Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

Login
ইউনিজয়
ফনেটিক
English

গড় রেটিং: 3.0/5 (50 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

print

আপডেট : ০৯-১১-২০১৮

‘বাচ্চা সুস্থ জীবনেও কইছ না, বল্ ইনজেকশন না মারলে শান্তি হইতো না’ (অডিও)

মোহাম্মদ নূর উদ্দিন


‘বাচ্চা সুস্থ জীবনেও কইছ না, বল্ ইনজেকশন না মারলে শান্তি হইতো না’ (অডিও)

হবিগঞ্জ, ১১ সেপ্টেম্বর- বাচ্চা সুস্থ আছে বলা যাবে না, চিকিৎসা চালিয়ে যা। বুচ্ছত (বুঝেছিস) বালা (ভালো) জীবনেও কইছ না, আমি তো জানি রোগী বালা (ভালো আছে)। ইনজেকশন- টিনজেকশন মার। বাচ্চার মাকে বল্, ইনজেকশন না মারলে জীবনেও শান্তি হইতো না।’ হবিগঞ্জে সুস্থ একটি শিশুকে অসুস্থ দেখিয়ে বেসরকারি একটি হাসপাতালে ভর্তি রাখতে ওই হাসপাতালের চিকিৎসক বিশ্বজিতকে এই কথাগুলো মোবাইল ফোনের কথোপকথনে বলেছেন নবীগঞ্জে অবস্থিত অরবিট হাসপাতালের চিকিৎসক খায়রুল বাশার। ডা.বিশ্বজিৎ তাকে শিশুটি সুস্থ আছে জানানোর পরেও শিশুর মাকে শায়েস্তা করার উদ্দেশ্যে শিশুটিকে হাসপাতালে ভর্তি রাখার পরামর্শ দেন ডা.খায়রুল বাশার। তাদের খাট্টা-তামাশা ভরা কথোপকথনের শেষে নিরাপরাধ ৪০দিন বয়সী সুস্থ শিশুটিকে হাসপাতালে ভর্তিসহ ইনজেকশন দেওয়ার প্রস্তাব মেনে নেন ডা. বিশ্বজিৎ।

এদিকে প্রতারণার মাধ্যমে ওই শিশুকে হাসপাতালে ভর্তি রাখতে দুই চিকিৎসকের অডিও কথোপকথন নিয়ে গোটা জেলাজুড়ে তোলপাড় শুরু হয়েছে। ইতোমধ্যে অডিও রেকর্ডটি ভাইরাল হয়ে পড়েছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। অনেকেই বলেছেন, চিকিৎসকের এমন আচরণ কখনোই কাম্য নয়। এজন্য দোষি চিকিৎসকের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছে ভুক্তভোগীরা। এ বিষয়ে এরইমধ্যে একটি তদন্ত কমিটিও গঠন করা হয়েছে।

জানা যায়, হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ উপজেলার ফুলতলীর এলাকার রুবেল মিয়া ও শিরিনা আক্তারের ৪০ দিন বয়সী শিশু ইসমত নাহার জিবা ঘন ঘন হেঁচকি দিচ্ছিল। এ কারণে গত ৩১ আগস্ট জিবাকে নিয়ে স্থানীয় আউশকান্দি বাজারের অরবিট হাসপাতালে ডা.খায়রুল বাশারের কাছে যান তার মা। পরদিন শিশুটির কোনও উন্নতি না হলে আবারও কথা বলেন চিকিৎসকের সঙ্গে। শিশুটির মায়ের এই উদ্বিগ্নতাকে ভালো চোখে নেননি ডা. খায়রুল বাশার। উল্টো তিনি শিশুটির অবস্থা আশঙ্কাজনক উল্লেখ করেন এবং দ্রুত মৌলভীবাজারের মামুন হাসপাতালে ভর্তির পরামর্শ দেন। সেখানে গিয়ে ডা. বিশ্বজিতের সঙ্গে কথা বলার পরামর্শ দেন তিনি।

ডা. খায়রুল বাশারের কথা অনুযায়ী, মৌলভীবাজারে ছুটে যান শিশুটির মা। সেখানে ডা. বিশ্বজিতের সঙ্গে দেখা হলে শিশুটিকে হাসপাতালে ভর্তি করার পরামর্শ দেন তিনি। সে অনুযায়ী, রাতে ওই ক্লিনিকে ভর্তি করা হয় জিবাকে। পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর চিকিৎসক বিশ্বজিত বুঝতে পারেন শিশুটি সুস্থ ও স্বাভাবিক রয়েছে। একথা শিশুটির মা-বাবাকে জানান তিনি। এ কথা শুনে শিশুটির মা শিরিনা আক্তার ফোন করেন ডা. খায়রুল বাশারকে এবং কেন তার সন্তানের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে এখানে পাঠিয়েছেন তা জানতে চান। মূলত তার সন্তানের কোনও সমস্যা হয়েছে কিনা তা নিশ্চিত হতেই তিনি ওই চিকিৎসককে ফোন দেন। কিন্তু, ডা.বাশার ওই মহিলাকে বলে দেন ডা.বিশ্বজিৎ যেন তাকে ফোন করেন,তাকেই তিনি সব বলবেন। শিরিন আক্তার তখন ডা.বিশ্বজিতের কাছে গিয়ে তার ফোনে ডা. খায়রুল বাশারকে ধরিয়ে দেন। এরপরই দুই চিকিৎসক খাট্টা-তামাশার ধরনে শিশু ও তার মাকে নিয়ে কথোপকথন করেন।
এদিকে,দুই চিকিৎসক জানতেন না তারা যে মোবাইল ফোনে এই হাস্যরস ভরা কথোপকথন করেছেন সেটির ভয়েস রেকর্ডার অন করা ছিল। ওই রাতে নিজের ফোনের ভয়েস রেকর্ডার থেকে দুই চিকিৎসকের কথোপকথনটি শোনেন শিশুটির মা শিরিন আক্তার। এতে তার মনে সন্দেহের সৃষ্টি হয়।

মোবাইল ফোনের কল রেকর্ড পর্যালোচনা করে দেখা যায়, চিকিৎসক বিশ্বজিত বলছেন,‘দুলাভাই তোমার রোগী তো খুবই ভালো আছে, কোনও সমস্যা নাই। শিশুর মা কাঁদতে কাঁদতে শেষ।’
চিকিৎসক খায়রুল বাশার পাল্টা জবাবে বলেন, ‘আমি তো জানি রোগী ভালো। ভালো কওয়ার দরকার নাই। ভালো জীবনেও কইছ্ না। বল রোগী খারাপ আছে। ইনজেকশন-টিনজেকশন মার। না হলে শান্তি হইতো না।’
অভিযোগ রয়েছে, ডা. খায়রুল বাশার সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কনসালট্যান্ট হলেও দীর্ঘ এক যুগ ধরে নবীগঞ্জ উপজেলার আউশকান্দি বাজারে অবস্থিত অরবিট হসপিটালে নিয়মিত রোগী দেখে আসছেন। এছাড়া অপর চিকিৎসক বিশ্বজিৎ দেব মৌলভীবাজার সদর সরকারি হাসপাতালের চিকিৎসক হওয়া সত্ত্বেও তিনিও মামুন হাসপাতালে নিয়মিত রোগী দেখে আসছেন।

এদিকে বিষয়টি দ্রুত নিষ্পত্তি করার জন্য অরবিট হাসপাতালের মালিক পক্ষ থেকে শিশুটি মা-বাবাকে চাপ প্রয়োগ করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করা হচ্ছে।
এ বিষয়ে শিশুটির মা শিরিন আক্তার জানান, এ ঘটনার পর থেকে তিনি চরম নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছেন। বিষয়টি মীমাংসা করার জন্য তাকে বিভিন্ন মহল থেকে চাপ দেওয়া হচ্ছে।
তিনি আরও জানান, ঘটনার পর অরবিট হাসপাতালের পরিচালক মুহিবুর রহমান হারুন তার স্বামী রুবেল মিয়াকে মোবাইল ফোন দিয়ে বিষয়টি দ্রুত নিষ্পত্তি করতে বলেছেন।
বিষয়টি হবিগঞ্জ জেলা সিভিল সার্জনের নজরে আসলে তিনি তাৎক্ষণিক ঘটনার তদন্তের নবীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার ডা. আব্দুস সামাদকে প্রধান করে এ কমিটি গঠন করা হয়। কমিটি অন্য দুই সদস্যরা হলেন- মেডিক্যাল অফিসার ডা. ইফতেখার হোসেন চৌধুরী ও ডা. জান্নাত আরা চৌধুরী।
এ ব্যাপারে কমিটির প্রধান ডা. আব্দুস সামাদ বলেন, ‘আমি এখনও হাতে লিখিত কোনও চিঠি পাইনি, তবে বিষয়টি শুনেছি। মঙ্গলবার থেকে কাজ শুরু করবো।’ দ্রুত সময়ের মধ্যেই তিনি তদন্ত করে রিপোর্ট পেশ করবেন বলে জানান।

হবিগঞ্জ সিভিল সার্জন ডা. সুচিন্ত চৌধুরী বলেন, ‘আমি বিষয়টি শোনার সঙ্গে সঙ্গে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে দিয়েছি। তদন্ত কমিটি আগামী ৭ দিনের মধ্যে তদন্ত কমিটি তাদের রিপোর্ট পেশ করবেন।’
তিনি আরও বলেন, ‘তদন্তে কোনও চিকিৎক দোষী হলে অবশ্যই তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
এ বিষয়ে অরবিট হাসপাতালের মালিক মহিবুর রহমান হারুনের মোবাইলে একাধিকবার ফোন করলে তিনি কল রিসিভ করেননি।

 

 

তথ্যসূত্র: বাংলা ট্রিবিউন
আরএস/ ১১ সেপ্টেম্বর

হবিগঞ্জ

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে