Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, মঙ্গলবার, ২২ অক্টোবর, ২০১৯ , ৭ কার্তিক ১৪২৬

গড় রেটিং: 2.9/5 (24 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)


আপডেট : ০৫-২৯-২০১৩

তারেককে বাঁচাতে মরিয়া বিএনপি


	তারেককে বাঁচাতে মরিয়া বিএনপি

ঢাকা, ২৮ মে- বিএনপির সিনিয়র ভাইস-চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা বিএনপির জন্য শাপে বর হয়ে দেখা দিয়েছে। দলটির সিনিয়র নেতাদের দুর্বিপাকে মাঠে না নামলেও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বড় ছেলের বিপদে ঠিকই মাঠে নেমেছে নেতাকর্মীরা। তাকে বাঁচাতে দলের অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা এখন মরিয়া।

সূত্র জানায়, বুধবারের হরতালে বর্তমানে যতোটা শক্তি দলের রয়েছে তা নিয়েই মাঠে নামার প্রস্তুতি নিচ্ছে বিএনপি। দীর্ঘদিন পর সংগঠনগুলো নিজেদের মধ্যেই প্রতিযোগিতায় নেমেছে দলের প্রতি নিজেদের উৎসর্গী মনোভাব প্রকাশে।

তারেকের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানার প্রতিবাদে সক্রিয় হতে দল থেকে সুনির্দিষ্ট নির্দেশনার অপেক্ষা না করেই তারা প্রাথমিকভাবে তৎপর হয়েছিল বলে সংশ্লিষ্ট জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র।  পরে সিনিয়রদের কাছ থেকেও নির্দেশনা এসেছে বলে জানা গেছে।

সূত্রমতে, তারেকের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানার প্রতিবাদে দলের প্রতিটি স্তর, বিশেষ করে অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনগুলোর নেতাকর্মীরা নিজেদের ঢেলে সাজাচ্ছেন, চেষ্টা করছেন নিজেদের ‘দক্ষতা’ প্রমাণের। তারা দলের প্রতি আন্তরিকতা, আনুগত্য ও যোগ্যতা প্রমাণ করতে চাইছেন। এ সময়ের ‘পারফর্মেন্স’ দেখেই দলে পরবর্তীতে তারা মূল্যায়ণ পাবেন বলে বিশ্বাস করছেন।

ভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, তারেকের হাওয়া ভবনের অনুসারিরা এসব তৎপরতা মনিটরিং করছেন প্রতিমুহুর্তে পূর্ণ মনোযোগে।

উল্লেখ্য, রোববার প্রধান বিরোধীদল বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান ও দলের বর্তমান প্রধান খালেদা জিয়ার বড় ছেলে তারেক রহমানের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক পুলিশ সংস্থা ইন্টারপোলের মাধ্যমে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির এক আবেদন মঞ্জুর করেছে। অর্থ পাচারের এক মামলায় দুর্নীতি দমন কমিশন এই আবেদন করে।
 
এদিন গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির সংবাদ ছড়িয়ে পড়তেই দলের নেতাকর্মীদের মধ্যে আলোড়ন সৃষ্টি হয়।
রোববার তারেকের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানার পরেই তাৎক্ষণিকভাবে দলের পক্ষ থেকে প্রতিক্রিয়া দেন বর্তমানে দলের মুখপাত্রের দায়িত্বে থাকা চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা শামসুজ্জামান দুদু।

এ মামলায় তারেকের কোনো সম্পৃক্ততা নেই দাবি করে দুদু বলেন, ‘‘রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে এটি করা হচ্ছে। তারেকের সামাজিক ও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব খর্ব করতে, তাকে হেয় করতে এটি করছে সরকার। এই সরকার তারেকের ভয়ে ভীত।’’

তারেককে দেশে ফেরাতে ইন্টারপোলের সাহায্য চাওয়া হলে প্রতিক্রিয়ায় যুবদল, ছাত্রদল, স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতাকর্মীরা সোমবার রাস্তায় নেমে পড়ে। বিভিন্ন জায়গায় বিক্ষোভ মিছিল, গাড়ি ভাঙচুর ও ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটায় তারা।

এই গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির প্রতিবাদে মঙ্গলবার দেশের ১০ জেলায় হরতালের ডাক দেয় সংশ্লিষ্ট জেলা বিএনপি। কুমিল্লা জেলা সদর, জয়পুরহাট, লক্ষ্মীপুর, কিশোরগঞ্জ, ফেনী, রাজবাড়ী ও টাঙ্গাইল, নরসিংদী, ফরিদপুর ও মাদারীপুরের হরতালে রাস্তায় যেভাবে তারা সক্রিয় থাকে, তেমনটি দেখা যায়নি বিগত বেশ কিছু দিন।

তাদের এই ‘হঠাৎ’ তৎপরতায় বিস্মিত দলেরই অনেক নেতা। বিষয়টিকে দলের অভ্যন্তরে ‘পরিবারতন্ত্রের’ বিরাজমান অবস্থা বলছেন কেউ কেউ।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিএনপির এক নেতা বলেন, ‘‘দলের মহাসচিব, স্থায়ী কমিটির সদস্যরা আটক হলেন, জেল খেটে এলেন। দল থেকে প্রতিবাদ, সম্মেলন, মানববন্ধন করা হলেও সেগুলো ছিল দায়সারা। হরতালও দেওয়া হয়েছে। তবে মাঠে নামেনি নেতাকর্মীরা।’’
 
তিনি বলেন, ‘‘একটি মিছিল বের করার সাহসও দেখায়নি যারা, তারাই এখন তারেকের জন্য এক মুহুর্তে রাস্তায় নেমে পড়লো! নিজেদের সুপ্ত প্রতিভার(!) বিকাশ ঘটালো!’’
‘সংস্কারপন্থি’ ছিলেন বলে বর্তমানে নিষ্ক্রিয় থাকা এক নেতা বলেন, ‘‘তারেক দলের বড় নেতা হিসেবে নয়, জিয়া ও খালেদার সন্তান হিসেবেই এই বাড়তি গুরুত্বটি পাচ্ছেন।

এই নেতা আরও বলেন, ‘‘যারা মিছিল করছে, গাড়ি ভাঙচুর করছে, তারা সেটি খালেদা ও তারেকের দৃষ্টিগোচর করতে চাচ্ছে। তাদের তৎপরতা দলের এই দুই ক্ষমতাধরকে সন্তুষ্ট রাখার চেষ্টা। এখন তারা আটক, রিমান্ড বা নির্যাতনের ভয় করছে না। কারণ এখনই কারিশমা দেখানোর সময়, সেটার সুফলই ভবিষ্যতে পাবে।’’

অপর এক গুরুত্বপূর্ণ নেতা বলেন, ‘‘অনুমান করছিলাম, ১৮ দলের বৈঠকে হরতালের সিদ্ধান্ত আসতে পারে। কিন্তু সেটি পরের দিন ঘোষণার কথা থাকলেও তারেকের গুরুত্ব এতোটাই বেশি যে তাৎক্ষণিক ঘোষণা হয়ে যায়। অথচ তারেক এখনো আটকই হননি।’’

একজন বা দু’জন নেতাই নন, দলের অনেকেই তারেকের জন্য দলের এই সক্রিয়তায় দলের পরিবারতন্ত্রের বিষয়টিকেই কারণ হিসেবে ধরছেন। একটি পরিবারকে খুশি রাখতে নেতাকর্মীদের এই চেষ্টা দলের জন্য কতোটা মঙ্গলজনক, তা নিয়েও তারা শঙ্কিত।

ছাত্রদলের এক নেতা বলেন, ‘‘তারেক ভাই সব লক্ষ্য রাখছেন। তিনি দেখছেন কে কেমন করছে। এখন যদি খেল না দেখানো যায়, তাহলে তার আস্থা পাওয়া যাবে না। ভবিষ্যতে আমাদের নিয়ে কাজ করতে চাইবেন না তিনি।’’

দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য লে. জেনারেল (অব.) মাহবুবুর রহমান এ প্রসঙ্গে অবশ্য যুক্তি দেখান।

তিনি বলেন, ‘‘তারেক রহমান বিএনপিতে দ্বিতীয় ব্যক্তি। খালেদার পরেই দলে তার অবস্থান। তিনি আমাদের নয়নের মণি। তার বিষয়টি অবশ্যই অনেক গুরুত্বপূর্ণ।’’
 
মাহবুব বলেন, ‘‘তবে শুধু তারেক নন, অন্যান্য নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা ও আটকের প্রতিবাদ, তত্ত্বাবধায়ক ফিরিয়ে আনা, সভা-সমাবেশ বন্ধের প্রতিবাদও আমাদের আন্দোলন কর্মসূচির ইস্যু হিসেবে রয়েছে।’’

তিনি বলেন, ‘‘শুধু বিএনপি বা বিরোধীদল নয়, সারাদেশের মানুষই তত্ত্বাবধায়ক পুরর্বহাল চায়, তারেকসহ অন্যান্য নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার চায়। আর এসব মিলিয়েই এই তৎপরতা বেড়েছে।’’|

যুবদলের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি অ্যাডভোকেট আবদুস সালাম এ বিষয়ে সুকৌশলে জবাব দেন।

তিনি বলেন, ‘‘বিএনপি নেতাদের মধ্যে বড়-ছোট বলে বৈষম্যের কোনো বিষয় নেই। এখানে সব নেতাই সমান।’’

তিনি বলেন, ‘‘যখন যে নেতা আটক হয়েছেন, তারই প্রতিবাদে কর্মসূচি এসেছে। শুধু তারেকের জন্যই এমন কর্মসূচি বা তৎপরতা হচ্ছে-বিষয়টি তেমন নয়।’’

সালাম বলেন, ‘‘তারেক শুধু বিএনপির নয়, সারাদেশের মানুষের কাছেই প্রিয় একজন নেতা। এমন এক সময় তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানাটি জারি হয়েছে, যখন সরকারের শেষ সময় এসে পড়েছে, আমাদের আন্দোলনেরও চূড়ান্ত সময় আসছে।’’

তিনি বলেন, ‘‘যে সময়ে আমাদের আন্দোলন ত্বরান্বিত হওয়ার কথা, সেই সময় এই গ্রেপ্তারি পরোয়ানায় সারাদেশের মানুষেরই প্রতিবাদ হিসেবে এই তৎপরতা দেখা যাচ্ছে।’’

সালাম বলেন, ‘‘তারেকের জন্য শুরু হওয়া এই প্রতিবাদ সরকারকে তত্ত্বাবধায়ক দাবি মেনে নিতে বাধ্য করবে এবং এটিই আমাদের আন্দোলনের চূড়ান্ত রূপ নেবে বলে মনে করি।’’

ঢাকা মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব আবদুস সালাম হরতালের প্রস্তুতি সম্পর্কে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
 
সালাম জানান, দলের নেতাকর্মীদের একেক জন একেক রকম বক্তব্য মিডিয়ার সামনে রেখে শৃঙ্খলা ভঙ্গ না করতে দলীয় নির্দেশ রয়েছে।

উল্লেখ্য, তারেক রহমানের বিরুদ্ধে দায়ের করা সব ‘মিথ্যা’ মামলা প্রত্যাহার ও নির্দলীয় নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকার পুনর্বহালের দাবিতে বিএনপির নেতৃত্বাধীন ১৮ দলীয় জোট বুধবার সারাদেশে সকাল-সন্ধ্যা হরতালের ডাক দিয়েছে।

সোমবার রাতে গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত ১৮ দলীয় জোটের বৈঠকে হরতালের এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

জাতীয়

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে