Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

Login
ইউনিজয়
ফনেটিক
English

গড় রেটিং: 3.0/5 (111 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

print

আপডেট : ০২-২৮-২০১৮

১১ দেশের অংশগ্রহণে নেদারল্যান্ডসে অমর একুশ

১১ দেশের অংশগ্রহণে নেদারল্যান্ডসে অমর একুশ

আমস্টারডাম, ২৭ ফেব্রুয়ারি- ১১টি দেশের অংশগ্রহণে নেদারল্যান্ডসে বিনম্র শ্রদ্ধায় পালিত হয়েছে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ও অমর একুশে। আগের বছরের মতো এ বছরও ভারত, নেপাল, শ্রীলঙ্কা, ভিয়েতনাম, নেদারল্যান্ডস, রাশিয়ান ফেডারেশন, মরক্কো, মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া ও ইরানসহ ১১টি দূতাবাসের অংশগ্রহণ এই অনুষ্ঠানকে করেছে অংশগ্রহণমূলক। এর মাধ্যমে সত্যিই বহু সংস্কৃতির বহিঃপ্রকাশ সম্ভব হয়েছে।

গত শনিবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) বাংলাদেশ দূতাবাস নানা অনুষ্ঠানের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ও অমর একুশের কর্মসূচি পালন করেছে। সকলের উপস্থিতি নিশ্চিত করার জন্য অনুষ্ঠানটি সাপ্তাহিক ছুটির দিনে আয়োজন করা হয়। শূন্যের কাছাকাছি তাপমাত্রা হওয়া সত্ত্বেও প্রায় তিন শর বেশি অতিথি এই দিবস পালনে সমবেত হয়েছিলেন। প্রবাসী বাংলাদেশি ও শিক্ষার্থী, ডাচ নাগরিক, গণমাধ্যম ও কূটনীতিকসহ বিভিন্ন পেশার ব্যক্তিরা অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন।

অস্থায়ী শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করার মাধ্যমে অনুষ্ঠান শুরু হয়। প্রথমে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত শেখ মুহম্মদ বেলাল ও নেদারল্যান্ডসে নিয়োজিত শ্রীলঙ্কা, ইন্দোনেশিয়া, রাশিয়ান ফেডারেশন, মরক্কো, ভিয়েতনাম, মালয়েশিয়ার রাষ্ট্রদূত এবং ভারত, নেপাল ও ইরান দূতাবাসের প্রতিনিধিরা অস্থায়ী শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। এরপর বাংলাদেশ দূতাবাসের কর্মকর্তারা পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করেন। তারপর একে একে প্রবাসী বাংলাদেশি ও অন্যান্য অতিথিরা শহীদ মিনারে ফুল দেন। আওয়ামী লীগের নেদারল্যান্ডস শাখাও পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ বরে।

আলোচনা পর্বে রাষ্ট্রদূত শেখ মুহম্মদ বেলাল তাঁর বক্তব্যে ১৯৫২ সালের ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জ্ঞাপন এবং বিশ্বের সাত হাজারেরও বেশি মাতৃভাষা সুরক্ষা ও সংরক্ষণের গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন। তিনি জানান, শহীদ মিনার নির্মাণের জন্য দ্য হেগ মিউনিসিপ্যাল কর্তৃপক্ষ জাউদার পার্কে জমি বরাদ্দ প্রদান করেছে এবং বাংলাদেশের পররাষ্ট্রসচিব মো. শহীদুল হক নির্ধারিত স্থানে ১৯ ফেব্রুয়ারি শহীদ মিনার নির্মাণের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছেন। তিনি শহীদ মিনার নির্মাণের বিষয়ে প্রয়োজনীয় অনুমতি প্রদানের জন্য দ্য হেগ মিউনিসিপ্যাল কর্তৃপক্ষের প্রতি, বিশেষ করে ডেপুটি মেয়রের প্রতি, গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।


শেখ মুহম্মদ বেলাল মহান একুশের ইতিহাস, ইউনেসকো কর্তৃক আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের স্বীকৃতি এবং কীভাবে ২১ ফেব্রুয়ারি আমাদের স্বাধীনতাসংগ্রামে অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করেছে তা সংক্ষিপ্তাকারে তুলে ধরেন। তিনি বাংলাদেশের চলমান উন্নয়ন কার্যক্রম তুলে ধরে এই উন্নয়নধারা অব্যাহত রাখার জন্য প্রবাসী বাংলাদেশিদের আহ্বান জানান।
আলোনা পর্বে অন্যান্য রাষ্ট্রদূতদেরও তাদের নিজস্ব সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও মাতৃভাষা সম্পর্কে বক্তব্য প্রদানের জন্য আমন্ত্রণ জানানো হয়। তারা তাদের সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে বহু ভাষাবাদ, শান্তি ও মানবতা বিস্তারে সচেষ্ট থাকায় সকলেই বাংলাদেশ দূতাবাসের প্রশংসা করেন।

অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রদূতের সহধর্মিণী ডা. দিলরুবা নাসরিন একটি অংশ পরিচালনা করেন। এই অংশে আগত রাষ্ট্রদূত ও কূটনীতিকেরা তাদের মাতৃভাষা এবং বাংলা ভাষায় কথা বলেন। মা ও মাতৃভাষা একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ, এর প্রেক্ষিতে আগত রাষ্ট্রদূত ও কূটনীতিকদের সমবেতভাবে মাতৃভাষায় কথা বলা উপস্থিত সকল অতিথিদের মধ্যে এক নতুন ধরনের আবেগের উদ্রেক ঘটায়।

রাশিয়ান ফেডারেশনের রাষ্ট্রদূত বাংলাতে এক মিনিট বক্তব্য দেন। পরে রাষ্ট্রদূত জানান, এই অনুষ্ঠানের জন্য তিনি কয়েক সপ্তাহ ধরে প্রশিক্ষণ নিয়েছেন। সমস্বরে উচ্চারিত ‘ধন্যবাদ বাংলাদেশ’ শব্দ দুটি হলরুমের বাইরেও প্রতিধ্বনিত হয় এবং উপস্থিত দর্শকেরা করতালির মধ্য দিয়ে তাদের উৎসাহিত করেন।

পরে সাংস্কৃতিক পর্বে বাংলাদেশ, ভারত, শ্রীলঙ্কা, নেপাল, ভিয়েতনাম ও রাশিয়ান ফেডারেশনের শিল্পীরা বর্ণিল সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশন করে। বাংলাদেশের শিশুরা ১৯৫২ সালের ইতিহাস এবং এই দিনটি কীভাবে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করেছে সে বিষয়ে বাংলায় একটি সংক্ষিপ্ত নাটক পরিবেশন করে। বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত দুই ডাচ ভাই-বোন মহান একুশের গানটি বাংলা ভাষায় ও ডাচ ভাষায় পরিবেশন করে।


অনুষ্ঠানে বিশিষ্ট অতিথিদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন স্টিচিং (ফাউন্ডেশন) শাপলা কমিউনিটির প্রেসিডেন্ট কণা ভেরহল। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের পর যেসব শিশুদের নেদারল্যান্ডসের বিভিন্ন পরিবার দত্তক হিসেবে গ্রহণ করেছিল, কণা ভেরহল তাদেরই একজন। ৪০ বছরের ঐকান্তিক প্রচেষ্টার পর তিনি বাংলাদেশে তার শেকড়ের সন্ধান পেয়েছেন। ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে তিনি তার বোনকে খুঁজে পেয়েছেন। যুদ্ধের কারণে পরিবার থেকে বিচ্যুত শিশুদের শেকড়ের সন্ধান প্রাপ্তিতে সহায়তা করার জন্য তিনি ডাচ ও বাংলাদেশ সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।

অতিথিরা বাংলাদেশ দূতাবাসের আয়োজনের ভূয়সী প্রশংসা করেন বিশেষ করে বিভিন্ন দেশের অংশগ্রহণের মাধ্যমে অনুষ্ঠানটি একটি অন্যতর মাত্রা পেয়েছে উল্লেখ করেন। সাংস্কৃতিক মেলবন্ধনের একটি প্ল্যাটফর্ম বাংলাদেশ দূতাবাস তৈরি করেছে বলেও তারা উল্লেখ করেন। প্রবাসী বাংলাদেশিরাও এ আয়োজনে তাদের গভীর সন্তোষ প্রকাশ করেন।

আমাদের ভাষাশহীদরা মাতৃভাষায় কথা বলার অধিকার আদায়ে তাদের জীবন উৎসর্গ করেছেন। তাদের এই আত্মত্যাগের বিনিময়ে সান্ত্বনা হিসেবে বিশ্বব্যাপী পালন করার জন্য আমরা একটি দিন পেয়েছি। এই দিনটিকে কেন্দ্র করে বহু ভাষাবাদ ও সংস্কৃতির বৈচিত্র্যকে তুলে ধরার জন্য বাংলাদেশ একটি প্ল্যাটফর্ম তৈরি করতে পারে।

শেষে সকল অতিথিদের দেশীয় খাবার পরিবেশনের মাধ্যমে মধ্যাহ্নভোজে আপ্যায়িত করা হয়। পরে অতিথিদের নিজেদের মধ্যে আলাপ আলোচনায় ব্যস্ত থাকতে দেখা যায়। বিজ্ঞপ্তিক্ষণশীল সমাজের’ বিরুদ্ধে যেতে চাননি কেউই। সেখানে মোহাম্মদ বিন সালমান অনেকটা নিজের মতো করে বদলের হাওয়া বইয়ে দিচ্ছেন।

বলা হয়ে থাকে, তেলভিত্তিক অর্থনীতি আর ধর্মীয় নেতাদের পরামর্শের ওপর ভর করে দেশ পরিচালনা সৌদি আরবের পুরোনো মডেল। তাহলে তো বর্তমান ক্রাউন প্রিন্স তা ভেঙে বেরিয়ে নতুন মডেল প্রবর্তনের চেষ্টা করছেন। যে মডেলের মূলমন্ত্র জাতীয়তাবাদ ও অর্থনৈতিক উন্নয়ন। যা ‘ভিশন ২০৩০’ শিরোনামে একটি মহাপরিকল্পনায় প্রকাশ করেছেন তিনি। তবে এই মহাপরিকল্পনার সফলতা নির্ভর করছে নানা হিসাব-নিকাশের ওপর।

সূত্র: প্রথম আলো

আর/১৭:১৪/২৮ ফেব্রুয়ারি

অন্যান্য

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে