Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

Login
ইউনিজয়
ফনেটিক
English

গড় রেটিং: 3.3/5 (6 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

print

আপডেট : ০৯-০৬-২০১৮

দেশের বর্তমান সাক্ষরতার হার ৭২ দশমিক ৯ শতাংশ

দেশের বর্তমান সাক্ষরতার হার ৭২ দশমিক ৯ শতাংশ

ঢাকা, ০৬ সেপ্টেম্বর- দেশে বর্তমান সাক্ষরতার হার ৭২ দশমিক ৯ শতাংশ বলে জানিয়েছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী মোস্তাফিজুর রহমান।

আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবস ২০১৮ উপলক্ষে বৃহস্পতিবার দুপুরে সচিবালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ তথ্য জানান।

মন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকারের নিরলস প্রচেষ্টায় দেশে বর্তমানে সাক্ষরতার হার ৭২.৯ শতাংশ। যা গত বছর ছিল ৭২ দশমিক ৩ শতাংশ।

পঞ্চম শ্রেণির প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষা কত দিন চলবে? সাংবাদিকদের এ প্রশ্নের জবাবে মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘যতদিন সরকার এই সিদ্ধান্ত বহাল রাখবে, ততদিন প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষা চলবে।’

প্রাথমিক শিক্ষা অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত করার বিষয়ে জিজ্ঞেস করা হলে মন্ত্রী বলেন, বিষয়টি এখনো পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর্যায়ে আছে। পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষ হলে এটার বাস্তবায়ন হবে।

তিনি বলেন, ‘প্রাথমিক শিক্ষা অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত করার প্রস্তাব আমাদের কাছে আসলে দুটো মিলিয়ে একটি পরীক্ষা হোক এমন একটি প্রস্তাব আমরা পাঠিয়েছিলাম। এটার পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষ হয়নি। এ বিষয়ে কেবিনেট থেকে সিদ্ধান্ত হয়ে আসবে। কিন্তু সেই সিদ্ধান্ত এখনো হয়নি।’

মন্ত্রী বলেন, ২০১০ সালের শিক্ষানীতি অনুযায়ী বলা হয়েছিল, ২০১৮ সালের মধ্যে সকল শিশুকে অবৈতনিক বাধ্যতামূলক অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত প্রাথমিক শিক্ষা নিশ্চিত করা হবে। কিন্তু এটা এখনো বাস্তবায়ন করা যায়নি। প্রক্রিয়া চলছে। আমরা পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত এটি চালাচ্ছি। আমরা ৭০০ স্কুলে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত করেছি। কিন্তু প্রাইমারির সঙ্গে আছে ৭০০ স্কুল। বাকি ১০ থেকে ২০ হাজার স্কুল আছে উচ্চশিক্ষার সাথে। উনারা ছেড়ে দিলেই আমরা শুরু করব। এটা কেবিনেট পর্যন্ত গেছে। এটা পরীক্ষা-নিরীক্ষা হচ্ছে। তা শেষে হলে আমরা বাস্তবায়ন করব।’

৮ সেপ্টেম্বর সারা দেশে যথাযোগ্য মর্যাদায় আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবস উদযাপন করা হবে, জানিয়ে সেদিনের নানা কর্মসূচি তুলে ধরেন গণশিক্ষামন্ত্রী। কর্মসূচির মধ্যে আছে শোভাযাত্রা, আলোচনা সভা ও সেমিনার।

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে দেশে সাক্ষরতার হার শতভাগ করার লক্ষ্যে আমরা কাজ করে যাচ্ছি। আমাদের উপ-আনুষ্ঠানিক শিক্ষা কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এ কাজে কিছুটা বাধার সৃষ্টি হয়েছে। আন্তর্জাতিক সহায়তা বন্ধ হয়ে যাওয়াও একটা বড় কারণ। কিন্তু তারপরও যতক্ষণ একজনও নিরক্ষর মানুষ থাকবে ততক্ষণ সরকার কাজ চালিয়ে যাবে। আমাদের অঙ্গীকার বাস্তবায়নে আমরা চেষ্টা করে যাব।’

মন্ত্রী বলেন, দেশ থেকে নিরক্ষরতা সম্পূর্ণরূপে দূরীকরণে এবং দেশের মানুষকে দক্ষ মানবসম্পদে পরিণত করতে সরকার ৭ম পঞ্চবর্ষিক পরিকল্পনা এবং এসডিজি-৪ এর লক্ষ্যসমুহ অর্জনে জন্য ব্যাপক পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে। এর মধ্যে উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরোর মাধ্যমে ব্যাপক কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। তার মধ্যে দেশ থেকে নিরক্ষরতা দূরীকরণের উদ্দেশ্যে ১৫ এবং তদূর্ধ্ব বয়সী ৪৫ লাখ নিরক্ষর নারী ও পুরুষকে সাক্ষরতা জ্ঞান প্রদানের জন্য উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরো মৌলিক সাক্ষরতা প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে।

তিনি বলেন, উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা সাব সেক্টরে একটি দীর্ঘমেয়াদী সেক্টর ওয়াইড অ্যাপ্রোচ প্রোগাম হিসেবে উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা উন্নয়ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করতে যাচ্ছে। এসব কর্মসূচির মধ্যে দেশে বিদ্যমান ৩ কোটি ২৫ লাখ নিরক্ষরকে সাক্ষরতা জ্ঞান প্রদান, বিদ্যালয়বহির্ভূত ৮ থেকে ১৪ বছর বয়সী ১০ লাখ শিশুকে উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা পদ্ধতির মাধ্যমে প্রাথমিক শিক্ষা প্রদান, ৫০ লাখ নব্য সাক্ষরকে দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ দিয়ে তাদের দক্ষ মানবসম্পদে পরিণত করে কর্মসংস্থান ও আত্মকর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি, মানুষের জ্ঞান ও দক্ষতা উন্নয়নের সুযোগ তৈরির জন্য জীবনব্যাপী শিক্ষা কর্মসূচি বাস্তবায়ন, প্রতি ইউনিয়নে এবং শহর এলাকায় ৫০২৫টি আইসিটি ভিত্তিক স্থায়ী কমিউনিটি লার্নিং সেন্টার প্রতিষ্ঠা এবং প্রতি জেলায় ১টি করে ৬৪টি স্থায়ী জীবিকায়ন দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা করা হবে।

মন্ত্রী বলেন, সাক্ষরতাই শিক্ষার সোপান। যে জাতি যত শিক্ষিত, সে জাতি তত উন্নত ও ক্ষমতাবান। এজন্য সমাজ, দেশ তথা পৃথিবীতে একটি সুখী সমৃদ্ধিশালী পরিবেশ বিনির্মাণে সাক্ষরতার কোনো বিকল্প নাই।

তিনি বলেন, ১৯৬৬ সাল থেকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সাক্ষরতা দিবসটি উদযাপিত হয়ে আসছে। প্রতিবছর আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবসে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সাক্ষরতা বিস্তারে সকলকে উদ্বুদ্ধ করা, বিগত বছরের সাক্ষরতা কার্যক্রমের মূল্যায়ন করা এবং পরবর্তী বছরে নতুন উদ্দীপনা নিয়ে কাজ করার পরিকল্পনা গ্রহণ করাই এ দিবসটি পালনের উদ্দেশ্য।

‘জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭২ সালে প্রথমবারের মতো স্বাধীন বাংলাদেশে আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবস উদযাপনের উদ্যোগ গ্রহণ করেন। তারই ধারাবাহিকতায় সরকার সাক্ষরতা বিস্তারে ব্যাপক কর্মসূচি বাস্তবায়ন করে আসছে। পাশাপাশি প্রতি বছর আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবসটি যথাযোগ্য মর্যাদার সঙ্গে বাংলাদেশ পালন করে আসছে। এ বছরের ইউনেস্কো কর্তৃক নির্ধারিত প্রতিপাদ্য হলো ‘লিটারেসি অ্যান্ড স্কিলস ডেভলপমেন্ট’ এর সঙ্গে সঙ্গতি রেখে এবারের স্লোগান ‘সাক্ষরতা অর্জন করি, দক্ষ হয়ে জীবন গড়ি’ নির্ধারণ করা হয়েছে। যা অত্যন্ত যুগপোযোগী বলে উল্লেখ করেন মন্ত্রী।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা সচিব মোহাম্মদ আসিফ উজ জামান, উপ–আনুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরোর মহাপরিচালক তপন কুমার ঘোষ প্রমুখ।

তথ্যসূত্র: রাইজিংবিডি
এইচ/২২:৩৯/০৬ সেপ্টেম্বর

 

শিক্ষা

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে