Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

Login
ইউনিজয়
ফনেটিক
English

গড় রেটিং: 3.0/5 (42 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

print
আপডেট : ০৩-০২-২০১৮

অপসঞ্চয়

মাকিদ হায়দার


অপসঞ্চয়
ছবি: আব্দুল মোমেন

পৃথিবী বিখ্যাত বাঘ শিকারি জিম করবেট। তিনি শিকারে যাবার আগে সাঙাতদের সঙ্গে বসে ঠিক করে নিতেন- এবারের অভিযান কোন পথে হবে। সাঙাতদের একজন যিনি করবেটের বন্দুকের গুলি, বনে গিয়ে থাকার জন্য ছাউনি, খাবারদাবার এবং পানীয়জলসহ আনুষঙ্গিক কর্মগুলো করতেন, সম্ভবত তার নাম ছিল জোবার। তিনি জিম করবেটের সুলিখিত, বিশেষত তার শিকার অভিযান পাঠ করে নিশ্চিত হয়েছিলেন তৎকালীন ব্রিটিশ ভারতের ইংরেজ আধিপত্য শুধু বঙ্গদেশের মানুষের ওপরেই চর্চিত হয়নি, হয়েছিল সভয়ে অরণ্যের বাঘ, হরিণদের ওপরেও।

ভারতের বিভিন্ন অঞ্চলের কোথায় বাঘ, হরিণের আধিক্য বেশি- জিম করবেট তা জানতেন তার সাঙাতদের মাধ্যমে। এ তথ্য-উপাত্ত যথারীতি তাকে উদ্বেলিত করত নতুন নতুন অভিযানে যেতে। সুন্দরবন থেকে শুরু করে, উত্তর ভারতের বনজঙ্গলের একটি মানচিত্র হয়তো তার কাছে ছিল, তাই তিনি অরণ্য থেকে অরণ্যে চালিয়ে যেতেন শিকারের অভিযান। আমার অভিধায় তিনি তার স্বদেশে ওই বাঘ-ভালুক শিকারের সুযোগ-সুবিধা কোনোকালেই পেতেন না, যেহেতু সেকালে এবং একালেও ইউরোপে বাঘ, ভালুক ও হরিণ মারার অধিকার সে দেশের সরকার দেয়নি। অথচ ভারতবর্ষে এসে জিম তার মনোবাসনা পূর্ণ করেছিলেন এবং একই সঙ্গে বাঘ শিকারি হিসেবে পরিচিতি পেয়েছিলেন। তার গ্রন্থটির প্রচ্ছদে দেখেছিলাম মি. করবেট একটি মরা বাঘের শরীরের ওপর বন্দুক হাতে বসে আছেন। হয়তো সেই অভিযানে আরও দু-একটি বাঘ ও হরিণ শিকার করেছিলেন।

ইংরেজ শাসনে এ দেশের মানুষের এমন অবস্থা হয়েছিল যে, সব সময় ভারতীয়দের ভয়ে ভয়ে থাকতে হতো- কখন গুলি খেতে হয় নেফার অরণ্যের কিংবা দার্জিলিং-জলপাইগুড়ি বা তিনসুকিয়ায় অথবা আসামের বনজঙ্গলে বাঘ-হাতির মতো।

জিম সাহেব যে একাই অভিযানপ্রিয় ছিলেন সেটি বোধ করি বলা সমীচীন নয়। পঞ্চাশ দশকের গোড়ার দিকে পশ্চিম দেশীয় পর্যটক তার সঙ্গী-সাথি নিয়ে বেরিয়েছিলেন আরেক অভিযানে- হিমালয়ের মাথার ওপর তাদের উঠতে হবে। সেই অভিযানে নেপালিও কেউ কেউ ছিলেন। ইউরোপ-আমেরিকার পর্বতারোহীদের ভেতরে ১৯৫৩ সালে হিমালয় বিজয় করেছিলেন অ্যাডমন্ড হিলারি ও তেনজিং নোরগে।

হিমালয় পর্বতের আঁকাবাঁকা, কোথাও মসৃণ ও পিচ্ছিল, বরফে ঢাকা সেই বিপজ্জনক খাঁড়ি পাড়ি দিতে গিয়ে অনেকেই হারিয়ে গিয়েছিলেন অনন্তে। হিলারি বাড়ি থেকে বের হওয়ার সময় হয়তো স্থির করেছিলেন মরি-বাঁচি এ অভিযানে তাকে সফল হতেই হবে এবং পৃথিবীর বুকে লিখে যাবেন হিমালয়ের ২৯,৮০০ ফুট উপরে আরোহণের এক রোমাঞ্চকর কাহিনী। যেহেতু হিমালয়ের কাঞ্চনজঙ্ঘা হিলারির মনে প্রেম জাগিয়ে দিয়েছিল নবযৌবনের প্রথম দিকে। হিলারির প্রেমিক মন একদিন ছুটে এসেছিল কাঠমান্ডুর দয়িতার সন্ধানে। দয়িতা সবাক বা নির্বাক যাই হোক না কেন, প্রেমিকার মুখ দর্শন যেন জিম করবেটের হয়েছিল বাঘ শিকারের মধ্য দিয়ে ডুয়ার্গের জঙ্গলে। অনুরূপভাবে হিলারিরও তাই হয়েছিল, এমনকি আমারও প্রেম অভিযান শুরু হয়েছিল ষাটের দশকের গোড়ার দিকে। প্রেম না ভালো লাগা, সেটি এখনও বুঝতে পারিনি। 

আমাদের নিরিবিলি পাবনা শহরে শিল্প-সাহিত্য, রবীন্দ্র, নজরুলজয়ন্তী হতো বনমালী ইনস্টিটিউশনের পূর্বদিকে অন্নদা গোবিন্দ পাবলিক লাইব্রেরিতে। তখন রাজনীতির কথা না শুনলেও স্কুলে সপ্তম-অষ্টম শ্রেণিতে পড়ার সময় আমাদের এক আত্মীয় নাকি প্রেমে পড়েছিলেন দিলালপুরের ডোমপাড়ার এক ডোমের মেয়ের। মেয়েটি নাকি দেখতে ছিল অপরূপা। সেই আত্মীয় তখন এডওয়ার্ড কলেজের ছাত্র। সেই প্রেমাভিযানের খবর প্রচার হতেও বেশি সময় লাগেনি। ছোট্ট শহরে কথাটি সবার কানে কানে ছড়িয়ে পড়েছিল এবং গুজব রটেছিল মুসলমানের ছেলে হয়ে..., ছিঃ। মাধ্যমিক পরীক্ষার দু'বছর আগে শরৎচন্দ্রের বিলাসী গল্প পড়তে গিয়ে দেখি বিলাসী গল্পের নায়ক সল্ফ্ভ্রান্ত হিন্দু পরিবারের ছেলে। ছেলেটির নাম মৃত্যুঞ্জয়। আর সেই মৃত্যুঞ্জয়ের স্ত্রী একজন সাপুড়ের মেয়ে বিলাসী।

তবে আমাদের সেই আত্মীয়টির নাম আবদুল কাইয়ুম (ছদ্মনাম)। মেয়েটির নাম আজও আমার জানা হয়নি। তবে ষাটের দশকের একবারে গোড়ার দিকে পাবনা শহরের বিশিষ্ট একজন ব্যবসায়ীর তৃতীয় মেয়েটিকে হঠাৎ করেই আমার ভালো লেগেছিল। মেয়েটি সম্ভবত তখন পঞ্চম বা ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্রী। আর আমি অষ্টম বা নবম শ্রেণির ছাত্র।

মেয়েটি পাবনা শহরের দিলালপুর মহল্লায় শিশু কল্লোল নামে একটি নাচের স্কুলে নাচ শিখত। ঈদ, পূজা-পার্বণ ও রবীন্দ্র-নজরুলজয়ন্তীতে ওই কিশোরীকে নাচতে দেখে আমার হৃদয়ে কম্পন শুরু হলেও কাউকে বলতে পারিনি। তখনকার দিনে একমাত্র দূতিয়াল ছিল চিঠি। সেটাও তো লেখা সম্ভব নয়, যদি মেয়েটি বাবাকে জানিয়ে দেয়। এই ভয় ও শঙ্কায় হৃদয়ের ভেতরে কাঁপুনি শুরু হয়েছিল। যেহেতু চিঠি লেখা যাবে না, তবে চোখের দেখা দেখতে অসুবিধে কোথায়? বুদ্ধিটি দিলেন আমার সহপাঠী, ভবানী সাহার চারতলা ভবনের বাসিন্দা শেখ আবদুল হাদী। 

হাদীকে বললাম কী করা যায়? ও সহজ কথায় জানিয়ে দিল- 'আমাদের স্কুল শুরুর আগে দিলালপুর, লাহিড়ীপাড়ার এবং জ্যাকসন রোড যেখানে এসে মিশেছে, সেই চার মাথার পূর্বদিকে কেরু টেইলারিংয়ে তুই তোর সাইকেল নিয়ে এসে দাঁড়াবি। আমিও এসে দাঁড়িয়ে থাকব ক্লাস শুরুর আধঘণ্টা আগে। মেয়েটির এই পথ দিয়েই পাবনা গালর্স স্কুলে যেতে হবে, আসতে হবে। আমরা দু'জন সকাল বেলায়ই তাকে দেখব। আমার বাবা আবার হাজি সাহেব। বিকেলে আমাকে তিনি কোরআন পড়িয়ে থাকেন। পরে অঙ্ক, ইংরেজি শিখতে হয় আমার মেজ ভাইয়ের কাছে। ফাঁকি দেওয়া যাবে না, তাই আমরা স্কুলে যাবার আগে ওই কেরু দর্জির দোকানের সামনে দাঁড়াবো। তোকে দোহারপাড়া থেকে বেরোতে হবে ৪০ মিনিট আগে, তবেই না দেখা পাবি চন্দ্রিমা কুঠিরের সেই মেয়েটিকে। 

শেখ আবদুল হাদি একদিন জানালো, তাদের ওই চারতলা ভবনের একটি মেয়েকে তার চোখে ধরেছে। মেয়েটি ওই গার্লস স্কুলেই পড়ালেখা করে। পিতা ব্যবসায়ী। আমার নবীন চোখে সেই মেয়েটিকে মনে হতো পৃথিবীর সর্বশ্রেষ্ঠ সুন্দরী। আর আমার যানটির নাম ছিল 'হারকিউলিস' সাইকেল। ওই সাইকেলটি ছিল অভিযানের একমাত্র নীরব সাক্ষী। তবে সর্বদা সাথি ছিলেন কেরুদা এবং শেখ হাদি। মাধ্যমিক দেওয়ার আগে পিতা বললেন- ঘোরাফেরা বাদ দিয়ে পড়ালেখায় মন দাও, সামনেই মাধ্যমিক পরীক্ষা। ইতিমধ্যে আমাদের অগ্রজ জিয়া হায়দার ১৯৬১ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলা সাহিত্যে প্রথম শ্রেণিতে প্রথম হওয়ার সুবাদে আমাকেও ভাবতে হলো, অগ্রজ জিয়া ভাই, রশীদ ভাইয়ের মতোই হতে হবে। রশীদ হায়দার ১৯৬১ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ছিলেন। বাংলা বিভাগে। ইতিমধ্যে অনেকগুলো দিন গড়িয়ে গেলেও সেই 'মুমু' নামের মেয়েটির সাথে আর দেখা হয়নি। আমি ১৯৬৫ সালে মাধ্যমিক দিয়েই চলে এসেছিলাম দুই অগ্রজের ছায়ায়। ১৪/২ মালিবাগের ভাড়া বাসায়। 

প্রেমের অভিযান, ভালো লাগার অভিযান এবং একবার চোখে দেখার সেই অভিযান ঢাকায় এসে চাপা পড়ে গেল কলেজে ভর্তি হওয়ার কয়েক মাস পরে। চাঁপা নামের আর একটি মেয়ের সাথে শুধু জানালায় চোখাচোখি হতো। অথচ 'হৃদয়ের কথা বলিতে ব্যাকুল শুধাইলো না কেহ' মেয়েটি পাড়ারই। এক পুলিশ অফিসারের কন্যা, বাড়ি খুলনার ডুমুরিয়ায়। পুলিশ অফিসার একদিন বাসায় এসে দুই অগ্রজের কাছে কী যে বলেছিলেন, আমার জানা হয়নি। তবে ছোট বোন হেনা জানিয়েছিল- 'চাঁপার বাবা দুই অগ্রজের কাছে তোমার বিরুদ্ধে কী যেন বলে গেলেন। আমি স্পষ্ট শুনলাম, চাঁপার বাবা বললেন- 'আমি পুলিশের লোক, বলে গেলাম।' সেদিন থেকে চাঁপার বাড়ির জানালা চিরতরে বন্ধ হয়ে গেল। 

সেই চাঁপার সঙ্গে দেখা হলো বিমানে স্বাধীনতার পরপরই। তিনিও আমাকে দেখলেন, অকারণেই অনেকগুলো কেক, চকলেট দিলেন। শুধু বললেন, খালাম্মা কেমন আছেন। ১৯৭২-৭৩ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশ বিমানের ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটে ভাড়া ছিল ৪৫ টাকা আর ঢাকা-ঈশ্বরদী রুটে ভাড়া ছিল ২২ টাকা। চট্টগ্রাম থেকে ফেরার পথে চাঁপা আর কিছু হয়তো বলতে চেয়েছিলেন। যেমন বলতে চেয়েছিল ময়মনসিংহের জেসমিন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতির কৃতী ছাত্রী। কিংবা বাংলা বিভাগের সুশ্রী-সুন্দরী শামীমা বেগম। শামীমার সাথে পরিচয় হয়েছিল কবিতা-গল্প লেখা নিয়ে। শামীমা তখন কবিতা মকশো করছেন, অখাদ্য গল্প লিখছেন আর আমাকে দেখিয়ে চলেছেন। সেগুলো কেটে-ছেঁটে বিভিন্ন পত্রিকায় ছাপা হতে থাকলে তিনি একদিন বললেন, আজ বাংলা একাডেমির প্রধান গেট থেকে আমরা দু'জন একই রিকশায় এই ঢাকা শহরে ঘুরে বেড়াবো। শ্রাবণের অঝোর ধারায় তার কথা আমি রেখেছিলাম ১৯৮০ সালের সেপ্টেম্বর মাসে। সেই মুমু, সেই জেসমিন, এমনকি সেই শামীমা বেগম- তারা তাদের জীবনের অভিযানে অন্যপথে আমাকে ফেলে রেখেই চলে গিয়েছেন। যেহেতু তারা জানতেন কবি ভবঘুরে; অপদার্থ, মিথ্যাবাদী। তবে সুখের বিষয় মুমু এবং শামীমা এবং জেসমিন আমার এই বাজে আত্মকথন প্রেমাভিযানের কথা হয়তো পড়বেন না; যেহেতু সকলেই নাকি এখন পশ্চিমা দেশের স্থায়ী নাগরিক। কলেজের শেষ দিকে পাবনায় বেড়াতে গিয়ে পাবনা মহিলা কলেজের সীমা নামের একটি মেয়ের সাথে পরিচয় ঘটিয়েছিল আমার আপন ভাগ্নি চম্পা। চম্পার সহপাঠী ছিলেন সেই সীমা। মেয়েটি শ্যামলা, বাড়ি পাবনা শহরের উত্তর দিকে। আমি সে বার আর অভিযানে যাইনি। ইতিমধ্যে দেশ স্বাধীন হয়েছে। প্রথমে কাঠের ব্যবসা করেছিলাম, সুবিধে হয়নি। ইচ্ছা ছিল কন্ট্রাক্টর হবো, হলো না। ১৯৭২ সাল থেকে বাংলাদেশ বেতারে সাপ্তাহিক ফিচার লিখে পেতাম ২৫ টাকা। আর ১৯৭০ সালে কবিতা পাঠ করে সেপ্টেম্বর মাসের ১১ তারিখে পেয়েছিলাম ৩৫ টাকা, ১৯৭৫ সালের আগস্টে জাতির পিতার হত্যাকাণ্ডের পর থেকে ১৯৮০ সাল পর্যন্ত শাহবাগ বেতার আর ডাকেনি। ১৯৮১ সালে আমাকে দিয়ে কিছু গান, ফিচার, নাটক লেখালেন অজউ মাসুদুল হাসান। অজউ সৈয়দ শামসুল হুদা এবং কবি আবু তাহের। সেই আবু তাহেরের রুমে একদিন পরিচয় হয়েছিল সিলেট জেলার মৌলভীবাজারের এক সুশ্রীর সঙ্গে। বেশ কিছুদিন ভালো লেগেছিল, সেই ভালো লাগা দীর্ঘস্থায়ী হয়নি, যেদিন শুনলাম তিনি বিবাহিতা। 

আমি সব অভিযানেই হেরে গেছি বলবো না। ফিলিপাইনের ম্যানিলা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নকালে- এবার আর আমাকে অভিযানে নামতে হয়নি। নেমেছিল পিএইচডি ডিগ্রিধারী মিন্দাপাত্তয়ের সুন্দ্রা, উচ্চতায় মাঝারি। মারমা জিন এবোন। মনে ভীষণভাবে সেই জিন ১৯৮১ সালেই ছায়া ফেলেছিল। ছায়া ছায়াই রয়ে গেল, কায়াতে আমিই তাকেই পরিণত হতে দিইনি। টোকিওর মেয়ে ইজাক্‌ হনোই এর প্রলোভনে। মাঝে মধ্যে দিনে-দুপুরে, মাঝরাতে দেশে-বিদেশে যখন একাকী থাকি- সেই অভিযানগুলো, বৃষ্টিভেজা বাংলা একাডেমির গেট, রিকশায় ঢাকা শহরে প্রদক্ষিণ, চুম্বন, মান-অভিমান আমাকে ব্যথিত কখনও করে, কখনও করে না। ভাবি এই আমার ভবিতব্য। 

রবীন্দ্রনাথ-মাঝদুপুরে অথবা সন্ধ্যা বেলায় আমার রৌদ্রছায়া বাড়িটির ছাদে যখন হেঁটে বেড়ান, তার পদধ্বনি শুনেই আমি দৌড়ে গিয়ে দেখি, তিনি নেই। আছে আমার জন্যে একটি ছিন্নপত্র। 

মেয়েদের সঙ্গে যেন জলের বেশি ভাব, পরস্পরের যেন একটা সাদৃশ্য এবং সখিত্ব আছে- জল এবং মেয়ে উভয়েই বেশ সহজে ছলছল জলজল করতে থাকে, এটা বেশ সহজ গতি-ছন্দ-তরঙ্গ এবং সংগীত আছে, সকল পাত্রেই আপনাকে স্থাপন করতে পারে- দুঃখ তাপে অল্প অল্প শুকিয়ে যেতে পারে কিন্তু আঘাতে একেবারে জন্মের মতো দু'খানা হয়ে ভেঙে যায় না।" 

[পত্র ৪১, ছিন্নপত্রাবলী] 

ভেঙে যায় না, কথাটি হয়তো ঠিক নয়, কেননা রবিঠাকুরই আমাদের জানিয়েছেন- 

"বাহিরে যবে হাসির দৃষ্টি

ভেতরে থাকে আঁখির জল।" 

সেই আঁখির জল নিয়ে হয়তো আমার মতো অনেকেই বেঁচে আছেন, বেঁচে থাকার অভিযানে প্রেমই একমাত্র মহৌষধ, যা অতীতকে কাছে এনে দাঁড় করিয়ে দিতে পারে সেই মুমু- জেসমিন-শামীমা এবং সীমা ও মীরমাকে। চাই. কী যে চাই নিজেই জানিনে, তাই পদ্য লিখি।

যে আমাকে দুঃখ দিলো, সে যেন আজ সুখেই থাকে। ভাগ্য ভালো আমি শিকারি জিম করবেট হয়নি, হলে আমার সকল অভিযান সফল হতো।

সূত্র: সমকাল
এমএ/ ১২:১২/ ০২ মার্চ

সাহিত্য

আরও লেখা

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে