Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, শুক্রবার, ২০ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ , ৫ আশ্বিন ১৪২৬

গড় রেটিং: 3.0/5 (79 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)


আপডেট : ১২-২২-২০১৭

এই যুগে হলে আমি হয়তো হতাম তামিম ইকবাল

এই যুগে হলে আমি হয়তো হতাম তামিম ইকবাল

এই শিরোনামটা পড়ে তাঁর খেলা যাঁরা দেখেছেন সবাই চমকে যাবেন নিশ্চিত। সেই মানুষ যাঁর স্বভাব ছিল বল মারা নয়, শুধুই ছাড়া—তিনি কিনা হবেন তামিম! কিন্তু তখন ওপেনারদের কাছে দল রান চাইত না, চাইত উইকেটে টিকে থাকা।

সেই কাজটা আসাদুজ্জামান মিশা সার্থকভাবে করে মিটিয়েছেন যুগের প্রয়োজন। আবার এই যুগ ওপেনারদের কাছে চায় বিস্ফোরক ব্যাটিং। সময়ের প্রয়োজন মেটানোর চোখে দেখলে তো এখনকার সময়ে খেললে যুগের চাহিদামতো তামিম হতেই পারতেন! অবশ্য তামিম হওয়ার ঠিক দরকার নেই। শুধু মিশা হিসেবে চিন্তা করলেও কিন্তু কম বর্ণময় নয় তাঁর ক্যারিয়ার। সেই সব সোনালি গল্প শুনতেই তাঁর সঙ্গে দীর্ঘ আড্ডায় বসেছিলেন মাসুদ পারভেজ।  
 
প্রশ্ন : শুরু করতে চাই আপনার বিয়ের গাড়ি দিয়েই। সেটি আবাহনী ক্লাবের পক্ষ থেকে সাজিয়ে দেওয়া হয়েছিল বলে শুনেছি।

আসাদুজ্জামান মিশা : (হাসি...) ঠিকই শুনেছেন। শুধু তা-ই নয়, আমার বিয়ের খরচের বড় একটা অংশও আবাহনীর কাছ থেকেই পাওয়া।

প্রশ্ন : তাই নাকি? তাহলে তো সে গল্পও বিস্তারিত শুনতে হয়।

মিশা : আমি আবাহনীর ‘ঘরের ছেলে’ হয়ে উঠেছিলাম বলেই বিয়ের সময়ও ক্লাবকে পাশে পেয়েছি। পুরো ক্রিকেট-জীবনে আমি মাত্র তিনটি ক্লাবে খেলেছি। দ্বিতীয় বিভাগের দল দিলকুশার হয়ে ১৯৭৩ সালে শুরু। সেখানে দুই বছর কাটানোর পর পাঁচ বছর খেলেছি প্রথম বিভাগের দল ঈগলেটসে। এরপর ১৯৮১ থেকে ক্যারিয়ার শেষ করা পর্যন্ত পুরো সময়টাই পার করেছি আবাহনীতে। এই সময়ে ক্লাব টাকা-পয়সা কী দিচ্ছে না দিচ্ছে, তা নিয়েও ভাবিনি একদম। বিয়ের সময় অবশ্য খেলোয়াড়ি জীবনের সবচেয়ে বড় অঙ্কটাই আবাহনীর কাছ থেকে পাই।

প্রশ্ন : আরেকটু খুলে বলুন না।

মিশা : আমি বিয়ে করি ১৯৮৮ সালের এপ্রিলে। সরকারি চাকরিও করি তখন। ডেন্টাল কলেজের লেকচারার আর খেলি আবাহনীতে। কিন্তু কোনো দিন ক্লাবকে আমি বলিনি যে টাকা দেন। ১৯৮১ সালে পাঁচ-ছয় হাজার টাকার চুক্তিতে আবাহনীতে যোগ দিই। সেখান থেকে  হয়তো পেয়েছি মোটে এক হাজার টাকা। বাকিটা পাইনি তবে চাইনিও। তবে বিয়ের আগে আবাহনীর তখনকার অন্যতম পৃষ্ঠপোষক এরশাদ ভাইয়ের কাছ থেকে আমি একটা বড় অঙ্ক পাই। ভেরি বিগ অ্যামাউন্ট। ওই সময়ে ৮০ হাজার টাকা! ১৯৮১-তে শুরু করে ১৯৮৮ পর্যন্ত সেটিই ছিল আমার ক্লাব থেকে পাওয়া সবচেয়ে বড় অঙ্কের অর্থ। এটা দিয়েই আমার বিয়ের খরচ চলে যায়। বিয়ে হয় সোহাগ কমিউনিটি সেন্টারে। এরশাদ ভাই তখন নিজেই বলেছিলেন, ‘তুমি বিয়ে করতে যাবে আমার গাড়িতে। ’ তাঁর টয়োটা গাড়ি সাজিয়েও দিয়েছিলেন। এই হলো আমার বিয়ের গল্প (হাসি...)।

আরও পড়ুন: যুদ্ধাপরাধীদের পর হবে ভূয়া মুক্তিযোদ্ধাদের বিচার : তুরিন আফরোজ

প্রশ্ন : একই সঙ্গে আপনার আবাহনীতে যোগ দেওয়ার গল্পটাও শুনে নিতে চাই।

মিশা : বলতে পারেন আবাহনীতে খেলার সুযোগটি এসে যায় ১৯৭৯ সালের উইলস জাতীয় ক্রিকেট চ্যাম্পিয়নশিপের সুবাদে। মোমেন স্যার (ইতিহাস বিভাগের ড. মোমেন চৌধুরী ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্রিকেট দলের ম্যানেজারও) আমাকে খুঁজে বের করেন এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় দলে খেলান। চার্চিল ভাই ছিলেন অধিনায়ক। আবাহনীর জালাল ইউনুসও ছিলেন দলে। সেবার আমরা বিমানকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হই প্রথমবারের মতো হওয়া টুর্নামেন্টে। ওই আসরে আমার খেলা দেখে পছন্দ হয় চার্চিল ভাই, জালালদের। এরপর ১৯৮১ সালে ডেন্টালে ফাইনাল প্রফেশনাল পরীক্ষা চলছে যখন, তখন সোবহানবাগের হোস্টেলে হঠাৎ করে এসে হাজির আবাহনীর সাবের ভাই। তাঁর পুরো নামটা আমার মনে নেই। এখন যুক্তরাষ্ট্রে থাকেন। ওনার কথা আবাহনীতে খেলতে হবে আমাকে। সেই শুরু, ১৯৯১-তে জাপানে পিএইচডি করতে যাওয়ার আগ পর্যন্ত এই ক্লাবের মায়া ত্যাগ করতে পারিনি। যদিও মোহামেডান এবং বিমান থেকে লোভনীয় অফার ছিল আমার।

প্রশ্ন : মোহামেডানের প্রস্তাব ফিরিয়ে দিয়েছিলেন কিভাবে?

মিশা : ফেরাতে হয়নি, কথাবার্তায়ই বুঝে গিয়েছিল যে আমাকে আবাহনী থেকে বের করা যাবে না। তখন আমি দারুণ ফর্মে। জাতীয় দলের হয়ে কেনিয়া সফরে প্রচুর রানও করেছি। ওই সময়ই প্রস্তাব নিয়ে এসেছিল মোহামেডানের তখনকার খেলোয়াড় ও সংগঠক মাহবুব আনাম।

প্রশ্ন : আবাহনী থেকে বেরই হবেন না, এই শপথ করেছিলেন কেন?

মিশা : ওই যে বলে না আত্মার সম্পর্ক। আবাহনী ক্লাবের সঙ্গে সে রকম একটি সম্পর্কই তৈরি হয়ে গিয়েছিল। এর মূল কারণ ছিল ক্লাবের পরিবেশ। যেটা ছিল ভীষণ বন্ধুত্বপূর্ণও। হৃদ্যতা ছিল ফুটবলারদের সঙ্গেও। কত বড় বড় ফুটবলার তখন! সালাউদ্দিন ভাই, ইউসুফ ভাই, আসলাম ভাই। হকির খেলোয়াড়রাও ছিল। সবাই মিলে আমরা ছিলাম একটা পরিবারের মতো। খেলাধুলার বাইরেও আনন্দময় এবং স্বাস্থ্যকর একটি পরিবেশ। যে পরিবেশ ছেড়ে আমার আর কোথাও যেতে মন চায়নি। মনে হতো, এই পরিবেশটা আমি আর কোথাও পাব না।

প্রশ্ন : ‘আবাহনীর মিশা’র ক্রিকেটার হওয়ার গল্পটাও সংক্ষেপে শুনে নিতে চাই।

মিশা : সুযোগটা করে দেন পারভেজ ভাই (ওয়ারী ক্লাবের আহমেদ পারভেজ শামসুদ্দিন)। শহীদবাগে থাকতাম আমরা। পাশের মোমেনবাগের মাঠে খেলতাম। বাসাবোতে ইনকাম ট্যাক্স কলোনিতে থাকতেন আমার দাদা। সেখানেও খেলতে যেতাম। সেই খেলা শুরু। আমরা পাঁচ ভাই-ই খেলতাম। কোনো কোচিং ছিল না। খেলতে খেলতে শেখা। ১৯৭৩ সালে শাহীন স্কুল থেকে ম্যাট্রিক দিই। পারভেজ ভাইয়ের আমার খেলা পছন্দ হয়েছিল। ১৯৭৩ সালে তিনিই আউটার স্টেডিয়ামে তাঁর দ্বিতীয় বিভাগের দল দিলকুশায় খেলার সুযোগ করে দেন।

প্রশ্ন : ভাইদের মধ্যে আপনার পরেরজন তারিকুজ্জামান মুনিরেরও ক্রিকেটার হওয়ার গল্পটা একই রকম। যদিও ব্যাটসম্যান হিসেবে আপনারা দুজন ছিলেন দুই ঘরানার।

মিশা : ঠিকই বলেছেন। মুনির খুবই আক্রমণাত্মক ব্যাটসম্যান ছিল। আমরা দুজনেই শীর্ষ পর্যায়ে খেলেছি। মুনির অবশ্য জাতীয় দলে বেশি দিন খেলতে পারেনি। যদিও খেলা উচিত ছিল। আমি মনে করি মুনির আমার চেয়ে অনেক প্রতিভাবান ক্রিকেটার ছিল ব্যাটসম্যান হিসেবে। ওর তিন শ রানের ইনিংস আছে (১৯৮৪-৮৫ মৌসুমের উইলস কাপ ন্যাশনাল চ্যাম্পিয়নশিপের সেমিফাইনালে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের বিপক্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের হয়ে)। যে তিন শ করে, তাঁর প্রতিভা অন্য রকম। আমি নিশ্চিত এখনকার সময়ের মতো ট্রেনার ও কোচ পেলে এই জমানায় সে বিশ্বমানের ক্রিকেটারই হতো। বাংলাদেশ দলে তো খেলতই, বিশ্বেও সাড়া ফেলত। ওর সঙ্গে ঈগলেটসেও খেলেছি। আবাহনীতেও খেলেছি দুই বছর।

প্রশ্ন : আবাহনীর হয়ে দুই ভাইয়ের প্রথমবারের মতো ইনিংস ওপেন করতে নামার দিন আপনাদের জীবনের একটি দুর্ঘটনাও তো আছে।

মিশা : (ধরে আসা কণ্ঠে) আমার বাবা ফখরুজ্জামানের স্ট্রোক করার ঘটনাটির কথা বলছেন তো? আমাদের সব ভাইদের ক্রিকেট খেলার অনুপ্রেরণা তিনিই ছিলেন। এমনকি মোমেনবাগে যে খেলতাম, সেই পাড়ার খেলাও বাবা মিস করতেন না। সে বছর প্রথম বিভাগে উঠে আসা রূপালী ব্যাংক খুব ভালো দল গড়ল। লিগে সেবার আবাহনীর প্রথম ম্যাচও ওদের বিপক্ষেই। আমরা দুই ভাই ওপেনিংয়ে ১৫-২০ রানের বেশি করতে পারিনি। আবাহনীও অল আউট হয়ে যায় ৬৯ রানে। জালাল ইউনুসের দুর্ধর্ষ বোলিংয়ে আমরাও প্রতিপক্ষকে চেপে ধরি। রুদ্ধশ্বাস সেই ম্যাচে আমরা শেষ পর্যন্ত ১ রানে জিতি। ওই সময়ের টেনশন নিতে না পেরে রাতেই অসুস্থ হয়ে পড়েন আব্বা। তাঁর শরীরের বাঁ পাশটা প্যারালাইজড হয়ে যায়। দুই বছরের চিকিৎসার পর অবশ্য আবার স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পেরেছিলেন তিনি। আমরা চেয়েছিলাম বাকি জীবনটা উনি খেলা দেখেই পার করে দিক। তাই ওনাকে আর কিছু করতে দিইনি।

প্রশ্ন : ছেলেদের কোন ইনিংসটা তাঁকে সবচেয়ে বেশি আনন্দ দিতে পেরেছিল?

মিশা : অবশ্যই মুনিরের ৩০০ রানের ইনিংসটি। যে ম্যাচে আমিও খেলেছি (তিন দিনের ম্যাচে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনিংসের ব্যবধানে জয়ে অবদান ছিল অফ স্পিনার মিশারও, নিয়েছিলেন ৪ উইকেট)। মুনিরের ইনিংসের প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত দেখেছেন আব্বা। ইনিংসটি খেলে এসে মুনির ওনাকে সালাম করল আর উনি কী মমতায়ই না ওকে জড়িয়ে ধরল। পত্রিকায় ছবিও ছাপা হয়েছিল। ওই ছবি দেখেই বোঝা যাচ্ছিল এর চেয়ে বড় তৃপ্তি বোধ হয় আর ওনার জীবনে পাননি।

প্রশ্ন : আপনার নিজের খেলা কোন ইনিংসটি বাবাকে সবচেয়ে বেশি তৃপ্তি দিতে পেরেছে?

মিশা : দুটি ইনিংসের কথা বলব। একটি ১৯৮৩-র বিশ্বকাপের পরপরই বাংলাদেশ সফরে আসা ভারতের ডেকান ব্লুজের বিপক্ষে খেলা ৬২ রানের ইনিংসটি। ওই গুন্ডাপ্পা বিশ্বনাথ, অংশুমান গায়কোয়াড ও রজার বিনিরা ছিলেন। শীর্ষ পর্যায়ে খেলা আমার অন্যতম সেরা ইনিংস ছিল ওটাই। সেটি যেমন দেখেছেন, তেমনি মাঠে বসে ঢাকা লিগে আমার একমাত্র সেঞ্চুরিটিও দেখেছিলেন আব্বা। কিছুতেই মনে করতে পারছি না যে কোনো দলের সঙ্গে করেছিলাম। ১৯৮৭-৮৮ সালে সম্ভবত ভিক্টোরিয়ার বিপক্ষেই। বাবা দেখে ভীষণ খুশি হয়েছিলেন।

প্রশ্ন : ডেকান ব্লুজের বিপক্ষে অফ স্পিনে গুন্ডাপ্পা বিশ্বনাথের উইকেটও নিয়েছিলেন আপনি?

মিশা : হ্যাঁ, উইকেটটা অবশ্য নিয়েছিলাম সোজা বলে। স্টাম্পিংয়ের ফাঁদে পড়েছিলেন তিনি। আমার জীবনের সেরা উইকেটও সেটিই। বলে রাখি, ওই ম্যাচে আমি অংশুমান গায়কোয়াডের উইকেটটিও নিয়েছিলাম।

প্রশ্ন : সেরা উইকেটের কথা বললেন। সেরা ইনিংসও কি ওই একই ম্যাচের ৬২?

মিশা : অন্যতম সেরা তো অবশ্যই। এ জন্যই বলছি কারণ আরেকটি ইনিংসের কথাও মনে পড়ছে খুব। সেটি ১৯৮৪-৮৫ সালের কেনিয়া সফরে। ওই সফরে একটি চার দিনের ম্যাচের সঙ্গে তিনটি ওয়ানডেও ছিল। নাইরোবির জিমখানা মাঠে চার দিনের ম্যাচে আমি খেলি ৬৬ রানের ইনিংস। ওই ম্যাচেই নান্নু (মিনহাজুল আবেদীন) প্রথম আমার সঙ্গে ইনিংস ওপেন করে। আমাদের ওপেনিং পার্টনারশিপ ছিল ৯০ রানের বেশি। জাতীয় দলে অবশ্য আরো অনেকের সঙ্গেই ওপেন করেছি। শুরুটা হয়েছিল নাজিম সিরাজীর সঙ্গে। এরপর ইউসুফ বাবু ভাইয়ের সঙ্গেই ওপেন করেছি বেশি। ওনার একটি শট তো এখনো চোখে লেগে আছে।

প্রশ্ন : কোন শটটি?

মিশা : ঢাকা স্টেডিয়ামে ওনার সঙ্গে প্রথম যে ম্যাচে ওপেন করি, সেই ম্যাচেরই ঘটনা। মাত্রই বিশ্বকাপ মাত করে আসা রজার বিনিকে (১৯৮৩-র বিশ্বজয়ী ভারতের এ বোলার নিয়েছিলেন টুর্নামেন্ট সর্বোচ্চ ১৮ উইকেট) ইনিংসের প্রথম বলেই লেগ সাইডে দুম করে ছক্কা মেরে দিয়েছিলেন। বাবু ভাই অবশ্য সব সময়ই আক্রমণাত্মক ব্যাটসম্যান ছিলেন।

প্রশ্ন : আর আপনি এর ঠিক উল্টো। আপনার ভাই মুনিরের পুরো বিপরীত। আপনি ছিলেন যাঁকে বলে একেবারে প্রথাগত ব্যাটসম্যান। কেন ওরকম হয়েছিলেন?

মিশা : তখন সীমিত ওভারের খেলা হলেও এমন একটা প্রবণতা অনেকের মধ্যেই থাকত যে উইকেটে থাকতে হবে। এখন তো অনেক পরিবর্তন এসেছে। এই সময়ে যে উইকেট আঁকড়ে থাকতে চায়, সে বাদই পড়ে যায় (হা হা হা)!

প্রশ্ন : শর্ট অব লেন্থের বল না পেলে নাকি আপনি মারতেনই না?

মিশা : হ্যাঁ, মারতামই না। তখন খেলা হতো ম্যাটে (জাতীয় চ্যাম্পিয়নশিপের খেলা শুধু ন্যাচারাল টার্ফে হতো)। ম্যাটে তো ফ্রন্টফুটে খেলার কোনো সুযোগই ছিল না। একটাই সুযোগ ছিল শর্ট বল পেলে পুল বা হুক করা। কাভার ড্রাইভ, ফ্লিক বা লেট কাট—ম্যাটে এসব শট খেলার সুযোগই ছিল না। বেশির ভাগ বোলারই ম্যাটের সুবিধা নিয়ে শর্ট বল করত। দল থেকে বলেই দেওয়া হতো নতুন বলে উইকেট দেওয়া যাবে না, বলের উজ্জ্বলতা নষ্ট করতে হবে। ৪০ ওভার হোক বা তিন দিনের ম্যাচ, বলা হতো উইকেটে থাকতে হবে। রান আসুক বা না আসুক। আগেকার ওপেনারদের প্রতি নির্দেশনাই থাকত ১০ করুক বা ২০, উইকেটে ৩০ ওভার পার করে আসতে হবে। এ জন্যই আমি হয়ে গিয়েছিলাম রক্ষণাত্মক ব্যাটসম্যান। ক্যারিয়ারের শেষ দিকে অবশ্য মনে হয়েছিল মারতেও হবে, থাকতেও হবে। কিন্তু ব্যাপারটি তত দিনে কঠিন হয়ে যায়। আমরা তো খেলা শিখেছি নিজেরা। ওসমান ভাই শেষের দিকে আবাহনীর কোচ হন। তত দিনে টেকনিক বদলানোর বয়সও ছিল না। বদলাতে গিয়ে দেখেছি হিতে বিপরীত হচ্ছে।

প্রশ্ন : ক্যারিয়ারজুড়েই আপনি ছিলেন ওপেনার। অথচ আপনার সেঞ্চুরি মোটে একটি। এটি কি সেই রক্ষণাত্মক মানসিকতার জন্যই?

মিশা : এখানে জানিয়ে রাখি আমাদের সময়ে খেলা হতো ৪০ ওভারের। আমি মনে করি আমার হয়তো ওই ক্যালিবার ছিল না সেঞ্চুরি করার মতো। সেঞ্চুরি করতে হলে শুরু থেকেই স্ট্রোক করে খেলতে হতো। আমি ৮০, ৯০ অনেক করেছি। যেহেতু আমি তুলনামূলক ধীরগতির ব্যাটসম্যান ছিলাম, তখন একটা চাপ থাকত যে ৩০ ওভার হয়ে গেছে কিন্তু মিশার এখনো ৮০! তখন রানের গতি বাড়াতে গিয়ে উইকেট দিয়ে এসেছি অনেক।

প্রশ্ন : আপনার অফ স্পিনও ছিল খুব কার্যকরী। মার খাওয়ার রেকর্ডও খুব বেশি নেই বলে জেনেছি।

মিশা : (হাসি...) হ্যাঁ, মার খাওয়ার খুব রেকর্ড নেই। আবার বলতে দ্বিধা নেই যে ক্যারিয়ারের শেষ দিকে মার খেয়েছিও। বলে রাখি আমাকে অফ স্পিনার বানিয়েছেন কিন্তু আলিউল ভাই (আবাহনীর সাবেক অধিনায়ক ও জাতীয় দলের সাবেক প্রধান নির্বাচক প্রয়াত আলিউল ইসলাম)। আর জাতীয় দলের ক্যাম্পে অফ স্পিনের গ্রিপ শিখিয়েছেন বিমানের আজহারুল ইসলাম ভাই। তখন তো আর দুসরা বলে কিছুর কথা আমরা জানতাম না। দুটোই ডেলিভারি ছিল, সোজা বল করা আর বাঁক খাওয়ানো।

প্রশ্ন : লম্বা সময় জাতীয় দলে খেলেছেন। অথচ আইসিসি ট্রফিতেই খেলেননি কখনো। কেন?

মিশা : শুধু আইসিসি ট্রফি কেন, আমি সুযোগ থাকা সত্ত্বেও খেলিনি আন্তর্জাতিক ক্রিকেটও। পড়াশোনার জন্যই খেলা হয়নি। আমাদের দেশে দন্ত চিকিৎসায় পোস্ট গ্র্যাজুয়েশন করার সুযোগ এখনো অত বেশি নেই, তখন তো আরো ছিল না। তবু আমি সুযোগ খুঁজছিলাম। ১৯৮৫-৮৬ সালে পিজি হাসপাতালে সেটি করার সুযোগও পেয়ে যাই। তখন আইসিসি ট্রফি হতো জুন মাসে। একই সময়ে ছিল আমার পরীক্ষাও। তাই ক্যাম্পে গিয়ে চিঠি দিয়ে চলে আসি। আমার পরিবর্তে ওপেনার হিসেবে গেল নুরুল আবেদীন নোবেল। এর আগে শ্রীলঙ্কায় এশিয়া কাপও খেলতে যেতে পারিনি এ জন্যই। বাংলাদেশের হয়ে তাই আন্তর্জাতিক ক্রিকেটও খেলা হয়নি আর। ১৯৮২-র আইসিসি ট্রফির ক্ষেত্রেও ব্যাপারটি একই ছিল। সরকারি চাকরির সাক্ষাৎকার দিতে হবে বলে সেবারও আইসিসি ট্রফি খেলার সুযোগ হাতছাড়া করেছি আমি।

প্রশ্ন : বোঝাই যাচ্ছে পড়াশোনায় ভীষণ সিরিয়াস ছিলেন। আপনি খুব মেধাবী ছাত্রও ছিলেন বলে জেনেছি আপনার সমসাময়িকদের কাছ থেকে।

মিশা : আমি মেধাবী ছাত্র ছিলাম, বলব না। যেটাই অর্জন করেছি, কষ্ট করে করেছি। সিরিয়াস ছিলাম। আপনারা হয়তো জানেন না, আমি ডেন্টাল কলেজে প্রফেশনাল পরীক্ষায় ফার্স্ট ক্লাস ফার্স্ট হয়েছি। অনার্সেও ফার্স্ট। পাবলিক সার্ভিস কমিশনের (পিএসসি) যে পরীক্ষা হয়েছিল, সেটাতেও আমি প্রথম হয়েছিলাম ২৫০-৩০০ জনের মধ্যে। ডাক্তারি আমার পেশা হলেও খেলা ছিল আমার নেশা। আমি পড়াশোনায় খুবই নিয়মিত ছিলাম। খেলায় যতই ব্যস্ততা থাক, আমি এর মধ্যেই কমপক্ষে দুই-তিন ঘণ্টা বইয়ে মুখ ডুবিয়ে পড়ে থাকতাম। জাতীয় চ্যাম্পিয়নশিপ খেলতে গেলেও বই নিয়ে যেতাম। সবচেয়ে বড় কথা আমি আমার সীমাবদ্ধতা জানতাম। আমার পক্ষে কতটুকু সম্ভব বা সম্ভব না। অনেকের হয়তো দুইবার পড়লেই হয়ে যেত। কিন্তু আমাকে পড়তে হতো চার-পাঁচবার।

প্রশ্ন : একটা ব্যাপার খুব লক্ষণীয় যে আপনাদের সময়ের ক্রিকেটাররা প্রায় সবাই ছিলেন উচ্চশিক্ষিত। কিন্তু এখন যখন ক্রিকেট দিন দিন এগোচ্ছে, ততই ক্রিকেটারদের মধ্যে শিক্ষার হার কমছে। এটিকে কিভাবে দেখছেন?

মিশা : দারুণ প্রশ্ন করেছেন। শিক্ষা খুব গুরুত্বপূর্ণ। বলছি না যে বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে হবে। কিন্তু একটা বেসিক এডুকেশন তো থাকতে হবে। শচীন টেন্ডুলকারের কথাই বলি। সে তো বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়েনি। কিন্তু তাঁর কথাবার্তা বা চালচলন দেখে কি মনে হয় অশিক্ষিত? এডুকেশন ব্যাকগ্রাউন্ড থাকলে একজন ক্রিকেটারের চোখ বা মাথা আরো খুলবে। পড়াশোনা করেও যে বড় ক্রিকেটার হওয়া যায়, এবি ডি ভিলিয়ার্সই এর জ্বলন্ত উদাহরণ। মানছি যে এখনকার ক্রিকেট সূচি খুব ঠাসা। কিন্তু এর মধ্যেও ইচ্ছা থাকলে পড়াশোনা করা যায়। চোখের সামনে আমাদের মুশফিকই এর দৃষ্টান্ত হয়ে আছে।

প্রশ্ন : আপনি এই যুগের ক্রিকেটার হলে কোনটিকে পেশা হিসেবে বেছে নিতেন? ক্রিকেট না ডাক্তারি?

মিশা : বাংলাদেশ আজ যে পর্যায়ে গেছে, আমি আমার বেসিক পড়াশোনাটা শেষ করতাম আগে। শেষ করে ক্রিকেটটাকে পেশা হিসেবে নিতাম। পাশাপাশি ডাক্তারি পেশায়ও কিছুটা যোগাযোগ রাখতাম, যাতে আমি হারিয়ে না যাই। ক্যারিয়ার শেষে ডাক্তারি পেশায় ফিরে যেতাম।

প্রশ্ন : সেই যুগেও ব্যাটিং ও কার্যকর অফ স্পিনের পাশাপাশি দুর্দান্ত ফিল্ডারও ছিলেন আপনি। অপেশাদার যুগে ফিল্ডিংয়েও অত সিরিয়ার হওয়ার পেছনে কোন চিন্তা কাজ করত?

মিশা : মুনির আর আমি দুজনেই কিন্তু ফিল্ডিংয়ে খুব ভালো ছিলাম। স্লিপে দাঁড়াতে খুব পছন্দ করতাম। আমরা যখন খেলতাম, শতভাগ দিতাম। নিজেদের কাপড়চোপড় নিজেরাই কিনতাম। ডাইভ দিতাম। ছড়ে গেলেও সমস্যা হতো না। কত যে হাত ছিলে গেছে! সবচেয়ে বড় কথা তখন অনেক দর্শক হতো। এটার যে অনুপ্রেরণা, তা বলে বোঝানো যাবে না। চাপ ছিল অনেক। আবাহনী-মোহামেডান ম্যাচ মানেই ঢাকা স্টেডিয়ামে ২০-২৫ হাজার লোক। আমরা রিকশায় করে অনুশীলনে বা ম্যাচ খেলতে যেতাম, সবাই আমাদের দিকে তাকিয়ে থাকত। ২০-২৫ হাজার লোকের আওয়াজই আমাদের উৎসাহিত করত।

প্রশ্ন : বলছিলেন যে রিকশায় করে গেলে লোকে আপনাদের দিকে তাকিয়ে থাকত। এখনকার ক্রিকেটাররা অনুশীলনে যায় দামি গাড়িতে চড়ে। অর্থ, বিত্ত, খ্যাতি সবই আছে ওদের। এসব দেখে কী মনে হয়, এই যুগে জন্মালেই বোধ হয় ভালো হতো?

মিশা : আসলে সব কিছু মেনে নিতে হয়। আমরা একসময় খেলেছি বলেই হয়তো আজ ক্রিকেটটা এই অবস্থায় এসেছে। মাঝেমধ্যে মনে হয় এই সময়ে জন্ম হলে হয়তো আমার অনেক ভক্ত থাকত। দেশেই শুধু নয়, দেশের বাইরেও। আমাকে নিয়ে দেশের বাইরেও কথা হতো। যেমন সাকিবকে নিয়ে হয়। কিন্তু সবাই তো সব কিছু পায় না। আমি এটা ভেবেই সবচেয়ে আনন্দিত হই যে, এই দেশের ক্রিকেটের ভিত্তিটা আমি, আমরা বা আমাদের সময়ের ক্রিকেটাররা গড়ে দিতে পেরেছি। সাকিবরা এগিয়ে নেবে আর ওদের পেছনে থেকে আমি গর্ববোধ করব এই ভেবে যে বুকে বাংলাদেশের লোগো নিয়ে আমিও একসময় খেলেছি। দেশের হয়ে খেলার চেয়ে বড় গৌরবের আর কিছু নেই। এখনকার ছেলেদের তাই বলব, বাংলাদেশের লোগো বুকে নিয়ে নামার সঙ্গে আইপিএল-বিপিএলের তুলনাই চলে না। তোমরা যত বেশি সম্ভব দেশের হয়ে খেলো।

প্রশ্ন : এই যুগের ক্রিকেটার হলে রক্ষণাত্মক ব্যাটসম্যান মিশা সময়ের সঙ্গে নিজেকে মানিয়ে নিত কিভাবে?

মিশা : এই যুগে খেললে হয়তো আমি ওই মিশা থাকতাম না। এই যুগে থাকলে হয়তো আমি অন্য মিশা হতাম। এখন ক্রিকেটের যে চাহিদা, ওই মিশাকে দিয়ে তো চলত না! (হাসি...) হয়তো তখন আমি অন্যরকমভাবে চেষ্টা করতাম। আক্রমণাত্মক হতাম। আমাদের শেখানোর লোকও থাকত। আমার ফিটনেস দেখাশোনা করারও লোক থাকত। খুঁত কোথায়, টেকনিকের সমস্যা ধরিয়ে দেওয়ার লোকও থাকত। সে ক্ষেত্রে ওই মিশা হয়তো আরেক তামিম ইকবাল হতে পারত।

প্রশ্ন : ক্রিকেট-জীবন নিয়ে কোনো আফসোস আছে?

মিশা : অবশ্যই আছে। ক্রিকেট-জীবনে আমার দুটো আফসোস। একটি আইসিসি ট্রফি খেলতে না পারা। আরেকটি আন্তর্জাতিক ম্যাচ না খেলা। আইসিসি ট্রফি তখন আমাদের কাছে বিশ্বকাপের মতো। ইংল্যান্ডের মতো জায়গায় খেলা হয়। রানিরও সাক্ষাৎ পাওয়া যায়। সেই সুযোগ পেয়েও নিলাম না। এর চেয়ে বড় আফসোস আর কি হয়! কিন্তু কী আর করা যাবে! সবার তো সব কিছু হয় না। আমার পড়াশোনাটা হয়েছে। পড়াশোনার জন্যই সুযোগ পেয়েও জাতীয় দলে অত বেশি খেলা হয়নি, যত বেশি খেলার কথা ছিল। ১৯৮৬-র এশিয়া কাপও খেলা হয়নি পড়াশোনার জন্যই।

প্রশ্ন : সেই পড়াশোনা আরো এগিয়ে নিতে ক্রিকেট ক্যারিয়ারও শেষ করে চলে যান বাইরে?

মিশা : হ্যাঁ, ১৯৯১ সালে জাপানে পিএইচডি করতে চলে যাই ক্রিকেট ক্যারিয়ারে ফুলস্টপ দিয়ে। সেখানে আমার গবেষণার বিষয় ছিল মুখের ক্যান্সার। এই সুযোগে বলে রাখি, দন্ত চিকিৎসক হলেও আমি কিন্তু দাঁত-টাত তুলি না। যে বিষয়ে গবেষণা করে এসেছি, এখানে সেই মুখের ক্যান্সারের চিকিৎসাই করি আমি।

প্রশ্ন : সফল ক্রিকেটার মিশার মুখের ক্যান্সার চিকিৎসার কিছু সাফল্যও শুনতে চাই।

মিশা : আসলে আমাদের দেশে আর্থসামাজিক অবস্থা খারাপ যাদের, তাদেরই মুখের ক্যান্সারটা বেশি হয়। কারণ শিক্ষা নেই তো। তার ওপর পান-সুপারি-জর্দা খাওয়ার বদভ্যাস। আবার রোগী খুব কষ্ট না পেলে ডাক্তারের কাছে আসে না। একমাত্র কারণ ডাক্তারদের ওপর তাদের বিশ্বাস কম। আমাদের দেশের রোগীরা প্রচণ্ড অসহায়। আমার ৩০-৪০ বছরের অভিজ্ঞতা বলে খুব বিপদে না পড়লে মানুষ ডাক্তারের কাছে আসে না। যখন আসে তখন আমাদের করার কিছুই থাকে না। ক্যান্সারের চিকিৎসা করি এই হাসপাতালে (উত্তরা ৮ নম্বর সেক্টরের সাপ্পোরো ডেন্টাল কলেজ ও জেনারেল হাসপাতাল)। ক্যান্সারের শনাক্তকরণের কাজটা আমি করি। এবং সার্জনরা আমার নির্দেশনা অনুযায়ীই অস্ত্রোপচার এবং চিকিৎসাটা করে। অনেক রোগী আছে এখান থেকে চিকিৎসা নিয়ে গিয়ে পাঁচ-ছয় বছর বেঁচে আছে। শতকরা ২০-৩০ ভাগ রোগী ক্যান্সারের ধাক্কা সামলে টিকে আছে ভেবে ভালো লাগে খুব।

প্রশ্ন : নিজের পেশাগত জীবন নিয়েও তাহলে আপনি খুব খুশি?

মিশা : অবশ্যই। পেশাগত জীবন নিয়ে আমি খুব গর্বিতও। ১৯৮২-৮৩ থেকে পেশাগত জীবন শুরু করি ডেন্টাল কলেজে। ১৯৯৬-তে দেশে ফিরে সেই চাকরিটাই চালিয়ে যাই। যেকোনো কারণেই হোক ২০০১-এর পর আর সরকারি চাকরি করতে পারিনি। ছেড়ে দিই। শিক্ষক হিসেবে নিজের পুরো দায়িত্বটি পালন করতে পারছিলাম না। ছেড়ে দিয়ে আমরা চার বন্ধু বনানীতে একটা ক্লিনিক করি। সাপ্পোরো ডেন্টাল কেয়ার। এরপর মনে হয়েছে এই পেশাটা আমাদের দেশে যত দূর এগোনোর কথা তত দূর এগোয়নি। এরপর আমরা চারজন মিলে ভালো শিক্ষা দেওয়ার জন্য সাপ্পোরো ডেন্টাল কলেজ চালু করি।

প্রশ্ন : এখন কি শিক্ষক হিসেবে নিজের পুরো দায়িত্ব পালন করতে পারছেন?

মিশা : চেষ্টা করি এটাই শেখানোর যে ভালো ডাক্তার হতে চাইলে আগে ভালো মানুষ হতে হবে। ডাক্তার তো অনেক আছে, তবে ভালো ডাক্তার সবাই নয়। আমি যদি রোগীর সমস্যাই অনুভব করতে না পারি, তাহলে তো ভালো চিকিৎসা দিতে পারব না। ছাত্রদের আমি সেভাবেই শিক্ষা দিই। ২০০১ থেকে এখানে আছি। চেষ্টা করে যাচ্ছি ছেলেদের সেই শিক্ষাটা দিতে। ওরা যাতে ভালো ডাক্তার হওয়ার পাশাপাশি ভালো মানুষও হয়।

প্রশ্ন : এবার আপনার ব্যক্তিগত জীবন নিয়েও একটু ধারণা চাই।

মিশা : ব্যক্তিগত জীবনে আমার এক ছেলে প্রদীপ আদিত্য জামান। ওর বয়স এখন ২৭ বছর। ম্যানচেস্টার ইউনিভার্সিটি থেকে গ্র্যাজুয়েশন করেছে। সেখান থেকে মাইক্রোবায়োলজিতে মাস্টার্সও করে এখন ওখানেই একটি হাসপাতালে চাকরি করছে। আর আমার স্ত্রী ফৌজিয়া করিম একটি স্কুলে শিক্ষকতা করছে। এই তো!

প্রশ্ন : সবশেষে জানতে চাই, আপনার সময়ের কোন ক্রিকেটাররা এই যুগে খেললেও তারকাখ্যাতি পেতেন?

মিশা : লিপু (গাজী আশরাফ হোসেন), ইউসুফ বাবু, রফিকুল আলম, বাদশা ভাই (জাহাঙ্গীর শাহ) এবং নান্নু। এঁরা নিঃসন্দেহে বিশ্বমানের ক্রিকেটার হতো। এই সময়ে খেললে লিপু হতো অন্যতম সেরা অধিনায়কদের একজনও।

প্রশ্ন : এত কথা অথচ জানাই হলো না যে বাংলাদেশের এখনকার ক্রিকেটারদের মধ্যে আপনার পছন্দের শীর্ষে কারা?

মিশা : মাশরাফি আর মুশফিক। ওরা খুব সিনসিয়ার। ওরা ক্রিকেটটা হৃদয় দিয়ে খেলে। ওরা অনেক ডিসিপ্লিনড বলেও আমি মনে করি।

এমএ/০৮:৩০/২২ ডিসেম্বর

সাক্ষাৎকার

আরও সাক্ষাৎকার

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে