Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, শুক্রবার, ২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ , ১৫ ফাল্গুন ১৪২৬

গড় রেটিং: 2.9/5 (54 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ০১-২৬-২০১৩

কুয়েতে আ’লীগের সা. সম্পাদক হাবিবুর রহমান গ্রেফতার


	কুয়েতে আ’লীগের সা. সম্পাদক হাবিবুর রহমান গ্রেফতার

কুয়েত, ২৬ জানুয়ারি- কুয়েতে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ’র সাধারণ সম্পাদক ও বাংলাদেশ কুয়েত চেম্বার অব কমার্সের সভাপতি হাবীবকে বিভিন্ন অপরাধের অভিযোগে ১৭ জানুয়ারী কুয়েত পুলিশ গ্রেপ্তার করে। হাবীবকে কুয়েত প্রবাসী বাংলাদেশীরা প্রতারক হাবীব হিসেবেই ভালো করে চিনে। তার এই গ্রেপ্তার কিছুটা হলেও ভুক্তভোগী প্রবাসীরা সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছে। হাবিবের বিরুদ্ধে খোদ তাঁর দলের সর্বস্তরের নেতাকর্মীদের এতোই অভিযোগ ছিলো যে যা দূতাবাস পর্যন্ত গড়ায়। দূতাবাসের সহযোগীতায় ঐ অভিযোগপত্র শেষ পর্যন্ত সরকারের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দদের কাছে পাঠানো হয়েছিলো তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য। তারপরও তার প্রতারনা থেমে থাকেনি।

এদিকে তিনি একটি নেটওয়ার্ক গঠন করেন তার অনুসারীদের নিয়ে। অবৈধ ভাবে অর্থ উপার্জনের পরিধি আরো ব্যাপক আকারে বাড়ানোর লক্ষে তিনি নিজে কোন ভাবেই ব্যবসায়ী না হয়েও দলের নাম ভাঙ্গিয়ে ঢাকায় চেম্বার অব কমার্স এর সাথে যোগাযোগ করে কুয়েত-বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স (কেবিসিসিআই) গঠন করে চেয়ারম্যান হন। আর এই চেয়ারম্যানের দোহাই দিয়ে কুয়েতে গত বৎসরের শেষের দিকে চ্যানেল আই’র বার্তা প্রধান শাইখ সিরাজকে কুয়েতে নিয়ে এসে বাংলাদেশী ব্যবসায়ীদের কাছে থেকে অবৈধভাবে চাঁদা দাবী করে বিভিন্ন ভয় ভিতি দেখিয়ে। অন্যদিকে গত বৎসরের ডিসেম্বরের ২৭-২৯ তারিখ কুয়েতে বাংলাদেশ ট্রেড ফেয়ার নামে একটি মেলা করে। যা ইতিমধ্যে বাংলাদেশী সমাজে ব্যাপক সমালোচনা ঝড় উঠে সেই সাথে স্থানীয় কুয়েতী ব্যবসায়ীদের কাছে এই মেলাটা গ্রহণ যোগ্যতা লাভ করে নাই। সেই মেলার ষ্টল মালিকদের কাছে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করে। এই নিয়েও ব্যাপক অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
 
গত বিএনপি সরকারের সময়ে ইরাক যুদ্ধ পরবর্তি সময়ে বাংলাদেশ থেকে কুয়েতে চাকরি দেওয়ার নাম করে কিছু শ্রমিক নিয়ে এসে তাঁদের ইরাকে পাঠানের উদ্যোগ গ্রহণ করে অবৈধ পন্থায় যা তৎকালীন রাষ্ট্রদূত নজরুল ইসলাম খানের সরাসরি হস্তক্ষেপে কুয়েত বিমানবন্দর থেকে অবৈধ ভাবে আনা ঐসব অর্ধ শতাধিক বাংলাদেশীকে কুয়েত ইমিগ্রেশন পুলিশ গ্রেপ্তার করে। পরবর্তীতে শ্রমিকদের ভাষ্যমতে প্রতারক এই হাবিবের নাম এলে তাকে দূতাবাস কালো তালিকাভুক্ত করে। কুয়েতে যে কয়জন কালো তালিকাভুক্ত বাংলাদেশী রয়েছে তার মধ্যে অন্যতম হাবিবুর রহমান হাবিব। তার দেশের বাড়ি বরিশালের গৌরনদী থানার নলছিড়া ইউনিয়নের দিয়াশুর গ্রামে। তার পিতার নাম ইদ্রিছ মাতাব্বর। 
 
সম্প্রতি তার অপকর্ম এতোই বৃহৎ আকার ধারন করে যা কুয়েতের গোয়েন্দা দফতর পর্যন্ত পৌঁছে যায়। এক পর্যায়ে গোয়েন্দা তদন্তে আরো গুরুত্বপূর্ণ তথ্য আসার পর ১৭ জানুয়ারী তাঁকে গ্রেফতার করা হয়। পুলিশের অনুসন্ধানে বের হয়ে আসে যে, স্থানীয় একজন কুয়েতীকে তাঁর ব্যবসায় অংশীদার বানিয়ে আব্দুল মালেক আল কুয়েতীয়া ট্রেডিং এন্ড কণ্ট্রাকটিং কোম্পানি খুলে। 
 
একটি কোম্পানীতে কুয়েতের আইনে কয়েকশত ব্যক্তির ওয়ার্ক পারমিট থাকাটা স্বাভাবিক। এই সুযোগে স্থানীয় অংশীদার কুয়েতী নাগরিকের অজান্তে তার নিজস্ব লোকদের সহযোগীতায় দেশী বিদেশী প্রায় দুই শতাধিক ব্যক্তির ওয়ার্ক পারমিট তৈরি করে এবং জনপ্রতি কুয়েতী দিনার ৪০০/- (বাংলাদেশী ১ লক্ষ ২৫ হাজার টাকা) গ্রহণ করে তাদেরকে বাইরে ছেড়ে দেয়। যা কুয়েতের আইনে দণ্ডনীয় অপরাধ। হাবিব বর্তমানে পুলিশ হেফাজতে রয়েছে। উল্লেখ্য, হাবিবের বিভিন্ন অপকর্মের তথ্য কুয়েতে বাংলাদেশ দূতাবাসের জানা রয়েছে বলে সূত্র জানায়। 

কুয়েত

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে