Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

Login
ইউনিজয়
ফনেটিক
English

গড় রেটিং: 3.0/5 (60 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

print
আপডেট : ০৫-২৮-২০১৮

বিদ্রোহী সত্তা

মোহীত উল আলম


বিদ্রোহী সত্তা

কবি কাজী নজরুল ইসলাম পাঁচটি গোঁড়ামির বিরুদ্ধে যুদ্ধরত ছিলেন। তাঁর সাহিত্য ও সঙ্গীতের সৃজনশীল জীবন ব্যাপৃত ছিল মাত্র ২৩ বছর- ১৯১৯ থেকে ১৯৪১ সাল। এর পর তিনি আরও ৩৫ বছর বেঁচেছিলেন বাকরুদ্ধ ও অসচেতন অবস্থায়। তাই কবি নজরুলের বিদ্রোহী সত্তার পরিচয় তুলে ধরতে কবির জীবনের সক্রিয় সময়কালের সংক্ষিপ্ততার প্রেক্ষাপট বিবেচনায় আনতে হবে, এবং তখন বিস্ময়কর মনে হবে যে এটা কীভাবে সম্ভব হলো যে, এক ক্ষুদ্র মানবজীবনে তিনি এমন বৈরী পারিপার্শ্বিক সামাজিক পরিবেশের সঙ্গে এতটা সাংঘর্ষিক জীবন অতিবাহিত করেছিলেন! 

নজরুলের ওপর চমৎকার একটি বই লিখেছেন স্বর্গীয় প্রীতি কুমার মিত্র। ২০০৭ সালে অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটি প্রেস থেকে প্রকাশিত ৩৩০ পৃষ্ঠাব্যাপী ইংরেজিতে রচিত এ বইটির নাম :'দ্য ডিসেন্ট অব নজরুল ইসলাম :পোয়েট্রি অ্যান্ড হিস্ট্রি'। প্রীতি মিত্র উপরে উল্লিখিত পাঁচটি গোঁড়ামিকে চিহ্নিত করছেন এভাবে :(১) নজরুলের ভারতে ব্রিটিশ শাসনের বিরুদ্ধে অবস্থান; (২) তাঁর গান্ধীর নেতৃত্বে পরিচালিত জাতীয়তাবাদী আন্দোলনের প্রতি সমর্থন প্রদানে অনীহা; (৩) মৌলবাদী ইসলামের বিরুদ্ধে তাঁর অবস্থান; (৪) হিন্দুদের সামাজিক রক্ষণশীলতা ও সাংস্কৃতিক খবরদারির বিরুদ্ধে তাঁর অবস্থান; এবং (৫) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে নিয়ে সাংস্কৃতিক আতিশয্যের বিরুদ্ধে তাঁর প্রতিবাদ। 

নজরুল ময়মনসিংহের ত্রিশালে এক বছর (১৯১৩-১৪) কাটানোর পর বর্ধমানে ফিরে যান, এবং সেখানে রাণীগঞ্জের শিয়ারশোল রাজ উচ্চ বিদ্যালয়ে তিন বছর (১৯১৫-১৭) পড়াশোনার সময় তাঁর সংযোগ ঘটে ওই স্কুলেরই শিক্ষক নিবারণ চন্দ্র ঘটকের সঙ্গে, যিনি সংযুক্ত ছিলেন 'যুগান্তর' গোষ্ঠীর সঙ্গে। তখন বাংলায় 'অনুশীলন' ও 'যুগান্তর'- এ দুটি গোষ্ঠী সশস্ত্র সংগ্রামের মধ্য দিয়ে ভারতের স্বাধীনতা আনার ব্যাপারে দৃঢ়প্রত্যয়ী ছিল। নিবারণ বাবু স্কুল ছেড়ে গেলেও কিশোর নজরুলের ওপর তাঁর স্থায়ী ছাপ রেখে যান। এ জন্য নজরুল সারাজীবন সশস্ত্র সংগ্রামের মাধ্যমে ভারতের স্বাধীনতা অর্জন ছাড়া আর বিকল্প দেখতেন না। এটা তাঁর রাজনৈতিক বিশ্বাসে পরিণত হয়। ব্রিটিশ ভারতে একটা ধারণা তৈরি হয়েছিল- বাঙালি যোদ্ধা জাতি ছিল না। এ ধারণা ভাঙার জন্যও 'অনুশীলন' ও 'যুগান্তর' গোষ্ঠী বাঙালি যুবকদের নিয়ে সমরাস্ত্রে প্রশিক্ষিত হওয়ার ব্যবস্থা নেয়। অন্যদিকে ১৯১৭ সালে ৭০০০ সৈন্য নিয়ে '৪৯ নং বাঙালি পল্টন' প্রতিষ্ঠিত হলে হিন্দু যুবাদের পাশাপাশি কাজী নজরুল ইসলাম ও মাহবুব-উল আলমদের মতো তরুণ মুসলিম যুবারাও তাতে যোগ দেন। উদ্দেশ্য, বাঙালি যোদ্ধাবাজ জাতি নয় বলে যে গ্লানিকর কথা ছিল, সেটি মোছা এবং নজরুলের জন্য তাগিদটা ছিল আরও এক মাত্রা বেশি: ভারতীয়রা প্রথম বিশ্বযুদ্ধের মাধ্যমে সামরিক অভিজ্ঞতা লাভ করবে, এবং তার ভিত্তিতে এক পর্যায়ে ব্রিটিশদের ভারতভূমি থেকে হটিয়ে দেবে। কিন্তু ব্যক্তিগত পর্যায়ে নজরুলের সম্মুখ সমরে সক্রিয় অংশগ্রহণের স্বপ্ন পূরণ হয় না। কেননা, তিনি করাচিতে ১৯১৭ সালের শেষভাগ থেকে ১৯২০-এর মার্চ পর্যন্ত অপেক্ষা করলেও রণক্ষেত্রে যাওয়ার আদেশটি শেষ পর্যন্ত পাননি। কিন্তু তাঁর এ হতাশা তিনি মেটান তখন সংঘটিত হওয়া রুশ বিপ্লবে বলশেভিকদের বিজয় ও তুরস্কে কামাল আতাতুর্কের গ্রিসের বিরুদ্ধে বিজয়ের ঘটনায় একাত্মতা প্রকাশ করে। নজরুলের যুদ্ধ-অন্ত প্রাণ দ্রুত যুদ্ধ-অন্ত কাব্য ও গানে পরিণত হতে থাকে এবং ১৯২১ সালের অক্টোবরে 'কামাল পাশা' শীর্ষক কবিতার শব্দচয়ন একান্তই যুদ্ধসম্পৃক্ত বলা যায়। এর আগে সম্ভবত তিনি 'আনোয়ার পাশা' শীর্ষক বীরত্বসূচক কবিতাটি লেখেন, যে কবিতা দুটি অচিরেই নজরুলের জগদ্বিখ্যাত 'বিদ্রোহী' (১৯২১) কবিতার বচনরীতির পটভূমি হিসেবে কাজ করে। 

যুদ্ধফেরত নজরুল মুজফ্‌ফর আহ্‌মদের (পরবর্তীকালে বিশিষ্ট মার্ক্সবাদী নেতা) সঙ্গে কলকাতার ৩/৪, সি তালতলা লেনের বাসায় থাকার সময় এক মধ্যরাতে জেগে থেকে ১৩৯ পঙ্‌ক্তির 'বিদ্রোহী' কবিতাটি লেখেন, যেটি ব্রিটিশরাজ শাসন, হিন্দু-মুসলমানের সাম্প্রদায়িক ও সাংস্কৃতিক রক্ষণশীলতাসহ সব রকম কূপমণ্ডূতাকে শুধু আক্রমণ করল, তা নয়; সেটি গাইল ব্যক্তি-মানুষের সর্বোচ্চ ব্যক্তি-স্বাধীনতার কথা :'আমি আপনারে ছাড়া করি না কাহারে কুর্নিশ,' যেটিকে অধ্যাপক মিত্র ইংরেজিতে বলছেন 'ভার্টিক্যাল ইনডিভিজুয়ালিজম' বা উল্লম্ব ব্যক্তিত্ববাদ। 

১৯২০ সালে শেরেবাংলা একে ফজলুল হকের অর্থানুকূল্যে সান্ধ্য দৈনিক 'নবযুগ' প্রকাশিত হয় কাজী নজরুল ইসলাম ও মুজফ্‌ফর আহ্‌মদের যৌথ সম্পাদনায়। নজরুলের রাজনৈতিক কলাম লেখা শুরু হলো এবং অচিরেই 'ডায়ারের স্মৃতিস্তম্ভ' ও 'মুহাজিরিন হত্যার জন্য দায়ী কে' শীর্ষক দুটি রচনা প্রকাশ করার দায়ে পত্রিকাটি সরকারের কোপানলে পড়ে। প্রথম রচনাটি প্রহসনমূলক যেখানে নজরুল বলছেন, জালিয়ানওয়ালাবাগ হত্যাকাণ্ডের মতো 'বীরত্বসূচক' কর্মের জন্য জেনারেল ডায়ারের স্মরণে একটি স্মৃতিস্তম্ভ তৈরি হওয়া উচিত। আর দ্বিতীয় রচনাটি ছিল যেসব মুসলমান স্বেচ্ছাসেবক গ্রিসের বিরুদ্ধে তুরস্ককে সাহায্য করার জন্য আফগানিস্তান হয়ে সীমান্ত পাড়ি দিচ্ছিল, তাদের ওপর ব্রিটিশ সীমান্ত সৈন্যদের গুলি ছোড়ার বিষয়টি। 

নবযুগ বন্ধ হয়ে গেলে নজরুল কিছু দিন মওলানা আকরম খাঁ প্রকাশিত 'সেবক' পত্রিকায় চাকরি করেন। কিন্তু পত্রিকাটির সাম্প্রদায়িক চরিত্রের সঙ্গে খাপ খাওয়াতে না পেরে তিনি নিজেই 'ধূমকেতু' নামক একটি অর্ধ-সাপ্তাহিকী প্রকাশ করেন, ১৯২২ সালে। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর পত্রিকাটিকে আবাহন জানালেন 'আয় চলে আয় রে ধূমকেতু/ আঁধারে বাঁধ অগ্নিসেতু' চর্তুপদী কবিতাটি দিয়ে। ধূমকেতু পত্রিকাটি ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদী শক্তির বিরুদ্ধে নজরুলের বিদ্রোহকে সর্বাত্মক প্রকাশে সাহায্য করে। এর পঞ্চম সংখ্যায় 'আমরা লক্ষ্মীছাড়ার দল' শীর্ষক সম্পাদকীয়তে তিনি বাংলার বিপ্লবী শহীদ যুবাদের প্রতি শ্রদ্ধা জানালেন। বারীন্দ্র কুমার ঘোষ, কানাই লাল দত্ত, সত্যেন বসু, প্রফুল্ল চাকী, বাঘা যতীনসহ সবার ছবি ছাপিয়ে ধূমকেতু নিয়মিত বের হতো। 

এই ধূমকেতুর ১২তম সংখ্যায় (২৬ সেপ্টেম্বর ১৯২২) প্রকাশিত হয় দুর্গা পূজা উপলক্ষে তাঁর কবিতা 'আনন্দময়ীর আগমনে', যেটি ব্রিটিশ সরকার বাজেয়াপ্তই করল না শুধু; কবিকে গ্রেফতার করল কুমিল্লা থেকে, যেখানে প্রেয়সী প্রমীলা দেবীর পাণি গ্রহণের প্রস্তুতি চলছিল। এ কবিতায় তিনি ব্রিটিশ শাসকদের লক্ষ্য করে বললেন, তারা 'বীর যুবাদের দিচ্ছে ফাঁসি' আর তাদের অত্যাচারে "ভূ-ভারত আজ কসাইখানা' হয়েছে। ইংরেজ বিচারক সুইনহো নজরুলকে দেশবিরোধী ষড়যন্ত্রের অপরাধে এক বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিলেন। কিন্তু নজরুল নিজের সমর্থনে একটি জবানবন্দি জমা দেন আদালতে, যেটি 'রাজবন্দীর জবানবন্দী' নামে বিখ্যাত এবং যেটি তিনি রচনা করেন কারাবাসের সময়, ৭ জানুয়ারি ১৯২৩ সালে। 'বিদ্রোহী' কবিতার গদ্যরূপ যেন এটি। কবি বললেন- 

'একজন রাজা, হাতে রাজদণ্ড; আর জন সত্য, হাতে ন্যায়দণ্ড।' 

আরও বললেন, 

'আমি কবি, অপ্রকাশ সত্যকে প্রকাশ করবার জন্য, অমূর্ত সৃষ্টিকে মূর্তি দানের জন্য ভগবান কর্তৃক প্রেরিত। কবির কণ্ঠে ভগবান সাড়া দেন। আমার বাণী সত্যের প্রবেশিকা, ভগবানের বাণী। সে-বাণী রাজবিচারে রাজদ্রোহী হতে পারে, কিন্তু ন্যায়বিচারে সে-বাণী ন্যায়-দ্রোহী নয়, সত্য-দ্রোহী নয়। সে-বাণী রাজদ্বারে দণ্ডিত হতে পারে, কিন্তু ধর্মের আলোকে, ন্যায়ের দুয়ারে তাহা নিরপরাধ, নিস্কলুষ, অম্লান, অনির্বাণ সত্য-স্বরূপ।' 

নজরুলের রাজনৈতিক লেখার ধরন হলো উৎকৃষ্ট প্রতিতুলনা তৈরি করে বক্তব্যকে সুপ্রতিষ্ঠিত করা। এই 'জবানবন্দী'তেও তাই করলেন। বললেন- 

'আজ ভারত পরাধীন না হয়ে যদি ইংলন্ডই ভারতের অধীন হ'ত এবং নিরস্ত্রীকৃত উৎপীড়িত ইংলন্ড-অধিবাসীবৃন্দ স্বীয় জন্মভূমি উদ্ধার করবার জন্য বর্তমান ভারতবাসীর মত অধীর হয়ে উঠত, আর ঠিক সেই সময় আমি হতুম এমনি বিচারক এবং আমার মতই রাজদ্রোহ অপরাধে ধৃত হয়ে এই বিচারক আমার সম্মুখে বিচারার্থ নীত হতেন, তা হলে সে সময় এই বিচারক আসামীর কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে যা বলতেন, আমিও তাই এবং তেমন করে বলছি।' 

নজরুল প্রথমে আলীপুর জেলে থাকলেও পরে তাঁকে হুগলিতে নেওয়া হয়। সেখানে নজরুল কয়েদিদের মানবেতর পরিবেশে রাখার প্রতিবাদে অনশন শুরু করেন, এবং অনশনরত অবস্থায় তাঁর স্বাস্থ্যের চরম অবনতি হতে থাকে। ৩৯ দিন পর তাঁর কাকী শাশুড়ি বিরজা সুন্দরী দেবীর অনুরোধে নজরুল অনশন ভাঙেন ২৯ মে ১৯২৩ সালে। উল্লেখ্য, রবীন্দ্রনাথের প্রেরিত বিখ্যাত তারবার্তা 'গিভআপ হাঙার স্ট্রাইক, আওয়ার লিটরেচার ক্লেইমস ইউ' কারা কর্তৃপক্ষ নজরুলের কাছে পৌঁছাতে দেয়নি। অন্যদিকে নজরুলের মা জাহেদা খাতুন তাঁর অনশন ভাঙানোর জন্য কারার প্রধান ফটকে এলেও নজরুল তাঁর সঙ্গে দেখা করতে সম্মত হননি। কারাবাস শেষ করার পর নজরুল পরপর কয়েকটি কাব্যগ্রন্থ প্রকাশ করেন। যদিও তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ 'অগ্নিবীণা' (১৯২২) কর্তৃপক্ষের রোষ এড়াতে সক্ষম হয়, কিন্তু পরবর্তী কাব্যগ্রন্থগুলো যথাক্রমে 'বিষের বাঁশী' (১৯২৪), 'ভাঙার গান' (১৯২৪), 'প্রলয় শিখা' (১৯৩০) ও 'চন্দ্রবিন্দু' (১৯৩১) নিষিদ্ধ হয়। কিন্তু 'সর্বহারা' (১৯২৬), যেটাতে লাঙ্গল পত্রিকায় প্রকাশিত তাঁর সাম্যবাদী জনপ্রিয় কবিতাগুলো সংকলিত হয়েছিল, শেষ পর্যন্ত নিষেধাজ্ঞা এড়াতে পেরেছিল। 

শেকসপিয়রের জীবনে যেমন তাঁর একমাত্র ছেলে হ্যামলেটের ১১ বছর বয়সে মৃত্যু এবং রবীন্দ্রনাথের জীবনে যেমন তাঁর কনিষ্ঠ পুত্র বালক শমীর মৃত্যু অপরিমেয় শোক এনে দিয়েছিল, তেমনি কবি নজরুলের জীবনে তাঁর প্রাণের চেয়ে প্রিয় দ্বিতীয় পুত্র বুলবুলের ১৯৩০ সালে মাত্র সাড়ে ৪ বছর বয়সে বসন্ত রোগে মৃত্যুর ঘটনা কবিকে মানসিক ও শারীরিকভাবে একান্ত দুর্বল করে ফেলে। অপরিসীম শোকে গান রচনা করেন- 'ঘুমিয়ে গেছে শান্ত হয়ে আমার গানের বুলবুলি'। অধ্যাপক মিত্রের মতে, এ মৃত্যুটি নজরুলের চেতনার জগতে গভীর রেখাপাত করে এবং তিনি বিপ্লবীর ভূমিকা থেকে অধ্যাত্মবাদের দিকে ঝুঁকে পড়েন। এ পর্বে তাঁর সহায় হয় সঙ্গীত (১৯৩০-৪২)। অবশ্য এর পূর্ব থেকেই, বিশেষ করে কৃষ্ণনগরে বাসকালে (জানুয়ারি ১৯২৬-ডিসেম্বর ১৯২৯), এবং পুত্র বুলবুলের জন্ম থেকে (১৯২৬), নজরুল বাংলা গানে গজল আমদানি করে বাংলা সঙ্গীতের নতুন দ্বার উদ্ঘাটন করেন। বিশিষ্ট নজরুল সঙ্গীতশিল্পী ফাতেমা তুজ জোহরার মোহিত কামাল সম্পাদিত সাহিত্য সংস্কৃতির মাসিক পত্রিকা 'শব্দঘর'-এ ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত 'গীত ও সুরের ভিন্ন ঊর্মিমালায় নজরুল সঙ্গীত' শীর্ষক রচনায় নজরুলের গানে রাগের বিচিত্রতা সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়। নজরুলের গান নিয়ে ফাতেমা তুজ জোহরার মুগ্ধতা এখানে উদ্ধৃতিযোগ্য : '...যেভাবে তিনি তাঁর গান, বিশেষ করে রাগপ্রধান গানগুলোর ঢং সৃষ্টি করেছেন, বিচিত্রতায় দুলিয়েছেন স্বরকে, শ্রুতি এবং অনুভূতিকে প্রয়োগ করে সুর-মাধুর্যের ফুলঝুরি তৈরি করেছেন তা লিখে বোঝানো যাবে না।' (মে ২০১৪, পৃ. ৯৮) 

ওপরে আলোচিত প্রেক্ষাপট থেকে বোঝা যায়, গান্ধীর রাজনৈতিক মতবাদের সঙ্গে নজরুলের চিন্তার সঙ্গতি হওয়ার কথা নয়। রবীন্দ্রনাথ যেমন আন্তর্জাতিকতাবাদের দর্শন কাঠামোয় দাঁড়িয়ে থেকে গান্ধীর জাতীয়তাবাদী আন্দোলনকে কোনো পর্যায়ে সমর্থন করতে পারেননি; তেমনি নজরুল গান্ধীর অহিংস নীতি, অসহযোগিতা, স্বরাজ আন্দোলন বা ইংরেজদের ভারতকে 'ডমিনিয়ন স্ট্যাটাস' দেওয়ার চিন্তা- ইত্যাকার ধারণাকেই অসম্পূূর্ণ এবং মূলত দাসত্ব বজায় রাখার নানা ফিকির বলে মনে করতেন। ধূমকেতুর 'পথ' শীর্ষক সম্পাদকীয়তে লিখলেন- 

"সর্বপ্রথম, 'ধূমকেতু' ভারতের পূর্ণ স্বাধীনতা চায়। 

"স্বরাজ-টরাজ বুঝি না, কেননা, ও-কথাটার মানে এক এক মহারথী এক এক রকম ক'রে থাকেন। ভারতবর্ষের এক পরমাণু অংশও বিদেশীর অধীনে থাকবে না। ভারতবর্ষের সম্পূর্ণ দায়িত্ব, সম্পূর্ণ স্বাধীনতা-রক্ষা, শাসনভার, সমস্ত থাকবে ভারতীয়ের হাতে। তাতে কোনো বিদেশীর মোড়লী করবার অধিকারটুকু পর্যন্ত থাকবে না। যাঁরা এখন রাজা বা শাসক হয়ে এ-দেশে মোড়লী ক'রে দেশকে শ্মশান-ভূমিতে পরিণত করছেন, তাঁদেরে পাততাড়ি গুটিয়ে, বোঁচকা-পুটলি বেঁধে সাগর-পারে পাড়ি দিতে হবে। প্রার্থনা বা আবেদন নিবেদন করলে তাঁরা শুনবেন না। তাঁদের অতটুকু সুবুদ্ধি হয়নি এখনো। আমাদেরো এই প্রার্থনা করার, ভিক্ষা করার কুবুদ্ধিটুকু দূর করতে হবে।" 

বলা বাহুল্য, গান্ধীর অসহযোগ আন্দোলন নজরুলের কাছে বস্তুত নতজানু কৌশলই মনে হয়েছিল। 

তদুপরি, নিজের দারিদ্র্যক্লিষ্ট জীবনের সঙ্গে ভারতবাসীর সর্বব্যাপী দারিদ্র্যের জন্য তিনি পরাধীনতাকে সর্বতোভাবে দায়ী করতেন। তাই, তাঁর কৈশোরকালীন শিক্ষক নিবারণ চন্দ্র ঘটক কর্তৃক বপিত বীজ সশস্ত্র সংগ্রামের মাধ্যমে স্বাধীনতা অর্জনের স্বপ্ন থেকে নজরুল কখনও দূরে সরে যাননি। ১৯২৬-২৭ সালে নজরুল ব্যাপকভাবে বামপন্থি রাজনীতির দিকে ঝুঁকে পড়েন, এবং ১৯২৫ সালে তাঁর রাজনৈতিক নেতা চিত্তরঞ্জন দাশের মৃত্যু হলে তিনি কংগ্রেসের উগ্রপন্থি দলে ভিড়ে কলকাতায় 'লেবার স্বরাজ পার্টি অব দ্য ইন্ডিয়ান ন্যাশন্যাল কংগ্রেস' গঠন করেন। তাঁর সঙ্গী হলেন কৃষ্ণনগরের হেমন্ত কুমার সরকার, বশিরহাটের কুতুবুদ্দিন আহমদ ও শামসুল হোসাইন। এ পার্টির ইস্তেহার নজরুল নিজেই রচনা করেন। কিন্তু কবির মানসিকতায় রাজনীতি তো ভালোমতো যায় না। তাই সহসা নজরুল একটি বিরাট রাজনৈতিক ভ্রম করে ফেলেন। ১৯২৬ সালে হঠাৎ তিনি নির্বাচন করতে মনস্থ করেন। তাও ঢাকায়, যেখানে তিনি কেবলমাত্র পরিচিত ছিলেন। আর নির্বাচনটা ছিল কেন্দ্রীয় আইন পরিষদে দু'জন মুসলমান সদস্য প্রেরণ করার নিমিত্তে। কিন্তু অধ্যাপক মিত্রের মতে, মুজফ্‌ফর আহ্‌মদ ও অন্যদের কথায় কর্ণপাত না করে শুধু কংগ্রেস নেতা বিধান চন্দ্র রায়ের অল্প পরিমাণ আর্থিক সাহায্যের ওপর ভর করে নজরুলের এ রকম সাম্প্রদায়িকতানির্ভর নির্বাচনে যাওয়া ঠিক হয়নি। নজরুল নির্বাচনে হেরে যান এবং তাঁর জামানত বাজেয়াপ্ত হয়। 

ব্রিটিশদের সশস্ত্র সংগ্রামের মাধ্যমে ভারতবর্ষ থেকে বিতাড়িত করার পরম আকাঙ্ক্ষা নজরুলের বিদ্রোহী সত্তার চরম প্রকাশ হলেও, তাঁর আরেকটি গভীর প্রোথিত যুদ্ধ ছিল সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে। কারণ দারিদ্র্যের একটি কারণ যদি ছিল ঔপনিবেশিক শাসন, তেমনি আরেকটি কারণ ছিল সাম্প্রদায়িকতা, যা ধর্ম-বর্ণ ও জাতিতে জাতিতে ভেদাভেদ তুলে দারিদ্র্যের রজ্জুগুলোকে মোটা ও শক্ত করে। 'মানুষ' কবিতার শুরুতে বলছেন- 'গাহি সাম্যের গান-/ মানুষের চেয়ে বড় কিছু নাই, নহে কিছু মহীয়ান্‌।/ নাই দেশ-কাল-পাত্রের ভেদ, অভেদ ধর্মজাতি,/ সব দেশে সব কালে ঘরে-ঘরে তিনি মানুষের জ্ঞাতি।-' তারপর ধর্মের নামে মানুষকে ইতরায়ন করার বিরুদ্ধে বলছেন, "মানুষেরে ঘৃণা করি' / ও' কারা কোরান, বেদ, বাইবেল চুম্বিছে মরি' মরি'।" 'হিন্দু-মুসলমান' প্রবন্ধে চমৎকার এবং সহজ একটি প্রতিতুলনা দিয়ে মানুষ বা মানবতা যে ধর্মের ওপরে অবস্থান করছে তার ব্যাখ্যা দিয়ে বলছেন : 

"নদীর পাশ দিয়ে চলতে চলতে যখন দেখি, একটা লোক ডুবে মরছে, মনের চিরন্তন মানুষটি তখন এ-প্রশ্ন করবার অবসর দেয় না যে, লোকটা হিন্দু না মুসলমান। একজন মানুষ ডুবছে, এইটেই হয়ে ওঠে তার কাছে সবচেয়ে বড়, সে ঝাঁপিয়ে পড়ে নদীতে। হিন্দু যদি উদ্ধার করে দেখে লোকটা মুসলমান, বা মুসলমান যদি দেখে লোকটা হিন্দু- তার জন্য ত তার আত্মপ্রসাদ এতটুকু ক্ষুণ্ণ হয় না। তার মন বলে, 'আমি একজন মানুষকে বাঁচিয়েছি- আমারই মতো একজন মানুষকে।'" 

এ চিরন্তন মানবতার পরিচয়টা তুলে ধরে তারপর তিনি সাম্প্রতিক সময়ে যা ঘটছে, বা মানবতা কীভাবে সাম্প্রদায়িকতার কঠোর জঠরে পড়ে হারিয়ে গেছে বা উল্টে গেছে, তার একটি চিত্রকল্পও তুলে ধরছেন : 

"কিন্তু আজ দেখছি কি? ছোরা খেয়ে যখন খায়রু মিয়া পড়ল, আর তাকে যখন তুলতে গেল হালিম, তখন ভদ্র সম্প্রদায় হিন্দুরাই ছুটে আসলেন, 'মশাই করেন কি? মোচলমানকে তুলছেন! মরুক ব্যাটা!' তারা 'অজাতশ্মশ্রু' হালিমকে দেখে চিনতে পারেনি যে সে মুসলমান। খায়রু মিয়ার দাড়ি ছিল। ছোরা খেয়ে যখন ভুজালি সিং পড়ল পথের উপর তাকে তুলতে গিয়ে তুর্কি ছাঁট-দাড়ি শশধর বাবুরও ঐ অবস্থা!" 

এই প্রবন্ধের শুরুটাই রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের একটি চরম উৎকর্ষ উক্তি দিয়ে :'একদিন গুরুদেব রবীন্দ্রনাথের সঙ্গে আলোচনা হচ্ছিল আমার, হিন্দু-মুসলমান সমস্যা নিয়ে। গুরুদেব বললেন :দেখ, যে ন্যাজ বাইরের, তাকে কাটা যায়, কিন্তু ভিতরের ন্যাজকে কাটবে কে?' 

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের চেয়ে নজরুল ছিলেন ৩৮ বছরের ছোট। 'বিদ্রোহী' কবিতা রচনার সময়টি ১৯২১ সাল যদি নজরুলের কবি হিসেবে উন্মেষকাল ধরি, তখনই রবীন্দ্রনাথ ষাট বছরে পৌঁছে গেছেন। কিন্তু রবীন্দ্রকাব্যবলয় থেকে বের হবার প্রচেষ্টা যেমন কল্লোল যুগের কবিদের মধ্যে ছিল, সেটি নজরুলের মধ্যেও ছিল; কিন্তু সে প্রচেষ্টা কবিতার মাধ্যমে ছিল না। কারণ শুরু থেকেই নজরুল কখনও রবীন্দ্রনাথের মতো লিখেননি। তাঁর অবারিত ফার্সি-আরবি শব্দ মিশ্রিত কাব্যবচন সংস্কৃত-বাংলা শব্দের জন্য একটি আলাদা কাব্য-প্রকরণ তৈরি করে দেয়। তারপরও রবীন্দ্রনাথের মাধ্যমে নজরুলের জন্য একটি রক্ষণশীল বাতাবরণ তৈরি হয়, যেটি তাঁর বিদ্রোহী সত্তা অচিরেই আক্রমণ করতে প্রবৃত্ত হয়। এই রক্ষণশীলতা আপতদৃষ্টিতে আবর্তিত হতে থাকে কবিতায় শব্দ ও শব্দের পরিভাষা নিয়ে। কিন্তু তলায় তলায় এর মধ্যে আছে সাম্প্রদায়িকতা-বিভাজিত সাংস্কৃতিক দ্বন্দ্ব। 

এই জটিল সম্পর্কটা স্পষ্ট হবে যদি আমরা নজরুলের 'বড়র পিরীতি বালির বাঁধ' শীর্ষক প্রবন্ধটির মূল বক্তব্য অনুসরণ করি। রবীন্দ্রনাথ কর্তৃক তাঁকে 'বসন্ত' নাটিকাটি উৎসর্গ করার সুখস্মৃতিটি বর্ণনা করে নজরুল বলছেন : 'বিশ্বকবিকে আমি শুধু শ্রদ্ধা নয়, পূজা করে এসেছি সকল হৃদয়-মন দিয়ে, যেমন করে ভক্ত তার ইষ্টদেবতাকে পূজা করে।' কিন্তু নজরুলের কানে এসেছে- কবিগুরু নাকি তাঁকে নিয়ে উষ্ফ্মা প্রকাশ করেছেন, বিশেষ করে তাঁর কাব্যচর্চায় আরবি-ফার্সি শব্দের ব্যবহার নিয়ে। নজরুল বিলক্ষণ বুঝতে পারলেন, এ কাজটি আসলে করেছেন 'শনিবারের চিঠি'র সম্পাদক সজনীকান্ত দাস। তিনি কবিগুরুর মনকে চটিয়ে দিয়েছেন। নজরুলের আপত্তি এখানে- কবিগুরু কেন শেষ পর্যন্ত ভীষ্ফ্ম হয়ে অভিমন্যু বধে সায় দিলেন? কিন্তু 'মহাভারতের ভীষ্ফ্ম এই অন্যায় যুদ্ধে সায় দেননি, বৃহত্তর ভারতের ভীষ্ফ্ম সায় দিয়েছেন- এইটেই এ যুগের পক্ষে সবচেয়ে পীড়াদায়ক।' 

তারপর বিতর্কটা আসে 'খুন' শব্দটা রক্তের অর্থে ব্যবহার করা নিয়ে। তখন নজরুল বলেন, আরবি-ফার্সি শব্দের প্রয়োগ বাংলা ভাষায় ভারতচন্দ্র, রবীন্দ্রনাথ, সত্যেন্দ্রনাথ প্রমুখ করে গেছেন। খুন হিন্দিতে রক্ত, কিন্তু বাংলায় হত্যাকাণ্ড। এ জন্য রবীন্দ্রনাথ আপত্তি করেছিলেন। নজরুলের মতে, 'খুন'সহ বিভিন্ন বিদেশি শব্দ বাংলা কাব্যলক্ষ্মীকে সমৃদ্ধ করেছে। তিনি আরও বলছেন, 'বিশ্বকাব্যলক্ষ্মীর একটা মুসলমানি ঢং আছে।' বলছেন, "বাংলা কাব্য-লক্ষ্মীকে দুটো ইরানি 'জেওর' পরালে তার জাত যায় না, বরং তাঁকে আরো খুবসুরতই দেখায়।" 

তাঁর একটি গান 'উদিবে সে রবি আমাদেরই খুনে রাঙিয়া পুনর্বার' প্রসঙ্গে নজরুল বলছেন, কবিগুরুর আপত্তি সত্ত্বেও 'খুন'-এর বদলে রক্ত ব্যবহার তিনি করেননি। কারণ তাতে কাব্যের আবেদন কমে যেত। 

যুক্তিটা নজরুলের বয়ানে শোনা যাক : 

"এই গানটি সেদিন কবি-গুরুকে দুর্ভাগ্যক্রমে শুনিয়ে ফেলেছিলাম এবং এতেই হয়তো তাঁর ও-কথার উল্লেখ। তিনি রক্তের পক্ষপাতী। অর্থাৎ ও লাইনটাকে- 'উদিবে সে রবি মোদেরই রক্তে রাঙিয়া পুর্নবার'ও করা চল্‌ত। চল্‌ত কিন্তু ওতে ওর অর্ধেক ফোর্স কমে যেত। আমি যেখানে 'খুন' শব্দ ব্যবহার করেছি, সে ঐ রকম ন্যাশনাল সঙ্গীতে বা রুদ্ররসের কবিতায়। যেখানে 'রক্তধারা' লিখবার সেখানে জোর করে 'খুনধারা' লিখি নাই। তাই বলে 'রক্ত-খারাবি'ও লিখি নাই, হয় 'রক্তারক্তি' না হয় 'খুন-খারাবি' লিখেছি।

"কবি-গুরু মনে করেন, রক্তের মানেটা আরো ব্যাপক। ওটা প্রেমের কবিতাতেও চলে। চলে, কিন্তু ওটাতে 'রাগ' মেশাতে হয়। প্রিয়ার গালে যেমন 'খুন' ফোটে না তেমনি 'রক্ত'ও ফোটে না- নেহাৎ দাঁত না ফুটালে। প্রিয়ার সাথে 'খুন-খুনী' খেলি না, কিন্তু 'খুন-সুড়ি' হয়ত করি।

"কবি-গুরু কেন, আজকালকার অনেক সাহিত্যিক ভুলে যান যে, বাংলা কাব্য-লক্ষ্মীর ভক্ত অর্ধেক মুসলমান। তারা তাঁদের কাছ থেকে টুপি আর চাপকান চায় না, চায় মাঝে মাঝে বেহালার সাথে সারেঙ্গীর সুর শুনতে, ফুলবনের কোকিলের গানের বিরতিতে বাগিচায় বুলবুলির সুর।

... "আরো মনে হয়, আমার শত্রু সাহিত্যিকগণের অনেক দিনের অনেক মিথ্যা অভিযোগ জমে ও'র [রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর] মনকে বিষিয়ে তুলেছে। নৈলে আরবি-ফার্সি শব্দের মোহ তো আমার আজকের নয় এবং কবিগুরুর সাথে আমার বা আমার কবিতার পরিচয়ও আজকের নয়। কই, এতদিন তো কোনো কথা উঠল না এ নিয়ে!"

প্রবন্ধের বাকি অংশটা উদ্ধৃত করা যেত, এতই শানিত যুক্তি তাঁর। বলাবাহুল্য বিদেশি শব্দ গ্রহণ-বর্জন, তাদের সংস্কৃতিগত পরিচয় নিয়ে কবিকুল ও লেখককুলের মধ্যে বিতর্ক একটি চিরাচরিত চলমান ব্যাপার। এখানে রবীন্দ্র-নজরুলের মধ্যে বিতর্ক তাই বর্তমান সময়ে যে আরও নতুন নতুন পাখা গজাবে, সেটি সত্য। জঙ্গম সমাজে গতিশীলতার একটি প্রধান উপাদান হলো বিতর্ক। 

নজরুলের জীবন সত্তা, বিদ্রোহী সত্তা এবং অসাম্প্রদায়িক সত্তা একই সূত্রে গাঁথা ছিল। যদি অদৃষ্টের পরিহাসের কথা বলি, তা হলে বলতে হয় যে কবি 'বাতায়ন-পাশে গুবাক-তরুর সারি' কবিতায় লিখেছিলেন 'তোমাদের পানে চাহিয়া বন্ধু, আর আমি জাগিব না, / কোলাহল করি' সারা দিনমান কারো ধ্যান ভাঙিব না।/ -নিশ্চল নিশ্চুপ/ আপনার মনে পুড়িব একাকী গন্ধবিধুর ধূপ।'- সে কবি একটি দেশের জাতীয় কবির মর্যাদায় অধিষ্ঠিত হলেন। এবং বাংলাদেশের মানসপট তাঁর কাব্য, সাহিত্য ও সঙ্গীত দিয়ে সতত জারিত। এটি যেন কবির বিদ্রোহী সত্তার সর্বোত্তম পরিণতি। 

সূত্র: সমকাল
এমএ/ ১২:৩৩/ ২৮ মে

স্মরণ

আরও লেখা

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে