Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, রবিবার, ১৫ ডিসেম্বর, ২০১৯ , ১ পৌষ ১৪২৬

গড় রেটিং: 2.9/5 (17 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)


আপডেট : ০২-০৮-২০১৩

দৌলতদিয়ায় মাসে ২৫ শিশু যৌন পেশায় জড়িত হচ্ছে


	দৌলতদিয়ায় মাসে ২৫ শিশু যৌন পেশায় জড়িত হচ্ছে

রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া যৌনপল্লীতে প্রায় ৪ হাজার যৌনকর্মীর বসবাস। এর মধ্যে রয়েছে ৫ শতাধিক শিশু যৌনকর্মী। আর শিশুদের অধিকাংশই দালালের মাধ্যমে যৌন পেশা গ্রহণে বাধ্য হচ্ছে।

অভিযোগ পেলে স্থানীয় থানা পুলিশ মাঝে-মধ্যে অভিযান চালিয়ে দুই-একজন করে উদ্ধার করে বলে জানা গেছে।

গোয়ালন্দ ঘাট থানা সূত্রে জানা গেছে, দৌলতদিয়া পল্লীর প্রভাবশালী বাড়িওয়ালীদের রয়েছে একটি বিশাল দালাল চক্র। তারা দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে কিশোরী মেয়েদের নানা প্রলোভনে ফুসলিয়ে এখানে এনে মোটা অংকের টাকায় বিক্রি করে দিচ্ছে।  যৌনপল্লীর একাধিক সূত্রমতে, প্রতি মাসে গড়ে ২৫ জন করে শিশু মেয়েকে এনে যৌন পেশায় বাধ্য করা হচ্ছে।

চলতি বছরের ২৩ জানুয়ারি যৌনপল্লীর প্রভাবশালী বাড়িওয়ালী সালমীর বাড়ি থেকে এক সঙ্গে ৬ জন কিশোরী মেয়েকে উদ্ধার করে পুলিশ। সালমী দালালদের মাধ্যমে ওই সব মেয়েদের বিভিন্ন স্থান থেকে এনে দীর্ঘদিন ধরে জোর করে দেহ ব্যবসার করে অর্থ আয় করছে।

উদ্ধার হওয়া কিশোরীদের সঙ্গে থানা হেফাজতে কথা বলে জানা যায়, যৌনপল্লীতে তাদের মত কয়েকশ কিশোরী মেয়ে আছে। যাদের দিয়ে বাড়িওয়ালীরা ব্যবস্যা করে হাতিয়ে নিচ্ছে বিপুল পরিমাণ অর্থ।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, অপ্রাপ্ত বয়স্ক মেয়েদের এ পেশায় লিপ্ত করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। তারপরও স্থানীয় প্রশাসন ও এনজিও নজরদারীর মধ্যে দৌলতদিয়া যৌনপল্লীতে ৫ শতাধিক কিশোরী মেয়েকে দিয়ে দেহ ব্যবস্যা করানো হচ্ছে। বিনিময়ে সংশ্লিষ্ট বাড়িওয়ালীরা হাতিয়ে নিচ্ছে প্রতিদিন হাজার হাজার টাকা।

যৌনপল্লীতে শিশুদের দিয়ে ঝুঁকিপূর্ণ দেহ ব্যবস্যা বন্ধে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছে মুক্তি মহিলা সমিতি, অবহেলিত মহিলা ও শিশু উন্নয়ন সংস্থা, পায়াকট বাংলাদেশ।

তাদের কার্যক্রম নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন দৌলতদিয়া ইউপি চেয়ারম্যান নুরুল ইসলাম মন্ডল। তিনি বলেন, মুক্তি মহিলা সমিতি এখানে কিভাবে শিশু সুরক্ষার কাজ করছে। দাতা সংস্থার লাখ লাখ টাকা খরচ করে শুধু কাগজে কলমে ঠিক রাখা হয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক যৌনকর্মী জানান, প্রশাসনের সঙ্গে ঐক্যবদ্ধ হয়ে এখানে কর্মরত এনজিওগুলো যদি তাদের দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করতো তাহলে একজন শিশু যৌনকর্মীও থাকতো না।
 
এ ব্যাপারে মুক্তি মহিলা সমিতির নির্বাহী পরিচালক মর্জিনা বেগম বলেন, “যৌনপল্লীতে থাকা শিশু যৌনকর্মীদের উদ্ধারে আমরা সব সময় চেষ্টা করছি। ইতোমধ্যে আমরা বেশ কয়েকজন শিশুকে উদ্ধার করে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার হাতে তুলে দিয়েছি।”

গোয়ালন্দ ঘাট থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) নাজমুল নিশাত জানান, অভিযোগ পেলে অপ্রাপ্ত বয়স্ক মেয়েদের উদ্ধারে পুলিশ নিয়মিত অভিযান চালায়। এ যাবত অনেক মেয়েকে উদ্ধার ও জড়িত বাড়িওয়ালীদের আটক করে মামলা দেওয়া হয়েছে।

রাজবাড়ী

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে