Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, বৃহস্পতিবার, ৯ এপ্রিল, ২০২০ , ২৬ চৈত্র ১৪২৬

গড় রেটিং: 3.0/5 (10 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ০৫-২৯-২০১৩

রবীন্দ্রমতে বিয়ে, বন্যা এবং নিউ ইয়র্কে শতকণ্ঠ…

হাসানুজ্জামান সাকী



	রবীন্দ্রমতে বিয়ে, বন্যা এবং নিউ ইয়র্কে শতকণ্ঠ…

নিউ ইয়র্কে রোববারের সন্ধ্যাটা সারাদিনের ভারী আকাশের মতোই কেমন যেন বিষণ্ন হয়ে উঠলো। মনটা গেলো খারাপ হয়ে। হু হু করে উঠলো ভেতরটা। অবশ্য এই মন খারাপ হওয়াটা এক ধরনের ভালো লাগা। ঘটনাটা ছিল আমার কাছে একেবারেই অপ্রত্যাশিত। দুয়েকজনের সাথে শেয়ারও করলাম। আমিই কী ভুল করছি নাকি নিউ ইয়র্কে এটাই স্বাভাবিক। তাদেরও মোটামুটি একই মত, একই রকম ভালো লাগা, মন খারাপ হওয়া, হু হু করে ওঠা…।

একজন আমার পাশে বসে ছিলেন। না, আমিই গিয়ে পাশে বসলাম। নিউ ইয়র্কে প্রথম দিককার রেস্টুরেন্ট ব্যবসায়ী। এখন সিটিতে চাকরি করেন। পিএস ওয়ান ওয়ান টু-এর হল ভর্তি মানুষ। এখানে পাবলিক স্কুলকে সংক্ষেপে পিএস বলে আর প্রতিটা স্কুলের একেকটা নম্বর থাকে। এখানকার হলেই রেজওয়ানা চৌধুরী বন্যার গান শুরু হবে একটু পর। অনুষ্ঠানের শেষ পারফরম্যান্স। মুক্তধারা ফাউন্ডেশন আয়োজিত তিন দিনের আন্তর্জাতিক বাংলা উৎসব ও বইমেলার বিদায়বেলা।
আমার পাশের মানুষটি বললেন, তার বিয়ে হয়েছিল রবীন্দ্রনাথের গান দিয়ে। আমি জিজ্ঞাসু দৃষ্টিতে তার দিকে তাকালাম। নির্মলদা হিন্দু হলেও বউদি ব্রাহ্ম। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ব্রাহ্ম ছিলেন, এটা জানা থাকলেও ব্রাহ্ম সমাজের বিয়ে প্রথা সম্পর্কে জানা ছিল না। জানলাম, হিন্দুরা সংস্কৃততে বিয়ের মন্ত্র পড়ে আর ব্রাহ্মদের বিয়ে হয় বাংলা মন্ত্রে। একটা মন্ত্র এমন- ‘আমার হৃদয় তোমার জন্য, তোমার হৃদয় আমার জন্য, আমাদের দুজনের মিলিত হৃদয় হোক ঈশ্বরের জন্য’।
ব্রাহ্ম সমাজে বিয়েতে রবীন্দ্রসংগীত গাওয়া হয়। শান্তা বউদি যেহেতু ব্রাহ্ম ছিলেন, তাই নির্মলদাকে প্রথমে ব্রাহ্মমতেই বিয়ে করতে হয়েছিল। ওখানেই বাংলা মন্ত্রে আর রবীন্দ্রনাথের গানে গানে তাদের বিয়ে হয়।
দর্শকসারিতে বসে আমি চিৎকার করে একটি গান গাইতে অনুরোধ করলাম বন্যাদি’কে- ‘একি লাবণ্যে পূর্ণ প্রাণ, প্রাণেশ হে… আনন্দ বসন্ত সমাগমে…’।
বন্যাদি শুনতে পেলেন কী পেলেন না জানি না, তবে নির্মলদা এবার অবাকভরে তাকালেন আমার দিকে। আরে এটি তো আমার বিয়ের গান। অর্থাৎ ‘রবীন্দ্রমতে’ তার যে বিয়ে হয়েছিল, এতে আরো অনেক গানের সাথে এটিও গাওয়া হয়। ধ্যানে থাকলে নাকি অনেক কিছুই জানা হয়ে যায়। আমরা দুজনেই আজ ধ্যানে বসেছি।
ভুলটা একটু পরেই ভাঙলো। আমরাই শুধু ধ্যানে বসিনি। বন্যাদি গানের ফাঁকে ফাঁকে দর্শক-শ্রোতাদের সাথে কথা বলছিলেন। বললেন, তাকে গানের অনুরোধ করলে নাকি তার সাথে সাথে গাইতে হয়। এ-কী কঠিন পরীক্ষায় ফেললেন বন্যাদি। এ তো ব্যান্ডের কনসার্টে হয়। একঝাঁক তারুণ্য সমস্বরে গেয়ে ওঠে- ‘আকাশেতে লক্ষ তারা, চাঁদ কিন্তু একটারে…’।
কিন্তু ‘আকাশভরা সূর্যতারা, বিশ্বভরা প্রাণ’- এ কিভাবে গাওয়া সম্ভব।
বন্যা একে একে গাইলেন কয়েকটি গান। না, তাকে গাইতে হলো না। প্রতিটা গানের মুখটা শুধু ধরিয়ে দিলেন, বাকিটা শ্রোতারাই গাইলেন। একেবারে তাল রেখে গাওয়া গান। নিউ ইয়র্কের শত শত কণ্ঠে হারিয়ে গেলো দুই বাংলার প্রখ্যাত রবীন্দ্রসংগীত শিল্পী রেজওয়ানা চৌধুরী বন্যার কণ্ঠ। বন্যার চোখেমুখে মুগ্ধতা, মুগ্ধ বোকা বনে যাওয়া আমি।
মনে পড়লো, আজ থেকে দেড়যুগ আগে প্রথম বিদেশ বিভুঁইয়ে কলকাতার একটি সিনেমা হলে গিয়ে, ছবি দেখে এমন ভালো লেগেছিল, এমন মন ভরে ওঠেছিল যে, আর একটি দিনও থাকতে পারিনি। রাত পোহালেই গ্র্যান্ড টাংক রোড ধরে সোজা দেশে এসে পৌঁছেছিলাম। অনেক বছর পর নিউ ইয়র্কে আবার আমার এমনই ভালো লাগলো, এমনই মন খারাপ হলো…।
 
পুনশ্চ: এর আগে ‘নিউ ইয়র্কে আমাদের বাংলাদেশ দেখা…’ শিরোনামে একটি লেখা লিখেছিলাম। আশার কথা হলো, প্রতিনিয়তই আমি আরো বেশি করে বাংলাদেশকে দেখছি…।

অভিমত/মতামত

আরও লেখা

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে