Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, শুক্রবার, ১৫ নভেম্বর, ২০১৯ , ১ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

গড় রেটিং: 4.0/5 (12 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)


আপডেট : ০৫-২৯-২০১৩

চাঙ্গা হচ্ছে খালেদা, তারেক, কোকোর সব স্থগিত মামলা

আশরাফ-উল-আলম ও হায়দার আলী



	চাঙ্গা হচ্ছে খালেদা, তারেক, কোকোর সব স্থগিত মামলা

ঢাকা, ২৯ মে- বিরোধীদলীয় নেতা ও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া এবং তাঁর দুই ছেলে তারেক রহমান ও আরাফাত রহমান কোকোর বিরুদ্ধে দায়ের করা যেসব মামলা স্থগিত রয়েছে, সেগুলো সচল করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ও আদালতের বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, ওই সব মামলার স্থগিতাদেশ প্রত্যাহারের জন্য শিগগিরই রাষ্ট্রপক্ষ থেকে আবেদন করা হবে।

অভিযোগ উঠেছে, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যেই সরকার মেয়াদ শেষে এসে নির্বাচন সামনে রেখে বিরোধীদলীয় নেতাকে ত্রস্ত-ব্যস্ত রাখার জন্যই এসব মামলা চাঙ্গা করার কৌশল নিচ্ছে। তবে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা এ অভিযোগ স্বীকার করে বলেছেন, আইনের নিজস্ব গতিতেই এসব মামলার বিষয়ে সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো পদক্ষেপ নেবে। কোনো রাজনৈতিক উদ্দেশ্য এ ক্ষেত্রে কাজ করবে না।
এর জবাবে দুদক চেয়ারম্যান গোলাম রহমান গত সোমবার সাংবাদিকদের বলেন, সব মামলায়ই আইনজীবীরা পদক্ষেপ নিয়ে থাকেন। নির্বাচন সামনে রেখে কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে না। তবে তিনি স্বীকার করেন, আইনজীবীরা যথেষ্ট দেরি করেছেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে দুদক কমিশনার মো. সাহাবুদ্দিন চুপ্পু কালের কণ্ঠকে বলেন, 'তারেক রহমানের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানার বিষয়ে দুদক কোনো ধরনের হস্তক্ষেপ করেনি। সেটা মামলার আইনজীবীদের বিষয়। তাঁরা যা মনে করেছেন তাই করেছেন।' হাইকোর্টে স্থগিতাদেশ দেওয়া মামলাগুলো সচল করা হচ্ছে কি না জানতে চাইলে তিনি জবাব এড়িয়ে যান। তিনি বলেন, আইনের নিজস্ব গতিতে আইনজীবীদের পরামর্শে যা প্রয়োজন তাই করা হবে।
তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দুদকের এক কর্মকর্তা কালের কণ্ঠকে বলেন, শুধু তারেক রহমানের মামলাই নয়, খালেদা জিয়া ও কোকোর বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলাগুলোও সচল করা হচ্ছে। যেসব মামলা হাইকোর্টের আদেশে স্থগিত রয়েছে, সেসব মামলায় আসামিদের আবেদন নিষ্পত্তি করার ব্যবস্থা নেওয়া হবে। শিগগিরই জিয়া পরিবারের বেশির ভাগ মামলা সচল হবে বলে তিনি জানান।
একজন আইনজীবী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, কোনো মামলাই দিনের পর দিন স্থগিত অবস্থায় থাকতে পারে না। কাজেই সরকার বা দুদকের পক্ষ থেকে তো পদক্ষেপ নিতেই হবে।
দুদকের আইনজীবী মো. খুরশিদ আলম খান কালের কণ্ঠকে বলেন, খালেদা জিয়া ও তাঁর ছেলেদের বিরুদ্ধে দায়ের করা যেসব মামলার কার্যক্রম হাইকোর্টের আদেশে স্থগিত রয়েছে, সেগুলো দ্রুত নিষ্পত্তির উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। আসামিপক্ষের আবেদনে এসব মামলা স্থগিত রয়েছে। ওই আবেদন নিষ্পত্তি হলে মামলা আবার সচল হতে পারে অথবা মামলার কার্যক্রম বাতিল (কোয়াশ) হতে পারে। শিগগিরই শুনানির তালিকায় মামলাগুলো দেখা যাবে।
সাবেক আইনমন্ত্রী ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ কালের কণ্ঠকে বলেন, নির্বাচনকে সামনে রেখে খালেদা জিয়া ও তাঁর ছেলেদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলাগুলোর মধ্যে যেসব মামলা স্থগিত রয়েছে তা সচল করার উদ্যোগ তাঁদের নির্বাচন থেকে দূরে রাখার জন্যই। সরকার এভাবে দেশকে সংঘাতের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। আওয়ামী লীগ মুখে সংলাপের কথা বললেও তারা নিজেরা তা বিশ্বাস করে না।
বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির ধর্মবিষয়ক সম্পাদক ও জিয়া পরিবারের পক্ষে মামলা পরিচালনাকারী অ্যাডভোকেট মাসুদ আহমেদ তালুকদার বলেন, বর্তমান সরকার নানা রকম দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহার করে এখন জনবিচ্ছিন্ন। আগামী নির্বাচনে ভরাডুবি হবে- এটা অনুমান করতে পারছে আওয়ামী লীগ। এই কারণে খালেদা জিয়া ও তাঁর ছেলেরা এখন সরকারের মাথাব্যথার কারণ। তাঁদের নির্বাচন থেকে দূরে সরিয়ে রাখতে ষড়যন্ত্রের জাল বুনছে সরকার। এই ষড়যন্ত্রের অংশই হচ্ছে জিয়া পরিবারের মামলাগুলো সচল করার উদ্যোগ। তবে কোনো ষড়যন্ত্রই সফল হবে না।
তারেক রহমান দেশে ফিরছেন- এমন আলোচনার কয়েক দিনের মধ্যেই নতুন করে ইংরেজি ভাষায় তাঁর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির আবেদন করা হয়েছে। ইন্টারপোলের মাধ্যমে এই পরোয়ানা পাঠাবে সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগ।
জিয়া পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে বেশির ভাগ মামলাই গত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে দায়ের করা। এ মামলাগুলোর কার্যক্রম স্থগিত রয়েছে। বর্তমান সরকারের আমলে দায়ের করা মামলাগুলোর বেশির ভাগই চলমান। তারেক রহমানের বিরুদ্ধে ব্যবসায়ী মীর জাহির হোসেন ও আবদুল মোমেন লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক খায়রুল বাসারের দায়ের করা দুটি চাঁদাবাজির মামলা ২০০৮ সালের ২৯ এপ্রিল স্থগিত করেন হাইকোর্ট। একই বছরের ৮ এপ্রিল তারেক ও তাঁর স্ত্রী জোবায়দা রহমানের বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে দায়ের করা মামলার কার্যক্রম স্থগিত করেন হাইকোর্ট। খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে গ্যাটকো দুর্নীতির মামলা স্থগিত হয় ওই বছরের ১৫ জুলাই। তার আগে ৯ জুলাই নাইকো দুর্নীতির মামলা স্থগিত করা হয়। জিয়া পরিবারের বিরুদ্ধে দায়ের করা অধিকাংশ মামলার কার্যক্রম স্থগিত করা হয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার আমলেই। অভিযুক্তদের পক্ষে মামলা বাতিলের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে মামলাগুলো স্থগিত করা হয়। সরকার ক্ষমতা গ্রহণের সাড়ে চার বছরের মধ্যেও এসব স্থগিত মামলা শুনানির ব্যবস্থা করতে পারেনি রাষ্ট্রপক্ষ। এখন শেষ সময়ে শুনানির উদ্যোগ গ্রহণ করায় তাই প্রশ্ন উঠেছে।
এ প্রসঙ্গে বিশিষ্ট আইনজীবী ড. শাহদীন মালিক কালের কণ্ঠকে বলেন, নির্বাচনের আগে বিরোধীদলীয় নেত্রী ও তাঁর পরিবারের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা গতিশীল করার চেষ্টায় জনমনে নিশ্চয়ই ধারণা হতে পারে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে করা হচ্ছে। যদিও আইনগত দিক ঠিক রেখেই করা হচ্ছে, তবু এ মুহূর্তে এই প্রক্রিয়াটা ঠিক নয়।
এ ব্যাপারে অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল এম কে রহমানের কাছে জানতে চাওয়া হলে কালের কণ্ঠকে তিনি বলেন, 'ওই স্থগিত মামলাগুলোর হাইকোর্টে শুনানির বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন। এসব মামলা তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে দায়ের করা, বর্তমান সরকারের আমলে নয়। কাজেই নির্বাচনকে সামনে রেখে মামলা সচল করার চেষ্টা হচ্ছে- এই অভিযোগ মিথ্যা ও ফালতু। আইনের নিজস্ব গতিতেই শুনানি চলবে। এখানে প্রভাবিত হওয়ার কিছু নেই।'
আদালতের নথিপত্র ঘেঁটে দেখা যায়, খালেদা জিয়া পাঁচটি, তাঁর বড় ছেলে তারেক রহমান ২০টি এবং ছোট ছেলে কোকো সাতটি মামলার আসামি। এসব মামলার মধ্যে দুটিতে খালেদা জিয়ার সঙ্গে তাঁর দুই ছেলেকে এবং একটিতে তারেক ও কোকোকে আসামি করা হয়েছে। এ হিসাবে জিয়া পরিবারের বিরুদ্ধে মামলা রয়েছে মোট ৩১টি।
খালেদার বিরুদ্ধে পাঁচ মামলা : জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্টের নামে অবৈধভাবে অর্থ লেনদেনের অভিযোগ এনে খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে ২০১০ সালের ৮ আগস্ট তেজগাঁও থানায় একটি মামলা করে দুদক। ২০১১ সালের ১৬ জানুয়ারি খালেদা জিয়াসহ চারজনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেয় দুদক। এ মামলার বিচারকাজ চলছে।
এর আগে এতিমদের সহায়তা করার উদ্দেশে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্টের নামে একটি বিদেশি ব্যাংক থেকে আসা দুই কোটি ১০ লাখ ৭১ হাজার ৬৭১ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে ২০০৮ সালের ৩ জুলাই রমনা থানায় মামলা করে দুদক। এ মামলায় খালেদা জিয়া, তারেক রহমানসহ ছয়জনকে আসামি করে ২০১০ সালের ৫ আগস্ট চার্জশিট দেওয়া হয়। ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৩-এ মামলাটি বিচারাধীন।
এ ছাড়া বড়পুকুরিয়া কয়লাখনির ঠিকাদারি কাজে ক্ষমতার অপব্যবহার ও আর্থিক দুর্নীতির অভিযোগে খালেদাসহ ১৬ জনকে আসামি করে ২০০৮ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি শাহবাগ থানায় মামলা করে দুদক। তার আগে রাজধানীর তেজগাঁও থানায় ২০০৭ সালের ২ সেপ্টেম্বর গ্যাটকোসংক্রান্ত দুর্নীতি মামলা এবং একই বছরের ৯ ডিসেম্বর নাইকোসংক্রান্ত দুর্নীতি মামলা করে দুদক। এ তিনটি মামলার কার্যক্রম উচ্চ আদালতের নির্দেশে স্থগিত রয়েছে।
তারেকের যত মামলা : অর্থপাচার মামলা ছাড়াও বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বিরুদ্ধে আরো কয়েকটি মামলা বিচারাধীন। তাঁর বিরুদ্ধে ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের সমাবেশে গ্রেনেড হামলার ঘটনায় দায়ের করা হত্যা ও বিস্ফোরক দ্রব্য আইনের দুটি মামলা ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-১-এ বিচারাধীন। এখন এ মামলাগুলোর সাক্ষ্যগ্রহণ চলছে। বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর গ্রেনেড হামলা মামলাটির অধিকতর তদন্ত হয়। পুলিশের অপরাধ তদন্ত সংস্থা তদন্ত করে তারেক রহমানের সম্পৃক্ততা পাওয়ায় চার্জশিটে তাঁকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, শেখ হাসিনাকে হত্যার উদ্দেশ্যে নিষিদ্ধ ঘোষিত হরকাতুল জিহাদ (হুজি) এই গ্রেনেড হামলা চালায়। তারেক রহমান হাওয়া ভবনে বসে শেখ হাসিনাকে হত্যার পরিকল্পনা করেন। এরপর তাঁর বিরুদ্ধে সোনালী ব্যাংকের ঋণ খেলাপের দায়ে একটি মামলা হয়।
এ ছাড়া জিয়া অরফানেজ ট্রাস্টের অর্থ আত্মসাতের মামলাটি ঢাকার একটি বিশেষ জজ আদালতে বিচারাধীন। এটি বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর দায়ের করা হয়। এ নিয়ে বর্তমান সরকারের আমলে তাঁর বিরুদ্ধে মোট পাঁচটি মামলা হয়।
২০০৭ সালের ১১ জানুয়ারি তত্ত্বাবধায়ক সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর দুর্নীতিবিরোধী অভিযানে তারেক রহমানকে ওই বছরের ৭ মার্চ গ্রেপ্তার করা হয়। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে চাঁদা নেওয়ার অভিযোগে তারেক, তাঁর বন্ধু গিয়াসউদ্দিন আল মামুনের বিরুদ্ধে ১২টি মামলা হয়। এ ছাড়া ঘুষ গ্রহণের অভিযোগেও একটি মামলা হয়। এসব মামলার কার্যক্রম উচ্চ আদালতের নির্দেশে স্থগিত রয়েছে। একটি মামলা সরকার প্রত্যাহার করে নিয়েছে।
অবৈধ উপায়ে ২০ কোটি ৪১ লাখ ২৫ হাজার ৮৪১ টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জন ও তথ্য গোপনের অভিযোগে তারেকের বিরুদ্ধে ২০০৭ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর কাফরুল থানায় আরেকটি মামলা করে দুদক। এ মামলায় তারেকের স্ত্রী জোবায়দা রহমানকেও আসামি করা হয়। এ মামলাও হাইকোর্টের আদেশে স্থগিত রয়েছে। এ ছাড়া কর ফাঁকির অভিযোগে ২০০৮ সালের ৪ আগস্ট ঢাকার বিশেষ আদালতে তাঁর বিরুদ্ধে একটি মামলা করে এনবিআর। এটিও স্থগিত রয়েছে।
২০০৭ সালের ৮ মার্চ তারেক রহমান ও তাঁর একান্ত সহকারী মিয়া নূরউদ্দিন অপুকে আসামি করে গুলশানের উদয় টাওয়ারের মালিক ও ঠিকাদার আমীন আহমেদ ভুঁইয়া এক কোটি টাকা চাঁদাবাজির অভিযোগ এনে মামলা করেন। মামলাটি দ্রুত বিচার আইনে গুলশান থানায় তালিকাভুক্ত হয়। মামলার ঘটনা, মামলা দায়েরের সময় অনুযায়ী চাঁদাবাজির মামলা হিসেবে দণ্ডবিধিতে না নিয়ে দ্রুত বিচার আইনে তালিকাভুক্ত করায় মামলাটি হাইকোর্টের আদেশে ওই বছরই স্থগিত হয়ে যায়। আপিল বিভাগও স্থগিতাদেশ বহাল রাখেন।
গুলশানের ব্যবসায়ী ও রেজা কনস্ট্রাকশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আফতাব উদ্দিন বাদী হয়ে ২০০৭ সালের ২৭ মার্চ গিয়াসউদ্দিন আল মামুনসহ অন্যদের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির মামলা করেন। মামলায় এক কোটি ৩২ লাখ টাকা চাঁদাবাজির অভিযোগ করা হয়। এ মামলায় মামুন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়ে জানান, তারেক রহমানের নির্দেশেই তিনি ওই চাঁদাবাজি করেছেন। এর পর তারেককে এ মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়।
ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান আল আমিন কনস্ট্রাকশনের কর্মকর্তা সৈয়দ আবু শাহেদ সোহেল ওই বছর ৪ মে গুলশান থানায় একটি মামলা করেন। মামলায় মামুন ও তাঁর সহযোগীরা চার লাখ ৮৯ হাজার টাকা চাঁদা নিয়েছেন বলে অভিযোগ করা হয়। এ মামলায়ও মামুন স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়ে তারেকের নাম বলেন। ১ এপ্রিল ব্যবসায়ী মীর জাহির হোসেন ধানমণ্ডি থানায় মামুন ও তাঁর ছয় সহযোগীর বিরুদ্ধে পাঁচ কোটি টাকা চাঁদাবাজির মামলা করেন। ৯ এপ্রিল শাহবাগ থানায় আবদুল মোমেন লিমিটেডের মহাব্যবস্থাপক খায়রুল বাসার ব্যবসায়ী মামুনসহ সাতজনের বিরুদ্ধে ১০ কোটি ৩০ লাখ টাকা চাঁদাবাজির মামলা করেন। মামুনের স্বীকারোক্তি অনুযায়ী তারেক রহমানকে এ মামলায়ও গ্রেপ্তার দেখানো হয়।
রেজা কনস্ট্রাকশনের এমডি কাফরুল থানায় ১৬ লাখ টাকা চাঁদাবাজির অভিযোগে মামুন ও তাঁর সহযোগীদের বিরুদ্ধে আরেকটি মামলা করেন। এ মামলায়ও মামুনের স্বীকারোক্তি অনুযায়ী তারেককে আসামি করা হয়।
গুলশান থানায় পঞ্চগড়ের জাজ ডিস্টিলারির স্বত্বাধিকারী হারুন ফেরদৌসী ২৭ মার্চ তারেক রহমানের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগ এনে মামলা করেন। ঠিকাদার মীর জাহির হোসেন ধানমণ্ডি থানায় মামুনের বিরুদ্ধে আরো একটি মামলা করেন। মামুনের স্বীকারোক্তির পর তারেককে এ মামলায়ও গ্রেপ্তার দেখানো হয়।
জাপান-বাংলাদেশ গ্রুপের চেয়ারম্যান সেলিম প্রধানের কাছ থেকে যৌথভাবে কম্পানি গড়ার নামে আট কোটি ৪০ লাখ টাকা নিয়ে তা আত্মসাৎ করেন মামুন। এই অভিযোগে গত ৫ জুন শাহবাগ থানায় মামুনের বিরুদ্ধে প্রতারণার মামলা করা হয়। এ ঘটনায়ও তারেকের ইন্ধন রয়েছে বলে আদালতে স্বীকার করেন মামুন, তাই তারেককে গ্রেপ্তার দেখানো হয়।
চীনের হারবিন পাওয়ার কম্পানির স্থানীয় প্রকল্প প্রতিনিধি খাদিজা ইয়াসমিন পাঁচ কোটি টাকা চাঁদাবাজির অভিযোগ এনে মামুনের বিরুদ্ধে শাহবাগ থানায় মামলা করেন। মামুন স্বীকারোক্তিতে বলেন, তারেকের হয়ে তিনি চাঁদা চেয়েছিলেন।
এ ছাড়া কেরানীগঞ্জ থানার এক গরু ব্যবসায়ীর কাছ থেকে চাঁদা দাবির অভিযোগে তারেক ও মামুনের বিরুদ্ধে আরেকটি মামলা হয়।
কোকোর বিরুদ্ধে সাত মামলা : সিঙ্গাপুরে ২০ কোটি টাকার বেশি অর্থের অবৈধ লেনদেনের অভিযোগে ২০০৯ সালের ১৭ মার্চ কাফরুল থানায় আরাফাত রহমান কোকোর বিরুদ্ধে মামলা করে দুদক। ২০১১ সালের ২৩ জুন এ মামলার রায় হয়। তাতে পলাতক দেখিয়ে কোকোকে ছয় বছরের সশ্রম কারাদণ্ডাদেশ দেন আদালত। একই সঙ্গে সাড়ে ১৯ কোটি টাকা জরিমানা করা হয়। এরই মধ্যে সিঙ্গাপুর থেকে পাচার করা অর্থ দেশে ফিরিয়ে আনা হয়েছে।
কোকো তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে জামিন নিয়ে চিকিৎসার জন্য ব্যাঙ্ককে যান। কোকোর বিরুদ্ধে আয়কর ফাঁকির অভিযোগে ২০১০ সালের ১ মার্চ এনবিআর একটি মামলা করে।
গত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে কোকোর বিরুদ্ধে গুলশান থানায় দুটি চাঁদাবাজির মামলা এবং অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে দুদক একটি মামলা করে। আর সোনালী ব্যাংকের ঋণখেলাপি মামলায় ভাইয়ের সঙ্গে এবং গ্যাটকো দুর্নীতি মামলায় মায়ের সঙ্গে কোকোও আসামি।

জাতীয়

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে