Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, মঙ্গলবার, ২৫ জুন, ২০১৯ , ১১ আষাঢ় ১৪২৬

গড় রেটিং: 2.7/5 (21 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ০৪-২৮-২০১৩

আসুন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর চেয়ারটি জমজমের পানিতে ধুয়ে দিই

নঈম নিজাম



	আসুন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর চেয়ারটি জমজমের পানিতে ধুয়ে দিই

দোষটা আসলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নয়। মন্ত্রণালয়ে রাখা চেয়ারটির। এই চেয়ারে যারা বসেন তারাই এমন কথা বলেন। তাই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ড. মহীউদ্দীন খান আলমগীরের বক্তব্যে আমি বিস্মিত হইনি, তবে হতাশ হয়েছি, কষ্ট পেয়েছি। বিএনপির শাসনকালে আলতাফ হোসেন চৌধুরী বলেছিলেন, আল্লাহর মাল আল্লাহ নিয়ে গেছেন, আমরা কি করতে পারি। আর লুৎফুজ্জামান বাবর বলেছিলেন, উই আর লুকিং ফর শতরুজ। আওয়ামী লীগের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, 'হরতাল সমর্থকরা ফটক আর স্তম্ভ ধরে টানাহেঁচড়া করায় সাভারের রানা প্লাজা ধসে পড়তে পারে'। এই বক্তব্যে গোটা দেশ হতভম্ব। আমাকে ফোন করলেন একজন প্রতিমন্ত্রী। তিনি বললেন, দয়া করে আপনারা মন্ত্রী বদলের কথা বলবেন না। মন্ত্রী বদল করে লাভ নেই। বরং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর চেয়ারটি আবে জমজম বা জমজমের পবিত্র পানি এনে ধুয়ে-মুছে পরিষ্কার করে কাউকে বসতে দিন। অন্যথায় যিনি এই চেয়ারে বসবেন তিনি একই কথা বলবেন।

ড. মহীউদ্দীন খান আলমগীর একজন দক্ষ সিএসপি। শিক্ষা, দীক্ষা, উন্নত চিন্তার একজন মানুষ হিসেবেই সবাই তাকে জানতেন। কিন্তু স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হয়ে তিনি কী বলছেন, কী করছেন? আমার মনে হয় তিনি নিজেও বাস্তবতার সঙ্গে নেই। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর চেয়ারটি অবাস্তব জগতের একটি আসন। মন্ত্রীকে বাস্তবতায় আনতে হলে চেয়ারটিকে জমজমের পবিত্র পানি দিয়ে ধুতে হবে। আবে জমজম না মিললে সোনা-রুপার পানিও ব্যবহার করা যেতে পারে। শুধু স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নন, সাভারের করুণ ঘটনা নিয়ে আরও অনেক রাজনীতিবিদ কথা বলছেন, যা গোটা দেশের মানুষকে স্তম্ভিত করে দিচ্ছে। সাধারণ মানুষ আর্তমানবতার সেবায় ছুটে যাচ্ছেন। উদ্ধার তৎপরতায় অংশ নিচ্ছেন। কেউ রক্ত দিচ্ছেন, কেউ যাচ্ছেন পানি নিয়ে, কারও হাতে অক্সিজেন মাস্ক, কারও চোখে অশ্রু। যারা যাচ্ছেন না টেলিভিশনের সামনে বসে তারাও কাঁদছেন। শুধু ঠিক হলেন না আমাদের রাজনীতিবিদরা। এই ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয়ের পরও রাজনীতি থেকে তারা সরতে পারলেন না। যে যার মতো কথা বলছেন।
 
কেউ বোঝার চেষ্টা করছেন না এখন কথা বলার সময় নয়। রাজনীতি করার সময় নয়। মানুষের পাশে মানুষের দাঁড়ানোর সময়। ভবনটির মালিক যুবলীগ নেতা না হয়ে যুবদল নেতাও হতে পারতেন। রাজনীতি করা অপরাধ নয়। আইনের শাসনের ব্যত্যয় যিনি ঘটাবেন তিনি অপরাধী। তাকে আইনের আওতায় আনার দায়িত্ব রাষ্ট্রের। তাই রানা যুবলীগ করতেন না এমন আজগুবি তত্ত্ব এই মুহূর্তে প্রচারের কিছু নেই। ছাত্রলীগ শেষ করে রানা যুবলীগ করতেন। এই বাস্তবতাকে অস্বীকার করার দরকার কি? অকারণে সরকারি দল এ নিয়ে কথা বলছে। সরকারি দলের কথা থাকবে একটি- তা হলো, রানা ভবন নির্মাণে আইন-কানুনের তোয়াক্কা করেননি। তিনি কোন দল, কোন মতে বিশ্বাসী তা বড় কথা নয়। আইনের দৃষ্টিতে তিনি অবশ্যই অপরাধী। তাকে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়া হবে। আটক করা হবে। এ ব্যাপারে র‌্যাব, পুলিশকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
 
শুধু রানা নন, অতি মুনাফার লোভে যে গার্মেন্ট মালিকরা জেনেশুনে শ্রমিকদের ডেকে এনেছিলেন তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নিতে হবে। একটি বেসরকারি ব্যাংক ভবনের অবস্থা দেখে নিজেদের গুটিয়ে নিয়েছিল আগের দিন। পুলিশ সবাইকে সতর্ক করেছিল। জেলা পরিষদের প্রকৌশলীও সতর্কবাণী উচ্চারণ করেছিলেন। তারপরও গার্মেন্ট মালিকরা চরম দায়িত্বহীনতার পরিচয় দিয়েছেন। আসলে আইনের প্রতি তাদের নূন্যতম সম্মানবোধ ছিল না। আর এর কারণ তাজরীন গার্মেন্টের আগুনে পুড়ে মারা গেলেন ১৫৮ জন শ্রমিক। সামান্য টাকা ক্ষতিপূরণ দিয়েই মালিকরা খালাস। গার্মেন্ট মালিকের বিচার হয়নি। একইভাবে শাস্তি হয়নি ফিনিক্স, স্পেকট্রাম ও বেগুনবাড়ির ধসে পড়া ভবনের গার্মেন্ট মালিকদের। রানা প্লাজার নিউ ওয়ের, ইয়ারটেক্স, বারটেক্সসহ বিভিন্ন গার্মেন্ট মালিকরা যা করলেন তা ডেকে এনে হত্যার শামিল। অতি মুনাফালোভী এই ব্যক্তিদের বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড় করাতে হবে।
 
সাভার ট্র্যাজেডি থেকে শিক্ষা নিয়ে এ খাতকে আরও জবাবদিহিতার আওতায় আনতে হবে। জবাবদিহিতা বিজিএমইএ-কেও করতে হবে। তাজরীনের পর তারা বাস্তবমুখী কোনো পদক্ষেপ নেননি। নিজেদের ভবন নিয়ে আইন-আদালত তাদেরকেও মানতে হবে। ফায়ার সার্ভিস, রাজউক, পরিবেশ অধিদফতরসহ সরকারি বিভিন্ন সংস্থাকে নিয়ে চিহ্নিত করতে হবে ত্রুটিপূর্ণ ভবনগুলোকে। মানবিক বিপর্যয় মোকাবিলায় রাখতে হবে পর্যাপ্ত প্রস্তুতি। যুক্ত করতে হবে আধুনিক সরঞ্জাম। প্রস্তুত থাকতে হবে বড় ধরনের ভূমিকম্প হলে তা সামাল দেওয়ার। ঘটনা শেষ হওয়ার পরও তদন্ত কমিটিগুলোর তৎপরতা থামানো যাবে না। প্রয়োজনে বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিটি করতে হবে। দীর্ঘস্থায়ী সমাধানের দিকে যেতে হবে। গার্মেন্ট শিল্পে মালিক-শ্রমিকের সম্পর্কও উন্নত করতে হবে। শ্রমিকদের নায্য দাবি মানতে হবে।
 
অন্যদিকে শ্রমিকদেরও বুঝতে হবে, এই শিল্প তাদের রুটি-রুজির পথ। গার্মেন্ট শিল্প শেষ হয়ে গেলে তারাও কঠিন বেকারত্বে পড়বেন। তাই কথায় কথায় ভাঙচুর, আগুন বন্ধ করতে হবে। সবাই মিলে রক্ষা করতে হবে গার্মেন্ট শিল্পকে। যে কোনো মূল্যে ধরে রাখতে হবে বিশ্ববাজারকে। অতি মুনাফার লোভ পরিহার করতে হবে মালিকদের। ব্যবস্থা করতে হবে উন্নত কাজের পরিবেশ। কেউই আইনের ঊর্ধ্বে নন। গার্মেন্ট মালিকদের আরও দায়িত্বশীল হতে হবে। শুধু অর্থ উপার্জন করলে হবে না, শ্রমিকদের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নত করতে হবে। ধরে রাখতে হবে বিশ্ব বাজারকে।
 
সাভার ট্র্যাজেডি বিশ্ব মিডিয়া গুরুত্ব দিচ্ছে। তারা বলছে, বাংলাদেশের গার্মেন্ট মালিকরা কোনোভাবে শ্রমিক স্বার্থ দেখেন না। এর প্রভাব বাজারে পড়তে পারে। তাই সতর্ক হতে হবে। এই মাসের শুরুতে নিউইয়র্কে ছিলাম। সঙ্গে ভোরের কাগজের সম্পাদক শ্যামল দত্ত। আমরা গিয়েছিলাম ম্যানহাটন মেসি থেকে শার্ট কিনতে। মেসির বাংলাদেশি আমেরিকান ম্যানেজার কল্লোল আমাদের স্বাগত জানালেন। কল্লোলের বাবা ছিলেন এক সময়ের বিখ্যাত অভিনেতা রাজু আহমেদ। কল্লোল আমাদের বললেন, বিখ্যাত ব্র্যান্ড আলফানি মেসির জন্য সব জুতার অর্ডার দিয়েছে ঢাকার একটি কোম্পানিকে। আগেই জানতাম, বিখ্যাত সব ব্র্যান্ডের শার্ট, প্যান্টের অর্ডার বাংলাদেশে আসে। এখন জুতা যুক্ত হয়েছে। শুনেই ভালো লাগল। আমরা এই বাজার হারাতে চাই না।
 
পাদটীকা : বিজিএমইএ'র অবৈধ ভবন উদ্বোধন করেছিলেন আওয়ামী লীগ ও বিএনপির দুই সাধারণ সম্পাদক। এ প্রতিষ্ঠানের বার্ষিক অনুষ্ঠান উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী। সমাপনী টানেন বিরোধীদলীয় নেতা। তাই এই দুটি দলের প্রতি অনুরোধ, মানবিক বিপর্যয় নিয়ে দয়া করে রাজনীতি করবেন না। বোঝা উচিত নাড়ানাড়িতে ভবন ধসে পড়ে না। অতি নাড়ানাড়িতে অন্য কিছু হয়, ভবন নয়।

মুক্তমঞ্চ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে