Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, মঙ্গলবার, ২২ অক্টোবর, ২০১৯ , ৭ কার্তিক ১৪২৬

গড় রেটিং: 2.9/5 (7 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)


আপডেট : ০৫-২৯-২০১৩

৬৭৫০ টাকায় অবৈধ গ্যাস সংযোগ হবে বৈধ!  


	৬৭৫০ টাকায় অবৈধ গ্যাস সংযোগ হবে বৈধ!
	 

ঢাকা, ২৮ মে- গত সোয়া দুবছরে অবৈধ তিন লক্ষাধিক গ্যাস সংযোগ দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। যদিও পেট্রোবাংলার হিসাবে এ সংখ্যা মাত্র দেড় লাখ।

মঙ্গলবার সাংবাদিক সম্মেলনে পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মো. হোসেন মনসুর মাত্র দেড় লাখের কথা স্বীকার করেছেন। কিন্তু চারটি কোম্পানীর মধ্যে তিনি শুধু তিতাসের হিসাবই দিয়েছেন।

জানা গেছে, তিতাস, কর্ণফুলী, বাখরাবাদ ও পশ্চিমাঞ্চল গ্যাস কোম্পানীর এক শ্রেণীর অসাধু কর্মকতা-কর্মচারীর যোগসাজশে মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে এসব অবৈধ সংযোগ দেওয়া হয়।

এর মধ্যে তিতাস এলাকায় ৫৭ হাজার ৪১৪টি চূলোয় সংযোগ ও সরবরাহ করা হয়। গ্যাস বন্ধের মধ্যে গত সোয়া দুবছরে এসব চুলায় অবৈধ সংযোগ লাগে। এর মধ্যে বেশিরভাগই বৈধ সংযোগে অবৈধভাবে চুলার সংখ্যা বাড়ানো হয়।

এ ছাড়াও অবৈধ নতুন সংযোগও আছে। অবৈধ এসব গ্রাহক মাসে প্রায় আড়াই কোটি টাকার গ্যাস বিল নির্দিষ্ট ব্যাংকে জমা দিচ্ছেন। তাদের গ্রাহক নম্বর ভুয়া হওয়ায় ওই টাকা নির্দিষ্ট হিসাবে জমা পড়ছে না। এর বাইরে সম্পূর্ণ অবৈধভাবে সংযোগ নিয়েও বিল দিচ্ছে না এমন সংযোগে ব্যবহৃত চুলার সংখ্যা ৫০ হাজার থেকে ৬০ হাজার।

আরো জানা গেছে, এসব গ্রাহক ২০১১-১২ অর্থবছরে ১১৬ কোটি ৮৬ লাখ টাকার বিল জমা দিলেও তা সরকারের কোষাগারে জমা হয়নি। এ টাকা নিয়েও নানামুখী জটিলতা সৃষ্টি হয়েছে।

অবৈধ সংযোগ ও সরবরাহের সঙ্গে সরাসরি তিতাসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও অসাধু এক শ্রেণীর কর্মকতা-কর্মচারীর সিন্ডিকেট জড়িত আছে অভিযোগ আছে। এ বিষয়ের সত্যতা স্বীকার করেছেন পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যান।

সূত্র জানিয়েছে, এসব কর্মকর্তার সিন্ডিকেট বেশ শক্তিশালী। সরকারি কজন প্রভাবশালী আমলার সঙ্গে আতাঁত করে সোয়া দুবছর ধরে গ্যাসের পাইপের পরিবর্তে পিভিসি পাইপ দিয়েও এসব সংযোগ দেওয়া হয়েছে।

এতে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে। সিন্ডিকেট গৃহস্থালির তিন লাখ ছাড়াও শিল্পে ১,৮৬১টি ও ১২০টি শিল্পে সংযোগ দিয়েছে। শুধু তিতাসের একাংশ হিসাব করে দেড় লাখ অবৈধ সংযোগের হিসাব মিললেও অন্য তিনটি কোম্পানির হিসাব তারা দেখাতে পারেনি।

তবে তিতাসের মালিকানা পুরোপুরি সরকারি নয়। তাই এ অভিযোগে জড়িতদের বিরুদ্ধে সরকার ব্যবস্থা নিতে পারছে না বলে অসহায়ত্ব প্রকাশ করেছেন পেট্রোবাংলা চেয়ারম্যান।

প্রসঙ্গত, ৭ মে প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা অনুসারে এসব অবৈধ সংযোগ গ্রহনকারীদের নামমাত্র জরিমানার মাধ্যমে সংযোগ বৈধ করতে দুবার পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হলেও তাতে প্রত্যাশিত সাড়া মিলছে না। ২৭ মে (সোমবার) পর্যন্ত জমা পড়েছে মাত্র ৯৪৫৫টি আবেদন।

মঙ্গলবার সাংবাদিক সম্মেলনের মাধ্যমে ২০ জুন পর্যন্ত আবেদনের সময় বেঁধে দেওয়া হয়েছে। তবে সংযোগ বৈধ করতে সাড়া মিলছে না। এমনটাই জানালেন পেট্রোবাংলা চেয়ারম্যান।

সরেজমিন অনুসন্ধানে জানা গেছে, অবৈধ সংযোগ গ্রহনকারীদের মধ্যে বেশির ভাগই সরকারি চাকরিজীবী। হয়রানি, সম্মান ও চাকুরিতে সমস্যার ভয়ে অনেকেই আবেদন করতে চাচ্ছেন না।

এ ছাড়া কোন কর্মকর্তার মাধ্যমে সংযোগ নেওয়া হয়েছে, কত টাকা ঘুষ দেওয়া হয়েছে এসব জিজ্ঞাসার ভয়েও অনেকেই আবেদন করছে না বলে তথ্য পাওয়া গেছে।

অনেকেই অভিযোগ করেছেন, যেসব কর্মকর্তা এসব সংযোগ দিয়েছেন তারা আবেদন না করার ভয় দেখিয়ে আতঙ্ক ছড়াচ্ছেন। এ জন্যও অনেকে আবেদন করতে আগ্রহী হচ্ছেন না।

এ বিষয়ে পেট্রোবাংলা চেয়ারম্যান বলেন, অবৈধ সংযোগ তিন লাখ নয়, আরো বেশি হতে পারে। আমরা তা খতিয়ে দেখছি। সংযোগ ও সরবরাহকারী এসব কর্মকর্তাদের কিছু সুনির্দিষ্ট প্রমাণও আমার কাছে আছে।

অচিরেই দ্রুত অনুসন্ধান শেষে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অবৈধ সংযোগ বৈধ করতে জড়িত কিছু কর্মকর্তা-কর্মচারী গ্রাহকদের আবেদন না করতে ভয় দেখাচ্ছে বলেও তিনি শুনেছেন।

নির্ধারিত সময়ে মধ্যে আবেদন করলে তাদের বিরুদ্ধে হয়রানিমূলক অথবা ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে না।

প্রসঙ্গত, গ্যাস বিপনন আইন-২০০৪ অনুযায়ী জরিমানা হিসাবে ১৫ মাসের বিল (৫৪০০+১৩৫০=৬৭৫০) জমা দিয়ে তারা অবৈধ সংযোগ বৈধ করার সুযোগ পাবেন।

এর মধ্যে যেসব অবৈধ সংযোগকারী আবেদন করবেন না তাদের বিরুদ্ধে গ্যাস আইন-২০১০ অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এ ছাড়াও যেসব কর্মকর্তা-কর্মচারী এসব সংযোগের সঙ্গে জড়িত তাদের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দিতে সবার প্রতি অনুরোধ করেন। অভিযোগের সত্যতা পেলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে সম্মেলনে জানানো হয়।

নতুন সংযোগের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের সঙ্গে সব ধরনের অবৈধ গ্রাহকদের বৈধ হওয়ার সুযোগ দিতে গত ৮ মে একটি প্রজ্ঞাপন জারি করে সরকার।

সে অনুসারে ১৩ মে পেট্রোবাংলার অনুষ্ঠিত বৈঠকে অবৈধ গ্রাহকদের বৈধ হতে ৩০ মের মধ্যে প্রয়োজনীয় তথ্যসহ নির্দিষ্ট ছকে আবেদন করার পরামর্শ দেওয়া হয়।

এ ছাড়াও বৈধ সংযোগ প্রত্যাশীদের মধ্যে যাদের চাহিদাপত্র (ডিমান্ড নোট) ২০১০ সালের ১৩ জুলাই প্রস্তুত হয়েছে। তাদের অগ্রাধিকারভিত্তিতে গ্যাস লাইন দেওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়। সে সঙ্গে সম্পূর্ণ নতুন সংযোগের জন্যও আবেদন জমা দিতে বলা হয়।

জাতীয়

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে