Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, শনিবার, ২৫ মে, ২০১৯ , ১০ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬

গড় রেটিং: 3.0/5 (22 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ১১-১৮-২০১৭

আমলাতন্ত্রের রাজনীতিকরণ দেশের জন্য বড় বাধা: ড. ছায়েদুর রহমান

মাহবুব আলম


আমলাতন্ত্রের রাজনীতিকরণ দেশের জন্য বড় বাধা: ড. ছায়েদুর রহমান

ড. মুহাম্মদ ছায়েদুর রহমান, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) লোক প্রশাসন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ও প্রাক্তন সভাপতি। তিনি জার্মানির বিখ্যাত হাইডেলবার্গ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ‘রাজনীতি ও প্রশাসনের সম্পর্ক’ বিষয়ে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেছেন। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের নিউইর্য়ক থেকে ‘Politics and Administration in South Asia: A Study of Politicization of Bureaucracy’ বিষয়ে নতুন একটি গবেষাণ গ্রন্থ প্রকাশিত হয়েছে। এ গ্রন্থটি দেশে এবং বিদেশে বেশ জনপ্রিয়তা লাভ করেছে। উক্ত গ্রন্থের আলোকেই দক্ষিণ এশিয়া তথা বাংলাদেশের রাজনীতি ও প্রশাসন সম্পর্কে বিস্তারিত কথা হয়েছে এক সাক্ষাৎকারে। সাক্ষাৎকারটি নিয়েছেন মাহবুব আলম।

প্রশ্ন: সম্প্রতি ‘Politics and Administration in South Asia: A Study of Politicization of Bureaucracy’ বিষয়ে যে গবেষণা গ্রন্থটি প্রকাশিত হয়েছে তার আলোকে দক্ষিণ এশিয়ার রাজনীতি ও প্রশাসন সম্পর্কে এবং সেই সাথে গ্রন্থটির গবেষণার প্রেক্ষাপট সম্পর্কে কিছু জানতে চাই।

ড. মুহাম্মদ ছায়েদুর রহমান: আসলে দক্ষিণ এশিয়ার রাজনীতি ও প্রশাসন বিষয়ক আমার যে গ্রন্থটি প্রকাশিত হয়েছে তাতে আমি রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক অনেক তথ্য-উপাত্ত তুলে ধরেছি। গত দুই দশক যাবৎ দক্ষিণ এশিয়ার প্রশাসন সম্পর্কে একটি অভিযোগ যে, আমলাতন্ত্রের অতিমাত্রায় রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতার কারণে দক্ষিণ এশিয়ার প্রশাসন নিরপেক্ষতা হারিয়েছে। আমি সেই বিষয়টি প্রাচীনকাল থেকে বর্তমান পর্যন্ত তথ্য-উপাত্তের ভিত্তিতে দেখানোর চেষ্টা করেছি। 

আমার গবেষণায় উঠে এসেছে, প্রাচীন কাল থেকে আজ পর্যন্ত কোন সময়ই দক্ষিণ এশিয়ার আমলাতন্ত্র রাজনীতি মুক্ত ছিল না। উপনিবেশ পূর্ব রাষ্ট্র কাঠামোতে আমলাতন্ত্র ছিল রাজতন্ত্রের নিয়ন্ত্রণে আর উপনিবেশিক কাঠামোয় তারা নিজেরাই ছিলেন শাসক। কারণ ভারতীয় উপমহাদেশে ১৯১৯ সালের পূর্ব পর্যন্ত Indigenous Politicians-দের রাষ্ট্র পরিচালনায় অংশগ্রহণ করার কোন সুযোগ ছিল না। রাষ্ট্রযন্ত্র পরিচালিত হতো Political Bureaucrats দ্বারা। তাদেরকে বলা হতো Steel frame of Bureaucracy. তবে তারা অপেক্ষাকৃত নিরপেক্ষ ছিল। কিন্তু কালক্রমে সেই Steel frame of Bureaucracy এখন Partisan Bureaucracy তে কিভাবে রূপান্তরিত হল সেই বিষয়টি তুলে ধরার চেষ্টা করেছি।

প্রশ্ন: আমরা জানি আপনার গবেষণার বিষয় মূলত ‘রাজনীতি-আমলাতন্ত্র সম্পর্ক এবং স্থানীয় সরকার ও সুশাসন’ নিয়ে। তাই রাজনীতি ও আমলাতন্ত্রের সম্পর্কে নিয়ে আপনার মতামত জানতে চাই।

ড. মুহাম্মদ ছায়েদুর রহমান: আসলে রাজনীতি আমলাতন্ত্র সম্পর্ক হলো রাজনীতি কিংবা প্রশাসন বিজ্ঞানের মূল আলোচ্য বিষয়। বিষয়টিকে দুইভাবে ব্যাখ্যা করা যায়। তাত্ত্বিক এবং রাষ্ট্র ও প্রশাসন কাঠামোর বাস্তবতার প্রেক্ষিতে।

তাত্ত্বিকভাবে দেখলে রাজনীতি ও প্রশাসন মূলত দুটি পৃথক সত্ত্বা এবং এদের কর্ম পরিসরও পৃথক। অন্তত রাজনীতি প্রশাসন সম্পর্কের ক্লাসিক্যাল তত্ত্ব তাই বলে। এই তত্ত্বের মূল বক্তব্য হলো রাজনীতি ও প্রশাসন পৃথক দুটি সত্ত্বা এবং প্রথমটি নীতি প্রণয়ন বা সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী আর অন্যটি নীতি বা সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নকারী।
 
ক্লাসিক্যাল তাত্ত্বিকগণ এই সম্পর্কের ধারণাকে বলে থাকেন Dichotomous Relationship যেখানে আমলাতন্ত্র কাজ করবে রাজনীতিবিদদের নিয়ন্ত্রণে থেকে কিন্তু আমলাতন্ত্র থাকবে রাজনীতি মুক্ত বা নিরপেক্ষ Free from Partisan Politics। আমি আমার গবেষণায় এই সম্পর্ককে দেখার চেষ্টা করেছি Symbiotic Model of Relationship এর আলোকে। 

তবে আমলাতন্ত্রের রাজনীতিকরণটা সেখানে একটি বড় বাধা। কিন্তু সমাজ বাস্তবতার কারণে এই সম্পর্কের ধরনের ভিন্নতা দেখা যায়। যেমন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতি-আমলাতন্ত্রের সম্পর্কের সাথে যুক্তরাজ্য, জার্মানি কিংবা ফ্রান্সের ভিন্নতা রয়েছে। ফলে অন্যান্য বিভিন্ন তত্ত্বের আবির্ভাব ঘটেছে। তার মধ্যে অন্যতম হলো Relationship op Mutuatily  বা Mutual-Interaction between Politics and Administration.

প্রশ্ন: আপনার আলোচনায় যেটা বুঝতে পারলাম যে, রাজনীতি-আমলাতন্ত্রের সম্পর্কের ক্ষেত্রে আমলাতন্ত্রের রাজনীতিকরণ একটা বড় বাধা। কিন্তু প্রশ্ন হলো- পৃথিবীর এমন কোন দেশ কি আছে যেখানে আমলাতন্ত্রের রাজনীতিকরণ নেই?

ড. মুহাম্মদ ছায়েদুর রহমান: আপনি ঠিকই বলেছেন। পৃথিবীর কোন দেশ নেই যেখানে আমলাতন্ত্রের রাজনীতিকরণ নেই। কোন দেশই এই দুষ্টচক্র থেকে মুক্ত নয়। তবে পার্থক্যটা হলো সাংবিধানিক স্বীকৃতির। পশ্চিমা দেশগুলোতে যেখানে আমলারা রাজনীতিতে জড়াবেন কিংবা রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণ করবেন সেটা সাংবিধানিক ভাবেই স্বীকৃত। সেখানে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোতে সাংবিধানিকভাবে তাদের বিরত রাখা হয়েছে। কিন্তু মজার ব্যাপার হলো বাস্তবে তারা রাজনীতিবিদদের চেয়েও রাজনীতিক। সমস্যাটা সেখানেই।

প্রশ্ন: তাহলে আমলাতন্ত্রের রাজনীতি বা রাজনীতিকরণকে আপনি কিভাবে বিশ্লেষণ করবেন?

ড. মুহাম্মদ ছায়েদুর রহমান: দেখুন, আমলাতন্ত্রের রাজনীতি আর আমলাতন্ত্রের রাজনীতিকরণ কিন্তু দুটি পৃথক বিষয়। কোন Particular Issue তে কিংবা নীতি নির্ধারণী পর্যায়ে আমলাদের মধ্যে রাজনীতি থাকতে পারে। সেটি ভিন্ন বিষয়। কিন্তু আমলাতন্ত্র যথন তার প্রশাসনিক আদর্শ বা কাঠামো ভেঙে সরাসরি রাজনীতিকরণের মধ্যে ঢুকে যায় সেটি বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়ায়। যে কোন রাজনৈতিক সরকারের পক্ষেই তা সমস্যা তৈরি করে। কারণ, আমলাতন্ত্র তার নিরপেক্ষতা হারায়। বিষয়টি অনেক বেশি Complicated and Argumentive. তবে সাধারণত দৃষ্টিতে আমলাতন্ত্র যথন নিরপেক্ষতা হারায় এবং মেধা, যোগ্যতা ও দক্ষতার স্থলে রাজনৈতিক বিবেচনা যখন নিয়োগ, পদোন্নতি ও পদায়নের ক্ষেত্রে বিবেচিত হয় তখন আমলাতন্ত্রের রাজনীতিকরণ হয়েছে বলে ধরে নেওয়া হয়।

প্রশ্ন: তাহলে আমলাতন্ত্রের রাজনীতিকরণ থেকে বিরতকরণের বা মুক্ত থাকার কোনও যৌক্তিকতা বা কারণ আছে কি?

ড. মুহাম্মদ ছায়েদুর রহমান: আমি আগেই বলেছি যে, পৃথিবীর কোন দেশই এটা থেকে পুরোপুরি মুক্ত নয়। আর আমলাতন্ত্রকে রাজনীতিকরণ থেকে বিরত রাখার কোন বিশেষ পদ্ধতিও নেই। কারণ আমলাতন্ত্র হলো রাষ্ট্রের প্রধান দক্ষ, যোগ্য ও মেধাবী জনশক্তি যারা রাজনীতিবিদদের রাষ্ট্রীয় কাজে সহায়তা করে। তবে তাদের নিরপেক্ষতা বা নিরপেক্ষভাবে দায়িত্ব পালনকরাটা রাষ্ট্রের জন্য এবং জনগণের জন্য মঙ্গলজনক। তবে এর বাস্তবায়নটা অত্যন্ত জটিল। তবে আমলাতন্ত্র নিরপেক্ষ থেকে Maintain করলে তা কিছুটা নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। কিন্তু এই Symbiotic Relationship এর মধ্যে রাজনীতিবিদদের বোকা বানানো কিংবা বিপদে ফেলা, বিশেষ বিবেচনা, কিংবা কাজের ক্ষেত্রে Blurring of the Boundary, legal rational standards এই বিষয়গুলো বিশেষভাবে নিয়ন্ত্রণে রেখে এবং সেই সাথে রাজনীতিবিদ ও আমলা যথন নিজেদের Self-Identity-কে রক্ষা করে সহযোগিতা ও প্রতিযোগিতার মাধ্যমে নীতি প্রক্রিয়ায় অংশ নেয় তখনই কেবল রাজনীতিমুক্ত প্রশাসন সম্ভব। এক কথায় রাজনীতিবিদ ও আমলাদের পারস্পরিক সহযোগিতা ও প্রতিযোগিতার মাধ্যমে কাজ করা উচিৎ।

প্রশ্ন: আপনাকে ধন্যবাদ।

ড. মুহাম্মদ ছায়েদুর রহমান: আপনাকেও ধন্যবাদ।

এমএ/ ১০:০০/ ১৮ নভেম্বর

সাক্ষাৎকার

আরও সাক্ষাৎকার

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে