Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, শনিবার, ২১ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ , ৫ আশ্বিন ১৪২৬

গড় রেটিং: 3.0/5 (23 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)


আপডেট : ১১-১০-২০১৭

‘রোহিঙ্গা ইস্যু পুঁজি করে ক্ষমতায় থাকার চেষ্টা করবে আ’লীগ’

মাহমুদুল হাসান


‘রোহিঙ্গা ইস্যু পুঁজি করে ক্ষমতায় থাকার চেষ্টা করবে আ’লীগ’

আতাউর রহমান ঢালী, বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা কাউন্সিলের অন্যতম সদস্য। ছাত্র জীবনে প্রগতিশীল ছাত্র সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্র মৈত্রীর প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক ছিলেন তিনি। ১৯৮০ সালের ৬ ডিসেম্বর সংগঠনটির জন্ম হয়। ১৯৮৪ সাল পর্যন্ত তিনি সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন।

এক সময়ে পাড়ি দেন যুক্তরাষ্ট্রে। দেশে ফিরে ২০১৬ সালের ১৭ এপ্রিল গুলশান কার্যালয়ে বেগম খালেদা জিয়ার হাতে ফুলের তোড়া দিয়ে বিএনপিতে যোগ দেন এক সময়ের প্রভাবশালী এই ছাত্রনেতা।

বর্তমানে রোহিঙ্গা সংকট, বর্তমান রাজনীতি, সামনের জাতীয় নির্বাচন নিয়ে খোলামেলা পরিবর্তন ডটকম’র সাথে কথা বলেছেন বিএনপি নেতা আতাউর রহমান ঢালী। রাজধানীর পল্টনের নিজ রাজনৈতিক কার্যালয়ে তার সাক্ষাতকার নিয়েছেন পরিবর্তন ডটকম’র জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক মাহমুদুল হাসান।

রোহিঙ্গা ইস্যুকে কিভাবে দেখছেন?

বার্মা সরকার তার নিজস্ব স্বার্থে জাতিগত নিপীড়ণ চালাচ্ছে। আমরা (বিএনপি) বার্মার রাজনীতি নিয়ে কথা বলতে চাই না। তবে বার্মা সরকার রোহিঙ্গাদের ওপর যে নির্যাতন চালাচ্ছে তা চরম মানবিক পরিপন্থী কাজ। আবার এটা রাজনৈতিক ইস্যুও। কারণ রোহিঙ্গা ইস্যু বাংলাদেশের রাজনীতিতে সুদূরপ্রসারী প্রভাব পড়বে। যদি এ জনগোষ্ঠীকে বার্মা সরকার ফিরিয়ে না নেয়, তাহলে আমাদের দেশের ভারসাম্য নষ্ট হবে।

রাজনীতিতে কিভাবে প্রভাব পড়বে?

সম্পদ লুণ্ঠনের জন্য পরাশক্তি ভারত, চীন আজকে যেভাবে বার্মা সরকারকে সমর্থন দিচ্ছে, এটা অমানবিক। এর প্রভাব আমাদের দেশেও পড়বে। এটা নিয়ে আমরা শঙ্কিত। রোহিঙ্গারা ভিন্ন দেশের ভিন্ন টেডিশনের। মুসলমান হলেই এক জাতি হয়ে যায় না। তারা তো আমাদের দেশের নাগরিকত্ব পাবে না। রিফিউজি হিসেবে মর্যাদা পাবে। সেক্ষেত্রে তারা আমাদের সোসাইটির সঙ্গে মিশবে, যাবে আসবে। ফলে সামাজিক ভারসাম্যও নষ্ট হবে।

সরকার তো রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে দেয়ার ব্যাপারে তৎপরতার কথা বলছেন তাহলে…

ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের কাছে দেশে-জাতি কখনই প্রধান নয়। উনারা দেশের স্বার্থ বিক্রি করে হলেও নিজেদের স্বার্থ রক্ষা করতে চায়। সেক্ষেত্রে রোহিঙ্গা ইস্যুটাকে পুঁজি করে ক্ষমতায় থাকার চেষ্টা করবে। সরকার পরাশক্তির সঙ্গে হাত মিলিয়ে রোহিঙ্গা ইস্যুতে বার্মা এবং বাংলাদেশের সেনাবাহিনী একসঙ্গে কাজ করার ঘোষণা দিয়েছিল। যাতে এখানে রোহিঙ্গা প্রবেশ করতে না পারে। এটা ছিল বাংলাদেশ সরকারের প্রস্তাব। এর অর্থ কি দাঁড়ায়, বার্মা সরকারের অমানবিক অত্যাচারকে তারা সমর্থন করছে।

সরকার তো রোহিঙ্গাদের পাশে দাঁড়িয়েছে…

সরকার এখন যা করছে এটা আসলে উপরে উপরে। যে সাহায্যের কথা বলছে, এটা জনগণের চাপে, কারণ জনগণ রোহিঙ্গাদের পক্ষে। বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া শুরুতেই রোহিঙ্গা ইস্যুতে বিবৃতি দিয়ে তাদের পাশে থাকার কথা বলেছেন। বিএনপি মানবিক বলেই দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাসের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল রোহিঙ্গাদের ত্রাণ দিতে গিয়েছিল। কিন্তু সরকার তা করতে দেয়নি। এর অর্থ হচ্ছে সরকার রাজনৈতিক ফায়দা নিতে চায়। কিন্তু এটি জাতীয় সমস্যা, এখানে সরকারের উচিৎ ছিল সকল রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আলাপ করে সমাধানের পথ বের করা। সরকার তা না করে এক তরফাভাবে তাদের মত করে তারা বার্মা সরকারের পক্ষে দাঁড়িয়েছে।

চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতে সামনের জাতীয় নির্বাচন নিয়ে কি ভাবছে বিএনপি?

আওয়ামী লীগ যত যা কিছুই বলুক না কেন, তাদেরকে একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের ব্যবস্থা করতেই হবে। গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের ব্যবস্থা হলে বিএনপি অংশগ্রহণ করবে এবং সরকার গঠন করবে এ ব্যাপারে আমরা নিশ্চিত। কারণ জনগণ বিএনপির সঙ্গে আছে।

বিগত দিনে বিএনপির আন্দোলনে জনগণ সমর্থন করেনি, তারপরও কেন মনে হলো জনগণ আপনাদের সঙ্গে আছে...

রাজপথ নামলেই আন্দোলন হয় না, এর বাইরেও সামজিক আন্দোলন হচ্ছে। আপনি দেখবেন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কিভাবে সরকারের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে সাধারণ মানুষ। তাই কেউ জানে না কখন এর বিস্ফোরণ ঘটবে।

ক্ষমতাসীনরা বলছে সংবিধানের আলোকেই নির্বাচন হবে- সেক্ষেত্রে আপনাদের অবস্থান কি হবে…

কোনো নীল নকশার নির্বাচনে বিএনপি অংশগ্রহণ করবে না। আমাদের অবস্থান পরিস্কার, একটি নিরপেক্ষ অবস্থা ছাড়া কোনো ধরনের নীল নকশার নির্বাচন মেনে নেয়া হবে না।  

নিরপেক্ষ নির্বাচন আদায়ের সামর্থ কী বিএনপির আছে...

২০১৪ সালে ৫ জানুয়ারি নির্বাচনে ১৫৩টি আসনে নির্বাচনই হয়নি। বাকিগুলো ৫ ভাগ লোক উপস্থিত হয়েছিলেন। এটাকে কোনো নির্বাচন বলা চলে না। কিন্তু আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করে দেশ পরিচালনা করছে। জোর করে ক্ষমতায় টিকে আছে। বিশ্বের বহু দেশে সামরিক ও স্বৈরাচার সরকার জোর করে ক্ষমতায় থাকে। ইতিহাস থেকে দেখা গেছে, তারা কখনেই ক্ষমতায় চিরস্থায়ী হয়নি। বর্তমানে আমাদের দেশেও জোর করে সরকার ক্ষমতায় আছে, বলেই ছলছাতুরি করে আরেকটি নির্বাচন দিতে চায়। কারণ তাদের জনমত নেই। জনগণ যদি তাদের পক্ষে থাকতো তাহলে সুষ্ঠু এবং নিরপেক্ষ নির্বাচনের ব্যবস্থা করতো। আওয়ামী লীগ নিশ্চিত সুষ্ঠু নির্বাচন হলে তারা হেরে যাবে বিএনপির সরকার গঠন করবে। সেই ভয়ে তারা আজকে কারচুপি নীল নকশার আশ্রয় নিচ্ছে।

নির্বাচনকে সামনে নিয়ে বিএনপি কতটা ঐক্যবদ্ধ?

বিএনপি সব সময় ঐক্যবদ্ধ। গত ৮-১০ বছরে এহেন চক্রান্ত নেই যা করা হয়নি। তারপরও বিএনপি বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে ঐক্যবদ্ধ আছে। কারো কোনো চক্রান্ত সফল হয়নি, আগামী দিনেও হবে না।

খালেদা জিয়াসহ দলের শীর্ষ নেতাদের নামে বিভিন্ন মামলা চলমান, আলোচনায় আছে যদি শীর্ষ নেতাদের ‘সাজা’ হয় তাহলে...

যখন যে পরিস্থিতি আসবে তখন দেখা যাবে। তখন বিবেচনা করা হবে। রাজনীতিতে যদি বলে কিছু নেই। আমাদের নেত্রীকে জেলে রেখে আরেকটা ভোটারবিহীন নির্বাচন করা সম্ভব হবে না। বার বার ঘুঘু ধান খেতে পারবে না।

এতক্ষণ সময় দেয়ার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ।

আপনাকেও ধন্যবাদ।

এমএ/০৮:৫৬/১০ নভেম্বর

সাক্ষাৎকার

আরও সাক্ষাৎকার

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে