Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, শনিবার, ১৪ ডিসেম্বর, ২০১৯ , ২৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

গড় রেটিং: 3.1/5 (112 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ১১-২১-২০১৭

অস্ট্রেলিয়ার অ্যাডিলেডে বনভোজনে আনন্দ আয়োজন

তাজাম্মুল হোসেন


অস্ট্রেলিয়ার অ্যাডিলেডে বনভোজনে আনন্দ আয়োজন

অ্যাডিলেড, ২১ নভেম্বর- বাঙালি বা বাংলাদেশি যাই বলি, কমবেশি ভোজনরসিক। বাহারি সুস্বাদু খাবারের আয়োজনে তাদের কোনো ক্লান্তি নেই। শুধু দরকার উপলক্ষ। তারা পৃথিবীর যে প্রান্তেই থাকুন, এই ভোজন যোকোনো আয়োজন বা অনুষ্ঠানে তা অন্যরকম এক বৈশিষ্ট্য বহন করে নিয়ে যায়।

অস্ট্রেলিয়ার অ্যাডিলেডে বসবাসরতরাই কেন বা এর ব্যতিক্রমী হবেন! চার দেয়ালের অভ্যন্তরে সারা বছর এই ভোজন আয়োজন চললেও উন্মুক্ত আকাশের নিচে, নদীর ধারে বাতাসের দোলে এই ভোজন আয়োজনে আনন্দের মাত্রা যেন অতুলনীয়। শুধু কী ভোজন, সঙ্গে অনুষঙ্গ হিসেবে যোগ হয় সংস্কৃতির নানা পসরা।

এ রকম একটি অনুষ্ঠান হয়ে গেল অ্যাডিলেডে গত ১৮ নভেম্বর শনিবার সাবকার (South Australian Bangladeshi community Association) আয়োজনে ‘বাৎসরিক বনভোজন ২০১৭’ নামে। সর্বোচ্চ সংখ্যক উপস্থিতির এই আয়োজন অ্যাডিলেড প্রবাসীদের মনে থাকবে অনেক দিন।


অ্যাডিলেড এখন চলছে বসন্তকাল। তারপরও মাঝে মাঝে দাবদাহ দিনের দেখা মিলে। অস্ট্রেলীয় এই শহরটিও তাপমাত্রার অনলে সিদ্ধ কম হয় না। এরই মাঝে দিন বুঝে, আবহাওয়ার পূর্বাভাস ঘাঁটাঘাঁটি করে এই দিনটি বেছে নেওয়া হয় বনভোজনের। বলে নেওয়া ভালো, এখানে ঘণ্টাভিত্তিক পূর্বাভাস মেলে এবং তা মিলেও যায়।

করণীয় যা, তা হলো ঝোপ বুঝে কোপ মারা। মানে দিনের অমুক সময়ে বৃষ্টি চিন্তা নেই, শেডের আশপাশে থাকলেই হলো বা রোদ চড়া আউটডোর গেমস বা ঘোরাঘুরি কিছুটা বুঝে শুনে বা সূর্যালোক সুরক্ষার সদ্ব্যবহার। বনভোজনের স্থান নির্ধারণ করা হয় প্রায় এক শ কিলোমিটার দূরের শহর মারি ব্রিজে (Murray Bridge) বিখ্যাত মারি (Murray River) নদীর একেবারেই ধারে স্টার্ট রিজার্ভে।


যা হোক, এই আয়োজনের প্রস্তুতি চলে মাসখানিক ধরে। একটা অনুষ্ঠান সফল আয়োজনে কত সময়, পরিশ্রম, ঘাম ঝরে, তা যারা এর আয়োজনে জড়িত থাকেন তারাই বোঝেন। উপরন্তু তা যদি হয় স্বেচ্ছাসেবকদের স্বেচ্ছাশ্রমে, তা হলে ভয়াবহ কঠিন। কেননা এ ব্যস্ত প্রবাস জীবনে প্রতি ঘণ্টা ডলারে রূপান্তরিত করার সুযোগ বাদ দিয়ে বিনে পয়সার এ শ্রমে যারা আসেন তারা নিশ্চিত ভাবেই মহান। তবে সুখের বিষয় সাবকা সর্বদাই ভলান্টিয়ার সমৃদ্ধ, আরও সমৃদ্ধ নানা পেশার পেশাজীবীদের অংশগ্রহণে।


এ দিন বেলা ওঠার সঙ্গে সঙ্গে যার যার ডেরা মানে বাসা-বাড়ি থেকে রওনা হয়ে জড়ো হতে থাকেন পিকনিক স্পটে। অপেক্ষা প্রাতরাশের। খুব বেশি সময় না নিয়েই কাটারিং গাড়ির আগমন। নাশতা চলে খাসির মাংস ও ডাল সহযোগে নান-রুটি, আরও যোগ হয় বুন্দিয়া ও চা। নাশতা পর্ব শেষে শুরু হয় নানা ক্রীড়া আয়োজন। এ আয়োজনে থাকে ছোটদের দৌড় যা আবার বয়সভিত্তিক তিন ভাগে বিভক্ত। চলে পুরুষ-নারীদের হাঁড়ি ভাঙা প্রতিযোগিতা। ভাবিদের অংশগ্রহণে জনপ্রিয় বালিশ পাচার প্রতিযোগিতা বেশ আনন্দের খোরাক জোগায়। এরই মাঝে হাজির হয় নানা সাজে সজ্জিত হয়ে ছোট-ছোট ছেলেমেয়েরা।

যেমন খুশি তেমন সাজো প্রতিযোগিতায় সুপারম্যান, ব্যাটম্যান থেকে মিস বাংলাদেশ, ডানাওয়ালা প্রজাপতি, রাজা-মহারাজা, বাঁদর এমনকি প্রতিবন্ধীদের কথা স্মরণে নিয়ে প্রতিবন্ধীও সাজে একজন। মাদের ব্যস্ত সময় কাটে বাচ্চাদের এ সাজ-সজ্জায়। অনেককেই অংশ নেন কার্ড খেলায়। পুরস্কার না থাকলেও সারা দিন চলে ক্যারম, টেবিল-টেনিস খেলা।

দুপরের ভোজনে খেলাধুলায় সাময়িক বিরতি। ভোজন চলে কাচ্চি বিরিয়ানি, ডিম আর কাবাব দিয়ে সঙ্গে সালাদ এবং কোমল পানীয় সহযোগে। বিরতির পর শুরু হয় প্রীতি ফুটবল খেলা। এরই মাঝে যারা বড়শি প্রতিযোগিতায় গিয়েছিলেন তারা বড় বড় ব্যাগ ভর্তি কার্প মাছ নিয়ে হাজির। মাছগুলো যারা নিতে চেয়েছেন তারা নিজেরা ভাগাভাগি করে যার যার ঝোলায় ভরেছেন। নানা হাস্যরস, দৌড়ঝাঁপ ও আড্ডাবাজিতে দুপুর গড়িয়ে বিকেল। এ সময় স্ন্যাক্স হিসেবে পরিবেশন করা হয় গরম শিঙারা, লাড্ডু ও চা। খেলাধুলা এই নানা আয়োজনগুলো পরিচালনা করেন সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ তারিক, সহ সাধারণ সম্পাদক নাজমুস সাদাত, অর্থ সম্পাদক তৌহিদুল ইসলাম, জনসংযোগ সম্পাদক তাজাম্মুল হোসেন, সহসাংস্কৃতিক সম্পাদক রিফফাত নাজনীন, স্টুডেন্ট বিষয়ক সম্পাদক মো. আসাদুজ্জামান এবং অনেক ভলান্টিয়ার। পিকনিক স্পটের দায়িত্বে ছিলেন সাংস্কৃতিক সম্পাদক মাহেরিনা জামান সায়েম।


দিনের শেষ আয়োজন ছিল নানা প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণ এবং আকর্ষণীয় র‍্যাফেল ড্র। প্রবাসী যাদের বাবা-মা বেড়াতে এসে এই আয়োজনে অংশ নিয়েছেন তাদের ক্রেস্ট উপহার দেওয়া হয়। ভলান্টিয়ারদেরও সম্মাননা দেওয়া হয় এ সময়।

পুরস্কারগুলো নানা বিজয়ীদের মাঝে একে একে তুলে দেন সাবকার নির্বাহী কমিটি ও উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্যরা। খেলাধুলা অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন সাধারণ সম্পাদকসহ সদস্য মাহবুব সিরাজ তুহিন ও নাছির উদ্দিন। বক্তব্য দেন সাবকার চেয়ারপারসন আবদুল মান্নান ও আয়োজনের কো-অর্ডিনেটর ভাইস-চেয়ারপারসন অনিক শিকদার। বনভোজন নিয়ে অনুভূতি ব্যক্ত করেন উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য ড. নিজামুল ইসলাম, ড. নাকিবুল ইসলাম প্রমুখ। তারা এ আয়োজনের ভূয়সী প্রশংসা করেন।

দিন শেষে মারি নদীর আলোতে সূর্যের শেষ আলোর প্রতিফলনে ভেসে ওঠা লাল আভা জানান দিচ্ছিল এবার ফিরে যেতে হবে। ফিরে যাওয়া হোক ক্ষতি নেই, এ সুখ স্মৃতি ফিরে ফিরে আসবে বারে বারে প্রতি বছরে নানা প্রাণের সম্মিলনে।

আর/১২:১৪/২১ নভেম্বর

অষ্ট্রেলিয়া

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে