Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, সোমবার, ২৭ জানুয়ারি, ২০২০ , ১৩ মাঘ ১৪২৬

গড় রেটিং: 3.0/5 (78 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ০৪-১৬-২০১৩

কাঁটাতার আটকাতে পারল না আবেগ ভালোবাসা উচ্ছ্বাস


	কাঁটাতার আটকাতে পারল না আবেগ ভালোবাসা উচ্ছ্বাস

পঞ্চগড়, ১৫ এপ্রিল- 'আর কুনিক রহেক না গে, তোক দেখিবার তানে বুড়িডা খালি ছটফটাছে। এই তো মনে হচ্ছে চলে আসিল।' চাচাতো ভাইয়ের স্ত্রী ঠাকুরগাঁওয়ের ভুল্লীর কবিতা রানীকে কাঁটাতারের বেড়ার এপারে এভাবেই খানিকটা অপেক্ষায় রাখলেন ভারতের জলপাইগুড়ির রায়গঞ্জের গোমস্তাবাড়ী থেকে আসা সাবিত্রী রানী। অবশেষে সেই 'বুড়ি' অর্থাৎ সাবিত্রী রানীর মা আসলেন, দেখলেন। মুখে তাঁর তৃপ্তির হাসি। চোখের কোণে জলের স্পষ্ট রেখা।

১৯৪৭ সালে দেশ ভাগের পর সাবিত্রীর বাবা ও চাচা দুই দেশের বাসিন্দা হয়ে যান। বিচ্ছিন্ন হয় নাড়ির বন্ধন। কিন্তু পহেলা বৈশাখ এলেই দরিদ্র এ পরিবার দুটিতে যেন উৎসবের আমেজ ছড়িয়ে পড়ে। কারণ এদিন কিছু সময়ের জন্য হলেও দুই পরিবারের সাক্ষাৎ মেলে। গত রবিবার দুপুরের এ দৃশ্যটি পঞ্চগড়ের অমরখানা সীমান্তের।
জানা গেছে, বাংলা নববর্ষের প্রথম দিনটিতে বিজিবি-বিএসএফের সম্মতিতে উভয় দেশের বাঙালি অধিবাসীরা পাসপোর্ট ভিসা ছাড়া মিলিত হওয়ার সুযোগ পায়। তবে 'নিরাপত্তা' নামক শক্ত দেয়ালটির কারণে কাঁটাতারের বেড়ায় স্বজন বিচ্ছিন্ন মানুষগুলোর আবেগ যেন আটকে যায়। এর পরও স্বজন বিবাগী মানুষগুলো কাঁটাতারের বেড়ার ওপরই হুমড়ি খায়।
সরেজমিন দেখা গেছে, ভারতীয় সীমান্তের কাঁটাতারের বেড়ার দুই পাশ ঘেঁষে অবাল-বৃদ্ধ-বণিতায় লোকারণ্য। কাঁটাতারের বেড়ার ফাঁক গলিয়ে চলছে কথা আর ভাব বিনিময়। প্রায় সবারই কাছে কিছু না কিছু উপহার সামগ্রী। এসব উপহার সামগ্রী কাঁটাতারের বেড়ার ওপর দিয়ে স্বজনদের লক্ষ্য করে ছুড়ে দেওয়া হয়। এমন আবেগ আর ভালোবাসায় মোড়ানো হাজারো দৃশ্যে মুখর ছিল ওই সীমান্তের প্রায় পাঁচ কিলোমিটার বিস্তৃত এলাকা। অনেকে এসেছেন এ অভূতপূর্ব দৃশ্য দেখতে। সব মিলিয়ে এ এক অন্য ধরনের মিলনমেলা। এর আগে সকাল থেকে সাইকেল, ভ্যান, অটোরিকশা, মাইক্রোবাস, মিনিবাসসহ নানাভাবে লোকজন এসে ওই এলাকায় জড়ো হতে থাকে। বাংলাদেশের পঞ্চগড়, ঠাকুরগাঁও, দিনাজপুর ও নীলফামারী এবং ভারতের জলপাইগুড়ি, শিলিগুড়ি, কলকাতাসহ বিভিন্ন এলাকার বিভিন্ন বয়সী নারী-পুরুষ অপেক্ষায় থাকে। বিজিবি ও বিএসএফের সবুজ সংকেতে সকাল সাড়ে ১০টায় অপেক্ষার অবসান ঘটে। দুপুর আড়াইটা পর্যন্ত চলে এ মিলনমেলা।
অমরখানা ইউপি চেয়ারম্যান মো. নুরুজ্জামান বলেন, মানুষের আবেগ আর ভালোবাসা যে কতটা গভীর তা এদিন টের পাওয়া যায়। হাজার হাজার মানুষের উপস্থিতিতে এখানে উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়। এমন পরিবেশ আরো বেশি সময় স্থায়ী হওয়া প্রয়োজন বলে তিনি মনে করেন।

পঞ্চগড়

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে