Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English

গড় রেটিং: 3.1/5 (9 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

print
আপডেট : ১০-০৭-২০১৮

নিজ দেশের ‘জাদুকরী চিকিৎসক’ মুকওয়েগে

নিজ দেশের ‘জাদুকরী চিকিৎসক’ মুকওয়েগে

নোবেল শান্তি পুরস্কারজয়ী কঙ্গোর স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞ ডেনিস মুকওয়েগে নিজ দেশে ‘জাদুকরী চিকিৎসক’ হিসেবেই সুপরিচিত; অপারেশনের অসাধারণ দক্ষতায় যিনি সারিয়ে তোলেন অত্যাচারিত ও ধর্ষণের শিকার হওয়া নারীদের ক্ষত। যৌন সহিংসতার শিকার নারীদের ট্রমা থেকে বের করে আনতেও তিনি নিবেদিতপ্রাণ।

গৃহযুদ্ধবিধ্বস্ত কঙ্গোয় বহু নির্যাতিত ও ধর্ষিত নারীকে অক্লান্ত পরিশ্রম করে সুস্থ জীবনে ফিরিয়ে দিয়েছেন তিনি। নারীদের বাঁচাতে দিনে ১০টিরও বেশি অস্ত্রোপচার করা ছাড়াও ৩০ হাজারের বেশি নারীকে একা হাতে চিকিৎসা করে বাঁচিয়ে তোলার নজির আছে তাঁর। কঙ্গোয় দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে এক লড়াকু চিকিৎসকের মতো নারীদের সেবায় কাজ করে চলেছেন মুকওয়েগে। তাঁর জীবনী ও কাজ নিয়ে নির্মিত হয়েছে ২০১৫ সালের ‘দ্য ম্যান হু মেন্ডস উইমেন’ শীর্ষক চলচ্চিত্র।

হার না মানা এই চিকিৎসক যুদ্ধক্ষেত্রে নারী সহিংসতার একজন স্পষ্টভাষী সমালোচক। অসহায় এ নারীদের প্রতি সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিতে ব্যর্থতার জন্য তিনি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে দোষারোপও করেছেন বহুবার। কাজের স্বীকৃতিতে মুকওয়েগে পুরস্কারের জন্য মনোনীত হয়েছিলেন কয়েকবারই। শেষ পর্যন্ত ধর্ষণের বিরুদ্ধে, মেয়েদের ওপর অত্যাচারের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে দেশে-বিদেশে পরিচিত প্রতিবাদী মুখ হিসেবে তাঁকে পুরস্কৃত করেছে নোবেল কমিটি।

মুকওয়েগে প্রতিবেশী দেশ বুরুন্ডির একটি মেডিক্যাল স্কুলে পড়াশোনা শেষে ফ্রান্সের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে গাইনোকোলজি পড়েন। তিনি আরো অনেক আন্তর্জাতিক পুরস্কার পেয়েছেন। এর মধ্যে ২০০৮ সালে মুকওয়েগে জাতিসংঘের মানবাধিকার পুরস্কার পান। ২০০৯ সালে তিনি ‘আফ্রিকান অব দ্য ইয়ার’ হন।

৬৩ বছর বয়সী মুকওয়েগে পাঁচ সন্তানের জনক। কঙ্গোর পূর্বাঞ্চলীয় শহর বুকাভুতে তিনি পাঞ্জি হাসপাতাল প্রতিষ্ঠা করেছিলেন ২০ বছর আগে। সে সময় অস্ত্রধারীদের ধর্ষণের শিকার এবং গুরুতর জখম এক নারীকে তিনি প্রথম চিকিৎসা করে সারিয়ে তুলেছিলেন। সে অভিজ্ঞতা থেকেই পরে তিনি অত্যাচারিত নারীদের সেবায় আত্মনিয়োগ করেন। মুকওয়েগের হাসপাতালে এখন বছরে চিকিৎসা নিচ্ছে সাড়ে তিন হাজারেরও বেশি নারী। ২০১৩ সালে বিবিসিকে তিনি বলেন, ‘আমি তাঁবু খাটিয়ে হাসপাতালের যাত্রা শুরু করেছিলাম। গর্ভবতী নারীদের জন্য একটি ওয়ার্ড এবং আর একটি অপারেশন থিয়েটার ছিল। ১৯৯৮ সালে ফের সব ধ্বংস হলো। ১৯৯৯ সালে আমি আবার সব নতুন করে শুরু করলাম।’

কঙ্গোয় লড়াই-সংঘাত এবং প্রেসিডেন্ট জোসেফ কাবিলা সরকারের কড়া সমালোচনা করার জন্য মুকওয়েগের জীবন বিপন্ন হয়েছে। বাড়ি থেকে সপরিবারে পালিয়েও যেতে হয়েছিল তাঁকে। ২০১২ সালের সেপ্টেম্বরে জাতিসংঘে এক ভাষণে মুকওয়েগে অন্যায় যুদ্ধ এবং যুদ্ধাস্ত্র হিসেবে নারীদের ওপর সহিংসতার বিরুদ্ধে যথেষ্ট ব্যবস্থা না নেওয়ার জন্য কঙ্গো সরকারসহ অন্যান্য দেশের সরকারেরও সমালোচনা করেন।

এর পরই বন্দুকধারীদের টার্গেট হন মুকওয়েগে। অস্ত্রধারীরা বাড়িতে হানা দিয়ে তাঁর মেয়েকে জিম্মি করে। হামলায় মুকওয়েগের এক বিশ্বস্ত বন্ধুসহ এক নিরাপত্তারক্ষীও নিহত হয়েছিলের বলে জানা গেছে তাঁর প্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাইটের তথ্য থেকে। এ ঘটনার পর মুকওয়েগে পরিবার নিয়ে চলে যান সুইডেনে। এরপর যান বেলজিয়ামে। পরে ২০১৩ সালে তিনি আবার দেশে ফেরেন। দেশের নারীরাই প্রচার চালিয়ে তহবিল সংগ্রহ করে তাঁর দেশে ফেরার টিকিটের ব্যবস্থা করে দেয়।

মুকওয়েগে বলেন, “এরপর আমি আর ‘না’ বলতে পারিনি। এ ছাড়া আমি নিজেও সহিংসতার শিকার নারীদের সহায়তা করতে সংকল্পবদ্ধ ছিলাম। দেশে ফেরার পর জীবনধারা বদলাতে হয়েছে। এখন আমি হাসপাতালেই থাকি। আর কড়া নিরাপত্তার ব্যবস্থা রেখেছি। তাই স্বাধীনভাবে চলাফেরার সুযোগটাও তেমন নেই।”

সূত্র : বিবিসি
এমএ/ ০৯:৩৩/ ০৭ অক্টোবর

জানা-অজানা

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে