Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, সোমবার, ১৯ আগস্ট, ২০১৯ , ৩ ভাদ্র ১৪২৬

গড় রেটিং: 3.0/5 (65 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ১১-২০-২০১৭

‘ছিটমহলবাসীর শিক্ষা ও চাকুরির ব্যবস্থা জরুরি’

মাহবুব আলম


‘ছিটমহলবাসীর শিক্ষা ও চাকুরির ব্যবস্থা জরুরি’

ছিটমহলের মানুষগুলো দীর্ঘ ৬০ বছর রাষ্ট্রহীন ছিল। তাই এ মানুষগুলোকে সমাজের মূল স্রোতে ফেরানোর জন্য শিক্ষা ও চাকুরির ক্ষেত্রে বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত বলে মনে করেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়েল ইতিহাস বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মোহাম্মদ গোলাম রব্বানী।

রবিবার (১৯ নভেম্বর) জাবিতে অনুষ্ঠিত বইমেলায় তার প্রকাশিত ‘বাংলাদেশ-ভারত ছিটমহল: অবরুদ্ধ ৬৮ বছর’ বইটির মোড়ক উন্মোচন শেষে গ্রন্থের গবেষণার আলোকে ছিটমহলের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কথা বলেছেন তিনি। 

এ সময় গবেষক মোহাম্মদ গোলাম রব্বানীর কাছে ছিটমহল গড়ে উঠার ইতিহাস জানতে চাইলে বলেন, ১৯৪৭ সালে ভারত পাকিস্তান ভাগের মধ্য দিয়ে এ ছিটমহলগুলো ভারত এবং পাকিস্তানের সীমানা দ্বারা উভয় দেশটিতে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। তখন এ ছিটমহলে যে মানুষগুলো আটকা পড়ে তারা রাষ্ট্রহীন মানুষে পরিণত হয়। অর্থাৎ ভারতীয় ছিটমহলের মানুষ তৎকালীন পাকিস্তানে আটকা পড়ে। আর পাকিস্তানের মালিকানাধীন মানুষ ভারতে আটকা পড়ে। এর ফলে এ মানুষগুলো নাগরিক অধিকার থেকে বঞ্চিত মানুষে পরিণত হয়।
 
এ অবস্থাটা অব্যাহত থাকে ১৯৪৭ থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত। ২০১৫ সালে এসে ভারত এবং বাংলাদেশের মধ্যে স্থল সীমান্ত চুক্তি বাস্তবায়ন এবং ছিটমহল বিনিময় হয়। এ ছিটমহল বিনিময়ের মাধ্যমে ৫২ হাজার মানুষকে উভয় দেশ নাগরিক অধিকার ফিরিয়ে দেয়। এর মধ্য দিয়ে ছিটমহলের এসব মানুষ ৬৮ বছরের নাগরিকত্বহীন জীবনের বঞ্চনা থেকে রক্ষা পায়। 

মোহাম্মদ গোলাম রব্বানীর কাছে তার বইয়ের গুরুত্বপূর্ণ বিষয় সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি জানান, ছিটমহলের একেবারে প্রাচীন ইতিহাস, ব্রিটিশ আমলে ছিটমহলের অবস্থা, ভারত পাকিস্তানের বিভাজনে ছিটমহলের কী অবস্থা হয়েছিল এবং সর্বশেষ ১৯৭৪ সালে বাংলাদেশ-ভারতের মাঝে চুক্তি, সে চুক্তির বাস্তবায়ন নিয়ে আলোচনা উঠে এসেছে গ্রন্থটিতে। এছাড়া এ দীর্ঘ সময়ে ছিটমহলকে কেন্দ্র করে ভারত এবং বাংলাদেশের মাঝে যে সম্পর্ক ছিল সে সম্পর্কের চুলচেরা বিশ্লেষণও করা হয়েছে। 

অন্যদিকে এ ছিটমহলবাসীর রাষ্ট্রহীন যাপিত জীবনের যে কঠিন বাস্তবতা সে বাস্তবতা তুলে ধরা হয়েছে। সর্বশেষ ছিটমহল বিনিময়ের যে প্রক্রিয়া তা আলোচনা করা হয়েছে। এবং এ ছিটমহল বিনিময়ের পর বর্তমান ছিটমহলবাসীর অবস্থাও তুলে ধরা হয়েছে।  

এ গবেষকের কাছে বর্তমান ছিটমহলবাসীর অবস্থা জানতে চাইলে তিনি জানান, ২০১৫ সালের ছিটমহল বিনিময়ের মধ্য দিয়ে কিছু নতুন সংকটের সৃষ্টি হয়েছে। ভারত এবং বাংলাদেশের ছিটমহলবাসীদের সাথে কথা বলে যেটা মনে হয়েছে, সেটা আমি আমার বইয়ের সর্বশেষ অধ্যায় ‘ভুক্তভোগীর বয়ান’ নামে তুলে ধরেছি।

বর্তমানে সরকার ছিটমহলবাসীর উন্নয়নে আর কী করতে পারে এমন প্রশ্নে এ গবেষক বলেন, প্রাথমিকভাবে তাদের পুনর্বাসনের জন্য বাংলাদেশ সরকার আন্তরিকভাবে চেষ্টা করেছে বলে আমি মনে করি। তবে ছিটমহলের মানুষগুলো দীর্ঘ ৬০ বছর রাষ্ট্রহীন ছিল। তাই এ মানুষগুলোকে সমাজের মূলস্রোতে ফেরার জন্য শিক্ষা এবং চাকুরির ক্ষেত্রে বিশেষ সুযোগ প্রদান করা দরকার। এছাড়াও আমি আমার গবেষণায় দেখেছি, সাবেক ছিটমহলবাসীর মধ্যে অনেক যুবক আছে যারা শিক্ষিত কিন্তু বেকার। তাদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থায় সরকারকে নজর দেওয়া উচিৎ।
 
মাঠ পর্যায়ে দীর্ঘদিন গবেষণা করার পর এ বইটি লেখেছেন মোহাম্মদ গোলাম রব্বানী। তিনি ১৯৭৮ সালে জামালপুর জেলায় জন্মগ্রহণ করেন। বর্তমানে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক হিসেবে কর্মরত আছেন। এছাড়া তিনি ভারতের জওহরলাল নেহেরু বিশ্ববিদ্যালয়ে পিএইচডি করছেন। দক্ষিণ এশিয়ার ভূ-রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ইতিহাস, সীমান্ত মানুষের সমাজ ও জীবন-জীবিকা তাঁর গবেষণার বিষয়। তিনি Bangladesh-India Enclave issue: political and socio-economic perspective বিষয়েও গবেষণা করেছেন। গবেষণা প্রবন্ধ উপস্থাপনের জন্য জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বিভিন্ন সেমিনার-সম্মেলনেও অংশগ্রহণ করছেন এ গবেষক। 

সূত্র:ব্রেকিংনিউজ.কম.বিডি

এমএ/১১:৫৫/১৯ নভেম্বর

সাক্ষাতকার

আরও লেখা

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে