Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, সোমবার, ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ , ১ আশ্বিন ১৪২৬

গড় রেটিং: 2.8/5 (4 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)


আপডেট : ০১-০৪-২০১৩

পদ্মায় ফিরবেই না বিশ্ব ব্যাংক; সব প্রকল্পে তদন্ত চায় দাতারা

পীর হাবিবুর রহমান



	পদ্মায় ফিরবেই না বিশ্ব ব্যাংক; সব প্রকল্পে তদন্ত চায় দাতারা

নতুন বছর সরকারের জন্য আরও বেশি চ্যালেঞ্জের হয়ে উঠছে। জনগণকে দেওয়া নির্বাচনী ওয়াদা পূরণ, ঘরে-বাইরের সম্পর্কের টানাপড়েন কাটিয়ে জনমত পক্ষে নিয়ে বিরোধী দলের আন্দোলন মোকাবিলাসহ সব দলের অংশগ্রহণে একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতা হস্তান্তরের পথে সাফল্য অর্জন তার অন্যতম। বছরের শুরুতেই জ্বালানি তেলের পঞ্চম দফা দাম বাড়িয়ে সরকার বিরোধী দলের হরতাল কর্মসূচির মুখোমুখি হয়েছে। এর চেয়েও বড় চাপ দাতাদের। পদ্মা সেতুতে বিশ্বব্যাংকের অর্থায়ন নিয়ে ফিরে আসা দূরে থাক, দাতারা এখন সরকারের বিশেষ করে দেশি-বিদেশি অর্থায়নে যোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের সব প্রকল্পের তদন্ত চায়। দাতারা সরকারকে তাদের এ ইচ্ছার কথা জানিয়ে দিয়েছে। দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছে, সেতু বিভাগের সাবেক সচিব মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়া আদালতে তুড়ি মেরে কেস উড়িয়ে দেওয়ার যে সাহস দেখিয়েছেন, তার গভীরে কী রয়েছে তার হিসাব-নিকাশ কষছেন। সূত্র জানায়, পদ্মা সেতুতে এই সরকারের আমলে বিশ্বব্যাংক আর অর্থায়ন করছে না, এটা সরকারের উপর মহলও ভালো করে জানে। বরং পদ্মা সেতু কেলেঙ্কারি থলের ভেতর আর কী কী রয়েছে, আগামী দিনে তা পরিষ্কার হওয়ার বিষয় রয়ে গেছে। বিশেষজ্ঞরা এখন সেদিকেই তাকিয়ে আছেন। বলাবলি হচ্ছে, পদ্মা সেতুর তদন্ত যত অগ্রসর হবে সরকারের জন্য ততই বিব্রতকর পরিস্থিতি দোরগোড়ায় এসে কড়া নাড়বে। ২০০৮ সালের ডিসেম্বরে তিন-চতুর্থাংশ আসন নিয়ে গণরায়ে অভিষিক্ত মহাজোট নেত্রী শেখ হাসিনা সরকার গঠনের আগেই তার সঙ্গে বিশ্বব্যাংকের প্রতিনিধিরা কথা বলেছিলেন। সেখানে পদ্মা সেতু নিয়েও আলোচনা হয়েছিল। পদ্মা সেতু বাস্তবায়নে যোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব কার ওপর অর্পিত হচ্ছে, তা নিয়েও কথা হয়েছিল বলে সূত্র জানিয়েছে। কিন্তু, সরকার গঠনকালে সৈয়দ আবুল হোসেন যোগাযোগমন্ত্রী হন এবং দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে পদ্মা সেতু প্রকল্পে হাত দেন। তারপর পদ্মা সেতু নিয়ে ক্রমশ অভিযোগ, দুর্নীতির তদন্তসহ সর্বশেষ পরিস্থিতি সবার জানা। সূত্র জানায়, পশ্চিমা দেশের সঙ্গে সরকারের টানাপড়েন এখনো অমীমাংসিত অধ্যায়। যুদ্ধাপরাধের বিচার নিয়ে মুসলিম দেশসহ প্রভাবশালী পশ্চিমা দেশের সীমাবদ্ধতা রয়েছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমাদের সঙ্গে সরকারের সম্পর্ক নতুন বছরে উষ্ণ হবে কি না, এ নিয়ে পর্যবেক্ষকদের রয়েছে মতদ্বৈধতা। সরকার কেমন করে সম্পর্ক উষ্ণ করে সেটি এক চ্যালেঞ্জের পথ বলে অনেকে মনে করছেন। নোবেল লরিয়েট ড. মুহাম্মদ ইউনূস থেকে শুরু করে পশ্চিমাঘেঁষা আন্তর্জাতিক মানের বরেণ্য ব্যক্তিদের সঙ্গে সরকারের দূরত্বের অবসান ঘটবে এই বছরে, তার আলামতও কেউ দেখছেন না। সরকার দেশে-বিদেশেই বন্ধুহীন হয়ে পড়েনি, দলের মধ্যেও একটি শক্তিশালী কাঠামো তৈরি করে জনমত পক্ষে টানার বা গণজাগরণ ঘটানোর মতো পরিস্থিতি কতটা তৈরি করতে পারবে দলীয় কাউন্সিল-উত্তর কমিটি গঠনের মধ্য দিয়ে সেই প্রশ্নেরও মুখোমুখি দাঁড়িয়েছে। সাংগঠনিকভাবে সরকারি দল আওয়ামী লীগ বিরোধী দলে থাকতেও এতটা অসংগঠিত ও দুর্বল ছিল না। দেনা-পাওনার হিসাবে দলের মূলধারার একটি বড় অংশ হতাশ হয়ে দলের সঙ্গে দূরত্ব রাখছেন। দল তাদের সঙ্গে দূরত্ব মিটিয়ে আগামী দিনের রাজনীতি ও নির্বাচনে কতটা শক্তি সঞ্চয় করে দাঁড়াতে পারবে, সেই চ্যালেঞ্জও সামনে রয়েছে। পদ্মা সেতুর সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বিদায়ী বছরগুলোতে শেয়ারবাজার কেলেঙ্কারি, হলমার্কের সোনালী ব্যাংক ঋণ জালিয়াতি, ডেসটিনি প্রতারণা, সরকারি দলের মন্ত্রী-এমপি ও আজ্ঞাবহ একশ্রেণীর সরকারি কর্মকর্তার দেশজুড়ে সীমাহীন দুর্নীতির লাগাম এই নতুন বছরে কতটা টেনে ধরে সরকার হারানো ইমেজ পুনরুদ্ধার করবে, সেটি একটি বড় চ্যালেঞ্জ বলে পর্যবেক্ষকরা মনে করেন। বিদায়ী বছরের শেষ দিনগুলোর মতো নতুন বছরের শুরুতেও জামায়াত-শিবির যুদ্ধাপরাধের বিচার ইস্যু নিয়ে চোরাগোপ্তা হামলা অব্যাহত রাখছে। বিরোধী দল আন্দোলনের ওয়ার্ম আপ বিদায়ী বছরের শেষলগ্নে শুরু করেছিল। দলের নেতা-কর্মীরা জেলে থাকলেও এ বছরকে তারা আন্দোলন ও নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবি আদায়ের মাধ্যমে ব্যালট-বিপ্লবে ক্ষমতায় ফেরার চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিয়েছে। সরকার পরিষ্কার বলে দিয়েছে সাংবিধানিক ধারাবাহিকতায় সময়মতোই দেশে নির্বাচন হবে। প্রধানমন্ত্রী তার সংসদীয় দলের সভায় এবং মন্ত্রিসভা বৈঠকে সবাইকে নির্বাচনের প্রস্তুতি নিতেও বলে দিয়েছেন। কিন্তু, বিএনপি জোট সাফ বলে দিয়েছে এ সরকারের অধীনে কোনো নির্বাচন তারা করতে দেবে না এবং প্রহসনের নির্বাচন তারা প্রতিরোধ করবে। অন্যদিকে সরকার বলছে অন্তর্বর্তীকালীন অর্থাৎ তাদের অধীনেই নির্বাচন হবে। গ্রহণযোগ্য নির্বাচন যে দলীয় সরকারের অধীনে সম্ভব তার প্রমাণ হিসেবে তাদের আমলে অনুষ্ঠিত সব স্থানীয় ও উপনির্বাচনকে আঙ্গুল দিয়ে দেখাচ্ছে। কিন্তু বিরোধী দল বা সাধারণ মানুষের সমর্থন আদায় করতে পারছে না। পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন, এ ইস্যুতে আগামী জাতীয় নির্বাচন অনেকটাই অনিশ্চয়তার মুখোমুখি থাকবে যদি না সরকার ও বিরোধী দল নির্বাচনের আগে মীমাংসায় আসে। এখন পর্যন্ত সরকার ও বিরোধী দলের সন্দেহ, অবিশ্বাস তিক্ত অভিজ্ঞতায় যে জায়গায় দাঁড়িয়ে আছে তাতে মানুষ সমঝোতার কোনো আলামত দেখছে না। সব মহলই উদ্বিগ্ন এই পরিস্থিতিতে সরকার ও বিরোধী দল যার যার অবস্থানে অনড় থাকলে নতুন বছরের রাজনীতি সংঘাতের ওপর দিয়েই হেঁটে যাবে। সেখানে আগামী জাতীয় নির্বাচনের আগে অন্তত অক্টোবর নাগাদ কী ঘটে, সেদিকেই কৌতূহলী নয়নে তাকিয়ে আছে সরকার ও বিরোধী দল। সূত্র জানায়, এমনি পরিস্থিতিতে সরকারের সামনে ঘরে-বাইরে, দেশি-বিদেশি রাজনীতি-অর্থনীতি ও আইনশৃঙ্খলা মিলিয়ে নতুন বছর হবে সরকারের জন্য অনেক বড় চ্যালেঞ্জের। জাতীয় নির্বাচনের আগে দাতাদের অনীহার কারণে যদি উন্নয়ন কর্মকাণ্ড আরও স্থবির হয়ে পড়ে তাহলে সেটি সরকারের বিরুদ্ধে জনমত দাঁড় করাতে বেশি সময় নেবে না। সার্বিক বিবেচনায় পর্যবেক্ষকদের হিসাবে এ বছরের প্রতিটি পর্ব সরকারের জন্য চ্যালেঞ্জ আর চ্যালেঞ্জের। সরকার কীভাবে একেকটি চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে, তা-ই এখন দেখার বিষয়।

জাতীয়

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে