্ত্রের প্রতি অনুগত। সংবিধানকে সমুন্নত রাখাই আমাদের শপথ।’ তিনি বলেন- ‘একবিংশ শতাব্দীতে দাঁড়িয়ে সবাই গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় বিশ্বাস করে থাকে। যে কোনো গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় সেনাবাহিনী তথা সশস্ত্র বাহিনী সবসময় রাজনৈতিক নেতৃত্বের অধীনে পরিচালিত হয়ে থাকে এবং রাজনৈতিক নেতৃত্বের নির্দেশেই কার্যাবলি পরিচালনা করে।’ সেনাপ্রধান আরো বলেন, ‘সংবিধানকে সমুন্নত রাখতে হবে এবং বর্তমানে যে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা, সেটা অবশ্যই তার নিজস্ব গতিতে চলতে দিতে হবে। সেখানে কোনো রকম ব্যতিক্রমের প্রশ্নই ওঠে না।’ নৌবাহিনী প্রধান ফরিদ হাবিবও সহকর্মীদের মতো বলেন, ‘সশস্ত্র বাহিনীর সবাই একসঙ্গে কাজ করে থাকে। সংবিধান সমুন্নত রাখার দায়িত্ব সবার।’ বিমান বাহিনী প্রধান ইনামুল বারী বলেন, তার বাহিনী সংবিধান, রাষ্ট্রপতি এবং সরকারের প্রতি সম্পূর্ণ আনুগত্য সহকারে কাজ করে যাবে। এখানে বিমান বাহিনীর কোনো সদস্য কিংবা বিমান বাহিনীর সংগঠন হিসেবে অন্য কোনো চিন্তা-ভাবনা বা কাজ করার সুযোগ নেই।
 
এদিকে জাতীয় সংসদ অধিবেশনে এসেই ওয়াক আউট করেছে বিএনপি। আমি এই দৃশ্যটি টিভিতে দেখেছি। সে বিষয়টির অবতারণা করে মওদুদ আহমদ ওয়াক আউট শোর নেতৃত্ব দিলেন তার কোনো দরকার ছিল না। তারা সংসদে থেকেই ঐ বিষয় নিয়ে আলোচনা করতে পারতেন। টানা ৮৩ কার্যদিবস অনুপস্থিতির পর সংসদে ফিরেই মাত্র দুই ঘণ্টার মাথায় সভা-সমাবেশের ওপর ‘নিষেধাজ্ঞার’ প্রতিবাদ জানিয়ে ‘ওয়াক আউট’ করেছে বিএনপি।
 
এর পরই আওয়ামী লীগের জ্যেষ্ঠ সাংসদ তোফায়েল আহমেদ বলেন, ‘আজ প্রমাণ হয়ে গেছে, বেতনভাতা ও সদস্যপদ রাখতে তারা (বিএনপি) সংসদে এসেছেন। আর আট দিন অনুপস্থিত থাকলে তাদের সদস্যপদ বাতিল হয়ে যেতো।’ মওদুদকে উদ্দেশ্য করে তোফায়েল প্রশ্ন রাখেন, তার বক্তব্যের সময় কোনো ধরনের হস্তক্ষেপ না হলেও বিএনপি ওয়াক আউট করলো কেন? আসলে বিএনপির সমস্যাটা অন্যখানে। তারা যে কোনো ভাবে একটি অস্থিতিশীল অবস্থা তৈরি করতে চাইছে। এদিকে তারেক রহমান ইস্যুতে আবারো সরগরম হয়ে উঠেছে বাংলাদেশের রাজনীতির মাঠ। মামলা থেকে জামিন নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে তারেক রহমান লন্ডনে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। রাজনীতি থেকেও নিজেকে অনেকটাই গুটিয়ে রেখেছিলেন। সম্প্রতি তিনি আবারো রাজনীতিতে সক্রিয় হয়েছেন। গত এপ্রিল মাসে সপরিবারে তারেক রহমান ওমরাহ পালনে সৌদি আরব যান।। সেখানে তিনি দলের প্রবাসী নেতাকর্মী নিয়ে সভা করেন। সর্বশেষ গত ২০ মে লন্ডনে যুক্তরাজ্য বিএনপির একটি প্রতিনিধি সভায়ও প্রধান অতিথি হিসেবে তিনি বক্তব্য রাখেন। এ সময় তারেক রহমান ৫ মে গভীর রাতে রাজধানীর শাপলা চত্বরে হেফাজতের নেতাকর্মীদের ওপর যৌথ হামলার তীব্র সমালোচনা করেন। পাশাপাশি নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবিতে আন্দোলনে আরো সক্রিয় হতে দলের নেতাকর্মীদের নির্দেশ দেন। একটি খবর অনেকের নজরে পড়েছে। ডা. বি চৌধুরীর বিকল্প ধারা ও অলি আহমদের এলডিপি শেষ পর্যন্ত বিএনপির সঙ্গে আবার একীভূত হতে যাচ্ছে। এটা বিএনপির জন্য প্লাস পয়েন্ট। এই বি চৌধুরীকে পদত্যাগে বাধ্য করা হয়েছিল রাষ্ট্রপতির পদ থেকে। আর বীর মুক্তিযোদ্ধা অলি আহমদকেও কোণটাসা করে রাখা হয়েছিল বিএনপিতে। বিএনপি থেকে বেরিয়ে যাওয়া কর্নেল (অব.) অলি আহমদ শেষ পর্যন্ত আবার বিএনপির সঙ্গেই গাঁটছড়া বাঁধছেন। তিনি বিএনপির নেতৃত্বকে চ্যালেঞ্জ করেছিলেন একসময়। তার ক্ষোভ ছিল আলবদর-রাজাকারদের সঙ্গে নিয়ে বিএনপি জোট করেছে। তার ক্ষোভ ছিল ‘হাওয়া ভবনের’ বিরুদ্ধে। তার ক্ষোভ ছিল সরাসরি তারেক রহমান, লুৎফুজ্জামান বাবর প্রমুখ বিএনপির ‘রাইজিং স্টার’দের বিরুদ্ধে। তিনি বিএনপি থেকে বেরিয়ে গিয়ে যখন এলডিপি গঠন করেন তখন তৎকালীন চারদলীয় জোটবিরোধী কী কী বক্তব্য দিয়েছিলেন, তা এখনো বিভিন্ন সংবাদপত্রে উজ্জ্বল হয়ে আছে। সেই আলবদর রাজাকার চক্রকে ‘নির্দোষ’ প্রমাণ কিংবা মুক্ত করার জন্য বর্তমান বিএনপি একটি নীরব প্রচেষ্টা সার্বক্ষণিক করে যাচ্ছে। এই সুবাদে বেগম খালেদা জিয়ার দুই ছেলের স্বদেশ প্রত্যাবর্তন কিংবা রাজনীতিতে পুনর্বাসনের বিষয়টিও যুক্ত। মোটকথা, তারা আগের মতোই মিত্রতা বজায় রেখে রাষ্ট্রক্ষমতা পাওয়ার কিংবা পুনর্বাসিত হওয়ার স্বপ্ন দেখছে। আমরা খুব গভীরভাবে লক্ষ করেছি, বিএনপির মৌলবাদী কানেকশন নিয়ে যখন জে. মীর শওকত কিংবা কর্নেল অলি আহমদরা কথা বলেছেন তখনই তাদের বেগম জিয়ার তীব্র বিরাগভাজন হতে হয়েছে। জে. মীর শওকত জীবনের শেষ সময়ে এসে বিএনপির সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করেই পরলোকগমন করেন। মনে পড়ছে, ২০১১ এর সেপ্টেম্বর মাসে অলি আহমদ নিউইয়র্ক সফরে এসেছিলেন। নিউইয়র্কে এলডিপির কোনো শাখা নেই। গঠন করা বোধ হয় সম্ভবও হয়নি। সেই অলি আহমদকে নিয়ে নিউইয়র্কে একটি ছোটখাটো সভা করেছেন বিএনপির কিছু সমর্থক-কর্মী। এ সভায় অলি আহমদ বলেছিলেন, ‘আগামী ডিসেম্বর ২০১১ এর মধ্যেই বর্তমান মহাজোট সরকার ক্ষমতা থেকে বিদায় নেবে। তবে কিভাবে বিদায় নেবে তা আমি জানি না।’
 
অলি আহমদের এ বক্তব্যের বিশ্লেষণ করা হয়েছিল দুই ভাবে। একটি হচ্ছে তিনি প্রলাপ বকছেন, আর একটি হচ্ছে বর্তমান সরকারের মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই কোনো ষড়যন্ত্রমূলক প্রক্রিয়ায় সরকারকে সরানোর প্রক্রিয়ায় অলি আহমদ সরাসরি জড়িত আছেন। আর আছেন বলেই তিনি জানাচ্ছেন, সরকার ডিসেম্বরের মধ্যেই বিদায় নেবে! এটা খুব পরিষ্কার অলি আহমদ বাংলাদেশে কোনো শুভ রাজনীতির প্রতিভূ নন। তিনি একজন মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে নিজেকে দাবি করেন। কিন্তু ডানপন্থী জাতীয়তাবাদী রাজনীতির সঙ্গে তার সম্পৃক্ততা শুধু ভোগের জন্যই ছিল না, তিনি এবং তার সরকার বাংলাদেশে আলবদর-রাজাকারদের রাষ্ট্রক্ষমতার ভাগ দিয়েছিলেন। আগে তিনি মন্ত্রী ছিলেন। ২০০১-২০০৬ সালে চারদলীয় জোটের নেত্রী তাকে মন্ত্রিত্ব দেননি। আর মন্ত্রিত্ব পাননি বলেই বেশ কবছর অপেক্ষা করে, পরে খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণা করেন। এটা খুবই নিশ্চিত, নিজামী-মুজাহিদ এদের পাশাপাশি যদি অলি আহমদকে একটি মন্ত্রিত্ব দেয়া হতো তবে তিনি খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে ‘টুঁ’ শব্দটি পর্যন্ত করতেন না। অলি আহমদ বিএনপি থেকে বেরিংে গিয়ে এলডিপি গঠন করেন। কিন্তু তাতে বিএনপির কিছুই আসে যায়নি। বরং অলি আহমদ-জাহানারা বেগম প্রমুখরা প্রায় গণবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েন। ২০০৮-এর নবম সংসদ নির্বাচনে শুধু অলি আহমদই জিতে আসেন। আর তা সম্ভব হয় তার এলাকাভিত্তিক জনপ্রিয়তা ও আঞ্চলিকতার কারণে। মনে পড়ছে, অলি আহমদ এলডিপি দলটি গঠনের পর, যুক্তরাষ্ট্রে তার দলের শাখা হচ্ছে, এমন গুজব ছড়িয়েছিল, বিএনপির কর্মী-সমর্থকরা নিউইয়র্কে ঘোষণা দিয়েছিলেন, ‘যেখানে অলি-এলডিপি, সেখানেই প্রতিরোধ’। এরপরে খুব অবাক হয়ে যুক্তরাষ্ট্রবাসী বাঙালিরা দেখলেন সেসব বিএনপিপন্থী নেতাকর্মীরাই অলি আহমদকে নিয়ে নিউইয়র্কে সমাবেশ করলেন। তার কারণ হলো এই এলডিপি প্রধান, নিঃশর্তভাবে খালেদা জিয়াকে আন্দোলনে সমর্থন দিয়েছে।
 
অলি আহমদ নিউইয়র্কে আরো বলেছিলেন, ‘জিয়া এবং মঞ্জুর হত্যায় জেনারেল এরশাদ সরাসরি জড়িত ছিলেন।’ যদি তাই হয়, তবে বিএনপি দুই মেয়াদে রাষ্ট্রক্ষমতায় থাকার পরও জিয়া হত্যা মামলায় এরশাদের বিচার করলো না কেন? করতে পারলো না কেন? বরং বেগম খালেদা জিয়া, এরশাদকে নিয়ে জোট করতে চেয়েছিলেন। ক্ষমতার ভাগ দিতে চেয়েছিলেন। এরশাদের সঙ্গে জোটবদ্ধ হতে আওয়ামী লীগ খেলায় জিতেছে সাময়িকভাবে।
 
আর বিএনপির দানবীয় চেহারা স্পষ্ট হয়েছে মৌলবাদী-জঙ্গিবাদীদের সঙ্গে আঁতাতের মাধ্যমে। অলি আহমদ যুগপৎভাবে বিএনপি-জামায়াতের দোসর হয়ে কার স্বার্থরক্ষা করবেন? একই কথা বলা যায় বি চৌধুরীর বেলায়ও। বাংলাদেশ গণতন্ত্রের মডেল হতে চায়। এই প্রজন্ম কোনো দুঃশাসন, ষড়যন্ত্র চায় না। এই প্রজন্ম অব্যাহত শান্তি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তাদের স্বপ্নমালার বাস্তবায়ন চায়। কিন্তু যেসব কালো শক্তি এই রাষ্ট্র ও প্রজন্মের কণ্ঠ চেপে ধরতে চাইছে- এদের রুখবে কে? এজন্য মানুষকেই এগিয়ে আসতে হবে। দেশে কয়েকটি সিটি করপোরেশন নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। এসবের জয়-পরাজয় গণতন্ত্রের ভাগ্য নিয়ামক। তাই মানুষকে মহান মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে দাঁড়াতে হবে। এই দেশ লাখো শহীদের রক্তের উত্তরাধিকার। কথাটি মনে রাখতে হবে সবাইকেই।

মুক্তমঞ্চ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে