Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

Login
ইউনিজয়
ফনেটিক
English

গড় রেটিং: 2.9/5 (119 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

print

আপডেট : ০২-০৩-২০১৮

শেরপুর-২ আসন: বড় দুই দলে মনোনয়ন আলোচনায় সাতজন

হাকিম বাবুল


শেরপুর-২ আসন: বড় দুই দলে মনোনয়ন আলোচনায় সাতজন

শেরপুর, ০৩ ফেব্রুয়ারি- নালিতাবাড়ী ও নকলা উপজেলা নিয়ে গঠিত শেরপুর-২ সংসদীয় আসন। স্থানীয়ভাবে এটি ‘ভিআইপি’ আসন হিসেবে পরিচিত। এ আসনে বিজয়ী প্রার্থীর মন্ত্রী হওয়ার রেওয়াজ আছে বলে মানুষ মনে করে। বর্তমানে এ এলাকার সংসদ সদস্য আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী।

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বড় দুই দল আওয়ামী লীগ ও বিএনপি থেকে অন্তত সাত নেতার নাম শোনা যাচ্ছে। মাঠে রয়েছেন জাতীয় পার্টির সম্ভাব্য দুই প্রার্থীও।

এখন পর্যন্ত ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের তিনজনকে নির্বাচনী কাজে মাঠে দেখা যাচ্ছে। তাঁদের মধ্যে কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী ছাড়াও আছেন নালিতাবাড়ী উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান, কেন্দ্রীয় কৃষক লীগের সাবেক নেতা, জেলা আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য কৃষিবিদ বদিউজ্জামান বাদশা ও নালিতাবাড়ী উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক, বর্তমানে জেলা আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য মো. মোকছেদুর রহমান লেবু।

বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে সাবেক হুইপ প্রয়াত জাহেদ আলী চৌধুরীর ছেলে দলের কেন্দ্রীয় সদস্য প্রকৌশলী ফাহিম চৌধুরী ও চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা সাবেক সচিব ব্যারিস্টার হায়দার আলীর নাম শোনা যাচ্ছে। এ ছাড়া নালিতাবাড়ী উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক এ কে এম মোখলেছুর রহমান রিপন, নকলার ছেলে সাবেক ছাত্রনেতা জায়েদুর রশীদ শ্যামল বিএনপি থেকে মনোনয়ন প্রত্যাশায় এলাকায় রঙিন পোস্টার লাগিয়ে দোয়া চেয়েছেন।

অন্যদিকে বর্তমান বিরোধী দল জাতীয় পার্টি থেকে সাবেক মন্ত্রী প্রয়াত অধ্যাপক আব্দুস সালামের ছেলে ও জেলা জাতীয় পার্টির সহসভাপতি মো. শওকত সাঈদ দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশা করছেন। এ ছাড়া জাতীয় সাংস্কৃতিক পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য রোজী সিদ্দিকী দলীয় মনোনয়ন চাইবেন বলে জানিয়েছেন। মাঠপর্যায়ে তাঁরা গণসংযোগও শুরু করেছেন।

এ তিনটি দলের মধ্যে আওয়ামী লীগ আসনটি দখলে রাখতে চায়। বিএনপি ও জাতীয় পার্টি চায় পুনরুদ্ধার করতে। তিনটি দলেই রয়েছে অভ্যন্তরীণ বিরোধ।


আওয়ামী লীগ : ১৯৯৬, ২০০৮ ও ২০১৪ সালের জাতীয় নির্বাচনে এ আসন থেকে নির্বাচিত হন মতিয়া চৌধুরী। তিন দফায় সরকারের প্রভাবশালী মন্ত্রী হওয়ার কারণে তাঁর নির্বাচনী এলাকায় নজরকাড়া উন্নয়ন কর্মকাণ্ড হয়েছে। কৃষিক্ষেত্রে বৈপ্লবিক পরিবর্তনের পাশাপাশি  যোগাযোগ, বিদ্যুৎ ও শিক্ষাক্ষেত্রে ব্যাপক প্রসার ঘটেছে এলাকায়। বিদ্যুতের গ্রিড সাব-স্টেশন, সীমান্ত সড়ক, নাকুগাঁও বন্দর আধুনিকায়ন, টিটিসি, কর্মজীবী মহিলা হোস্টেল কাম ট্রেনিং সেন্টার নির্মাণের ফলে এলাকায় কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় অর্থনীতিতেও প্রাণচাঞ্চল্য এসেছে। শহর থেকে তৃণমূল পর্যন্ত সাধারণ মানুষ সন্তুষ্ট তাঁর ঐকান্তিক উন্নয়ন প্রচেষ্টায়। সরকার ও আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বে থাকার পরও নিয়মিত এলাকায় অবস্থান করে তিনি ভিজিএফ-ভিজিডি, টিআর-কাবিখা কর্মসূচি, মেধাবী-দরিদ্র শিক্ষার্থী, প্রতিবন্ধীদের সহায়তা দেন। এলাকায় ঘুরে ঘুরে বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকাণ্ড মনিটরিং করেন তিনি।

তবে দলীয় সূত্রে জানা গেছে, নকলা ও নালিতাবাড়ীতে একসময় মতিয়া চৌধুরীর কাছাকাছি থাকা নেতাদের অনেকেই এখন তাঁর প্রতিপক্ষ হিসেবে মাঠে নেমেছেন। নালিতাবাড়ী উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান বদিউজ্জামান বাদশা গত নির্বাচনে মতিয়া চৌধুরীর বিরুদ্ধে প্রার্থী হন এবং ভোট কারচুপির অভিযোগ তুলে দুপুরের পরপরই তিনি নির্বাচন বর্জন করেন। আগামী নির্বাচনেও প্রার্থী হওয়ার জন্য তৎপরতা শুরু করেছেন বাদশা। তিনি এলাকায় এলাকায় গিয়ে গিয়ে সভা-সমাবেশ করছেন। বাদশার সমর্থকরা ‘মতিয়া ছাড়া’ নৌকার দাবি তুলেছে।

জেলা আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য নালিতাবাড়ীর সরকার গোলাম ফারুক বলেন, ‘আমাদের শেরপুর-২ আসনে এখন আসলেই পরিবর্তন দরকার। ১৯৯১ সাল থেকে মতিয়া চৌধুরীর একক নেতৃত্বের কারণে স্থানীয় নেতৃত্ব ধ্বংসের পথে। যাঁরা জনপ্রিয় নেতা ছিলেন, তাঁদেরকে তিনি অজনপ্রিয় করে বসিয়ে দিয়েছেন। পক্ষান্তরে পতিতদের দলে টেনে এনেছেন। এভাবে চলতে থাকলে এখানকার আওয়ামী লীগ ধ্বংস হয়ে যাবে। তাই আমরা মতিয়া ছাড়া নৌকার দাবিতে মাঠে নেমেছি।’ মানুষ এখন পরিবর্তন চায় এমন দাবি করে তিনি বলছিলেন, ‘পরিবর্তনের কাণ্ডারি হতে পারেন বদিউজ্জামান বাদশা। আগামী নির্বাচনে এলাকার নেতাকর্মী-সাধারণ মানুষ তাঁকেই আওয়ামী লীগের মনোনয়নে নৌকা প্রতীকে দেখতে চায়।’

কিন্তু নালিতাবাড়ী উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ফজলুল হক বলেছেন, ‘এই আসনে বেগম মতিয়া চৌধুরী নৌকা প্রতীকে মনোনয়ন পেয়ে বিপুল ভোটে বিজয়ী হবেন। কেননা তিনি এই নির্বাচনী এলাকায় ব্যাপক উন্নয়ন করেছেন। সাধারণ মানুষ তাঁর সৎ নেতৃত্বে মুগ্ধ। তা ছাড়া তিনি একজন জাতীয় পর্যায়ের নেতা। তাঁর বিকল্প কেউ নেই।’

নকলা উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা মো. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘মতিয়া চৌধুরীর তুলনা কারো সঙ্গেই চলে না। তিনি আমাদের এলাকার জন্য আশীর্বাদ হয়ে এসেছেন। তিনি ছিলেন, আছেন, থাকবেন। সাধারণ মানুষ মতিয়া চৌধুরীর কর্মকাণ্ডে আস্থাশীল। আগামী নির্বাচনেও তিনিই হবেন আওয়ামী লীগের একমাত্র প্রার্থী।’

এ ব্যাপারে কৃষিবিদ বদিউজ্জামান বাদশা বলেন, মতিয়া চৌধুরী ব্যক্তিগতভাবে অনেক বড় মাপের মানুষ। আমরা মতিয়া চৌধুরীর বিরোধিতা করছি না, আওয়ামী লীগের নকলা-নালিতাবাড়ী আসন রক্ষার আন্দোলন করছি। মতিয়া চৌধুরীকে মনোনয়ন দিলে আসনটি নিশ্চিত হারাতে হবে। তাই আমি প্রার্থী হয়ে মাঠে নেমেছি।’

নালিতাবাড়ী উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও বর্তমানে জেলা আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য মোকছেদুর রহমান লেবু সম্প্রতি উপজেলার বিভিন্ন স্থানে সভা-শোডাউন করে প্রার্থিতার জানান দিয়েছেন। এ জন্য তিনি পৃথকভাবে ‘দেশরত্ন জন ঐক্য পরিষদ, দেশরত্ন শ্রমিক ঐক্য পরিষদ, দেশরত্ন যুব ঐক্য পরিষদ, দেশরত্ন ছাত্র ঐক্য পরিষদ ও দেশরত্ন কৃষক ঐক্য পরিষদ’ ইত্যাদি নামে সংগঠন করেছেন। আর এ সংগঠনের ব্যানারেই তিনি তাঁর কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন।

মোকছেদুর রহমান লেবু বলেন, ‘তৃণমূলের নেতাকর্মী এবং সাধারণ মানুষের অনুরোধে নিজেকে প্রার্থিতার ঘোষণা দিয়েছি। আশা করি দলীয় মনোনয়ন পেলে মানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষার মর্যাদা রক্ষা করতে পারব।’

বিএনপি : ২০০১ সালে বিএনপির জাহেদ আলী চৌধুরী এ আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী মতিয়া চৌধুরীকে পরাজিত করে বিজয়ী হয়েছিলেন। যার পুরস্কার হিসেবে বিএনপি তাঁকে হুইপ পদ দিয়ে সম্মানিত করেছিল। আগামী নির্বাচনে বিএনপির মনোনয়ন পেতে তৎপরতা চালিয়ে আসছেন প্রয়াত এ সংসদ সদস্যের বড় ছেলে দলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য প্রকৌশলী ফাহিম চৌধুরী। এ ছাড়া সাবেক সচিব ও বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ব্যারিস্টার এম. হায়দার আলীও সক্রিয় রয়েছেন।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, পৈতৃক কারণে ফাহিম চৌধুরীর অবস্থান সুদৃঢ়। তবে বর্তমানে এলাকায় নিয়মিত না আসা, সাংগঠনিক বিষয়ে ঠিকমতো খোঁজখবর না রাখায় দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে তাঁর অনেকটা দূরত্ব তৈরি হয়েছে।

অন্যদিকে বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ব্যারিস্টার এম. হায়দার আলী ২০০৮ সালের নির্বাচনে মনোনয়নপ্রত্যাশী হলেও পাননি। আগামী নির্বাচনেও তিনি মনোনয়ন চাইবেন বলে তাঁর কর্মী-সমর্থরা জানিয়েছে। এলাকায় নিয়মিত না আসার কারণে তাঁরও স্থানীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে এক ধরনের বিচ্ছিন্নতা তৈরি হয়েছে। আর এ সুযোগে মাঠে রয়েছেন নালিতাবাড়ী উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক এ কে এম মোখলেছুর রহমান রিপন। তিনি আগামী নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন চাইবেন বলে ঘোষণা দিয়েছেন। ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের শক্তিশালী প্রার্থীকে পরাজিত করে এবং বিএনপিদলীয় প্রার্থীকে কোণঠাসা করে ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থী হয়েও রিপন গত উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। এতে তাঁর আত্মবিশ্বাস বেড়ে যায়।

আরও পড়ুন: চালের দাম ৪০ টাকা সহনীয় : অর্থমন্ত্রী

বিএনপির অন্য মনোনয়নপ্রত্যাশী হলেন সাবেক ছাত্রনেতা জায়েদুর রশীদ শ্যামল। তিনি জেলা বিএনপির নেতাদের সঙ্গে সমন্বয় করে এখানে দলীয় মনোনয়ন চাচ্ছেন। নেতাকর্মীরা মামলা-মোকদ্দমায় জড়ালে তিনি তাঁদের পাশে গিয়ে দাঁড়াচ্ছেন। বিভিন্ন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানেও সাহায্য-সহযোগিতা শুরু করেছেন। শেরপুর শহরে তাঁর মালিকানাধীন জেনী হাসপাতালে নামমাত্র মূল্যে চিকিৎসা সেবা দিয়েও তিনি নেতাকর্মীদের মন জয় করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। ‘অভিভাবক’ শূন্যতায় ইতিমধ্যে গোপনে গোপনে অনেক নেতাকর্মী তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করতে শুরু করেছে।

জায়েদুর রশীদ শ্যামল বলেন, ‘ধানের শীষে ভোট দেওয়ার জন্য মানুষ এখন অপেক্ষার প্রহর গুনছে। দল আমাকে মনোনয়ন দিলে আমি এ আসনে বিজয়ী হব বলে বিশ্বাস করি।’

নালিতাবাড়ী উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক নুরুল আমীন বলেন, ‘চেয়ারপারসন যাঁকে ধানের শীষ প্রতীকের মনোনয়ন দিবেন সবাই মিলে তাঁরই নির্বাচন করব।’

জাতীয় পার্টি : একসময় এ আসনটি জাতীয় পার্টির নেতা অধ্যাপক আব্দুস সালামের দখলে ছিল। ১৯৯১ সালে আসনটি জাতীয় পার্টির হাতছাড়া হয়ে যায়। আসনটি পুনরুদ্ধারে প্রয়াত আব্দুস সালামের ছেলে জেলা জাতীয় পার্টির সহসভাপতি মো. শওকত সাঈদ দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশা করছেন। এ ছাড়া জাতীয় সাংস্কৃতিক পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য রোজী সিদ্দিকীও দলীয় মনোনয়ন চাইবেন বলে জানিয়েছেন।

সূত্র: কালের কন্ঠ

আর/০৭:১৪/০৩ ফেব্রুয়ারি

শেরপুর

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে