Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, মঙ্গলবার, ৩১ মার্চ, ২০২০ , ১৭ চৈত্র ১৪২৬

গড় রেটিং: 3.8/5 (23 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)


আপডেট : ০৩-২৯-২০১৩

পুলিশ-জামায়াত সংঘর্ষে নিহত ৫


	পুলিশ-জামায়াত সংঘর্ষে নিহত ৫

ঢাকা, ২৯ মার্চ- চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও সিরাজগঞ্জে আসামি ধরতে গিয়ে জামায়াত-শিবিরের হামলার মুখে পড়েছে পুলিশ। এ সময় সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধ হয়ে পাঁচ জনের মৃত্যু হয়েছে।

শুক্রবার চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলায় তিন জন এবং সিরাজগঞ্জের বেলকুচিতে দুই জন নিহত হন।

এদিকে হতাহতের প্রতিবাদে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলায় রোববার সকাল-সন্ধ্যা হরতাল ডেকেছে ১৮ দলীয় জোট।

স্থানীয়রা জানান, গুলিবিদ্ধ হয়ে শিবগঞ্জ উপজেলার ওমরপুর গ্রামের আব্দুল হাকিমের ছেলে ওয়ালিউল্লাহ (১৮), একই উপজেলার গোপালনগর গ্রামের জিল্লুর রহমানের ছেলে মতিউর রহমান মতি (৪৫) এবং বাবুপুর গ্রামের মোহাম্মদ বদুর ছেলে রবিউল ইসলাম (২৫) মারা গেছেন।

অপরদিকে পুলিশ জানিয়েছে, বেলকুচি উপজেলার ধুকুরিয়া বেড়া ইউনিয়নের সর্বতুলশী গ্রামের মৃত আব্দুল মজিদের ছেলে তাঁত শ্রমিক ফরিদুল ইসলাম (১৮) এবং একই ইউনিয়নের কল্যাণপুর গ্রামের আব্দুল মজিদের ছেলে ছাত্রদলকর্মী ইউনুছ আলী (১৭) গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান।

স্থানীয় বাসিন্দাদের বরাত দিয়ে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম প্রতিনিধি জানান, কানসাট পল্লী বিদ্যুৎ উপকেন্দ্রে হামলা ও ভাংচুরের মামলার আসামি ধরতে রাত ৩টার দিকে শ্যামপুর ইউনিয়নের গোপালনগর গ্রামে যায় পুলিশ। বিষয়টি টের পেয়ে জামায়াত-শিবিরের লোকজন পটকা ফুটিয়ে গ্রামে পুলিশ আসার খবর জানান দেয়।

পটকার শব্দ শুনে আশপাশের কয়েকটি গ্রামের লোকজন গোপালনগরে জড়ো হয়ে পুলিশকে ঘিরে ফেলে। এলাকার একটি বড় অংশে আমবাগান থাকায় লোকজন সেখান থেকেই পুলিশের ওপর আক্রমণ চালায়।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ভোর সাড়ে ৪টার দিকে সেখানে অতিরিক্ত পুলিশ, র‌্যাব ও বিজিবি যায়। ৫টা থেকে সাড়ে ৫টার মধ্যে সংঘর্ষ চলাকালে হতাহতের ঘটনা ঘটে বলে গোপালনগর গ্রামের লোকজন সাংবাদিকদের জানান।

পুলিশের রাজশাহী রেঞ্জের উপ মহা পরিদর্শক মীর শহীদুল ইসলাম বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “আমরা আসামি ধরতে সেখানে গিয়েছিলাম। কিন্তু আমাদের ওপর হামলা হলে ১৩ জন পুলিশ সদস্য আহত হন। জানমাল রক্ষায় পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনী গুলি ছুড়তে বাধ্য হয়।”

সংঘর্ষের সময় তিনজন নিহত হওয়ার ‘খবর শুনলেও’ পুলিশ কোনো লাশ বা অভিযোগ পায়নি বলে জানান এই কর্মকর্তা।

তিনি বলেন, র‌্যাব ও বিজিবিও পুলিশকে এই অভিযানে সহযোগিতা করে। এ সময় ২১ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

শরৎনগর দাখিল মাদ্রাসার সুপার ও নিহত ওয়ালিউল্লাহর চাচা আব্দুল মালেক (৫০) বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, রাত আনুমানিক ৩টার দিকে এলাকায় পুলিশ আসে। এক পর্যায়ে এলাকাবাসীর সঙ্গে সংঘর্ষ শুরু হয়।

এ সময় পুলিশের গুলিতে তার ভাতিজাসহ তিন জন নিহত হয় বলে আব্দুল মালেক জানান।

তিনি বলেন, “ওয়ালিউল্লাহ শরৎনগর মাদ্রাসার দশম শ্রেণির ছাত্র ছিল।”

এদের মধ্যে ওয়ালিউল্লাহ ও রবিউল ঘটনাস্থলে এবং মতিউর রাজশাহী মেডিকেল কলেজে হাসপাতালে নেয়ার পথে মারা যান।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি জানান, নিহত তিন জনের লাশ গোপালনগর, বাবুপুর ও ওমরপুর গ্রামে তাদের বাড়িতেই রাখা হয়েছে।

সংঘর্ষে আরো অন্তত ২০-২৫ জন আহত হন বলে এলাকাবাসী সাংবাদিকদের জানায়।

পুলিশ-র‌্যাব-বিজিবি গোপালনগরেই অবস্থান করছেন। এলাকায় থমথমে ভাব বিরাজ করছে।

এদিকে সংঘর্ষের পর জামায়াত-শিবিরকর্মীরা সকালে চাঁপাইনবাবগঞ্জ–সোনা মসজিদ সড়কের কয়েকটি স্থানে কাঠের গুঁড়ি ফেলে অবরোধ তৈরি করে এবং যান চলাচলে বাধা দেয়।

উদ্ভূত পরিস্থিতিতে জেলার সব রুটে যানবাহন চলাচল বন্ধ করে দেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন জেলা বাস মালিক সমিতির সভাপতি মনোয়ারুল ইসলাম ডালিম।

সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশের বরাত দিয়ে জানান, হরতালে নাশকতার অভিযোগে দায়ের করা মামলার আসামি জামায়াতকর্মী হাবিবুর রহমানকে গ্রেপ্তার করার জন্য পুলিশ সকাল ৯টায় বেলকুচির মৌপুর গ্রামে যায়।

হাবিবকে গ্রেপ্তারের সময় পুলিশের সঙ্গে জামায়াত-শিবিরকর্মীদের ধস্তাধস্তি হয়। এ ঘটনার পর মসজিদে মাইকিং করে পাশের কল্যাণপুর, কান্দাপাড়া, সর্বতুলশী ও ধুলদিয়ার গ্রামের শত শত জামায়াত-বিএনপি সমর্থককে জড়ো করে মিছিলের চেষ্টা করেন জামায়াত নেতারা।

এ সময় কল্যাণপুর হাই স্কুল মাঠের পাশে জামায়াত-বিএনপির কর্মীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ শুরু হয়। পরে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরাও তাতে জড়িয়ে পড়ে।

র‌্যাব-১২ এর অপরাধ দমন বিশেষ শাখার অধিনায়ক সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) অশোক কুমার পাল জানান, কল্যাণপুর হাই স্কুল মাঠের আশপাশের এ সংঘর্ষ পুলিশ, র‌্যাব ও বিজিবি ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা চালায়। কিন্তু জামায়াত-শিবিরের দফায় দফায় হামলার মুখে এক পর্যায়ে গুলি ও কাঁদানে গ্যাসের শেল ছোঁড়া হয় বলে এএসপি অশোক কুমার পাল জানান।

তিনি জানান, দুপুর ১টার দিকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।

এ ঘটনার সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে বিটিভির জেলা প্রতিনিধি গাজী ফিরোজী ও মাইটিভির জেলা প্রতিনিধি রহমত আলী আহত হন। হামলাকারীরা তাদের মোটরসাইকেল ভাংচুর করে। এ সময় আরো অন্তত ১০ জন আহত হন বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান।

আহতদের মধ্যে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক গাজী ফজলুর রহমানকে বেলকুচি উপজেলা স্বাস্থ্যকমপ্লেক্স ও বাকিদের আশেপাশের বিভিন্ন হাসপাতাল ও ক্লিনিকে পাঠানো হয়েছে।

এছাড়া সাংবাদিক ও উপজেলার মক্তিযোদ্ধা কমান্ডার গাজী ফিরোজীকে প্রথমে সিরাজগঞ্জ সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হলেও পরে উন্নত চিকিসার জন্য তাকে ঢাকায় পাঠানো হয় বলে জরুরি বিভাগের চিকিসক ফরিদুল জানান।

এদিকে সংঘর্ষের ঘটনার পর পুলিশ এলাকা ছেড়ে চলে যাওয়ার পর জামায়াত ও বিএনপি কল্যাণপুর হাই স্কুল মাঠে সমাবেশ করে।

এএসপি কাজী এহসানুল কবীর জানান, জেলা প্রশাসক আমিনুল ইসলাম ও জেলা পুলিশ সুপার হুমায়ুন কবীর বেলকুচিতে অবস্থান করছেন। পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে।
 

জাতীয়

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে