Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, মঙ্গলবার, ২২ অক্টোবর, ২০১৯ , ৭ কার্তিক ১৪২৬

গড় রেটিং: 0/5 (0 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)


আপডেট : ০৫-২৯-২০১৩

সন্ত্রাসবিরোধী আইন কঠোর হচ্ছে

ফসিহ উদ্দীন মাহতাব



	সন্ত্রাসবিরোধী আইন কঠোর হচ্ছে

ঢাকা, ২৯ মে- সন্ত্রাসবিরোধী আইন আরও কঠোর করা হচ্ছে। সংশোধন করা হচ্ছে বিদ্যমান আইন। সংশোধিত আইনে সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদে অর্থায়ন প্রতিরোধে বাংলাদেশ ব্যাংকের ক্ষমতা বাড়ানো হচ্ছে। সন্দেহজনক যে কোনো লেনদেনের হিসাব এক বছর পর্যন্ত ফ্রিজ করা ও গোয়েন্দা নজরদারি বাড়াতে পারবে বাংলাদেশ ব্যাংক। বিদেশ থেকে সন্ত্রাসী কাজে যেসব টাকা আসে, তাও সরকারের তদারকিতে থাকবে। অস্বাভাবিক লেনদেন সন্দেহজনক হলে ব্যবস্থা নেবে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। সরকার ইচ্ছা করলে নিষিদ্ধ সংগঠনের ব্যাংক হিসাব ফ্রিজের পাশাপাশি সব সম্পত্তি জব্দ করতে পারবে। তা ছাড়া যে কোনো নির্বাচনে কেউ অবৈধ টাকা ব্যবহার করতে পারবে না। কারও বিরুদ্ধে অবৈধ টাকার প্রমাণ মিললে তাৎক্ষণিক কঠোর সাজার আওতায় আনা যাবে। এ ছাড়াও দেশের সম্পদ ধ্বংস করার চেষ্টা করলে তাকে সর্বোচ্চ যাবজ্জীবন পর্যন্ত সাজা দেওয়া যাবে। সন্ত্রাসী কার্যকলাপে অর্থায়নের শাস্তি হিসেবে সর্বোচ্চ ২০ বছর, সর্বনিম্ন ৪ বছর কারাদণ্ড ও ১০ লাখ টাকা অর্থদণ্ড গুনতে হবে। এসব বিধান রেখে সন্ত্রাসবিরোধী আইন-২০১৩ সংশোধন করা হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

খসড়াটি ভেটিংয়ের জন্য দুই দফা আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। শিগগিরই ভেটিং শেষে সংশোধিত আইনটি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আইন শাখায় আসবে। আগামী বাজেট অধিবেশনেই আইনটি পাসের জন্য উত্থাপন করার কথা বলে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে। 
এ বিষয়ে স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী অ্যাডভোকেট শামসুল হক টুকু বলেন, মহাজোট সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেয়। জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে মহাজোট সরকারের অবস্থান বহির্বিশ্বে প্রশংসিত হয়েছে। দায়িত্ব গ্রহণের অল্প দিনের মধ্যে দেশ থেকে জঙ্গিবাদের শিকড় উপড়ে ফেলেছে সরকার। সন্ত্রাসবাদও কমিয়ে এনেছে ব্যাপকাংশে। 
এমনকি বিশ্বের বিভিন্ন দেশ বাংলাদেশের সন্ত্রাসবিরোধী কার্যকলাপের প্রশংসা প্রদানের পাশাপাশি প্রয়োজনীয় সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছে। জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাসবাদ চিরতরে নির্মূলের লক্ষ্যে দায়িত্ব গ্রহণের পর পরই সরকার সন্ত্রাসবিরোধী আইন পাস করে।
প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, কোনো গোষ্ঠী দেশে নাশকতা, সরকারি সম্পদ ধ্বংস করলে কঠোর ব্যবস্থা নেবে সরকার। সময়ের পরিপ্রেক্ষিতে বিদ্যমান সন্ত্রাসবিরোধী আইন সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। দেশের স্বার্থেই এই আইন প্রয়োজন। আশা করি, আগামী অধিবেশনে এ আইনটি পাস হবে। 
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, প্রস্তাবিত আইনে অপরাধের শাস্তির মেয়াদ এবং মামলা তদন্তের সময়সীমা বাড়ানো হচ্ছে। বাংলাদেশের বাইরে থেকেও দেশের অভ্যন্তরে কোনো সংগঠন, সংস্থা বা প্রতিষ্ঠান অপরাধ সংঘটিত করলে কঠোর শাস্তি দেওয়া যাবে। ইতিমধ্যে সরকারের গোয়েন্দা সংস্থাদের দেওয়া তথ্যমতে, যুদ্ধাপরাধীদের বিচার প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার পর দেশে রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা বৃদ্ধি পেয়েছে। আগামীতে যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের রায়কে কেন্দ্র করে নাশকতা, সরকারি ধনসম্পদ ধ্বংস ও সন্ত্রাসী কার্যকলাপ চালানো হতে পারে। বিরোধী দলের আন্দোলন নিয়ে দিন দিন রাজনৈতিক অস্থিরতা বিরাজ করছে। এ পরিপ্রেক্ষিতে অপরাধ দমনে সন্ত্রাসবিরোধী আইন সংশোধনের উদ্যোগ নেয় সরকার। গত মাসে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় প্রণীত সংশোধিত আইনটি মন্ত্রিসভায় অনুমোদিত হয়। তবে কিছু বিষয় যাচাই-বাছাই করতে আইনটি ভেটিংয়ের জন্য আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। এর আগে ২০০৯ ও ২০১১ সালে আইনটি সংশোধন করা হয়েছিল। 
খসড়ায় বলা হয়, কোনো ব্যক্তি দেশের বাইরে থেকে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে কোনো অপরাধ সংঘটন করলে বিদ্যমান আইনে তা অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হয়েছে। বিদ্যমান আইনে কোনো সংগঠন, সংস্থা বা প্রতিষ্ঠান বিদেশ থেকে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে অপরাধ করলে তা শাস্তিযোগ্য ছিল না। কোনো বিদেশি নাগরিক বাংলাদেশের অভ্যন্তরে কোনো সন্ত্রাসী কার্যকলাপ চালালে তাও সন্ত্রাসী কাজ হিসেবে গণ্য হবে। প্রয়োজনে বিদেশিকে সংশ্লিষ্ট দেশে ফেরত পাঠানো হবে। তা না হলে বাংলাদেশের আইনেই তার বিরুদ্ধে বিচারকাজ সম্পন্ন করা যাবে। যুক্তরাষ্ট্রের ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিসের সুপারিশ মোতাবেক কোনো ব্যক্তি, সংগঠন, সংস্থা বা প্রতিষ্ঠান সন্ত্রাসী কার্যকলাপ থেকে উদ্ভূত অথবা কোনো সন্ত্রাসী বা সন্ত্রাসী গোষ্ঠী থেকে প্রদত্ত কোনো অর্থ বা সম্পদ ভোগ করলে বা দখলে রাখলে সন্ত্রাসী কার্য বলে প্রস্তাবিত আইনে তা সংযোজন করা হয়।
সূত্র জানায়, বিদ্যমান আইনে সন্ত্রাসী কার্যকলাপের সবর্ে্বাচ শাস্তি মৃত্যুদ এবং সর্বনিম্ন ৩ বছর। প্রস্তাবিত আইনে মৃত্যুদণ্ডের বিধান রেখে সর্বনিম্ন ৩ বছর থেকে বাড়িয়ে ৪ বছর শাস্তির বিধান করা হয়। তা ছাড়া সন্ত্রাসী কার্যকলাপে অর্থায়নে শাস্তির বিদ্যমান আইনে সর্বোচ্চ ২০ বছর এবং সর্বনিম্ন ৩ বছরের কথা বলা আছে। প্রস্তাবিত আইনে সর্বনিম্ন শাস্তি ৩ বছরের স্থলে ৪ বছর করার প্রস্তাব করা হয়। পাশাপাশি অপরাধের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সম্পত্তির দ্বিগুণ মূল্য ও সমপরিমাণ বা ১০ লাখ টাকা, যা অধিক, সেই পরিমাণ অর্থদ েরও বিধান সংযুক্ত করা হয়েছে প্রস্তাবিত আইনে। কোনো লেনদেন সন্ত্রাসী কার্যের সঙ্গে সম্পৃক্ত মর্মে সন্দেহ হলে বাংলাদেশ ব্যাংক ৩০ দিনের জন্য ওই লেনদেনের হিসাব ফ্রিজ করার আদেশ দিতে পারে। প্রয়োজনে আরও ৩০ দিন বাড়াতে পারে। প্রস্তাবিত আইনে ওই হিসাবের লেনদেন সংক্রান্ত সঠিক তথ্য উদ্ঘাটনের প্রয়োজন অনুভূত হলে লেনদেন ৩০ দিন করের্ স্বোচ্চ ৬ মাস পর্যন্ত বর্ধিত করার প্রস্তাব করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান সন্ত্রাসী কাজ করছে বা সন্ত্রাসী কাজে অর্থ ব্যবহার করেছে বলে প্রতীয়মান হলে তদন্ত কর্মকর্তা প্রয়োজনীয় মালপত্র জব্দ করতে পারবেন। 
বিদ্যমান আইনে সন্দেহজনক লেনদেনের কোনো সংজ্ঞা ছিল না। প্রস্তাবিত আইনে এর সংজ্ঞা সংযোজন করে বলা হয়েছে_ সন্দেহজনক লেনদেন হলো স্বাভাবিক লেনদেন থেকে ভিন্ন। যে লেনদেন কোনো অপরাধ থেকে অর্জিত সম্পদ, যা কোনো সন্ত্রাসী কাজে, কোনো সন্ত্রাসী সংগঠন বা সন্ত্রাসীকে অর্থায়ন করে। ব্যক্তি ছাড়াও যে কোনো প্রতিষ্ঠান, সংস্থা বা সংগঠন সন্ত্রাসী কাজ সম্পাদন করতে পারে_ এ বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে 'সত্তা' সংজ্ঞা সংযোজন করা হয়েছে। 'সত্তা' বলতে যে কোনো আইনি প্রতিষ্ঠান, সংবিধিবদ্ধ সংস্থা, বাণিজ্যিক বা অবাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান, গোষ্ঠী, অংশীদারি কারবার, সমবায় সমিতিসহ এক বা একাধিক ব্যক্তির সমন্বয়ে গঠিত সংগঠনকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়।

জাতীয়

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে