Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, সোমবার, ২০ মে, ২০১৯ , ৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬

গড় রেটিং: 2.8/5 (25 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)


আপডেট : ১১-১৭-২০১৭

রোহিঙ্গাদের স্বভূমে ফিরে যেতে হবে

রোহিঙ্গাদের স্বভূমে ফিরে যেতে হবে

প্রশ্ন : ফিলিপাইনে শেষ হয়ে গেল আসিয়ানের বার্ষিক সম্মেলন। সেখানে আসিয়ান নেতাদের সঙ্গে বসেছিলেন আপনিও। আসিয়ান বিষয়ে আপনার দৃষ্টিভঙ্গি কী?

অ্যান্তোনিও গুতেরেস : বিশ্বের অন্য অংশের মতো এশিয়ার বেলায়ও আমি দৃঢ়প্রত্যয়ী যে, বহুজাতিকতাবাদ ও আঞ্চলিক অখণ্ডতা সমৃদ্ধি অর্জনের জন্য অপরিহার্য। একই সঙ্গে মানবাধিকার ও আইনের শাসনের অগ্রগতির জন্য এগুলো খুবই প্রয়োজনীয় বিষয়।

আমি বিশ্বাস করি, আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তা রক্ষায় আঞ্চলিক সংগঠনগুলো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। আসিয়ান হতে পারে বহুপক্ষীয় সহযোগিতার ক্ষেত্রে একটি ইতিবাচক মাধ্যম। জাতিসংঘ-আসিয়ান সমন্বিত অংশীদারিত্বের আওতায় শান্তি ও নিরাপত্তা, টেকসই উন্নয়ন, মানবাধিকার, মানবিক সহায়তামূলক কাজ ও বিবিধ সুরক্ষায় আমরা নিজেদের কাজকে আরও দৃঢ় করে তুলতে পারি।

আমি সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে সমুদ্রসীমা নিয়ে বিরোধসহ নিজেদের মধ্যকার সব ধরনের বিরোধ-তিক্ততা-মতানৈক্য শান্তিপূর্ণ উপায়ে আন্তর্জাতিক আইনের আলোকে সমাধান করে ফেলার আহ্বান জানিয়েছি। একই সঙ্গে যে কোনো ধরনের উসকানি ও অপ্রয়োজনীয় বিরোধ বৃদ্ধি পরিহার করার আহ্বানও জানিয়েছি। যার পরিপ্রেক্ষিতে দক্ষিণ চীন সাগরে সম্প্রতি কোড অব কন্ডাক্টের ফ্রেমওয়ার্ক গ্রহণের বিষয়টিকে ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবেই দেখছি।

কোরীয় উপদ্বীপের পরিস্থিতি কেবল ওই অঞ্চলেই নয়, বরং গোটা বিশ্বেই ক্রমাগত উদ্বেগের একটি কারণে পরিণত হয়েছে। আসিয়ান রিজিওনাল ফোরামের সংলাপের মাধ্যমে আসিয়ানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের উত্তেজনা প্রশমনের প্রচেষ্টাকে আমি স্বাগত জানাই। মিয়ানমারের রাখাইন (সাবেক আরাকান) রাজ্যের সংকটের প্রশ্নে আমি গভীরভাবে উদ্বিগ্ন, এ সংকট আসিয়ান এবং আরও বিস্তৃত অঞ্চলের অস্থিতিশীলতার অনেক নিদর্শন বহন করছে। ফলে মানবিক সহায়তার সুযোগসহ আসিয়ানভুক্ত দেশগুলোর গঠনমূলক পদক্ষেপকে জাতিসংঘ স্বাগত জানায়। আমি আশা করি, আসিয়ান জোটের কর্মপ্রচেষ্টা আরও গভীর হবে কারণ, এটাই সময় কাজ করার।

প্রশ্ন : যে কোনো সংকটে যোগাযোগ একটি গুরুত্বপূর্ণ নির্ধারক হিসেবে কাজ করতে পারে। জাতিসংঘ ও উত্তর কোরিয়ার বিষয় বিবেচনায় জাতিসংঘের জন্য একটি বাস্তবসম্মত ধারণা কি এটি হতে পারে যে উভয়পক্ষকে আলোচনার টেবিলে আনতে সংস্থাটি কোনো দেশ বা ব্যক্তিকে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে নিয়োগ করবে?

অ্যান্তোনিও গুতেরেস : উত্তর কোরিয়া পারমাণবিক ও ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার মাধ্যমে কোরীয় উপদ্বীপ, ওই অঞ্চল, এমনকি তার বাইরেও উত্তেজনা ও মহা-অস্থিতিশীলতা তৈরি করেছে। যেমনটি আমি বারবার জোর দিয়ে বলেছি যে, এ পরিস্থিতির সমাধান কেবল রাজনৈতিকভাবেই হতে পারে। বিপরীতে সামরিক অ্যাকশন এমন মাত্রায় ধ্বংস ডেকে আনতে পারে যা কাটিয়ে উঠতে কয়েক প্রজন্ম লেগে যাবে। এমন অনেক পরামর্শ এসেছে এ পরিস্থিতিতে যেন আমি মধ্যস্থতা করি! আমি তখনই কোনো কাজের জন্য প্রস্তুত থাকি, যখন সেটি কার্যকর বলে মনে করি। আর এটা কেবল তখনই হতে পারে, যখন সব পক্ষ একমত হয়।

প্রশ্ন : এ অবস্থায় উভয়পক্ষ দুর্ভাগ্যজনক কিছু ঘটিয়ে ফেলতে পারে- এমনটি কীভাবে আমরা এড়াতে পারি?

অ্যান্তোনিও গুতেরেস : আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, নিরাপত্তা পরিষদের ঐকমত্য খুবই জরুরি- এ ধরনের ঐকমত্য কূটনৈতিক সংযোগের সুযোগ তৈরি করে দেয়, যে সুযোগ ভুল যোগাযোগ ও ভুল হিসাব-নিকাশের মনোভাব অবশ্যই প্রতিরোধ করতে পারে।

প্রশ্ন : গত গ্রীষ্ম থেকে অসংখ্য রোহিঙ্গা শরণার্থী বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে। এ সংকট সমাধানে কী ধরনের সহযোগিতার প্রয়োজন?

অ্যান্তোনিও গুতেরেস : এসব নিপীড়িত মানুষের হৃদয়বিদারক ভোগান্তি লাঘবে জাতিসংঘ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। আমি মনে করি, আগস্টের শেষ দিক থেকে পালিয়ে যাওয়া লাখো শরণার্থীর জন্য বাংলাদেশের জনগণ ও সরকার সর্বোচ্চ মহানুভবতা দেখিয়েছে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের উচিত রোহিঙ্গা শরণার্থী ও তাদের আশ্রয়দাতা দেশ- উভয়ের প্রতি সহমর্মিতা ও সংহতি প্রকাশ করা।

বাংলাদেশে পালিয়ে যাওয়া এসব মানুষের স্থায়ীভাবে, স্বেচ্ছায়, মর্যাদার সঙ্গে ও নিরাপত্তার অধিকারসহ নিজেদের বাড়িতে ফিরে যেতে সমর্থ হতে হবে। রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে জাতিসংঘের সাবেক মহাসচিব কফি আনান কমিশনের প্রত্যয়ন ও নাগরিকত্ব সংক্রান্ত সুপারিশ বাস্তবায়নসহ তাদের স্বেচ্ছায় ফিরে যাওয়ার একটি পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য জাতিসংঘ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

আমি বিশ্বাস করি, এ শরণার্থীরা নিরাপত্তা নিয়ে মিয়ানমারে তাদের বাড়িতে শান্তিতে ফিরে যেতে সমর্থ হতে হবে এবং যেখানে আরেকটি সহিংসতা তৈরি হবে না। রোহিঙ্গা সংকটের মূল সমস্যা হল রাষ্ট্রহীনতা ও এর সঙ্গে জড়িত বৈষম্য দীর্ঘায়িত হওয়া। জাতিবিদ্বেষ ও সহিংসতা উসকে দেয়ার কারণে মিয়ানমারের নেতাদের অবশ্যই নিন্দা করতে হবে এবং বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মধ্যকার উত্তেজনা লাঘবের পদক্ষেপ নিতে হবে। তাদের অবশ্যই রাখাইনে সামরিক অভিযান বন্ধ করতে হবে এবং সেখানে মানবিক সহায়তা পৌঁছানোর পথ নির্বিঘ্ন করতে হবে।

প্রশ্ন : দুর্যোগের ক্ষেত্রে যেসব দেশের প্রস্তুতি বা মোকাবেলা করার সক্ষমতা একেবারে কম, প্রাকৃতিক দুর্যোগে তাদের ওপর বড় ধরনের প্রভাব পড়ার বিষয় জাতিসংঘের সাম্প্রতিক একটি রিপোর্টে দেখা গেছে। এশিয়ার দেশগুলোর কোন ধরনের বৈশিষ্ট্যের কারণে আমাদের চিন্তিত হওয়া উচিত এবং দুর্যোগঝুঁকি অর্থায়ন বিষয়ে আপনার দৃষ্টিভঙ্গিগুলো কী?

অ্যান্তোনিও গুতেরেস : আকার, অবস্থান ও অর্থনীতির বৈশিষ্ট্যের কারণে ক্ষুদ্রদ্বীপে গড়ে ওঠা দেশগুলো তীব্র দুর্যোগ ঝুঁকির চ্যালেঞ্জের মধ্যে রয়েছে। এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের ভানুয়াতু, টোঙ্গা ও ফিজি সুনির্দিষ্টভাবে তীব্র ঝুঁকির মুখে রয়েছে।

আমি সম্প্রতি তীব্রমাত্রার হারিকেন ইরমা ও মারিয়ার পর ক্যারিবিয়ান দ্বীপ সফর করেছি। সেখানে আমি এমন মাত্রার ধ্বংসলীলা দেখেছি যা জীবনে এর আগে কখনও দেখিনি। আমাদের প্রস্তুতি কেবল সনাতন যন্ত্রপাতিতেই সীমাবদ্ধ থাকলে চলবে না। এ জন্য প্রয়োজন নতুন যন্ত্রপাতি ও আর্থিক ব্যবস্থাপনা, যা মূলত দুর্যোগের পর পরিস্থিতিকে আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনার মতো কাঠামো নির্মাণের কাজ করবে। প্রতিটি দুর্যোগের জন্য ভিন্ন ঝুঁকি প্রোফাইল রয়েছে। যেমন জাপান, চীন ও ইন্দোনেশিয়ার জন্য সুনামির ঝুঁকি সর্বোচ্চ। অন্যদিকে বাংলাদেশ, ফিলিপাইন ও অন্য দেশের বেলায় ঝুঁকি হল গ্রীষ্মমণ্ডলীয় ঘূর্ণিঝড়ের। আর মিয়ানমার, লাওস ও কম্বোডিয়ার বেলায় ঝুঁকি রয়েছে বন্যার।

প্রশ্ন : আপনি কি আত্মবিশ্বাসী যে ২০৩০ সালের মধ্যে অর্জনের জন্য নির্ধারণ করা টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা- এসডিজি পূরণ করা যাবে এবং কোন্ কোন্ পয়েন্টে এশিয়াকে এখনও কাজ করতে হবে?

অ্যান্তোনিও গুতেরেস : আমি আশাবাদী, এসডিজি লক্ষ্যমাত্রা ২০৩০ সালের মধ্যে এশিয়া ও বিশ্বের অন্য সব প্রান্তেই অর্জন করা যাবে। তিন বছর সময় নিয়ে আন্তঃসরকারি একটি প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে এসডিজি আলোর মুখ দেখেছে, যার অর্থ হচ্ছে রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানদের শুরু করা প্রত্যয়নের মধ্য দিয়ে এসডিজি অনুমোদিত হয়েছে। যেখানে রাজনৈতিক ইচ্ছা আছে সেখানে উন্নতির গতিবেগও আছে।

২০৩০ সালের এসডিজি এজেন্ডা বিভিন্ন দেশের সরকার, নাগরিক সমাজ, বেসরকারি খাত, শিক্ষা খাত, নগর কর্তৃপক্ষ, তরুণ সমাজ ও অন্যরা নিজ নিজ শক্তি ও সামর্থ্যসহ অভূতপূর্ব একটি দৃশ্যের মধ্য দিয়ে পরিকল্পনা গ্রহণ ও বাস্তবায়নের লক্ষ্যে যাত্রা শুরু হয়েছে। গত কয়েক দশকব্যাপী বৈশ্বিক দারিদ্র্য দূরীকরণের পথে উল্লেখযোগ্য অবদান রেখেছে এশিয়া। আমি আত্মবিশ্বাসী, এমন অগ্রগতি সামনের দিকে আরও বেশি হারে হবে। এশিয়াসহ সব জায়গায় আমরা চ্যালেঞ্জ দেখছি; কিন্তু আমি বিশ্বাস করি, এসব চ্যালেঞ্জই উন্নয়নের জন্য সুযোগ হয়ে আসবে।

দ্য ডিপ্লোম্যাট থেকে সাক্ষাৎকারটি অনুবাদ  করেছেন- সাইফুল ইসলাম

এমএ/১১:৪০/১৭ নভেম্বর

সাক্ষাৎকার

আরও সাক্ষাৎকার

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে