Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

Login
ইউনিজয়
ফনেটিক
English

গড় রেটিং: 3.0/5 (76 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

print

আপডেট : ০২-১৩-২০১৮

বাড়ি পেলেন বীরাঙ্গনা টেপরী রাণী

বাড়ি পেলেন বীরাঙ্গনা টেপরী রাণী

ঢাকা, ১৩ ফেব্রুয়ারি- বীরাঙ্গনাদের নিয়ে পুলিশ সুপার (এসপি) দেওয়ান লালনের লেখা গানে নতুন বাড়ি ও উপহার সামগ্রী পেলেন ঠাকুরগাঁওয়ের টেপরী রাণী।

মঙ্গলবার বিকেলে বই মেলার উদ্বোধন অনুষ্ঠান শেষে বীরাঙ্গনা টেপরী রাণীর হাতে বাড়ির চাবি ও উপহার সামগ্রী তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আন্তর্জাতিকবিষয়ক উপদেষ্টা ড.গওহর রিজভী।

ঠাকুরগাঁওয়ে সদ্য পদোন্নতি পাওয়া পুলিশ সুপার দেওয়ান লালন আহমেদ বীরাঙ্গনাদের নিয়ে মিউজিক ভিডিও তৈরি করেছেন। ‘আমার মা জননী বীরাঙ্গনা’ নামে মিউজিক ভিডিওটি ইতোমধ্যে দেশে সাড়া ফেলেছে।

সেই গানের ভিডিওতে রাণীংশকৈল উপজেলার বীরাঙ্গনা টেপরী রাণীর জীবন-যাপনের করুন দশা দেখা ঠাকুরগাঁওয়ের জেলা প্রশাসক আব্দুল আওয়াল ৩ দিনের মধ্যে একটি থাকার ঘর তৈরি করে দেন।

গীতিকার দেওয়ান লালন বলেন, বঙ্গবন্ধুকে বুকে ধারণ করি, ধারণ করি আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধ ও বাংলাদেশকে। আমাদের নতুন প্রজন্ম এ বিষয়গুলোকে যাতে মনে, মননে ও মগজে ধারণ করে সেটি মাথায় রেখে লিখেছি ‘কাঁদো বাঙালি আজ কাঁদো সবাই’, ‘পঁচিশে মার্চ’ ও ১৯৭১ সালের বীরাঙ্গনা মায়েদের সম্মানে ‘বীরাঙ্গনা’।

বীরাঙ্গনা গানের শুরুটা এমন ‘যুদ্ধ এখনও বইছে, যেন যুদ্ধে রচিত জীবনধারা, বিজয়ে সবাই হাসে। ওঠে না তাদের শুকতারা।’

গীতিকার জানালেন, এ গানের পেছনে ইতিহাস আছে। ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈল উপজেলার বলিদ্বারা গ্রামের টেপরী রাণী একজন বীরাঙ্গনা। ১৯৭১ সালে পরিবারের সদস্যদের মেরে ফেলার হুমকি দিয়ে পাকিস্তানি সেনা ও রাজাকাররা তাকে ইচ্ছামতো নির্যাতন করতো। সবার কথা চিন্তা করে সব মুখ বুঝে সব নির্যাতন সহ্য করেছেন তিনি। তাকে মেরে ফেলার জন্য পাকিস্তানি সেনাদের বারবার আকুতি করেছিল, কিন্তু তারা তা করেনি। সেই টেপরী রাণীর কথা ওঠে এসেছে এ গানে।

দেওয়ান লালন আহমেদ বাংলাদেশ পুলিশের সাইবার ক্রাইম এক্সপার্ট, তিনি মোবাইল ফোনকেন্দ্রীক অপরাধ নির্ণয়ে বিশেষ পারদর্শী। পাশাপশি লেখালেখি ও শিল্পচর্চা করেন।

বীরাঙ্গনা টেপরী রাণী বলেন, নির্যাতনের কথা মনে পড়লে আজও শিউরে উঠি।

তিনি আরও বলেন, স্বাধীনতার পর বলিদ্বারা গ্রামে আবার বসবাস শুরু করি। কিন্তু নির্যাতিত হওয়ায় আমাদের পরিবারকে প্রায় দুই বছর একঘরে করে রাখে স্থানীয় লোকজন। আমাদের সঙ্গে কেউ লেনদেন করতো না, কথা পর্যন্ত বলতো না। এর মধ্যে ১৯৭৩ সালে আমার স্বামী মাটাং রায় অসুখে মারা যান। তারপর থেকে আমার দুই ছেলেমেয়েকে নিয়ে অতিকষ্টে দিন কাটাচ্ছি। ছেলে সুধীর একজন যুদ্ধশিশু যিনি এখন ভ্যান চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করেন ।

এর আগে বই মেলা উদ্বোধন অনুষ্ঠানে ঠাকুরগাঁও জেলা প্রশাসক আব্দুল আওয়ালের সভাপতিত্বে আরও বক্তব্য আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও ঠাকুরগাঁও-১ আসনের এমপি রমেশ চন্দ্র সেন, ৩ আসনের এমপি ইয়াসিন আলী, সংরক্ষিত আসনের এমপি সেলিনা জাহান লিটা, জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মু. সাদেক কুরাইশী, পুলিশ সুপার ফারহাত আহমেদ প্রমুখ।

সূত্র:জাগোনিউজ২৪
এমএ/০৯:৫৫/১৩ ফেব্রুয়ারি

ঠাকুরগাঁও

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে