Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

Login
ইউনিজয়
ফনেটিক
English

গড় রেটিং: 3.0/5 (15 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

print

আপডেট : ০৮-৩০-২০১৮

রাজশাহীর ৫ এমপির কপালে ভাঁজ

রাজশাহীর ৫ এমপির কপালে ভাঁজ

রাজশাহী, ৩০ আগস্ট- একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন যত ঘনিয়ে আসছে, রাজশাহীর ছয়টি নির্বাচনী আসনে বর্তমান এমপিদের মনোনয়ন না দেওয়ার দাবি তত জোরালো হচ্ছে। এ আসনগুলোতে সম্ভাব্য মনোনয়নপ্রত্যাশীরা বর্তমান এমপিদের বিরুদ্ধে জোট বেঁধে প্রচার-প্রচারণা চালাচ্ছেন। মনোনয়নপ্রত্যাশীদের এই জোট বাঁধাই রাজশাহীতে বর্তমান এমপিদের মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে রাজশাহী-১, রাজশাহী-২, রাজশাহী-৩, রাজশাহী-৪ ও রাজশাহী-৫ আসনের বর্তমান এমপিদের বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগের সম্ভাব্য মনোনয়নপ্রত্যাশীদের প্রচার-প্রচারণা, সমাবেশসহ নানা কর্মসূচি পালন করায় বেকায়দায় রয়েছেন এই পাঁচটি আসনের এমপিরা।

বর্তমান এমপির বিপরীতে অবস্থান নিয়ে প্রচারণা চালাতে গিয়ে গোদাগাড়ীতে হামলার শিকারও হয়েছেন আওয়ামী লীগের দুই নেতা। ফলে নির্বাচন ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের মধ্যেই মনোনয়ন নিয়ে দেখা দিয়েছে উত্তেজনা।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত ১৮ আগস্ট রাজশাহীর গোদাগাড়ীর রিশিকুল ইউনিয়নে প্রচারণা চালাতে গিয়ে হামলার শিকার হয়েছেন রাজশাহী জেলা আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা এবং সাবেক আইজিপি মতিউর রহমান ও গোদাগাড়ী উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আওয়ামী লীগ নেতা আতাউর রহমান। এমপির বিপক্ষে অবস্থান নেওয়ায় এই দুই নেতার ওপর হামলা চালান ওই ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ নেতা শহিদুল ইসলাম ও তাঁর লোকজন। এরা সবাই এমপি ওমর ফারুক চৌধুরীর অনুসারী। এ ঘটনায় মতিউর রহমান বাদী হয়ে শহিদুল ইসলামসহ ১০ জনের নামে মামলাও করেছেন।

দলীয় সূত্র জানায়, রাজশাহী-১ (তানোর-গোদাগাড়ী) আসনে এমপি ওমর ফারুক চৌধুরীর বিপক্ষে গত রোজার ঈদের দুই দিন আগে একসঙ্গে আওয়ামী লীগের সম্ভাব্য সাতজন মনোনয়নপ্রত্যাশী সমাবেশ করেন। এরপর থেকে এই সাতজন জোট বেঁধে নিজেদের প্রচারণা চালাতে শুরু করেন। এর মধ্যে রয়েছেন গত ১৮ আগস্ট হামলার শিকার আওয়ামী লীগের দুই নেতা মতিউর রহমান ও আতাউর রহমান। এর বাইরে আছেন গোদাগাড়ী পৌর মেয়র রবিউল ইসলাম বাবু, তানোরের মণ্ডুমালা পৌর মেয়র গোলাম রাব্বানী প্রমুখ। এই সাত নেতা এমপি ওমর ফারুকের বিরুদ্ধে ২৩টি অভিযোগ উত্থাপন করে প্রধানমন্ত্রীর কাছে লিখিত অভিযোগও করেছেন।

মনোনয়নপ্রত্যাশী মতিউর রহমান বলেন, ‘এমপি ওমর ফারুক চৌধুরী এলাকায় যা করেছেন, তাতে তিনি জনবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছেন। তাঁকে এলাকার মানুষসহ তৃণমূল নেতাকর্মীরা আর চায় না। এ কারণে তিনি বর্তমানে বেপরোয়া হয়ে আমাদের ওপর হামলা চালাতে শুরু করেছেন। জামায়াত-বিএনপির পৃষ্ঠপোষকতার কারণে তাঁর অবস্থান তিনি নিজেই নষ্ট করেছেন। তানোর-গোদাগাড়ীতে আওয়ামী লীগকে রক্ষা করতে হলে এমপি ওমর ফারুক চৌধুরীর বাইরে অন্য যে কাউকে প্রার্থী দিতে আমরা দলের কাছে অনুরোধ জানিয়েছি।’

তানোর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও মণ্ডুমালা পৌর মেয়র গোলাম রাব্বানী বলেন, ‘এলাকায় সাধারণ মানুষের সঙ্গে এমপি ফারুকের কোনো সম্পৃক্ততা নেই। তিনি চলাফেরা করেন জামায়াত-বিএনপির লোকজনদের নিয়ে। ফলে এলাকায় তিনি বর্তমানে জনবিচ্ছিন্ন।’

জানতে চাইলে এমপি ওমর ফারুক চৌধুরী বলেন, ‘এলাকায় কার জনসমর্থন বেশি, তা সাধারণ মানুষই জানে। আমার বিপক্ষে যাঁরা প্রচার-প্রচারণায় নেমেছেন, তাঁদের অবস্থান সম্পর্কেও মানুষ জানে। তবে আমি কোনো ঝামেলা চাই না। সবাইকে নিয়ে রাজনীতি করতে চাই। সামনে নির্বাচন। সবাই একসময় ঠিক হয়ে যাবে কলে আশা করি।’

রাজশাহী-২ (সদর) আসনের বর্তমান এমপি ও ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক ফজলে হোসেন বাদশাকে এবার আর যেন মনোনয়ন দেওয়া না হয় তার জন্য মাঠে নেমেছে মহানগর আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা। তাদের দাবি, এবার যাকেই মনোনয়ন দেওয়া হয়, যেন দলের মধ্য থেকে কাউকে দেওয়া হয়। এ আসনে ১৯৮৮ সালের পর আর আওয়ামী লীগের কোনো নেতা এমপি হতে পারেননি। এ কারণে এবার জোটের শরিক দলের কোনো প্রার্থীকে যেন এ আসন থেকে মনোনয়ন দেওয়া না হয় সে আহ্বান জানিয়েছে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা।

রাজশাহী মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ডাবলু সরকার বলেন, ‘আমরা চাইছি এবার দলের মধ্য থেকে যেন কাউকে মনোনয়ন দেওয়া হয়। রাজশাহীর উন্নয়নের স্বার্থে এটি করা দরকার।’

রাজশাহী-৩ (পবা-মোহনপুর) আসনেও এমপি আয়েন উদ্দিনের বিপক্ষে জোরালো প্রচার-প্রচারণা চালাচ্ছেন জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান আসাদসহ অন্তত ছয়জন নেতা। এ নিয়ে আসাদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে এমপি আয়েনের দা-কুড়াল সম্পর্ক। এ আসনে আসাদের কারণে বিপাকে আছেন এমপি আয়েন উদ্দিন।

জানতে চাইলে আসাদুজ্জামান আসাদ বলেন, ‘আমি দীর্ঘদিন ধরে রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। এ কারণে নেতাকর্মীদের মধ্যে আমাকে কেন্দ্র করে যথেষ্ট সাংগঠনিক উদ্দীপনা রয়েছে। তার পরও দল যাকে নৌকা প্রতীক দেবে, তাকেই আমরা বিজয়ী করতে কাজ করব।’

এমপি আয়েন উদ্দিন বলেন, ‘আওয়ামী লীগ বড় দল। ফলে এখানে যে কেউ মনোনয়ন চাইতে পারে। দল কাকে মনোনয়ন দেবে সেটিই দেখার বিষয়। আমি জনগণের সঙ্গে আছি, থাকব।’

রাজশাহী-৪ (বাগমারা) আসনে এমপি এনামুল হকের বিপক্ষে গত প্রায় তিন বছর ধরে মাঠে নেমেছেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জাকিরুল ইসলাম সান্টু ও তাহেরপুর পৌর মেয়র আবুল কালাম আজাদ। এমপির বিপক্ষে অবস্থান নিয়ে তাঁকে মনোনয়ন না দিতে সংবাদ সম্মেলনও করেছেন এই দুজন। এ ঘটনার পর প্রভাব খাটিয়ে দুইজনকেই দলীয় পদ থেকে সাময়িক বরখাস্ত করান এমপি। কিন্তু তার পরও এ দুজন তাঁদের অবস্থান থেকে সরেননি। ফলে এঁদের নিয়ে যথেষ্ট বিপাকে আছেন এমপি এনামুল হক।

জানতে চাইলে তাহেরপুর পৌর মেয়র আবুল কালাম আজাদ বলেন, এমপি এনামুলকে আর বাগমারার মানুষ চায় না। তাঁকে ছাড়া দল যাকেই মনোনয়ন দেবে, আমরা তার হয়ে কাজ করব। এমপি এনামুলের এপিএসসহ তাঁর আশপাশের সবাই জামায়াত-বিএনপি ও শিবিরের লোকজন। অথচ দলের তৃণমূল নেতাকর্মীদের কোনো মূল্যায়ন করেন না তিনি।’

এমপি এনামুল হক বলেন, এলাকায় জনবিচ্ছিন্নরাই আমার বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছে। তবে বাগমারার মানুষ সচেতন। তারা আমার পক্ষেই আছে। আমি জনগণের জন্য কাজ করি। জনগণের পাশেই থাকতে চাই।’

এদিকে রাজশাহী-৫ (পুঠিয়া-দুর্গাপুর) আসনের এমপি কাজী আব্দুল ওয়াদুদ দারাকে এবার আর যেন মনোনয়ন না দেওয়া হয় তার জন্য একাট্টা হয়েছেন সম্ভাব্য সাত মনোনয়নপ্রত্যাশী। গত মঙ্গলবার রাজশাহী জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান আসাদের উপস্থিতিতে এ সাতজন এমপি দারাকে মনোনয়ন না দিতে দলের প্রতি আহ্বান জানিয়ে সমাবেশ করেছেন। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক এমপি ও আওয়ামী লীগ নেতা তাজুল ইসলাম ফারুক, জেলা যুবলীগের সহসভাপতি ওবাইদুর রহমান, জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক, জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি আবদুল মজিদ, সাংগঠনিক সম্পাদক আহসানুল হক মাসুদ, জেলা আওয়ামী লীগের স্বাস্থ্যবিষয়ক সম্পাদক ডা. মনসুর রহমান, আওয়ামী লীগের উপকমিটির ধর্মবিষয়ক সম্পাদক আবু সায়েম এবং আসিফ ইবনে আলম তিতাস।

সভায় সম্ভাব্য প্রার্থীরা পুঠিয়া-দুর্গাপুরের এমপি দারার অনিয়ম-দুর্নীতি, দলীয় কর্মীদের মূল্যায়ন না করাসহ নানা অভিযোগ তুলে ধরেন।

জানতে চাইলে এমপি আব্দুল ওয়াদুদ দারা বলেন, ‘আমার বিপক্ষে যাঁরা অবস্থান নিয়েছেন, তাঁদের সম্পর্কে এলাকার মানুষ জানে। কাজেই এঁদের নিয়ে আমার মন্তব্য করার কিছু নেই। আগামী নির্বাচন দল যাকে মনোনয়ন দেবে, সেটিই আমি মেনে নেব।’ 

সূত্র: কালের কণ্ঠ 
এইচ/১২:০২/৩০ আগস্ট

রাজশাহী

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে