Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

Login
ইউনিজয়
ফনেটিক
English

গড় রেটিং: 3.0/5 (76 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

print

আপডেট : ০৮-০৪-২০১৮

স্বপ্নের ‘স্পিড কার’ নিয়ে ছুটে চলেছেন সেলিম

স্বপ্নের ‘স্পিড কার’ নিয়ে ছুটে চলেছেন সেলিম

ফরিদপুর, ০৪ আগস্ট- স্বপ্নবাজ যুবক সেলিম। ছোট থেকেই স্বপ্ন দেখেন নতুন কিছু আবিষ্কারের। তার সেই স্বপ্ন সফল হয়েছে নতুন গাড়ি নির্মাণের মাধ্যমে। যার নাম তিনি দিয়েছেন ‘স্পিড কার’।

ফরিদপুর জেলার মানুষের আলোচনায় এখন সেলিম আর তার স্পিড কার। গত ৩০ জুলাই প্রথম রাস্তায় নামানো হয় তার স্বপ্নের গাড়িটি। ১ আগস্ট গাড়িটি নজরে পড়ে বোয়ালমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ জাকির হোসেনের। তিনি নিজে গাড়িটি চালিয়ে দেখেন। সেলিমের এই গাড়ি দেখতে প্রতিদিন বিভিন্ন এলাকা থেকে দলে দলে ছুটে আসছে মানুষ।

‘স্পিড কার’ নির্মাতা মো. সেলিম শেখ ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলার চতুল গ্রামের মো. আফসার শেখ ও সাবিনা বেগমের ছেলে। ২০০৫ সালে চতুল উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি এবং ২০১০ সালে বোয়ালমারী সরকারি কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পাস করেন। এরপর বাড়ির পাশে একটি রাইচ মিল দিয়ে একজন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন তিনি।

ছোট থেকেই বিভিন্ন প্রকার যন্ত্রপাতি তৈরি তার নেশা ছিল। তখন থেকেই তিনি স্বপ্ন দেখেন বড় কিছু আবিষ্কার করার। এর আগেও তিনি পানির ট্যাংকির অটো সার্কিট তৈরি করেন। ট্যাংকি খালি হয়ে গেলে এবং ভরে গেলে অটোমেটিকভাবে মোটর চালু ও বন্ধ হয়ে যাওয়ার ব্যাবস্থা ছিল। তবে পরে আর তিনি সেটি বাজারজাত করতে পারেননি।

ছোট ছেলের জন্য একটি গাড়ি বানানোর কাজ শুরু করেন সেলিম। ছোট চাকা না পেয়ে ইজি বাইকের চাকা দিয়েই তিনি কাজ শুরু করেন। মেঝেতে কাঠ আর পাশে প্লেনশিট দিয়ে তৈরি করা হয় গাড়ির বডি। অটোরিকশার এক হর্স (৭৫০ ওয়াট) পাওয়ারের একটি মোটর আর ব্যাটারি লাগানো হয় তাতে। এ অবস্থায় গাড়িটি প্রায় ৪৫ কিলোমিটার গতিতে চলতে পারে। এ গাড়িতে বসার আসন রাখা হয় ২টি।

গাড়িটি নির্মাণ করতে তার খরচ হয়েছে ৬০ হাজার টাকা। অবসর সময়ে বসে গাড়িটি বানিয়েছেন তিনি। তাই মজুরি ধরা হয়নি। তবে সেই মজুরি দশ হাজার টাকার বেশি হবে না বলে জানান এ আবিষ্কারক।


সেলিম গাড়িটি বাণিজ্যিকভাবে বাজারে আনতে চান। সেজন্য সরকারি, বেসরকারি সহযোগিতা চান তিনি। ইজিবাইকের মতো একটি গাড়ি তিনি এক লাখ দশ হাজার টাকার মধ্যে বাজারে দিতে পারবেন। আবার প্রাইভেট কারও স্বল্প মূল্যে বাজারজাত করতে পারবেন তিনি।

সেলিম শেখ বলেন, স্বপ্ন ছিল, ইচ্ছা ছিল, মেধা ছিল কিন্তু সাধ্য নেই। নিজের চেষ্টায় চাল কল করে জীবিকা নির্বাহ করি। আর এ সকল কাজ আমার শখ এবং স্বপ্ন। সরকার বা এনজিও যদি আমাকে সহযোগিতা করে তাহলে কারখানা করে বাণিজ্যিকভাবে গাড়ি উৎপাদন করা যাবে। এ গাড়ি নিয়েই এখন তিনি হাটবাজার করাসহ বিভিন্ন কাজ সারছেন।

চতুল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শরীফ সেলিমুজ্জামান লিটু বলেন, সেলিম আমার এলাকার ছেলে। ছোট থেকেই সে এসব যন্ত্রপাতির কাজ করে আসছে। সে এখন চতুলবাসীর গর্ব। তাকে সহযোগিতা করার জন্য সরকার এবং বেসরকারি উদ্যোক্তাদের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি।

বোয়ালমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ জাকির হোসেন বলেন, ১ আগস্ট মাদকবিরোধী সিভিল ব্রিগেডের কর্মসূচিতে চতুল উচ্চ বিদ্যালয়ে যাওয়ার পথে ছোট্ট ওই গাড়িটি আমার চোখে পড়ে। তাৎক্ষণিক গাড়ি থেকে নেমে ওই ছোট্ট গাড়িটিতে চড়ে চালিয়ে দেখি। আকর্ষণীয় রঙের গাড়িটি দেখতে খুব সুন্দর।

এ বিষয়ে সেলিমের সঙ্গে বসে প্রজেক্ট তৈরি করে জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে সরকারিভাবে এবং ব্যাংকের সঙ্গে কথা বলে তাকে (সেলিম) সহযোগিতা করা হবে। ইউএনও নিজেও চার সিটের একটি গাড়ি সেলিমকে দিয়ে বানাবেন বলে জানান।


তথ্যসূত্র: জাগো নিউজ২৪
আরএস/০৮:০০/ ০৪ আগস্ট

ফরিদপুর

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে