Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

Login
ইউনিজয়
ফনেটিক
English

গড় রেটিং: 3.0/5 (23 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

print
আপডেট : ০৬-২০-২০১৮

ফাদার্স'ডে ও একজন অধীর দা

কামরুল হাফিজ আহমেদ


ফাদার্স'ডে ও একজন অধীর দা

নব্বইয়ের দশকে নিউইয়র্কে অনেক নতুন মানুষের সাথে আমার পরিচয় হয়। অনেককেই ভালো লাগে, অনেকের সাথেই ভালো সময় কাটাই। নিউইয়র্কে আসার পর লিয়াকত ভাইয়ের বাসায় উঠি। উনি একজন মুক্তিযোদ্ধা। খুবই অল্প বয়সে যুদ্ধ করেন তিনি। অল্প বয়সের কারনে তখন কেউ তাকে মুক্তি যুদ্ধে নিতে চায় নি। জিয়াউর রহমান তাকে নেন এবং তিনি সেই সেক্টরেই যুদ্ধ করেন।
নিউইয়র্কে আমরা তখন একসাথে মাত্রাতিরিক্ত আড্ডা দিতাম। চিৎকার চেঁচামেচি হতো অনেক। রাজনীতি, জীবনের দাসত্ব, প্রতারণা, সুখ সব কিছু নিয়েই কথা হতো। আমার বন্ধু মিনার মাহমুদ আসতো প্রতিদিন। সবাই চিৎকার চেঁচামেচি করতাম, তবে একেক জন একেক কারণে। মাঝে মাঝে তো এই করে করে ক্ষুধা লেগে যেত। সেটা ছিল ভাতের ক্ষুধা। অলস দেহ মন কোন কিছুই আর রান্নার কাজে যেতে চাইতো না। তবে এর মধ্যেও কেউ কেউ রান্নার পাগল ছিল। 
খুব ভালো রান্না করতেন এমন একজন ছিলেন অধীর দা। বাড়ি ছিল সিলেটের কোন জায়গায় ঠিক মনে নেই। নিউইয়র্কে তখন বেশীরভাগ মানুষের বৈধ কাগজ নেই, কাজও নেই। যদিও বেকারের ব‍্যাস্ততা অনেক। হঠাৎ করেই Daily News এর regular workers strike করাতে, কোম্পানির পত্রিকা বিক্রি প্রায় অসম্ভব হয়ে যায়। তখন তারা (Daily News) যে কেউ কে দিয়েই কাজ করাতে চাইতো। অধীর দা ছিলেন সেই দলের, Daily News এর একজন অনিয়মিত কর্মচারী। নিউইয়র্কের রাস্তায় দাঁড়িয়ে তিনি Daily News বিক্রি করতেন। হঠাৎ করেই তার Green Card হয়ে যায়, কাজেই দেশে যাওয়া আসার প্রতিবন্ধকতা আর থাকে না। এর মধ্যে তার বিয়ের বয়সও পার হয়ে যাচ্ছে, তাই বাংলাদেশে গিয়ে উনি প্রথম কাজটা করবেন বলে ঠিক করলেন- সেটা হলো বিয়ে।
অধীর দা দীর্ঘ সময় জার্মানি, কানাডা, আমেরিকা মিলিয়ে প্রায় ২২ বছর পরে দেশে যান। অধীর দা'র বাবার বয়স ছিল একটু বেশী। তিনি ভাবলেন, হঠাৎ করে তার বাবা যদি তাকে দেখেন--তাহলে যেকোনো একটা অঘটন ঘটে যেতে পারে। তাই তিনি সিলেটের এয়ার পোর্ট থেকে ফোন করে বল্লেন, " বাবা আমি দেশে এসেছি, খুব তাড়াতাড়ি বাড়িতে আসছি।" সিলেটের এয়ার পোর্ট থেকে বাড়ির দুরত্ব দুই ঘন্টার। অধীর দা বাড়িতে গিয়ে বাবাকে আর পাননি। উনার বাবা ছেলে বাড়ি ফেরার আনন্দে স্ট্রোক করে মারা যান। চরম দুর্ভাগ্যের বিষয় যে, বাবা আর সন্তানের দেখা হয় নি।
অধীর দা বিয়ে করে চলে আসেন নিউইয়র্কে। বউ এর ছবি পকেটেই রাখতেন। খামাখা ছবি গুলো বের করে বলতেন," আমার চাইয়া সুন্দর মাইয়াডা কেডা বিয়া কইরা লইয়া আইছে!" শান্ত সুন্দর একটা মানুষকে বিয়ে করেছিলেন অধীর দা। 
এত আনন্দ আর হৈচৈ এর মাঝে হঠাৎ একদিন পেটে তার প্রচন্ড ব্যাথা শুরু হলো। তারপর ডাক্তার, হাসপাতাল। নর্থ আমেরিকার ডাক্তাররা সব সময় রোগীর সাথে কথা বলতে পছন্দ করেন। ডাক্তার অধীর দা কে বল্লেন,"You have two months only, It’s up to you- You can stay here in NYC or go to Bangkadesh".
অধীর দা দেশে চলে গেলেন। ডাক্তারের দেয়া নির্দিষ্ট সময় সীমার মধ্যে তিনি মারা গেলেন।
অধীর দা মারা যাওয়ার পর তার একটি পুত্র সন্তানের জন্ম হয়। 
আজ Father's Day -র প্রাক্কালে আমার সেই ছেলেটার কথা মনে পড়ছে। 

মুক্তমঞ্চ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে