Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, মঙ্গলবার, ২১ জানুয়ারি, ২০২০ , ৮ মাঘ ১৪২৬

গড় রেটিং: 3.0/5 (100 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)


আপডেট : ০১-০৫-২০১৮

ভাইয়ের সামনেই হত্যা করা হয় মিঠুন চাকমাকে, মামলা হয়নি তিন দিনেও

জসিম মজুমদার


ভাইয়ের সামনেই হত্যা করা হয় মিঠুন চাকমাকে, মামলা হয়নি তিন দিনেও

খাগড়াছড়ি, ০৫ জানুয়ারি- ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট (ইউপিডিএফ) এর খাগড়াছড়ি জেলা সংগঠক মিঠুন চাকমাকে (৪০) দিনে দুপুরে বাড়ি থেকে ধরে নিয়ে ভাইয়ের সামনেই গুলি করে হত্যা করা হয়। প্রকাশ্যে এমন হত্যাকাণ্ড ঘটলেও গত তিন দিনে মামলা হয়নি। নেই কোনও আটকও। এদিকে পাহাড়ি এলাকায় একের পর এক খুনের ঘটনায় জনমনে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে।

মিঠুন চাকমার ছোট ভাই বাগীস চাকমা জানান, গত ৩ জানুয়ারি তার ভাই মিঠুনের একমাত্র ছেলের জন্মদিন ছিল। ওইদিন বেলা সোয়া ১২টার দিকে ৬/৭ জন মুখোশধারী সন্ত্রাসী শহরের অপর্ণা চৌধুরী পাড়ায় বাড়ি থেকে অস্ত্রের মুখে তার ভাই মিঠুনকে স্লুইস গেট এলাকায় ধরে নিয়ে যায়। এ সময় পাহাড়ি-বাঙালি অনেকে তাকে রক্ষার চেষ্টা করলেও সন্ত্রাসীদের অস্ত্রের মুখে সামনে এগুতে পারেনি। অপহরণকারীরা বিভক্ত ইউপিডিএফের একটি অংশের সদস্য বলেও দাবি করেন তিনি।

বাগীস চাকমা আরও জানান, খবর পেয়ে তিনি মোটরসাইকেলে ঘটনাস্থলে গিয়ে ভাইকে রক্ষার চেষ্টা করেন। কিন্তু পারেননি। তার চোখের সামনেই ভাইকে মারধর করে নিচে ফেলে দেয় এবং বুকে, ঘাড়ে ও পায়ে গুলি করে হত্যা করে। স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় ভাইকে হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

তিনি বলেন, ‘পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর পক্ষে সোচ্চার থাকায় ১৯৮৩ সালে প্রতিপক্ষের হামলায় প্রাণ হারান আমাদের বাবা পবন কিশোর চাকমা ওরফে স্বপন চাকমা। জুম্ম জাতির অধিকার আদায়ে কথা বলায় আমার ভাইয়ের বিরুদ্ধে ১০-১১টি মামলাও করা হয়েছে।’

আরও পড়ুন: ‘খালেদা জিয়ার জন্য পদ্মা সেতুর টোল ফ্রি

নিহতের স্ত্রী সাবেক হিল উইমেন্স ফেডারেশনের সভাপতি রিনা দেওয়ান বলেন, ‘আমার স্বামী শুধু পাহাড়ে বসবাসরত জুম্ম জাতির অধিকার আদায়ের জন্য কথা বলায় প্রভাবশালী গোষ্ঠীর মদদপুষ্ট নব্য মুখোশ বাহিনীর সদস্যরা প্রকাশ্য দিবালোকে তাকে হত্যা করেছে। ঘটনার তিন দিন পরেও কাউকে আটক করতে পারেনি পুলিশ। কারণ এই হত্যায় প্রশাসনের হাত রয়েছে।’ তিনি দ্রুত স্বামীর হত্যাকারীদের গ্রেফতারের দাবি জানান।

এদিকে খাগড়াছড়ি জেলা ইউপিডিএফের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক নিরন চাকমা অভিযোগ করে বলেন, ‘শ্রদ্ধা জানাতে আজ  শুক্রবার দুপুরে মিঠুন চাকমার মরদেহ শহরের স্বনির্ভর বাজারের পার্টি অফিসে আনার কথা ছিল। কিন্তু বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে খাগড়াছড়ি সদর থানার ওসি তারেক মাহমুদ আব্দুল মান্নান নিহত মিঠুন চাকমার বাড়িতে গিয়ে মরদেহ ইউপিডিএফ কার্যালয়ে না আনতে নির্দেশ দেন।’

তবে এ বিষয়ে মিঠুন চাকমার ভাই বাগীস চাকমা জানান, তারা নিজেরাই ভাইয়ের মরদেহ পার্টি অফিসে নেননি। অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া চলছে। মামলা দায়েরের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার পর এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’

পুলিশ সুপার আলী আহম্মেদ খান বলেন, ‘ইউপিডিএফ কিছুদিন আগে দুই ভাগে বিভক্ত হয়। বিভক্তির পর সংগঠন দুইটির মধ্যে খুনাখুনির ঘটনা ঘটছে। তারই ধারাবাহিকতায় এই হত্যাকাণ্ড ঘটলো। গত কয়েক মাসে সংগঠিত সব হত্যাকাণ্ডেই আসামিদের গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এই হত্যার পেছনে জড়িতরাও গ্রেফতার হবে, উন্মোচিত হবে রহস্য।’

আরেক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘মিঠুন চাকমার স্ত্রী ও ভাই কোনও মামলা না করলে পুলিশ মামলা করবে। পুলিশ বসে নেই, অভিযান চলছে।’

সুত্র: বাংলা ট্রিবিউন

আর/১৭:১৪/০৫ জানুয়ারি

খাগড়াছড়ি

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে