Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, মঙ্গলবার, ২২ অক্টোবর, ২০১৯ , ৭ কার্তিক ১৪২৬

গড় রেটিং: 0/5 (0 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)


আপডেট : ০৫-২৯-২০১৩

চৌর্যবৃত্তির দায়ে অভিযুক্ত প্রার্থীকে ঢাবিতে নিয়োগের সুপারিশ


	চৌর্যবৃত্তির দায়ে অভিযুক্ত প্রার্থীকে ঢাবিতে নিয়োগের সুপারিশ

ঢাবি, ২৮ মে- চৌর্যবৃত্তির দায়ে অভিযুক্ত এক প্রার্থীকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের লোক প্রশাসন  বিভাগের প্রভাষক পদে নিয়োগের জন্য সুপারিশ করেছে নিয়োগ কমিটি। সুপারিশকৃত প্রার্থীর নাম মুহাম্মদ মুইনুল ইসলাম। তিনি জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের লোক প্রশাসন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক।

চৌর্যবৃত্তির অভিযোগ ওঠায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সিন্ডিকেট গত ২৫ মে বিষয়টি তদন্তের জন্য উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) ড. নাসরীন আহমেদকে প্রধান করে একটি ‘রিভিউ কমিটি’ গঠন  করে।

রিভিউ কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সদস্য এটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম, সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন ড. ফরিদ উদ্দীন আহমেদ ও কম্পিউটার এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের চেয়ারম্যান ড. হাসানুজ্জামান।

এদিকে নিয়োগ কমিটির একাধিক সদস্যের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ রয়েছে। নিয়োগ কমিটির সদস্য অধ্যাপক মাহবুবুর রহমান প্রার্থীদের তথ্য গোপন করেন এবং সাক্ষাতকারের সময় সম্পূর্ণ অযৌক্তিক ভাবে প্রার্থীদের মানসিক ভাবে হেনস্থা করেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

আরেক সদস্য অধ্যাপক মুসলেহ উদ্দীন তারেক আগের একটি তদন্ত কমিটির শাস্তি অনুযায়ী ৫ বছর কোনো পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার ব্যাপারে নিষেধাজ্ঞা থাকলেও তাকে শিক্ষক নিয়োগ কমিটির সদস্য করা হয়।

অন্য আরেক সদস্য অধ্যাপক আকা ফিরোজের বিরুদ্ধে চৌর্যবৃত্তির অভিযোগ রয়েছে।

অনুসন্ধানে দেখা যায়, মুহাম্মদ মুঈনুল ইসলাম কমপক্ষে ৫টি প্রবন্ধ অনেক স্থানে নকল করেছেন।

প্রকাশিত প্রবন্ধগুলি বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, মুহাম্মদ মুঈনুল ইসলাম তার ভাই ঢাবি লোক প্রশাসন বিভাগের সহকারী অধ্যপক মো. এহসানের লিখিত ‘আন্ডারস্ট্যন্ডিং ই গভার্নেন্স: এ থিওরিটিক্যাল অ্যাপরোচ’ শীর্ষক প্রবন্ধটি অন্য আরেক জনের লেখা প্রবন্ধের সঙ্গে হুবহু মিলে যায়।

যদিও মুঈনুল  হুবহু  প্রবন্ধটি আবার ছাপান আবু মমতাজ সাদ উদ্দীন আহমেদের সঙ্গে। সহ লেখক দু’জন হলেও প্রবন্ধের প্রায় প্রত্যেকটি লাইন এক।

মুঈনুলের আরেকটি  ‘ই-গভর্নেন্স রিফর্ম এন্ড ডিজিটাল বাংলাদেশ: এ পলিসি অ্যাপ্রোচ’ প্রবন্ধ তার বিভাগের জার্নালে প্রকাশিত হয়। এতে দেখা যায়, তিনি কোনো ধরনের তথ্য সূত্র ব্যবহার করেন নি। অনুসন্ধানে দেখা যায়, এটি তিনি অনেকাংশে ২০০২ সালে প্রকাশিত ‘প্যাসিফিক কাউন্সিল অন ইন্টারন্যাশনাল পলিসি’র একটি প্রবন্ধ থেকে অনেকাংশে নকল করেন।

এছাড়া ‘ফরম রেড টেপ টু ডিজিটাল ট্রিপ: ই-গভর্নেন্স ইন দি পাবলিক সেক্টর অফ বাংলাদেশ’ শীর্ষক প্রবন্ধটিও অনেকাংশে নকল করেন ‘এগনেস্ট আল ওডস, দি ইনটারনেট ইন বাংলাদেশ’ নামক একটি প্রবন্ধ থেকে। এতে তিনি যে তথ্য সূত্র ব্যবহার করেন সেটিরও কোনো সত্যতা পাওয়া যায়নি।

এ বিষয়ে মুঈনুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন, “এটি প্লোজারিজম বা চৌর্যবৃত্তি নয়, এটি সিমিলারিটি অব টেক্সট। এটি হতেই পারে।”

হুবহু মিলে যাওয়া বিষয়ে তিনি বলেন, “বিষয়টি রিভিউ করা হচ্ছে। তাই এ বিষয়ে কোনো রিপোর্ট না করার জন্য অনুরোধ করছি।”

অন্যদিকে নিয়োগ বোর্ডের সদস্য ড. আকা ফিরোজ তার ‘কমিউনিটি বেজড অ্যাডাপটেশন টু ক্লাইমেট চেঞ্জ ইন বাংলাদেশ: দি গ্লোবাল ইনিশিয়েটিভ এট লোকাল লেভেল’ শীর্ষক প্রবন্ধটিতে ইনটানেটের বিভিন্ন সাইট থেকে তথ্য নেন কিন্তু তথ্য সূত্র হিসেবে এসব উল্লেখ করেন নি। তিনি নিচের সাইট গুলো থেকে হুবহু নকল করেন-

www.justmeans.com/Climate-Change-Vocabulary-Adaptation-Versus-Migration/12549.html, Lancashire
County Council’s website www.lancashire.gov.us, ttp://jahangialamakash.blogspot.com/2009_11_01_archive.html and Climate Change Theme’s strategy

এবিষয়ে আকা ফিরোজের সঙ্গে যোগাযোগ করতে চাইলে তার টেলিটক নাম্বারটি বন্ধ পাওয়া যায়।

নিয়োগ বোর্ডের আরেক সদস্য অধ্যপক মাহবুবুর রহমান বিভিন্ন প্রার্থীর তথ্য গোপন করেন। তিনি তার অপছন্দের প্রার্থীদের তথ্য বিকৃত ভাবে উল্লেখ করেন। এছাড়া ২০০৭-০৮ সালে তার বিরুদ্ধে ফলাফল ‘গড়পেটার’ অভিযোগও রয়েছে।

আরেক সদস্য ও লোক প্রশাসন বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মোসলেহ উদ্দীন তারেক ২০১২ সালে অন্য একটি অভিযোগে তদন্ত কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বিভাগের যে কোনো পরীক্ষায় পাঁচ বছরের জন্য নিষিদ্ধ হন। কিন্তু নিয়ম লঙ্ঘন করে তিনি নিয়োগ কমিটির সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।

তবে ড. মোসলেহ উদ্দীন তারেক এ অভিযোগ অস্বীকার করেন।

এদিকে ওই তদন্ত কমিটির প্রধান তৎকালীন উপ-উপাচর্য ড. হারুন-অর-রশিদ বলেন, “ড.মোসলেহ উদ্দীন তারেক (ইন্টারনাল পরীক্ষক) ও ড. শামসুর রহমান (এক্সটার্ন‍াল পরীক্ষক) পরীক্ষার খাতা মূল্যায়নে একই নাম্বর দিয়েছেন। অর্থাৎ তারা একজন খাতা মূল্যায়ন করেছেন কিন্তু নাম্বার দিয়েছেন দু’জন। এটি নৈতিকতার চরম লঙ্ঘন।”

চৌর্যবৃত্তির অভিযোগ সম্পর্কে রিভিউ কমিটির সদস্য সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যপক ড. ফরিদ উদ্দিন আহমেদ বলেন, “এ বিষয়ে একটি রিভিউ কমিটি হয়েছে। এতে চৌর্যবৃত্তির যদি কোনো প্রমাণ পাওয়া যায় তাহলে বিধি অনুযায়ী তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য এ বিষয়ে বলেন, “চৌর্য বৃত্তির কোনো অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট প্রার্থীকে শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হবে না।”

তবে প্রার্থীর ব্যাপারে অন্য কোনো শাস্তিমূলক সিদ্ধান্ত বিশ্ববিদ্যালয় নিতে পারবে না, কেননা ওই প্রার্থী অন্য একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক।

জাতীয়

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে