Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, মঙ্গলবার, ১০ ডিসেম্বর, ২০১৯ , ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

গড় রেটিং: 3.0/5 (35 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)


আপডেট : ০১-০৮-২০১৮

শীতে কাঁপছে ঢাকাও

শীতে কাঁপছে ঢাকাও

ঢাকা, ০৮ জানুয়ারি- ঢাকায় পৌষেও মানুষ দিব্যি হাফহাতা শার্ট পড়ে ঘুরে বেড়ান। শীতের মুখ রক্ষায় কখনো কখনো সোয়েটারও পরা হয় এ শহরের বাসিন্দাদের। লাখো গাড়ির ইঞ্জিন, কলের চিমনি, কোটি মানুষের উত্তাপে ঢাকায় শীতকাল বলে কিছু নেই। পৌষ, মাঘ মানে গরমের হাত থেকে নিস্তারের স্বস্তি মাত্র। কিন্তু পাঁচ বছর বাদে এবার ঢাকাও শীতে কাঁপছে। একটু শীতের জন্য যাদের হাপিত্যেস ছিল, তারাই এখন প্রাণ বাঁচাতে মাফলারে মুখ ঢেকে চলছেন।

সোমবার উত্তুরে হাওয়ার দাপটে তাপমাত্রার রেকর্ড ভেঙেচুরে একাকার। ৭০ বছরের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড হয়েছে পঞ্চগড়ের তেতুলিয়ায়, ২ দশমিক ৬ ডিগ্রি। রংপুরের সব জেলাতেই তাপমাত্রা তিনের ঘরে। উত্তরবঙ্গের ওপর বয়ে চলা তীব্র শৈত্যপ্রবাহ টাঙাইল, ময়মনসিংহ ছুঁয়ে ঢাকাতেও লেগেছে। শুধু মৌসুমের প্রথম নয়, গত পাঁচ বছরের মধ্যে প্রথমবারের মতো সোমবার ঢাকায় তামপাত্রা ১০ ডিগ্রির নীচে নামে। সোমবার সকালে রাজধানীর তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ৯ দশমিক ৫ ডিগ্রি।

ঢাকায় গায়ে গা লাগানো দালানকোঠা। দিনের রোদ শুষে নেওয়া কংক্রিট সন্ধ্যার পর তাপ নিঃসরন করে, তাই ঢাকায় কুয়াশার দেখা অমবস্যার চাঁদের মতো ঘটনা। কিন্তু সোমবার ঢাকাবাসী মুখ ভরে কুয়াশা টেনে ধোঁয়ার কুন্ডুলি ছেড়েছেন। বন্ধুর গায়ে গা লাগিয়ে উষ্ণতা খুঁজেছেন। ভারী কোট গায়ে গরম চায়ে, কফিতে তৃপ্তির চুমুক দিতে পেরেছেন। দার্জিলিং ভ্রমণকারীদের মতো।

চাঁদের বিপরীত পিঠের মতো, উপভোগের শীতেও লাখো নগরবাসীর জন্য দুর্ভোগ হয়েছে। বিশেষত দরিদ্র ও ছিন্নমূল মানুষের সোমবার সূর্যের দেখা মিলেছে বেলা ১১টার পর। শীতে জুবুথুবু ছিল সকালের ঢাকা। যারা পথে, ঘাটে, স্টেশনে থাকেন, তাদের কোনো রক্ষা নেই। শ্রমজীবী মানুষ শীতের দাপটে কাজ করতে পারছেন না। শিশু ও বৃদ্ধরা শীতজনিত রোগে নাকাল।

সোমবার সরেজমিনে দেখা যায়, রাজধানীর নিম্নবিত্তের বাসিন্দাদের এলাকাগুলোতে সড়কের পাশে পাশে মানুষ গোল হয়ে বসে আগুন পোহাচ্ছেন। শহরে কাঠ খড়ি পাওয়া দুস্কর। তাই পলিথিন, প্লাস্টিকের মতো ক্ষতিকর পদার্থ জ্বালিয়ে শীত থেকে রক্ষা পাওয়ার চেষ্টা করেছেন ছিন্নমূল ও পথে খেটে খাওয়া মানুষ।

বিকেলে তেজগাঁওয়ের শিল্পাঞ্চলে বিএসটিআই কার্যালয়ের সামনে দেখা যায়, রিকশার গ্যারেজগুলোতে আগুনের কুন্ডলি। কাঠ, পলিথিন, কাগজ-কুড়িয়ে যা পাওয়া গেছে তাই পোড়ানো হচ্ছে। গ্যারেজের শ্রমিক ও রিকশা চালকরা জানালেন, শীত নিবারনের মতো শীতবস্ত্র, সোয়েটার নেই তাদের। কনকনে বাতাসে কাজও করা যায় না। তাই যা পেয়েছেন তাই জ্বালিয়ে একটু গরম থাকার চেষ্টা করছেন।

একই দৃশ্য দেখা যায়, মোহাম্মদপুরের বেড়িবাধ এলাকাতেও। দুই পাশে শ্রমজীবী মানুষের ঘর। কয়েকটি ঘর পরপর আগুনের কুণ্ডলি জ্বলছে। নার্গিস বেগম আগুনে পাশে বসে ছিলেন। ঝিয়ের কাজ করেন। শীতে কাশি হয়েছে বলে কুয়াশা মাথায় কাজে যেতে পারেননি। শীতে শুধু মানুষ নয়, প্রাণীও কাবু। আগুনের পাশে গা এলিয়ে শুয়ে ছিল দু'টি কুকুর।

শীতের প্রভাব নগরীর বাজারেও। গরম কাপড়ের দাম বেড়েছে। প্রভাব পড়েছে মাছ সবজিতেও। শীতজনিত রোগীর ভিড় হাসপাতালে। শীতজনিত ডায়রিয়ার রোগি বেড়েছে। শ্বাসকষ্টের রোগির ভিড় বাড়ছে হাসপাতালে। শিশুদের রয়েছে নিউমোনিয়ার ভয়।

এমএ/০৯:৩০/০৮ জানুয়ারি 

ঢাকা

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে