Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, শনিবার, ১৪ ডিসেম্বর, ২০১৯ , ৩০ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

গড় রেটিং: 3.0/5 (65 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)


আপডেট : ১১-২৩-২০১৭

আওয়ামী লীগে দ্বন্দ্ব-বিবাদ বিএনপিতে দুর্বল প্রার্থী

আওয়ামী লীগে দ্বন্দ্ব-বিবাদ বিএনপিতে দুর্বল প্রার্থী

নরসিংদী-৫ (রায়পুরা) আসনে একাধিক মনোনয়নপ্রার্থী থাকায় অভ্যন্তরীণ মতানৈক্য প্রকট হয়ে উঠেছে আওয়ামী লীগে। বর্তমান এমপি রাজিউদ্দিন আহমেদ রাজুর বিরুদ্ধে প্রতিদ্বন্দ্বিতার ঘোষণা দিয়েছেন তারই ভাই সালাউদ্দিন আহমেদ বাচ্চু। বিএনপিতে অবশ্য এ সমস্যা নেই; বরং সম্ভাব্য প্রার্থীদের সাংগঠনিক দুর্বল অবস্থানই বড় সমস্যা এই দলে।

আওয়ামী লীগের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত রায়পুরা আসনে আবারও নৌকা প্রতীক পেতে চাইছেন রাজিউদ্দিন আহমেদ রাজু। তিনি দলের কেন্দ্রীয় উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য। তাকে টেক্কা দিতে চাইছেন দলের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির অন্যতম সদস্য অ্যাডভোকেট এ বি এম রিয়াজুল কবীর কাওছার। তিনি দলের কার্যনির্বাহী সংসদের সদস্য। আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী সংসদের সদস্য আবুল হাসানাত আবদুল্লাহর ভাগিনা ব্যারিস্টার তৌফিকুর রহমান, যুবলীগের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক হারুন অর রশিদ ও কৃষক লীগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট সামসুল হকও মনোনয়ন দৌড়ে রয়েছেন।

বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশীদের মধ্যে রয়েছেন দলের কেন্দ্রীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক সহসম্পাদক প্রকৌশলী আশরাফ উদ্দিন বকুল, দলের জেলা সহসভাপতি জামাল আহমেদ চৌধুরী, উপজেলা সভাপতি অ্যাডভোকেট এ কে নেছার উদ্দিন, সাবেক সভাপতি এম এন জামান, সাধারণ সম্পাদক আবদুর রহমান খোকন ও সরকারি কবি নজরুল কলেজ ছাত্র সংসদের সাবেক ভিপি আলী রেজাউর রহমান রিপন। উপজেলা জাতীয় পার্টির সভাপতি প্রকৌশলী এম এ ছাত্তারও জোটগত ও দলীয় মনোনয়নের প্রত্যাশায় সক্রিয় রয়েছেন।

আওয়ামী লীগের কয়েকজন নেতাকর্মীর দৃষ্টিতে, দলীয় ঘরানার রাজনীতিতে দীর্ঘ সময় একচেটিয়া প্রাধান্য থাকলেও বর্তমানে কিছুটা পিছিয়ে পড়েছেন রাজিউদ্দিন আহমেদ রাজু। বিশেষ করে অ্যাডভোকেট এ বি এম রিয়াজুল কবীর কাওছার দলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য হওয়ার পর থেকে এক ধরনের অস্বস্তিতে পড়েছেন বর্ষীয়ান এই রাজনীতিক। দলের একটি অংশ এখন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদুল্লাহ হল ছাত্র সংসদের সাবেক পাঠকক্ষ সম্পাদক অ্যাডভোকেট এ বি এম রিয়াজুল কবীর কাওছারের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। দুই ধারায় বিভক্ত দলের নেতাকর্মীরা তাদের পছন্দের নেতার পক্ষে নির্বাচনী প্রচার চালাচ্ছেন। সাংগঠনিক কার্যক্রমও পৃথকভাবে পালন করছেন তারা।

এ অবস্থায় সাম্প্রতিক সময়ে নির্বাচনী এলাকায় শোডাউন করে আলোচনায় এসেছেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও ড. শামসুজ্জোহা হল ছাত্র সংসদের সাবেক ভিপি সালাউদ্দিন আহমেদ বাচ্চু। তিনি বলেন, তার বড় ভাই রাজিউদ্দিন আহমেদ রাজুর স্বেচ্ছায় রাজনীতি ছেড়ে দিয়ে নতুনদের সুযোগ দেওয়া উচিত। তিনি আরও বলেন, দলের অনেক নেতাকর্মীই তার সঙ্গে রয়েছেন। তারাই তাকে প্রার্থী হিসেবে দেখতে চাইছেন। 

রাজিউদ্দিন আহমেদ রাজু তার ভাইয়ের মনোনয়ন পাওয়ার প্রত্যাশা সম্পর্কে বলেন, আওয়ামী লীগ বড় দল। তাই অনেক নেতাকর্মীই মনোনয়নের আশা করতে পারেন। তবে এ বিষয়কে কেন্দ্র করে নেতাকর্মীদের মধ্যে বিভেদ তৈরির অপচেষ্টা দলের জন্য মঙ্গলজনক নয়। তিনি জানান, রায়পুরার মানুষের ভালোবাসায় সিক্ত হয়ে তিনি চারবার এমপি নির্বাচিত হয়েছেন; মন্ত্রী হয়েছেন। মানুষ এখন স্বস্তিতে আছে। তার প্রত্যাশা, তিনি রায়পুরার যে উন্নয়ন করেছেন, তার ধারাবাহিকতা রক্ষায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাকে আবারও মনোনয়ন দেবেন। রাজিউদ্দিন আহমেদ রাজুর ছেলে রাজীব আহমেদ পার্থ তার বাবার পক্ষে নির্বাচনী প্রচার কার্যক্রম চালাচ্ছেন। 

যুবলীগ ও ছাত্রলীগের সাবেক কেন্দ্রীয় সদস্য অ্যাডভোকেট এ বি এম রিয়াজুল কবীর কাওছার বলেন, তিনি তরুণদের প্রতিনিধিত্ব করছেন। এ আসনের প্রবীণদের সঙ্গেও তার সখ্য রয়েছে। বিশেষ করে এ আসনের সাবেক এমপি ও জেলা গভর্নর আফতাব উদ্দিন ভূঁইয়ার নাতি হওয়ায় তিনি বাড়তি সুবিধা পাচ্ছেন। দলের বেশিরভাগ নেতাকর্মীই তার সঙ্গে। এসব কারণে তিনি দলের মনোনয়ন প্রত্যাশা করছেন।

রায়পুরা থানা ছাত্রলীগের প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক হারুন অর রশিদ বলেছেন, স্থানীয় নেতাকর্মী ও সমর্থকরা এ আসনে তাকেই আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে দেখতে চাইছেন। 

রায়পুরা উপজেলা নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে গতবারের দলীয় প্রার্থী অ্যাডভোকেট সামসুল হক বলেছেন, নৌকা প্রতীক নিয়ে উপজেলা নির্বাচনে লড়লেও বর্তমান এমপি রাজিউদ্দিন আহমেদ রাজু দুর্বৃত্তায়নের মাধ্যমে তার বিজয় ছিনিয়ে নিয়েছিলেন। রায়পুরায় মানুষ এখন তার নেতৃত্ব প্রত্যাশা করছে। 

তবে বিএনপির অনেক নেতাকর্মীই মনে করছেন, যোগ্য প্রার্থীর অভাবে এ আসনে জিততে পারছে না দলটি। তাদের মতে, উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি এম এন জামান সাংগঠনিক ভিত মজবুত করে তুললেও বর্তমানে তাতে চিড় ধরেছে। বর্তমান সভাপতি অ্যাডভোকেট এ কে নেছার উদ্দিন অবশ্য দলের সাংগঠনিক ভিত্তি শক্ত করার উদ্যোগ নিয়েছেন। তাই আগামী নির্বাচনে তার দলীয় মনোনয়ন পাওয়ার সম্ভাবনাও বাড়ছে। তিনি নিয়মিত গণসংযোগ করছেন।

যুবদলের সাবেক কেন্দ্রীয় সহসভাপতি অ্যাডভোকেট এ কে নেছার উদ্দিন জানান, তিনি একবার দলের মনোনয়ন পেয়েছিলেন। আগামী নির্বাচনেও মনোনয়নপ্রত্যাশী। ভোটাররাও তাকে নির্বাচনে প্রত্যাশা করছেন। তিনি বলেন, দলের নীতিনির্ধারকরা তার ওপর আস্থা রেখেছেন বলেই তিনি উপজেলা বিএনপির দায়িত্ব পেয়েছেন। দলের হাইকমান্ড তাকে মনোনয়ন দেবে বলে তিনি বিশ্বাস করছেন। 

প্রকৌশলী আশরাফ উদ্দিন বকুল বলেন, এলাকায় তার বেশ গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে। নিশ্চয়ই দলীয় চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ও সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান তাকেই দলের মনোনয়ন দেবেন। ঢাকা মহানগর মুক্তিযোদ্ধা দলের সাধারণ সম্পাদক এম এন জামানও মনে করছেন, তিনিই দলের মনোনয়ন পাবেন।

ঢাকা মহানগর বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আলী রেজাউর রহমান রিপন বলেন, এলাকাবাসী তাকে আগামী নির্বাচনে প্রত্যাশা করছে। তাই তিনি দলের মনোনয়ন চাইছেন।

এদিকে জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় নেতা প্রকৌশলী এম এ ছাত্তার বলেন, গত নির্বাচনেও তিনি আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন মহাজোটের মনোনয়নপ্রত্যাশী ছিলেন। তবে এবার দল এককভাবে নির্বাচনে লড়লে তিনিই জাতীয় পার্টির মনোনয়ন পাবেন। মহাজোটগত নির্বাচন হলেও তিনি মনোনয়ন চাইবেন। 

এমএ/১২:০৫/২৩ নভেম্বর

নরসিংদী

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে