Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, বৃহস্পতিবার, ২৩ জানুয়ারি, ২০২০ , ১০ মাঘ ১৪২৬

গড় রেটিং: 2.7/5 (10 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)


আপডেট : ০৫-২৯-২০১৩

বেহাল দশায় জয়নুল সংগ্রহশালা: হদিস নেই ৭ চিত্রকর্মের


	বেহাল দশায় জয়নুল সংগ্রহশালা: হদিস নেই ৭ চিত্রকর্মের

ময়মনসিংহ: ময়মনসিংহ শহরঘেঁষা ব্রক্ষপুত্র নদের পাশে সাহেব কোয়ার্টার পার্কের শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিন সংগ্রহশালার গ্যালারিতে ঝোলানো অনেক ছবি ছত্রাক পড়ে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।

শুধু তাই নয়, বাংলাদেশের আধুনিক শিল্পকলা আন্দোলনের এ পথিকৃতের মহামূল্যবান চিত্রকর্ম ও তার ব্যবহার্য সামগ্রী সংরক্ষণে সংগ্রহশালাটিতে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা অপ্রতুল। নেই কোনো ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরা।

২১ বছর আগে শিল্পীর তুলি-ক্যানভাসে আঁকা ৭ টি মহামূল্যবান ও দুষ্পাপ্র্য চিত্রকর্ম চুরি হয়। এখনো সেই চিত্রকর্মগুলো উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ১৯৭৫ সালের ১৫ এপ্রিল ওই সময়ের উপ-রাষ্ট্রপতি সৈয়দ নজরুল ইসলাম ব্রক্ষপুত্র নদের পাড়ে ময়মনসিংহ শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিন সংগ্রহশালার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। শিল্পাচার্য জয়নুলের আঁকা ৭০টি চিত্রকর্ম নিয়ে ওই সময় সংগ্রহশালাটি পথচলা শুরু করে।

পরে সংগ্রহশালা পরিচালনার জন্য ১৯৮৬ সালের ২২ জুন তারিখে জেলা প্রশাসককে সভাপতি করে ১৯ সদস্যের একটি ট্রাস্টি বোর্ড গঠন করে সরকার। ১৯৮৭ সালে সংগ্রহশালাটি দ্বিতল ভবনে উন্নীত হয়। ১৯৯৯ সালের ৩১ আগস্ট ট্রাস্টি বোর্ড বিলুপ্তি করে জাতীয় জাদুঘরকে এ সংগ্রহশালার দেখভালের দায়িত্ব দেয়া হয়।

একই সূত্র জানায়, বর্তমানে ময়মনসিংহ শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিন সংগ্রহশালায় শিল্পীর আঁকা ৬২টি চিত্রকর্ম ও তার ব্যবহার্য ৮৮টি নিদর্শন রয়েছে।

জানা গেছে, সেই থেকে জাতীয় জাদুঘর শিল্পাচার্যের নামাঙ্কিত এ সংগ্রহশালাটির দায়িত্ব বুঝে নিয়েও নিশ্চিদ্র নিরাপত্তা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে পারেনি। বিশাল আকৃতির এ সংগ্রহশালাটির নিরাপত্তার দায়িত্বে রয়েছেন মাত্র ১২ জন নিরাপত্তা কর্মী।

কিন্তু প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা গড়ে না উঠায় ১৯৯২ সালের ২ মে রাতে সংগ্রহশালা থেকে শিল্পীর ১৭ টি মহামূল্যবান চিত্রকর্ম চুরি হয়ে যায়।

সূত্র মতে, পরে প্রায় দু’বছর পর গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা অভিযান চালিয়ে এক চিত্রশিল্পীর কাছ থেকে চুরি হওয়া ১৭টি চিত্রকর্মের মধ্যে ১০টি চিত্রকর্ম উদ্ধার করে। কিন্তু এখন পর্যন্ত বাকী ৭টি চিত্রকর্মের কোনো হদিস করতে পারেনি পুলিশ।joynul

১৯৩৩ সালে শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিনের আঁকা শম্ভুগঞ্জ ব্রিজ, ১৯৫৪ সালে আঁকা জীবন সংগ্রাম, মনপুরা ৭০ ও দ্বৈত অবয়বের বিখ্যাত ছবিগুলো রয়েছে এ সংগ্রহশালায়। ব্রক্ষপুত্র নদের পাড়ে বসেই তিনি ঐতিহাসিক অনেক ছবি এঁকেছেন।

সূত্র জানায়, সাহেব কোয়ার্টার পার্কের দ্বিতল এ ভবনে সংগ্রহশালাটি গড়ে উঠলেও ভবনটি এখনো স্যাঁতস্যাতে। ফলে অনেক মূল্যবান চিত্রকর্ম ছত্রাকের কারণে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। আদ্রতা নিরোধক যন্ত্র ব্যবহার করেও জয়নুলের আঁকা ছবিগুলোর রং পরিবর্তন ঠেকানো যাচ্ছে না।

‘ভবনের স্যাঁতস্যাতে দেয়ালে ছত্রাকের কারণে অনেক ছবি বিবর্ণ হয়ে যাচ্ছে’ এমন অভিযোগ অস্বীকার করে ময়মনসিংহ জয়নুল আবেদিন সংগ্রহশালার ডেপুটি কিপার বিজয় কৃষ্ণ বণিক বলেন, “নতুন আধুনিক ভবনে গ্যালারির চিত্রকর্মগুলো স্থানান্তর জরুরি।”

তিনি বলেন, “নিরাপত্তা ব্যবস্থা অপ্রতুল এটা সত্যি। সংগ্রহশালাটির নিরাপত্তার স্বার্থেই প্রয়োজনীয় সংখ্যক নিরাপত্তাকর্মী নিয়োগের জন্য আমরা ইতোমধ্যেই জাতীয় জাদুঘর কর্তৃপক্ষকে চিঠি দিয়েছে।”

ময়মনসিংহ

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে