Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

Login
ইউনিজয়
ফনেটিক
English

গড় রেটিং: 3.0/5 (171 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

print
আপডেট : ০৩-২৭-২০১৮

মুক্তিযুদ্ধই যারা দেখেনি তারাও এখন মুক্তিযোদ্ধা: জয়নুল আবেদীন

মাহমুদুল আলম


মুক্তিযুদ্ধই যারা দেখেনি তারাও এখন মুক্তিযোদ্ধা: জয়নুল আবেদীন

সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী তিনি। পেশাগত পরিচয় ছাড়াও তিনি বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান। সম্প্রতি সুপ্রিম কোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশনের নির্বাচনে সভাপদি পদে বিজয়ী হয়েছেন।

এ নিয়ে জয়নুল আবেদীন টানা দ্বিতীয়বার সভাপতি হলেন। সবমিলে তৃতীয়বারের মত আইনজীবীদের সবচেয়ে বড় এই ফোরামের নেতৃত্বভার পেলেন। ১৯৭১ সালে রণাঙ্গনে লড়াই করেছেন। মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে মুক্তিযুদ্ধ, আইন পেশা ও সমসাময়িক রাজনীতি নিয়ে তিনি খোলামেলা কথা বলেছেন।

কিভাবে দেশমাতৃকার মুক্তি সংগ্রামে নিজেকে যুক্ত করলেন?

দুই বন্ধু বরিশাল থেকে ঢাকায় ক্রিকেট খেলা দেখতে আসি। এরই মধ্যে শুনলাম মুজিব-ভুট্ট বৈঠক ব্রেক হয়েছে। রাস্তা দিয়ে যাওয়ার সময় দেখলাম অগ্নিকন্যা মতিয়া চৌধুরী (বর্তমানে কৃষিমমন্ত্রী) বক্তৃতা করছেন। চারদিকে রব উঠেছে,

মুক্তিযুদ্ধে সবাইকে ঝাঁপিয়ে পড়তে হবে। তখন খেলার দেখার সিদ্ধান্ত বাদ দিয়ে বরিশাল ফিরে গেলাম। জানি দোস্ত আলমগীরের সঙ্গে আলাপ করে মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেই। যুদ্ধে আলমগীর শহীদ হয়।

বরিশালের কোনো ঘটনা যদি বলেন...

বরিশালে গিয়ে আলমগীর ও আমি স্থানীয়দের মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে সংগঠিত করতে থাকি। দিনভর আমরা বিভিন্ন জায়গায় কাজ করতাম। পরে রাতে এক সঙ্গে মিলিত হয়ে পরের দিনের পরিকল্পনা করতাম। এরই মধ্যে খবর পেলাম বাবুগঞ্জে আমাদের এক যোদ্ধা অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। সে সময়ে এমনিতেই অর্থ সংকট ছিল। তাকে সুস্থ করতে ওষুধের দরকার ছিল। কিন্তু, টাকা নেই। তখন পিডব্লিউটির (পাকিস্তান ওয়াটার ট্রান্সপ্লান্ট) চেয়ারম্যান আনিস আহমেদ বাংলোয় থাকতেন। জানতাম, মুক্তিযোদ্ধাদের কিছু টাকা তার কাছে আছে। কিন্তু, সমস্যাটা হলো টাকাটা আনা।

তখনকার পরিবেশ-পরিস্থিতি এখন বলে বোঝানো যাবে না। সবাই সবাইকে সন্দেহ করেন। কাকে বিশ্বাস করব? সবদিকে পাক আর্মি। আনিস সাহেব নিজেও যদি বাসায় বসিয়ে রেখে আর্মিকে খবর দেন। শঙ্কা, ভয় নিয়েই রাতে বাংলোয় গেলাম। ঝুঁকি এড়াতে আগেই তার বাসার টেলিফোন সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দিয়েছিলাম। বাসায় গিয়ে আনিস সাহেবকে বললাম, মুজিবনগর থেকে আপনার একটা মেসেজ এসেছে। মুক্তিযোদ্ধাদের যে টাকা আছে, সেটি দিতে হবে। তিনি বললেন, হ্যাঁ, টাকা পাঠাতে হবে, আমিও মেসেজ পেয়েছি। তারপর টাকা ও অন্যান্য রশিদসহ তা পৌঁছে দিতে আমি চলে গেলাম চর হোগলাতে। সেখানে একটা বাহিনী ছিল। তাদের কাছে এসব পৌঁছে দিলাম।

যাওয়ার আগে ওষুধ সংগ্রহ করলাম। তখন জেলখানার সামনে ছিল সদর হাসপাতাল। সেখানকার ডাক্তার হাবিবুর রহমানের সঙ্গে ওষুধের বিষয়ে কথা বললাম। ওষুধ নিয়ে বাবুগঞ্জে যাবে আলমগীর। এরই মধ্যে আলমগীরের ভাগ্নে নজরুল ৭১টি পাইপবোমা নিয়ে পাক আর্মিদের হাতে ধরা পড়েন। ২১ দিন পর সে বাড়ি ফিরতে পারেন। পরে শুনেছি, নজরুল সেনাদলের এক ক্যাপ্টেনকে নাকি পাকিস্তান শাসকদের জুলুম-নির্যাতন বিষয়ে বোঝাতে সক্ষম হওয়ায় ছাড়া পায়।

এরপর আরেক দিন আলমগীরের বাড়ির পুকুরে সবাই গোসল করছিলেন। খবর এলো, এখই বাড়ি ছাড়তে হবে। কিন্তু, বাড়ি থেকে পালানোর আগেই আলমগীরের ভাগ্নে নজরুলসহ অন্যরা আল-বদর বাহিনীর হাতে ধরা পড়ে। তাদের সন্ধানে বের হলাম। পরে জানলাম, তাদের সবাইকে হত্যা করেছে আল-বদররা। এরপর আমাদের জন্য এলাকাটা খুবই ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠলে আমি অন্য এলাকায় গিয়ে কাজ শুরু করি।

স্বাধীনতার ৪৭ বছর পরের বাংলাদেশ সম্পর্কে আপনার মূল্যায়ন...

একাত্তরে মানুষ নিজের জীবনকে নয়, দেশকেই আপন মনে করেছেন। এজন্যই যুদ্ধে গেছেন। আজকে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী, বিভিন্ন পেশাজীবী ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে যে লোভ-লালসা আমরা দেখি, সে সময়ে এসব ছিল না। এখন তো যারা মুক্তিযুদ্ধই দেখেনি, তারাও মুক্তিযোদ্ধা হয়ে গেছেন। ওই পরিচয় দিয়েই তারা ব্যাংক-বীমা লুটপাট করছেন।

টানা দু’বারসহ তিনবার সুপ্রিম কোর্ট বারের সভাপতি হলেন। বিজয়ের পেছনে কোন ফ্যাক্টর কাজ করেছে?

সুপ্রিম কোর্ট বারের আইনজীবীরা দেশের সর্বোচ্চ আদালতের আইনজীবী। তারা সবাই দেশ এবং রাজনীতির বিষয়ে খুবই সচেতন ও বিজ্ঞ। তারা আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় কাজ করানোর বিষয়ে আমাদের ওপর আস্থা রেখেছেন। আমাদের ভোট দিয়েছেন, তাই আমরা জয় পেয়েছি। এখন আমাদের কাজ হবে বিচার ব্যবস্থা ও সমাজের ক্ষত সারানোর কাজে মনোনিবেশ করা।

জয়ের ধারা অব্যাহত রাখতে দলীয় পরিচয়ের সঙ্গে ব্যক্তি ইমেজও কাজ করেছে কিনা?

অবশ্যই, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, সভাপতি নির্বাচিত হওয়ার আগে আমি অন্যান্য পদেও দায়িত্ব পালন করেছি। সব সময় আমি আইনজীবীদের পেশাগত মানোন্নয়নে কাজ করেছি। নিশ্চয় এই বিষয়টিও আইনজীবীরা বিবেচনায় নিয়ে ভোট দিয়েছেন।

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া দুর্নীতির মামলায় কারাবন্দি। তার অনুপস্থিতিতে একাদশ জাতীয় নির্বাচন নিয়ে কি ভাবছেন আপনি?

ম্যাডামকে কারাবন্দি করার আগেই তিনি আমাদের বলে গেছেন, শান্তিপূর্ণ আন্দোলন চালিয়ে যেতে, যেন সাধারণ মানুষ আন্দোলনে একীভূত হতে পারেন। আর সরকার উস্কানি দিতে পারে, সরকারের ফাঁদে পা না দিতে। আমরা সেই নির্দেশনা অনুসারেই শান্তিপূর্ণ আন্দোলন করে যাচ্ছি এবং এটি অব্যাহত থাকবে। সরকারের উস্কানিতে পা দিচ্ছি না বলে তারা বেশ হতাশ। ১৯৭৮ সালে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সঙ্গে আমার পরিচয় হয়। এরপর ভাষাসৈনিক কাজী গোলাম মাহবুব আমাকে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত করেন। সেই থেকে দলটির সঙ্গে আছি। একাদশ জাতীয় নির্বাচনে বরিশাল- ৩ (মুলাদী-বাবুগঞ্জ) আসনে দল থেকে নির্বাচন করার ইচ্ছা আছে।

মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে বিএনপির সঙ্গে জামায়াতে ইসলামীর জোটবদ্ধ হয়ে রাজনীতিকে আপনি কিভাবে দেখেন?

রাজনীতিতে এটি কোনো বিষয় না। এটি তো রাজনৈতিক জোট। এখন যারা জামায়াত করেন, তাদের বেশিরভাই বয়সে তরুণ। মুক্তিযুদ্ধের সময় তাদের জন্মই হয়নি। তারা তো আর আল-বদর বাহিনীর সদস্য ছিল না। এখন যারা আওয়ামী লীগ করেন তারা সবাইকি মুক্তিযোদ্ধা? রাজনীতিতে এমনটি হতেই পারে।

এমএ/ ১০:১১/ ২৭ মার্চ

সাক্ষাৎকার

আরও সাক্ষাৎকার

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে