Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, সোমবার, ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ , ১ আশ্বিন ১৪২৬

গড় রেটিং: 2.7/5 (27 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ০১-০২-২০১৩

প্রধানমন্ত্রীকে তারেকের উকিল নোটিস


	প্রধানমন্ত্রীকে তারেকের উকিল নোটিস

ঢাকা, ০২ জানুয়ারি- অর্থপাচার নিয়ে ‘অসত্য’ বক্তব্য প্রতাহারের দাবি জানিয়ে প্রধানমন্ত্রীকে উকিল নোটিস পাঠিয়েছেন বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান, যার বিরুদ্ধে ২০ কোটি টাকা পাচারের অভিযোগে মামলা চলছে। 

তারেকের আইনজীবী মাহবুব উদ্দিন খোকন বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে জানান, বুধবার তিনি ডাকযোগে ও কুরিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমে এই লিগ্যাল নোটিশ তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পাঠিয়ে দিয়েছেন। 
 
মাহবুব উদ্দিন খোকন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব এবং জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের মহাসচিবের দায়িত্ব পালন করছেন। তার স্বাক্ষরে তার চেম্বারের প্যাডে তারেকের নামে এই নোটিস লেখা হয়েছে। 
 
এতে বলা হয়েছে, ২৮ দিনের মধ্যে প্রধানমন্ত্রীকে ওই বক্তব্য প্রত্যাহার করে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাইতে হবে। তা না হলে ‘যথাযথ আদালতে’ দেওয়ানী বা ফৌজদারি কার্যবিধিতে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। 
 
গত ১ ডিসেম্বর মৌলভীবাজার সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে প্রধানমন্ত্রীর দেয়া বক্তব্য উদ্ধৃত করে লিগ্যাল নোটিসে বলা হয়, “খালেদা জিয়া তার ছেলেরা নাকি সৎ জীবনযাপন করে বলেছেন। যেদিন তিনি এ কথা বললেন, সেদিনই তার ছেলেদের মানিন্ডারিংয়ের টাকা দেশে ফেরত এসেছে। এ মামলা আওয়ামী লীগ সরকার করেনি। মামলা হয়েছে আমেরিকার কোর্টে। এই এলাকার অনেকেই প্রবাসে থাকেন। আপনারা একটু খোঁজ নিয়ে দেখেন, তার ছেলে লন্ডনের কোন এলাকায় থাকে। কি গাড়ি ব্যবহার করে। কি রকম বিলাসবহুল জীবন যাপন করছে। কোথা থেকে এ টাকা আসে। দুর্নীতি ছাড়া এতো টাকা কোথা থেকে আসবে। 
 
“তার ছেলেরা বিদেশে রেস্টুরেন্ট করেছে। বাড়ি করছে। দামি গাড়ি কিনছে। ভাঙ্গা সুটকেস থেকে কি এসব টাকা বের হচ্ছে? বিএনপি ক্ষমতায় থাকাকালে মানিলন্ডারিং করে এসব টাকা পাচার করে এখন লন্ডনে বিলাসবহুল জীবনযাপন করছে তারেক।” 
 
গণমাধ্যমে এসব বক্তব্য ব্যাপকভাবে প্রচারিত হয়েছে উল্লেখ করে নোটিসে বলা হয়, “এসব প্রতিবেদন পড়ে মনে হয়েছে, আপনি (শেখ হাসিনা) আমার মক্কেলের বিরুদ্ধে মানহানিমূলক বক্তব্য এবং অবমাননাকর মন্তব্য করেছেন। তার সুনাম ক্ষুণ্নের উদ্দেশ্যে এই বক্তব্য দেয়া হয়েছে।” 
 
নোটিসে বলা হয়, তারেক অর্থ পাচার বা দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করছেন। বাংলাদেশ ব্যাংক তার কোনো টাকা ফেরত আনেনি। যুক্তরাষ্ট্রেও তার বিরুদ্ধে মানি লন্ডারিংয়ের অভিযোগে কোনো মামলা হয়নি। আর লন্ডনে তার কোনো রেস্তোরাঁ বা বাড়ি নেই। কেবল চিকিৎসার জন্যই তিনি সেখানে অবস্থান করছেন এবং খুবই সাধারণ জীবন যাপন করছেন। 
 
তারেকের আইনজীবী নোটিসে বলেন, “বিদেশে আমার মক্কেলের স্বনামে-কোন স্বজনের নামে বা অন্য কারো নামে কোনো সম্পত্তি নেই। তিনি বাংলাদেশের একজন প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী। তিনি পূর্ণ সততা, স্বচ্ছতা এবং আন্তরিকতা দিয়ে ব্যবসা পরিচালনা করেছেন। উপরন্তু তিনি নিয়মিত কর দেন এবং তার কোনো গোপন সম্পত্তি নেই। তিনি কখনো কোনো দুর্নীতি বা মানি লন্ডারিংয়ের সঙ্গে জড়িত ছিলেন না।” 
 
জরুরি অবস্থা জারির পর ২০০৭ সালের ৭ মার্চ দুর্নীতির অভিযোগে তারেক রহমানকে গ্রেপ্তার করা হয়। সুপ্রিম কোর্ট থেকে জামিন নিয়ে ওই বছরের ১১ সেপ্টেম্বর তিনি চিকিৎসার জন্য সপরিবারে লন্ডনে যান। সেই থেকে লন্ডনে অবস্থান করছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার বড় ছেলে তারেক। 
 
তার বিরুদ্ধে ২০ কোটি টাকা পাচারের একটি মামলায় সাক্ষ্যগ্রহণ চলছে ঢাকার আদালতে। এ মামলায় যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থা ফেডারেল ব্যুরো অফ ইনভেস্টিগেশনের (এফবিআই) এজেন্ট ডেবরা লেপ্রোভেটও সাক্ষ্য দিয়েছেন। 
 
ওই মামলায় বলা হয়, টঙ্গীর বিসিক শিল্প এলাকায় একটি ৮০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনের কার্যক্রম শুরু হলে তারেক জিয়ার বন্ধু ও ব্যবসায়িক অংশীদার গিয়াস আল মামুন কনস্ট্রাকশন কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক খাদিজা ইসলামের কাছ থেকে ২০ কোটি ৪১ লাখ ২৫ হাজার ৮৪৩ টাকা নেন। ২০০৩ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ২০০৭ সালের ৩১ মে পর্যন্ত সময়ে এই টাকা নেয়া হয়।
 
কাজ পাইয়ে দেয়ার কথা বলে এই টাকা নিয়ে তারেক ও মামুন সিঙ্গাপুরের সিটি ব্যাংকে রাখেন বলে দুদকের অভিযোগ। 
 
লন্ডনে অবস্থানরত তারেকের বিরুদ্ধে এ মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানাও জারি হয়েছে। 
 
এছাড়া সিঙ্গাপুরে অর্থ পাচারের জন্য তারেকের ছোট ভাই আরাফাত রহমান কোকোর ছয় বছরের কারাদণ্ড ও ১৯ কোটি টাকা জরিমানা করেছে আদালত। তার পাচার করা অর্থের মধ্যে সাড়ে ১৩ কোটি টাকা ইতোমধ্যে ফেরত আনা হয়েছে বলে জানিয়েছে দুদক। 
 
মাহবুব উদ্দিন খোকন উকিল নোটিসে প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশে বলেন, “আমার মক্কেলের মতে, আপনার এই বক্তব্য তার সুনাম ক্ষুণ্ন করেছে, এর জন্য তাকে ব্যঙ্গ- বিদ্রুপ, অনায্য সমালোচনা আর ঘৃণার মুখে পড়তে হয়েছে।” 
 
“এ ধরনের অবমাননাকর মন্তব্যের কারণে আপনার পক্ষ থেকে আইনগত কোনো ব্যাখ্যা বা বৈধতা নেই। এটা স্পষ্ট যে, বিদ্বেষবশত আমার মক্কেলের রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক সুনামের ক্ষতি সাধন করতে আপনি এই অসত্য বক্তব্যে প্রবৃত্ত হয়েছেন।” 

জাতীয়

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে