Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English

গড় রেটিং: 3.0/5 (30 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

print

আপডেট : ০৭-১৬-২০১৮

রাশিয়ায় বিশ্বকাপের বিতর্কিত ঘটনা

মোস্তাফা শামীম


রাশিয়ায় বিশ্বকাপের বিতর্কিত ঘটনা

মস্কো, ১৬ জুলাই- হাসি-কান্নায় শেষ হয়েছে ‘দ্য গ্রেটেস্ট শো অন আর্থ’। রাশিয়ায় এবারের আয়োজনকে সর্বকালের সেরা বিশ্বকাপ আয়োজন বলে ইতিমধ্যে ফুটবল সংশ্লিষ্টরা মত দিয়েছেন। তবে বিশ্বকাপের ২১তম আসরের শুরুতে অনেকেই ভীত ছিলেন, কেউ কেউ তো ব্যর্থ বিশ্বকাপ হতে যাচ্ছে বলেও তকমা দিয়েছিলেন। কিন্তু আয়োজক রাশিয়া সব সমালোচনাকে ছাপিয়ে সেরা বিশ্বকাপ আয়োজনের কৃতিত্ব পাচ্ছে এখন।

তবে এত সাফল্যের পরও কিছু বিতর্ক ঘিরে ছিল এই বিশ্ব আসরে। মাঠ ও মাঠের বাইরের অপ্রিয় কিছু ঘটনাকে পাঠকদের জন্য তুলে ধরা হলো।

শাকিরি-জাকার নিষিদ্ধ উদযাপন:
সার্বিয়ার বিপক্ষে গ্রুপ পর্বের ম্যাচে সুইজারল্যান্ডের দুই তারকা শাকিরি ও জাকা একসঙ্গে গোল উদযাপন করেন। তাদের হাতের ভঙ্গিমা অনেকটা আলবেনিয়ার পতাকার ঈগলের মতো দেখাতেই বাঁধে বিপত্তি।

জাকা-শাকিরি উভয় খেলোয়াড়ই কসোভায় জন্মগ্রহণ করেন। কসোভা আলবেনীয় ঐতিহ্যের ভূখণ্ড। একসময় সার্বিয়ার প্রদেশ ছিলো কসোভা। ২০০৮ সালে ভূখণ্ডটি স্বাধীনতা লাভ করে। সার্বিয়া এখনও কসোভার স্বাধীনতার স্বীকৃতি দেয়নি। বলকান রাষ্ট্রগুলোর দীর্ঘদিনের যুদ্ধে অনেক পরিবার সুইজারল্যান্ডসহ ইউরোপের দেশগুলোতে পাড়ি জমান। তাদের এই উদযাপন ‘শান্তির জন্য খেলা’ নীতির বিরোধী হওয়াতেই প্রথমে দুই ম্যাচ নিষিদ্ধ হলেও পরবর্তীতে জরিমানায় পার পেয়ে যান শাকিরি-জাকা।

ওই ম্যাচে গ্যালারিতে সার্বিয়ার দর্শকেদের মারামারি ও গালাগালির অপরাধে সার্বিয়া ফুটবল ফেডারেশনকেও ৫৪ হাজার সাতশ’ ইউএস ডলার জরিমানা করে ফিফা।

ক্রোয়েশিয়ান কোচের রাশিয়াবিরোধী ভিডিও:
কোয়ার্টার ফাইনালে রাশিয়ার বিপক্ষে ক্রোয়েশিয়ার জয়ের পরই আরেক বিপত্তি বেঁধে যায়। ম্যাচ শেষে রাশিয়াবিরোধী এক ভিডিও প্রকাশ করায় ক্রোয়েশিয়া ফুটবল কর্তৃপক্ষ বরখাস্ত করে দলটির সহকারী কোচ অগেনজেন ভুকোজেভিচকে। তাকে দেশে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। তবে ক্ষমা চেয়ে পার পেয়ে গেছেন ওই ভিডিওতে থাকা ডিফেন্ডার দোমাগোজ ভিদা।

রাশিয়ার বিপক্ষে জয়ের পর ভিডিওতে দেখা যায় তারা দুজনে ‘ইউক্রেনের বিজয়’ এমনটি বলে উল্লাস করছেন। ভিদা এক সময় ইউক্রেনের ক্লাব ডায়নামো কিয়েভে খেলতেন। আর ওই দলেরই সহকারী কোচ ছিলেন ভুকোজেভিচ। তারা ভিডিওতে বলেন, এই বিজয় ডায়নামো ও ইউক্রেনের।

ইউক্রেনের সঙ্গে ঐতিহাসিকভাবে রাশিয়ার বৈরী সম্পর্ক। সোভিয়েত ইউনিয়নে থাকাকালে রাশিয়ার অধীনেই ছিল ইউক্রেন। পরবর্তীতেও দু’দেশের মাঝে বেশ কিছু বিবাদ লক্ষ্য করা যায়। এ ঘটনার পর ক্রোয়েশিয়ার স্ট্রাইকার মারিও মান্দজুকিচ রাশিয়ানদের কাছে ক্ষমা চেয়েছেন। তবে এই ভিডিও প্রকাশের পরে দেখা দেয় নতুন বিপত্তি। রাশিয়ান জনগণ রাস্তায় রাস্তায় ক্রোয়েশিয়াবিরোধী গান ও স্লোগান দেওয়া শুরু করে।
 
রাশিয়ান ফুটবলারদের বিরুদ্ধে ‘ডোপ’ নেওয়ার অভিযোগ:
শেষ ষোলোর ম্যাচে রাশিয়ার বিপক্ষে হেরে বিশ্বকাপ মিশন শেষ হয় স্পেনের। সেই ম্যাচে রাশিয়ার ফুটবলাররা অ্যামোনিয়া গ্রহণ করেছিলেন বলে দাবি করে কয়েকটি জার্মান সংবাদমাধ্যম। কিন্তু রাশিয়ানদের দাবি অ্যামোনিয়া গ্রহণ নিষিদ্ধ মাদকের তালিকায় নেই, তবে এটি গ্রহণে শারীরিক সুবিধা পাওয়া যায়। অ্যামোনিয়া শ্বাস-প্রশ্বাস চাঙ্গা রাখে এবং রক্তে অক্সিজেনের মাত্রা ঠিক রাখে।
 
জার্মান পত্রিকা বিল্ডের কাছে এ বিষয়ে একজন বিশেষজ্ঞ ফ্রিৎজ সোর্জেল বলেন, আমার মতে, এটা ডোপিং। বিল্ড-এর আরেক সংবাদে দাবি করা হয়েছে ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে ম্যাচের সময়ও রাশিয়ান ফুটবলারদের বারবার ‘নাক ঘষতে’ দেখা গেছে। সাদ্দেউৎসসে জেউতাং নামের আরেক সংবাদমাধ্যম দাবি করেছে, স্পেন ও রাশিয়ার নকআউট পর্বের ম্যাচের সময় একজন রাশিয়ান ফুটবলারের অ্যামোনিয়া গ্রহণের কথা স্বীকার করেছেন রাশিয়ান ফুটবল ফেডারেশনের একজন মুখপাত্র।

ওই ফুটবলার বদলি হিসেবে মাঠে নেমেছিলেন। মাঠে নামার আগে সুতার তৈরি অ্যামোনিয়াভর্তি বল হাতে নিয়ে শুকছিলেন তিনি। ওই পত্রিকার অভিযোগ, রাশিয়ান ফুটবল ফেডাড়েশনের আচরণ এমন যে, অ্যামোনিয়া গ্রহণ আর গোসলের সময় শ্যাম্পু ব্যবহার সমান কথা। রাশিয়ান অ্যাথলেটদের বিরুদ্ধে শক্তিবর্ধক মাদক সেবনের অভিযোগ নতুন নয়। এর আগে অলিম্পিকেও তাদের অ্যাথলেটরা এ কারণে নিষিদ্ধ হয়েছিলেন।

২০১৪ সালের সোচিতে অনুষ্ঠিত শীতকালীন অলিম্পিকে রাশিয়ার ১৫ জন পদকজয়ী অ্যাথলেটই রাষ্ট্রীয়ভাবে পৃষ্ঠপোষকতায় ডোপ নিয়েছিলেন বলে অভিযোগ উঠেছিল। কিন্তু এই আসরকে ফিফা ইতোমধ্যে ডোপমুক্ত বলে ঘোষণা দিয়েছে।
 
অনুমোদনহীন মোজা পরায় জরিমানা:
সাধারণত মাঠে অখেলোয়াড়সুলভ আচরণের কারণেই জরিমানার নিয়ম রাখা হয়। ফুটবল বিশ্বকাপের মতো আসরে নিয়মগুল যেন একটু বেশিই কঠোর। এমন কি অনুমোদন ছাড়া মোজাও পরতে পারেন না ফুটবলাররা। নিয়মের বাইরে গেলেই ফিফার জরিমানা গুনতে হয় ফুটবলারদের। এমনই এক জরিমানায় পড়েন সুইডেনের অধিনায়ক আন্দ্রেস গ্রাংকভিস্ট। ফিফার অফিসিয়াল স্পন্সর অ্যাডিডাসের সামগ্রী ছাড়া অন্য কোনো প্রতিষ্ঠানের সরঞ্জাম ব্যবহার করতে পারবেন না বিশ্বকাপে খেলা ফুটবলাররা। তবে রাশিয়া বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ট্রুসক্সের মোজা পরে খেলতে নেমেছিলেন সুইডেনের অধিনায়ক গ্রাংকভিস্ট। এ কারণেই তাকে ৫০ হাজার সুইস ফ্রা জরিমানা করা হয়েছে।

২০১০ সালে এই ট্রুসক্সের মোজা প্রস্তুত করার পর থেকেই বেশ জনপ্রিয়তা পেয়ে যায়। মূলত  এই বিশেষ ধরনের মোজা ফুটবলারদের বুটকে পায়ের সঙ্গে আরও আঁটসাঁট রাখতে সাহায্য করে। এ জন্যই ফুটবলাররা এই মোজা বেশি পছন্দ করেন।

ট্রুফক্সের পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে বলা হয়, তারা ফিফার এই সিদ্ধান্তে অপমানিত হয়েছে। তাদের এই মোজা লুইস সুয়ারেজ, অ্যালেক্স সানচেজ, গ্যারেথ বেলের মতো তারকারাও ব্যবহার করেন। কিন্তু সুইডেন অধিনায়ককে কেনো জরিমানা করা হলো তাই নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
 
ক্রোয়েশিয়াকে সমর্থন করায় সমালোচিত জোকোভিচ:
বিশ্বকাপে ক্রোয়েশিয়ান ফুটবল দলকে সমর্থন করায় নিজ দেশ সার্বিয়ায় সমালোচিত হন টেনিস তারকা নোভাক জোকোভিচ। উইম্বল্ডনে নিজের ম্যাচ শেষে রাশিয়া বিশ্বকাপ নিয়ে কথা বলতে গিয়ে জোকোভিচ বলেন, আমি ক্রোয়েশিয়াকে সমর্থন করি। তাদের হাতে ট্রফি উঠলে আমি খুশি হবো।

এর আগে গত মার্চ মাসে ক্রোয়েশিয়ান দুই তারকা ফুটবলার লুকা মদ্রিচ ও ইভান রাকিটিচের সঙ্গে ছবি তুলে ইনসটাগ্রামে পোস্ট করে জোকোভিচ ক্যাপশন দেন— ক্রোয়েশিয়ান ফুটবল দলের বিখ্যাত খেলোয়াড়দের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে পেরে ভালো লাগছে।

ক্রোয়েশিয়া ফুটবল দলের প্রতি সমর্থন জানানোয় নিজ দেশে সমালোচনার মুখে পড়েন জোকোভিচ। সার্বিয়ার প্রেসিডেন্ট আলেকজান্ডার ভুসিচের ‘সার্বিয়ান প্রোগ্রেসিভ পার্টির সদস্য’ ভ্লাদিমির জোকানোভিচ এক ভিডিও বার্তায় জোকোভিচের সমালোচনায় বলেন, একজন গর্দভই শুধু ক্রোয়েশিয়ার সমর্থন করতে পারে। ক্রোয়েশিয়ার সঙ্গে সার্বিয়ার ঐতিহাসিকভাবে দ্বন্দ্ব রয়েছে। ১৯৯১ সালে সাবেক যুগোস্লাভিয়া ভেঙে যে দেশগুলো বের হয়েছিল, সেগুলোর মধ্যে ক্রোয়েশিয়া অন্যতম। আর যুগোস্লাভিয়া ছিল মূলত সার্বিয়ারই নেতৃত্বে।

নয়্যারকে যৌনকর্মী বলায় মেক্সিকোর জরিমানা:
জার্মানির বিপক্ষে জয়ের পর অতি উল্লাস করতে গিয়ে বাজে কিছুই করে ফেলেছিলেন সেদিন মাঠে থাকা মেক্সিকান সমর্থকরা। ১৭ জুন গ্রুপ পর্বের ম্যাচে ১-০ গোলে জয়ে দর্শকরা বৈষম্যমূলক এবং অপমানজনক কথা বলায় ফিফার বড় ধরনের জরিমানার কবলে পড়ে মেক্সিকো ফুটবল ফেডারেশন (এফএমএফ)।

ফিফা ডিসিপ্লিনারি কমিটি মেক্সিকো ফুটবলকে ৭ হাজার ৬০০ ইউরো জরিমানা করে। যেখানে বলা হয় তাদের সমর্থকরা জার্মানির গোলরক্ষক মানুয়েল ন্যয়ারকে চিৎকার করে ‘পুটো’ বলেছেন। মেক্সিকোতে পুটো এক ধরনের গালি, যার মানে পুরুষ যৌনকর্মী।

২০১৪ বিশ্বকাপেও মেক্সিকান সমর্থকদের এমনটি করতে দেখা যায়। তবে সেবার কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি ফিফা। তবে চলমান বিশ্বকাপে ফিফা বৈষম্যের কোনো জায়গা দেয়নি। এবারের মতো মেক্সিকোকে জরিমানা করলেও সংস্থাটির ডিসিপ্লিনারি কমিটি থেকে বলা হয়, পরবর্তীতে এমন ঘটনা ঘটলে আরও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এছাড়া এই বিশ্বকাপে ছোটখাট আরও কিছু বিতর্কিত ঘটনা ছিল, যার মধ্যে ওজিলের ব্যাপারটি উঠে আসে। জার্মানির বিদায়ের পর সমর্থকরা ওজিলের ওপর ক্ষেপে যান। যেখানে অনেকের মতে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তৌয়ব এরদোগানের সঙ্গে এই মিডফিল্ডারের বিশ্বকাপের আগে সাক্ষাৎই তাকে সমালোচনায় পড়তে হয়। এছাড়া নারী সাংবাদিকদের সঙ্গে পুরুষ সমর্থকদের মাঠের বাইরে যৌন হয়রানির বিষয়গুলোও নিন্দার ঝড় তোলে।

সূত্র: বাংলানিউজ

আর/১০:১৪/১৬ জুলাই

বিশ্বকাপ ফুটবল ২০১৮

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে