Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, রবিবার, ২৬ জানুয়ারি, ২০২০ , ১৩ মাঘ ১৪২৬

গড় রেটিং: 1.6/5 (9 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ০৩-৩০-২০১৩

ভোটের রাজনীতি ও ভবিষ্যতের বাংলাদেশ

ফকির ইলিয়াস



	ভোটের রাজনীতি ও ভবিষ্যতের বাংলাদেশ

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল তিন বছর পূর্ণ করেছে। এই তিন বছরে তিনজনের বিচারের রায় দেয়া হয়েছে। বাকি যারা আছে, তাদের রায় কবে হবে তা এখনো নিশ্চিত নয়। দেখা যাচ্ছে, এখন পর্যন্ত কোনো অপরাধীরই বিচার শেষ হয়নি। একজনের বিরুদ্ধে সাক্ষ্যগ্রহণ চলছে। অন্য কয়েকজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন বিষয়ে শুনানি চলছে। কবে নাগাদ বিচার শেষ হবে, তা কেউ বলতে পারছেন না। অমার্জনীয় অপরাধগুলোর বিচার প্রক্রিয়ার এই ধীরগতির জন্য আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা ও প্রসিকিউশন অনেকটা দায়ী বলে অভিযোগ উঠেছে। তদন্তে গাফিলতি, আসামিদের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগপত্র যথাযথ না হওয়া, নির্ধারিত সময়ে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করতে না পারা, মামলার সাক্ষী হাজির করার ক্ষেত্রে ব্যর্থতার মতো ঘটনাগুলোর কারণেই এসব অভিযোগ উঠছে। আর ওই সব ঘটনার কারণে ট্রাইব্যুনালের বিচারকরা পর্যন্ত অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তদন্ত সংস্থা এবং প্রসিকিউশনের গাফিলতির কারণে বিচার বিলম্বিত হচ্ছে- এ অভিযোগের কথা তুললে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী এডভোকেট কামরুল ইসলাম সংবাদ মাধ্যমকে বলেছেন, উপমহাদেশে এ ধরনের বিচার এই প্রথম হচ্ছে। এই বিচার প্রক্রিয়ার সঙ্গে জড়িত বিচারক, তদন্ত সংস্থা ও প্রসিকিউশনের সদস্যরা এ ধরনের কাজে নতুন। তারপরও সবাই যথেষ্ট দক্ষতার সঙ্গে কাজ করে যাচ্ছেন। তিনি বলেন, মামলার শুনানির সময় বিচারকরা আইনজীবীদের নানা ধরনের কোয়ারি করে থাকেন, এটা নিয়ম। ট্রাইব্যুনালের বিচারকরাও প্রসিকিউশনের কাছে সে ধরনের কোয়ারিই করছেন। এতে মামলার ক্ষতি হবেÑ এটা ভাবার কোনো কারণ নেই। এই মামলায় কারাগারে আটক বন্দীদের বিচার এ বছরই শেষ হবে বলে প্রতিমন্ত্রী আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন।

 
একাত্তরের ঘাতক-দালাল নির্মূল কমিটির নির্বাহী সভাপতি শাহরিয়ার কবির এ প্রসঙ্গে বলেছেন, বিলম্বের জন্য গাফিলতির চেয়ে অনভিজ্ঞতাই প্রধান কারণ। সংশ্লিষ্টদের অনভিজ্ঞতার কারণেই বিচারকাজ চলছে খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে। তাই সময় নষ্ট হচ্ছে। এতে লাভবান হচ্ছে অপরাধীরা। তিনি আরো বলেন, ‘তদন্ত কর্মকর্তা বা প্রসিকিউশনের সঙ্গে যারা জড়িত, তাদের গাফিলতি বা অনভিজ্ঞতার চেয়ে আবার সরকারের নীতিনির্ধারকদের সীমাবদ্ধতা দায়ী অনেক বেশি। অপরাধীদের বিচারে সরকারের আন্তরিকতার অভাব নেই। কিন্তু এই বিচার সম্পন্ন করার ক্ষেত্রে যে চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে হবে, সে সম্পর্কে সরকারের ধারণা স্পষ্ট নয়। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর সবচেয়ে বড় মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার এটা। তাই এটা একটা বিশাল যজ্ঞ বলা যায়। এ জন্য গবেষণা প্রয়োজন। আমরা প্রথম থেকেই গবেষণার বিষয়ে বলে আসছি, কিন্তু সরকার সেদিকে নজর দিচ্ছে না। এর পরিণতি এখন টের পাওয়া যাচ্ছে। সাত-আটজন অপরাধীর বিচার করার জন্য কমপক্ষে ২৫ জন আইনজীবী প্রয়োজন। সেখানে নিয়োগ দেয়া হয়েছে মাত্র ১৩ জন। তাদের সবাই আবার অফিস করেন না। এর পাশাপাশি আইনজীবীদের নিরাপত্তা নেই, সাক্ষীদের নিরাপত্তা দেয়া হচ্ছে না। সাক্ষীদের নিরাপত্তার জন্য নিরাপত্তা আইন করার কথা ছিল। কিন্তু এখন পর্যন্ত সেটা তৈরি করা হয়নি, যে কারণে সাক্ষীরা ভয় পাচ্ছেন। এ ক্ষেত্রে সরকারকে সংশ্লিষ্ট সবার ষোল আনা নিরাপত্তার ব্যবস্থা করতে হবে।
 
আমরা দেখেছি একজন অন্যতম সাক্ষী বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব আহমেদ ইমতিয়াজ বুলবুলের ভাইকে হত্যা করা হয়েছে। অনেক সাক্ষীই এখন অত্যন্ত শঙ্কায় দিনযাপন করছেন। এই অবস্থায় গোটা দেশজুড়ে একাত্তরের পরাজিত শক্তিরা নানা নামে, নানা লেবাসে ফণা তুলছে। আর প্রধান বিরোধীদলীয় নেত্রী চাইছেন শর্টকাট রাস্তা। তিনি বগুড়ায় একটি জনসভায় খুব স্পষ্ট করে বলেছেন, সেনাবাহিনী সময়মতো তাদের কাজ করবে। মহাজোট সরকারকে ‘খুনি’ অভিহিত করে জনগণকে সরকার পতনের কঠোর আন্দোলনের প্রস্তুতি নেয়ার আহ্বান জানিয়ে বিরোধীদলীয় নেতা বলেছেন, প্রয়োজনে আপনাদের ঢাকা যেতে হতে পারে। এবার ঢাকায় গেলে সরকার পতন না হওয়া পর্যন্ত আপনারা ঘরে ফিরবেন না। এ সময় সেনাবাহিনীর প্রশংসা করে তিনি বলেন, বর্তমানে দেশের সংঘাতময় পরিস্থিতিতে সেনাবাহিনীকে নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করলে চলবে না। এ অবস্থায় সেনাবাহিনীরও দায়িত্ব-কর্তব্য রয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, সেনাবাহিনী সময়মতো তাদের কাজ করবে। খালেদা জিয়ার এই বক্তব্যের তীব্র সমালোচনা হচ্ছে দেশে-বিদেশে।
 
খালেদা জিয়ার বক্তব্যের কঠোর সমালোচনা করে দেশের বিশিষ্ট নাগরিকরা বলেছেন, তিনি পরোক্ষভাবে সেনাবহিনীকে উসকে দেয়ার চেষ্টা করছেন। তার মতো নেতার কাছে জাতি এ ধরনের বক্তব্য প্রত্যাশা করে না। তারা বলেন, বিরোধীদলীয় নেতার ওই বক্তব্য রাজনৈতিক শিষ্টাচার বহির্ভূত, দায়িত্বজ্ঞানহীন।
 
সুশাসনের জন্য নাগরিক ‘সুজন’ সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার সংবাদকে বলেন, সেনাবাহিনীকে নিয়ে রাজনীতিকরণের চেষ্টা চলছে। অতীতেও করা হয়েছে, এখনো সেই ধারাতেই রাজনীতিকরণের চেষ্টা করা হচ্ছে, যা জাতির জন্য মঙ্গলজনক নয়। সেনাবাহিনীর ঐতিহ্য ধরে রাখতে বিরোধী দল ও সরকারি দল উভয়কেই এই নষ্ট রাজনীতিকরণের পথ থেকে বেরিয়ে আসতে হবে।
 
টিআইবির নির্বাহী ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেছেন, একজন দায়িত্বশীল ও প্রধান বিরোধীদলীয় নেত্রীর কাছে মোটেই এ ধরনের বক্তব্য জাতির কাছে কাম্য ছিল না। বিরোধীদলীয় নেত্রীর এ ধরনের বক্তব্য রাজনৈতিক দেউলিয়াপনার লক্ষণ বলেও মনে করেন তিনি। খালেদার বক্তব্য পরোক্ষভাবে সেনাবাহিনীর হস্তক্ষেপের শামিল বলেও মনে করেন তিনি। প্রকারান্তরে সেনাবাহিনীকে রাজনীতিকরণের এক অপচেষ্টা চালাচ্ছেন তিনি। এমনিতেই বর্তমান প্রেক্ষাপটে জনমনে উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে, এই সময় তার এ ধরনের বক্তব্য আরো বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হতে পারে। তাই এ ধরনের বক্তব্য থেকে তাকে বিরত থাকার আহ্বান জানান তিনি। খালেদা জিয়া এই যে ‘সামরিক শাসন’-কে স্বাগত জানাচ্ছেন, তার প্রধান কারণ হচ্ছে তিনি আর গণমানুষের ওপর ভরসা রাখতে পারছেন না ও তাছাড়া তার দুই পুত্রকে বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনাটাই এখন তার প্রধান উদ্দেশ্য। যতো বেশি রক্তের প্রয়োজনই হোক না কেন- এর বিনিময়ে ‘হাওয়া ভবন’ খ্যাত তারেক রহমানকে ক্ষমতায় দেখে যেতে চান খালেদা জিয়া। আর এটাই এখন তার অন্যতম লক্ষ্য। দেশে অনবরত হরতাল দিয়েই যাচ্ছেন বেগম খালেদা জিয়া। হরতাল ছাড়া তার হাতে আর কোনো শক্তি নেই। হরতালের মাধ্যমে জনগণের দাবি আদায় হয় কিনা, তা তার অজানা নয়। যখন খালেদা জিয়া ক্ষমতায় ছিলেন, তখন তিনি হরতালকারীদের সকল দাবি মেনে নেননি। তাহলে আজ তিনি তার সকল দাবি পূরণের আশা করছেন কেন? আমরা দেখেছি, সাঈদীর রায় ঘোষিত হবার পর, যারা প্রাণ দিয়েছেন তারা খুবই সাধারণ মানুষ। পুলিশকে হত্যা করতে গিয়ে তাদের প্রাণ দিতে হয়েছে। আবার গুপ্তহত্যাকে হাতিয়ার করেছে কেউ কেউ। দেশে কী হতে পারে, কী হবে তা নিয়ে অনেক কথাই এখন চাউর হচ্ছে। একটি মহল বলছে তারা দেশকে গৃহযুদ্ধের পরিণতির দিকে ঠেলে দেবে। যদি তাই হয়, তবে কি বাংলাদেশ আরেকটি রক্তাক্ত সিরিয়ার মতোই আঁধারের দিকে ধাবিত হচ্ছে? বাংলাদেশের সামনে নির্বাচন। তাই ভোটের রাজনীতির বিষয়টি খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
 
বর্তমান ক্ষমতাসীন মহাজোট ভোটের রাজনীতি ভালো বুঝে, তা সকলেই মানেন। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল বলেছে আসছে ডিসেম্বরের মধ্যেই সকল চিহ্নিত যুদ্ধাপরাধীর বিচার সম্পন্ন হবে। আমার কথা হচ্ছে, তা হলে রায় কার্যকর কবে হবে? আপিল, অন্যান্য প্রক্রিয়া নিয়ে যে সময় দরকার তার মেয়াদ তাহলে কার ক্ষমতাসীন আমলে গিয়ে পড়বে? আমি আগেও বলেছি, এখনো বলছি আওয়ামী লীগ যদি এই মামলাসমূহ ঝুলিয়ে রেখে ক্ষমতা থেকে বিদায় নেয়, তাহলে নিমিষেই পটপরিবর্তন সম্পন্ন হবে। সকল যুদ্ধাপরাধীই বিএনপি নেত্রীর ‘সাধারণ ক্ষমা’ পাবে। যেটা জামাত-বিএনপিও চাইছে। আর আওয়ামী লীগ এই ইস্যুকে সামনে রেখে নির্বাচনী বৈতরণী পার হওয়ার মওকা যদি খুঁজে তা কতোটা সফল হবে, আদৌ সফল হয় কিনা তা নিয়ে প্রশ্ন তো থেকেই যাচ্ছে। এবারো বাংলাদেশে যুদ্ধাপরাধীমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার শপথ নিয়ে স্বাধীনতা দিবস পালিত হয়েছে। এই শপথ বাঙালির দীর্ঘদিনের। যা বাস্তবায়িত এখনো হয়নি। হবার যে স্বপ্ন প্রজন্ম দেখছে- তাও নানা কারণে মুখ থুবড়ে পড়েছে। এখনো পড়ছে। বরং দেশে মৌলবাদী-জঙ্গিবাদীদের দাপট বেড়েছে। এই কঠিন সময়ের মাঝেই সরকারকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে, তারা কিভাবে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় দেশ টিকিয়ে রাখবে।
 
বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সামনে কঠিন চ্যালেঞ্জ। তা মোকাবেলা করতে হবে সাহসের সঙ্গে। আওয়ামী লীগকে অতীতেও নানা ছলছুতোয় রাজনৈতিকভাবে হেনস্তা করার চেষ্টা করা হয়েছে। আগামীতেও হবে। বাংলাদেশ একটি স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্র। এদেশের মানুষকে নানাভাবে প্রতারিত করা হয়েছে। অনেক সত্য ঘটনাই প্রজন্মের জানা দরকার। স্বাধীনতার মাসে শুধু সভা-সমাবেশের মাঝে ব্যস্ত না থেকে এই জেনারেশনের উচিত সত্যনিষ্ঠ গ্রন্থগুলো পড়া। তেমনি একটি বইয়ের কিছু উদ্বৃতি এখানে দিতে চাই। মেজর জেনারেল মইনুল হোসেন চৌধুরী (অব.) বীরবিক্রম। ২০০১ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা ছিলেন তিনি। মহান স্বাধীনতার প্রথম দশক নিয়ে তার একটি বিশ্লেষণধর্মী বই আছে। ‘এক জেনারেলের নীরব সাক্ষ্য স্বাধীনতার প্রথম দশক’Ñ শিরোনামের বইটি ২০০০ সালে বের করে মাওলা ব্রাদার্স। তার গ্রন্থটি আমার কালেকশনে আছে। মে. জে. মইনুল বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ কথা বলেছেন স্বাধীনতার প্রথম দশক নিয়ে। তিনি জানাচ্ছেনৃ।
 
ক. ‘ডিসেম্বর মাসেরই শেষের দিকে মেজর জলিলকে খুলনা থেকে ধরে এনে বন্দী করার জন্য আমার কাছে হস্তান্তর করা হয়। তৎকালীন ক্যাপ্টেন কে এস হুদা (পরে কর্নেল ’৭৫-এর সাত নভেম্বর অভ্যুথানে নিহত) তাকে ধরে নিয়ে আসেন। মেজর জলিলের বিরুদ্ধে উচ্ছৃঙ্খলতা ও অন্যান্য সামরিক শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগ ছিল। খুলনার তৎকালীন জেলা প্রশাসক জলিলের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ ও গ্রেপ্তার সম্পর্কে অবহিত ছিলেন। যদিও প্রচার করা হয় যে, ভারতীয় সেনাবাহিনী কর্তৃক অস্ত্রশস্ত্র লুটতরাজের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। (পৃষ্ঠা ২২- মেজর জলিলের গ্রেপ্তার)।
 
খ. ওই রাতেই প্রধানমন্ত্রীর জ্যেষ্ঠ পুত্র শেখ কামাল, যিনি একজন ছাত্রনেতা এবং মুক্তিযুদ্ধের সময়ে ভারতে প্রথম সামরিক অফিসার্স কোর্সে (শর্ট সার্ভিস-১) সামরিক প্রশিক্ষণ নেন। ও যুদ্ধের সময় কর্নেল ওসমানীর এডিসি হিসেবে কাজ করেন। তিনি ধানম-ি এলাকায় তার সাতজন সমবয়সী বন্ধুকে নিয়ে একটি মাইক্রোবাসে শহরে টহলে বের হন। এক পর্যায়ে সিরাজ সিকদারের খোঁজে টহলরত স্পেশাল পুলিশ তাদের মাইক্রোবাসটি দেখতে পায় এবং সন্দেহ ও আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে কোনো সতর্ক সংকেত না দিয়েই অতর্কিতে মাইক্রোবাসের ওপর গুলি চালায়। এতে কামালসহ তার ছয় সঙ্গী আহত হন। প্রধানমন্ত্রী শেখ মুজিব, কামালের ওই রাতের অবাঞ্ছিত ঘোরাফেরায় অত্যন্ত ক্ষুব্ধ ও মনঃক্ষুণœ হন।
 
এদিকে স্বাধীনতাবিরোধী ও আওয়ামী লীগ বিদ্বেষীরা এ ঘটনাকে ভিন্নরূপে প্রচার করে। ব্যাংক ডাকাতি করতে গিয়ে কামাল পুলিশের হাতে গুলিবিদ্ধ হয়েছে বলে তারা প্রচারণা চালায়। এবং দেশে-বিদেশে ভুল তথ্য ছড়াতে থাকে। যদিও এসব প্রচারণায় সত্যের লেশমাত্র ছিল না। (পৃষ্ঠা-৬৫, ৬৬, গুলিবিদ্ধ শেখ কামাল)। এরকম অনেক কথাই আছে, যা মৌলবাদী ডানপন্থীরা বারবার মিথ্যার বেসাতি করে বাজারে ছড়িয়েছে, ছড়াচ্ছে এবং ছড়াবে। ভোটের রাজনীতি যতোই ঘনিয়ে আসবে, এদের মিথ্যাবাদিতাও ততো বাড়বে। তাই এই প্রজন্মকে সত্যের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হয়েই এগোতে। আর তবেই আলোকিত হবে ভবিষ্যতের বাংলাদেশ।

মুক্তমঞ্চ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে